–সেটাই করতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
মারিয়া একটু রাগতস্বরেই বলল–আমি দেশে ফিরে যাব।
ফ্রান্সিস মারিয়ার মুখের দিকে তাকাল। দেখল মারিয়ার মুখটা কেমন লালচে হয়ে উঠেছে। তার মানে মারিয়া বেশ রেগে গেছে।
–তাহলে–ফ্রান্সিস বলল–এই পিসকো বন্দরে খোঁজ নিই।
–কেন? মারিয়া বলল।
–আমাদের দেশের দিকে যাবে এমন কোন জাহাজ পাই কিনা।
তার মানে? মারিয়া বলল।
–তোমাকে আর কয়েকজন বন্ধুকে সেই জাহাজে তুলে দেব। তোমরা দেশে ফিরে যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–আর তুমি? মারিয়া বলল।
–আমার জীবন যেমন চলছে তেমনি চলবে। ফ্রান্সিস বলল।
–আমি তোমাকে এই বিদেশ বিভূঁইয়ে রেখে চলে যাবো? মারিয়া বলল।
তাছাড়া তো উপায় দেখছি না। ফ্রান্সিস বলল।
মারিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর দু’হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে উঠল। ফ্রান্সিস বুঝতে পারল না–কী বলবে? মারিয়ার কাঁধে হাত রেখে বলল– মারিয়া কেঁদো না।
ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মারিয়া বলল–আমি এই বিদেশে তোমাকে ফেলে যাব– এটা তুমি ভাবলে কী করে?
ঠিক আছে। ঠিক আছে। কথাটা তুলে নিলাম। ফ্রান্সিস বলল।
আমি যেদিন দেশে ফিরবো তোমাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরবো। আর যদি না ফিরি– মারিয়া আর বলতে পারল না।
–আহা–ফ্রান্সিস বলল–আজেবাজে ভাবনা ছাড়ো তো। দুজনের সকালের খাবারটা নিয়ে এসো। বড্ড খিদে পেয়েছে।
মারিয়া উঠে দাঁড়াল। খাবার আনতে চলল।
ফ্রান্সিস গভীর মনোযোগ দিয়ে নক্সাটা দেখতে লাগল। যে ছোট্ট ব্যাগটায় নক্সাটা রাখা তার চামড়াটা শক্ত। বুনো শেয়ালের চামড়া নিশ্চয়ই। নকশার কাগজটাও চামড়া মেশানো পার্চমেন্ট কাগজের।
মারিয়া খাবার আনল। দুজনে খেতে লাগল। মারিয়া নক্সাটা নিল। দেখতে দেখতে বলল–নকশাটার রহস্য বুঝতে পেরেছো?
–ভাবছি। দেখ–তিনটি চৌকোনো কিছু। বুঝলাম–তিনটে ঘর।কারণ মাঝখানে খাটের মত চৌকোনো কিছু। ওগুলো বিছানা বালিশ। প্রত্যেক ঘরেরই চারকোণায় ছোট কিছু আছে। ওগুলো কী ঠিক বুঝতে পারছি না। বেশ ভাবাচ্ছে। একটুক্ষণ চুপ করে থেকে মারিয়া বলল–তিনটে ঘর। একটা একটু বড় আর একটা তার থেকে ছোট আর একটা সেটার থেকেও ছোট ঘর ছোট এই তো মনে হচ্ছে বিছানা বালিশ।
–হ্যাঁ। শোবার ঘরই কারণ মাঝখানটায় খাটের মত চৌকোনো বিছানা আছে। বালিশও আছে। ফ্রান্সিস বলল। তারপর নকশাটা যেন দেখে বলল–প্রত্যেকটি ঘরের চারকোণায় কী আছে বোঝা যাচ্ছে না।
মারিয়া নক্সার ওপর ঝুঁকে পড়ল। মুখ তুলে বলল–ঘরের চার কোণায় রয়েছে চারটি ফুলদানি। একটু চুপ করে থেকে ফ্রান্সিস বলল
–পাথরের বড় বড় ফুলদানি। তুমি ঠিক ধরেছো। ফ্রান্সিস বলল। তারপর বলল–কিন্তু ঘরগুলো কোথায় আছে?
সেটা জানতে হোলে খোঁজখবর করতে হবে। মারিয়া বলল।
–আমার মনে হয় এই ঘরগুলো হয় কুজকো বা মাজোর্কার রাজবাড়িতে আছে। ফ্রান্সিস বলল।
–তা হতে পারে। মারিয়া বলল।
ফ্রান্সিস ঘরটার বাইরে এল। দেখল এক ভাইকিং বন্ধু শুকনো কাপড় চোপড় নিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্সিস বলল–ভাই হ্যারিকে একটু ডেকে দাও।
ফ্রান্সিস এসে বিছানায় বসল। একটু পরেই হ্যারি এল।
–ডাকছো কেন? হ্যারি জানতে চাইল।
ফ্রান্সিস নক্সাটা হ্যারির হাতে দিল। বলল নক্সায় আঁকা চিহ্নগুলো দেখে আমি আর মারিয়া কিছু সিদ্ধান্তে এসেছি। এবার তুমি কী বল–তাই শুনবো।
নক্সাটা হাতে নিয়ে হ্যারি দেখতে লাগল। কিছু পরে বলল–ছোট বড় মিলিয়ে তিনটি শোবার ঘর। বিছানা বালিশ রয়েছে। হ্যারি বলল।
–অন্য কিছুও তো হতে পারে। ফ্রান্সিস বলল।
–না। তিনটিই শোবার ঘর। বালিশ থাকবে এটাই ঠিক বোঝা যাচ্ছে।
–এই ঘর তিনটের কোথায় থাকতে পারে? ফ্রান্সিস বলল।
মনে হয় রাজবাড়িতে। হ্যারি বলল।
–কোন্ রাজবাড়িতে? ফ্রান্সিস বলল।
–এই কুজকো অথবা মাজোর্কার রাজবাড়িতে। হ্যারি বলল।
–এটা কাপাক ঠিক বলতে পারবে। এখন প্রত্যেকটি ঘরের ঠিক চারদিকে চারটে কী আঁকা? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
হ্যারি নক্সাটা দেখতে দেখতে একটুক্ষণ ভাবল। তারপর বলল–ঐ চারটে জিনিস ছোট ফুলদানি। পাথরের।
–হ্যারি–আমরাও ঐ সিদ্ধান্তেই এসেছি। ফ্রান্সিস হেসে বলল। তারপর বলল– হ্যারি কাপাককে ডেকে আনে। কাপাক কী বলে দেখা যাক।
হ্যারি বেরিয়ে গেল। অল্পক্ষণের মধ্যেই কাপাককে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এল।
ফ্রান্সিস কাপাককে বিছানাতেই বসতে বলল। কাপাক বসল। ফ্রান্সিস মারিয়াকে দেখিয়ে বলল ইনি আমাদের দেশের রাজকুমারী। কাপাক বেশ আশ্চর্য হল। বলল–আপনাদের তো ছন্নছাড়া এক জীবন। ইনি আপনাদের সেই জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছেন?
-হ্যাঁ পেরেছি। মারিয়া বলল–সব জেনেশুনেই এসেছি। কিছুদিনের মধ্যেই আমরা দেশে ফিরবো।
–সে তো খুব আনন্দের কথা। কাপাক বলল।
একটুক্ষণ চুপ করে থেকে ফ্রান্সিস বলল–কাপাক–আপনার কাছে কয়েকটা বিষয়ে জানতে চাই।
–বেশ। বলুন কী জানতে চান? কাপাক বলল।
–এখন মাজোর্কার রাজা কে? ফ্রান্সিস বলল।
কুয়েক হুয়া। কাপাক বলল।
তার সঙ্গে আপনার খুব হৃদ্যতা গড়ে উঠেছিল। ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
-হ্যাঁ। রাজা আমাকে খুব পছন্দ করতেন। আমারও রাজাকে ভালো লাগত। কাপাক বলল।
–রাজা আপনাকে গুপ্তধনের নক্সা দিয়েছিলেন? এটা আপনাকে বিশ্বাস করেই দিয়েছিলেন। ফ্রান্সিস বলল।
–নিশ্চয়ই। কাপাক বলল।
রাজবাড়িতে ক’টা ঘর? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
