–কোন ঘরের কথা জানতে চাইছেন? কাপাক বলল।
ধরুন রাজার শয়নকক্ষে রাণী ও ছেলেমেয়েদের ঘর। আরও একটা ঘর থাকতে পারে। কাপাক বলল–আর একটা ঘর দেখিনি।
–আপনি শুধু দুটো ঘর দেখেছেন? ফ্রান্সিস বলল।
–প্রথমে রাজার ঘরটাই ধরুন। সেখানে কি চারদিকে চারটে ফুলদানি আছে? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ আছে। কাপাক বলল।
–দুটো ঘরেই? ফ্রান্সিস বলল।
–তা বলতে পারবো না। কাপাক বলল।
–এটা তো জানতেই হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তা হলে রাজবাড়ি গিয়ে জানতে হবে। কাপাক বলল।
–হ্যাঁ রাজার বাড়ি ভালোভাবে দেখতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–নক্সাটা দেখে বুঝে এসব কথা বলছেন বোধহয়। কাপাক বলল।
—হ্যাঁ। নকশাটার ঘরগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ঠিক আছে। আপনাকে বিরক্ত করলাম। ফ্রান্সিস বলল।
-না-না। বরং আমার মনে আশা জাগছে যে আপনি এই নক্সার ধাঁধা বুঝবেন। গুপ্তধন উদ্ধার করতে পারবেন। কাপাক বলল।
–আপনাদের শুভেচ্ছা নিয়ে চেষ্টা করে দেখব। ফ্রান্সিস বলল।
কাপাক চলে গেল।
ফ্রান্সিসরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। পরে ফ্রান্সিস বলল–আর দেরি করবো না। হ্যারি কাল রাতেই রওনা হব।
প্রথমে কোথায় যাবে? হ্যারি জানতে চাইল।
–মাজোর্কা। রাজা কুয়েক হুয়ার সঙ্গে দেখা করবো। আরো কিছু জানার আছে। তারপর কাজে নামা।ফ্রান্সিস বলল। একটু চুপ করে থেকে হ্যারি বলল তোমার কি দৃঢ় বিশ্বাস গুপ্তধন এই রাজবাড়িতেই আছে।
–হ্যাঁ। তবে রাজবাড়িতে গিয়ে সব বুঝতে পারব। ততদিন অপেক্ষা কর। ফ্রান্সিস বলল।
তখনই শাঙ্কো ঢুকল। বলল–ফ্রান্সিস তুমি কালকেই মাজোর্কা যাচ্ছ।
-হা-ফ্রান্সিস হেসে মাথা ওঠানামা করল। তারপর বলল শাঙ্কো–তুমি এখনও ও সুস্থ নও। তোমাকে আর হ্যারিকে নিয়ে যাবো না। শুধু বিস্কো আমার সঙ্গে থাকবে। হ্যারি আর শাঙ্কো কোন কথা বলল না। এসব ব্যাপারে ফ্রান্সিসের কথাই শেষ কথা। এসব ক্ষেত্রে ওরা ফ্রান্সিসের কথাই মেনে নেয়।
হ্যারি শাঙ্কো ঘর থেকে বেরিয়ে এল। মারিয়া বলল–শুধু একজন নিয়ে যাবে?
–উপায় নেই। হ্যারির তো জান–সহ্যশক্তি কম। ওকে সঙ্গে নেওয়া মানে ওকে কষ্ট দেওয়া। শাঙ্কোর অসুখ এখনও সারে নি। ভেনকে বলেছিলাম শাঙ্কোকে নিয়ে যাবো? ভেন বলেছে-শাঙ্কোর সুস্থ হতে এখনও এক সপ্তাহ লাগবে। কাজেই শাঙ্কোকে সঙ্গে নেবার প্রশ্নই ওঠে না। ফ্রান্সিস বলল।
–ওরা মনে দুঃখ পেল। মারিয়া বলল।
–এতে দুঃখ পাওয়ার কী আছে? অন্য কোন অভিযানে নিয়ে যাবো। ফ্রান্সিস বলল। তারপর ফ্রান্সিস চুপ করে রইল। কোন কথা বলল না।
পরদিন ফ্রান্সিস বিস্কোকে সঙ্গে নিল। কাপাক আর ঈগরও এল। চারজনে চলল আয়াচুচোতে ঘোড়া কিনতে।
ভর দুপুরে আয়াচুচোতে পৌঁছল। দরাদরি করে দুটো তেজি ঘোড়া কিনল। এবার ঘোড়ার সাজ। একটু দূরেই সারি সারি ঘোড়ার সাজের দোকান। ফ্রান্সিস প্রয়োজনীয় সব সাজই কিনল। দোকানি নিজেই সাজ পরিয়ে দিল।
খুব গরম পড়েছে। জিভ শুকিয়ে আসছে। ফ্রান্সিস একটা সরবতের দোকানে এল। সরবৎ খেল সবাই। এবার ফেরা। ঘোড়ায় চড়ে ফেরা।
ফ্রান্সিস আর বিস্কো একটা ঘোড়ায় উঠল। অন্য ঘোড়াটায় কাপাক আর ঈগর চড়ল। ওরা ঘোড়া ছোটাল।
সন্ধ্যের আগেই পিসকো বন্দরে পৌঁছল।
পরদিন থেকে ফ্রান্সিস আর কাপাক ঘোড়া ছুটিয়ে ছুটিয়ে মোটামুটি অভ্যেসটা ঝালিয়ে নিল। এক ঘোড়ায় দুজন। সেটা অভ্যেস করিয়ে নিল। সেদিন সকাল থেকেই ফ্রান্সিসরা ব্যস্ত। সব গোছগাছ করে নেওয়া বড় ঝোলা ব্যাগে শুকনো খাবারও নিল। চামড়ার ব্যাগে জল নিল। তরোয়াল দড়ি নিল। কখন কোনটার প্রয়োজন পড়ে।
কাপাক আর ঈগর আগে পাটাতনের ওপর দিয়ে হেঁটে সমুদ্রতীরে উঠল। বিস্কোও চলল পাতা পাটাতনের দিকে। ফ্রান্সিস তখন মারিয়াকে সান্ত্বনা দিচ্ছে কিছু ভেবো না–দিন কুড়ি পঁচিশের মধ্যে আমরা ফিরবো। মারিয়া একটু ফুঁপিয়ে উঠল। ফ্রান্সিস বলল–কান্নাকাটি করো না। আমার মন দুর্বল করে দিও না। মারিয়া শান্ত হল চোখ মুছল।
–হাসো। ফ্রান্সিস প্রায় আদেশের মত বলল।
মারিয়া ফ্রান্সিসের দিকে তাকিয়ে হাসল। ফ্রান্সিসও হাসল।
ফ্রান্সিস পাটাতনের ওপর দিয়ে হেঁটে সমুদ্রতীরে উঠল। দুজন দুজন করে দুটো ঘোড়ায় উঠল ফ্রান্সিসরা।
তারপর ঘোড়া ছোটাল। লক্ষ্যমাজোর্কা। দুপুরে ঘোড়া থামিয়ে কিছু শুকনো খাবার ওরা খেয়ে নিল। তারপর আবার চলল।
সন্ধ্যে হল। রাত হল। আকাশে গোল চাঁদ দেখা গেল। জ্যোৎস্নায় সবকিছুই দেখা যাচ্ছিল। তবে স্পষ্ট নয়। পথ দেখা যাচ্ছিল। দুটো ঘোড়া ছুটে চলল।
একটু রাত হল। ফ্রান্সিস ঘোড়া থামাল। বলল–আর নয়। এখানেই ঘোড়া থামাও। ফ্রান্সিস ডানপাশে একটা পুকুর দেখল। ফ্রান্সিস পুকুরটার কাছে এসে ঘোড়া থামাল। কাপাকও ঘোড়া থামাল।
বিস্কো শুকনো গাছের ডালপাতার জোগাড় করল। ঈগর ওকে সাহায্য করল। তিনটি পাথর বসিয়ে উনুন করা হল। পুকুরের জল এনে রান্না চলল। ফ্রান্সিস পুকুরপারের ঘাসের ওপর শুয়ে পড়ল। বলল–বিস্কো–আজ তরকারিটা তুমিই কর। পরে রুটি করার সময় আমাকে ডেকো।
রান্না চলল। ছোট ব্যাগে আলুটালু ছিল–বিস্কো এনেছিল। সেসব দিয়ে তরকারি মত হল। সবশেষে রুটি। ফ্রান্সিস উঠে এল।
–ফ্রান্সিস–তুমি শুয়ে বিশ্রাম কর।
-বেশ। কিন্তু–ফ্রান্সিস বলতে গেল।
–কোন কিন্তু নয়। তুমি যাও। বিস্কো বলল।
