–ও। ওদের বন্দী করে রাখো। ভাইকিংরা জলদস্যু। সেনাপতি বলল।
–এ আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা। যারা শৌর্যে বীর্যে আমাদের সঙ্গে পারে না তারা এসব কুৎসা রটনা করে। হ্যারি বলল।
তোমাদের কয়েদঘরেই থাকতে হবে। সেনাপতি বলল।
–কিন্তু কেন? আমরা কী অপরাধ করেছি? ফ্রান্সিস বলল।
–সেসব বিচার করবেন রাজা পাচাকুটি। সেনাপতি বলল।
সেনাপতি আর যোদ্ধারা ঘোড়া ছুটিয়ে চলে গেল।
ফ্রান্সিস দলপতির দিকে তাকিয়ে বলল–আমাদের কী হবে?
দলপতি বলল–তোমরা তো বন্দী। আমাদের সঙ্গে যাবে রাজধানী কুজকোয়। রাজা পাচাকুটির রাজসভায় তোমাদের যেতে হবে। তারপরে বন্দী জীবন মেনে নিতে হবে। ফ্রান্সিস চড়া গলায় বলল–আমাদের কী পেয়েছো? তোমাদের দাস?
–বেশি মেজাজ দেখিও না। জানো তোমাদের এক্ষুনি খতম করতে পারি। দলনেতা বলল।
–আমাদের লড়াই করার সুযোগ না দিয়ে পারবে। কিন্তু যদি আমাদের হাতে তরোয়াল দাও–তোমরা ধূলোর মতো উড়ে যাবে। আমাদের হাতে তরোয়াল থাকলে স্বয়ং শয়তানও আমাদের ভয় করে। তোমরা তো শিশু। ফ্রান্সিস বলল। ফ্রান্সিসের কথা শেষ হবার আগেই শাঙ্কো বলে উঠল ফ্রান্সিস-লড়াই। যে সৈন্যের হাতে দড়িবাঁধা ওদের তিনটে তরোয়াল ছিল শাঙ্কো সেই সৈন্যটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সৈন্যটি ছিটকে পড়ে গেল। শাঙ্কো অতি দ্রুত একটা তরোয়াল খুলে ফ্রান্সিসের দিকে ছুঁড়ে দিল। ফ্রান্সিস তরোয়ালের হাতলটা ধরে ফেলল। শাঙ্কো নিজেও একটা তরোয়াল নিল। অন্যটা হ্যারিকে দিল। ওদিকে সৈন্যরাও তখন তরোয়াল কোষমুক্ত করেছে।
শুরু হল তরোয়ালের লড়াই। ফ্রান্সিস দলপতির সঙ্গে লড়াই করতে লাগল। তরোয়াল চালাতে চালাতে বলল–তোমরা অস্ত্র ত্যাগ কর। নইলে মরবে। জাহাজ থেকে যদি আমার বন্ধুরা আসে তোমরা কেউ বাঁচবে না। এখনও বলছি অস্ত্র ত্যাগ কর। আমরা জাহাজে ফিরে যাব। কিন্তু দলপতি তাতে কর্ণপাত করল না। তরোয়াল চালাতে লাগল। এবার ফ্রান্সিস তরোয়াল পেছন দিক থেকে ঘুরিয়ে এনে দলপতির তরোয়ালে এত জোরে ঘা মারল যে দলপতির হাত থেকে তরোয়াল ছিটকে গেল। ও বালির ওপর পড়ে গেল। ফ্রান্সিস হাঁপাতে হাঁপাতে তরোয়ালের গা-টা দলপতির গলায় ঠেকিয়ে বলল–বাঁচতে চাও না মরতে? সেনাপতি হাঁপাতে হাঁপাতে উঠে দাঁড়াল। অন্য সৈন্যরাও লড়াই থামাল। দলপতি বলল–চল। অন্য সৈন্যরা তরোয়াল খাপে ঢুকিয়ে দলপতির পেছনে পেছনে চলল। মরুভূমির ওপর দিয়ে ওরা হেঁটে চলে গেল। ফ্রান্সিস বলল হ্যারি জাহাজে চল। তিনজনে সমুদ্রের দিকে নামতে লাগল। হ্যারির বাঁ কাঁধে তরোয়াল ছুঁয়ে গেছে। হ্যারি অল্পই আহত হয়েছে। তার কাঁধের কাছে পোশাক রক্তে ভিজে গেছে। ফ্রান্সিস শাঙ্কোর শরীরও অক্ষত নেই।শরীরে তরোয়ালের ফলায় কেটেটেটে গেছে।
তিনজনে নৌকোটার কাছে এল। নৌকো জলে নামাল। উঠে বসল। শাঙ্কো বৈঠা বাইতে লাগল। নৌকো জাহাজের দিকে চলল।
জাহাজ থেকে দড়ির মই ফেলা হল। ফ্রান্সিসরা জাহাজে উঠে এল। ফ্রান্সিস হ্যারিকে নিয়ে ভেন-এর কাছে এল। বলল–হ্যারির কাঁধ বর্শায় কেটে গেছে। ওষুধ দাও। ফ্রান্সিস চলে এল। ভেন হ্যারির জন্যে ওষুধ তৈরি করতে লাগল।
নিজের কেবিনঘরে ঢুকতে মারিয়া এগিয়ে এল। বর্শায় কেটে গেছে। নিশ্চয়ই তরোয়ালের লড়াই করেছো।
–আমাদের জীবনটাই তো এরকম। শুধু লড়াই। ফ্রান্সিস পোশাক খুলতে খুলতে বলল।
–না। তুমি আর তরোয়াল ধরতে পারবে না। মারিয়া বলল।
–এটা একটা কথা হল। বেঁচে থাকতে গেলে লড়াই করতেই হবে। কখনও বুদ্ধির লড়াই। কখনও শরীরের লড়াই। এই লড়াইয়ের মধ্যেই আমাদের থাকতে হয়। ফ্রান্সিস বলল।
–না। তুমি আর লড়াইয়ের মধ্যে যাবে না। মারিয়া বলল।
–মারিয়া তুমি তো এতদিনে আমাকে বুঝেছো। আমি সব লড়াই থামিয়ে গুপ্তধন আবিষ্কার না করে থাকবো কী করে? ফ্রান্সিস বলল।
–না। আমার ভয় করে। মারিয়া বলল।
ফ্রান্সিস হো হো করে হেসে উঠল। বলল–এতে ভয় পাওয়ার কী আছে। চার পাঁচজনের সঙ্গে একা লড়তে গেলে একটু চিন্তা হয় বৈকি। তখন লড়াইয়ের কৌশলটা পাল্টাতে হয়। তবে আমি ভয় পাই না। একটু থেমে বলল মারিয়া তুমি তো কখনও এত দুর্বল হও নি। হঠাৎ এত দুশ্চিন্তায় পড়লে কেন?
–না। দেশে ফিরে চল। মারিয়া বলল।
–দেশে ফিরে তো সেই খাও দাও ঘুমোও। এক নিশ্চিন্ত জীবন। এই জীবনকে মেনে নেওয়া আমার চরিত্রবিরোধী। আমি কক্ষনো মেনে নিতে পারবো না। ফ্রান্সিস বলল।
বয়েস তো হচ্ছে। মারিয়া বলল।
যতদিন পিরবোঘুরে বেড়াবো–এ দেশ ও দেশ দ্বীপ দেশ। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিস তোমার এবার বিশ্রাম নেওয়া উচিত। মারিয়া বলল।
–অসম্ভব। আমার জীবনে বিশ্রাম বলে কিছু নেই। ফ্রান্সিস বলল।
কথা শোন। এবার দেশে চলো। মারিয়া বলল।
-ঠিক আছে–তোমরা ফিরে যাও। আমার বন্ধুদের মধ্যে যারা আমার সঙ্গে কি থাকতে চায় তারা থাকবে। ফ্রান্সিস বলল।
–না। তোমাকে এই বিদেশে ফেলে রেখে আমি যাব না। মারিয়া বলল।
–আমিও সেটাই চাই। ফ্রান্সিস বলল। তারপর বলল–খিদেয় পেট জ্বলছে।
ফ্রান্সিস হ্যারি আর শাঙ্কোকে নিয়ে রান্নাঘরে এল। রাঁধুনি বন্ধুরা অতি দ্রুত ফ্রান্সিসদের খেতে দিল।
খেয়ে দেয়ে ফ্রান্সিসরা যে যার কেবিনে চলে গেল। ফ্রান্সিসও ওর কেবিনঘরে এল। তারপর টান টান হয়ে শুয়ে পড়ল। মারিয়া একটা ন্যাকড়া হাতে নিয়ে এল। ফ্রান্সিস যখন পোশাক ছাড়ছে তখন দেখেছে ফ্রান্সিসের কাঁধে পিঠে তরোয়ালের কাটার দাগ। মারিয়া ভেন-এর কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে এসেছে। মারিয়া ফ্রান্সিসের গায়ে সেই ওষুধ লাগানো ন্যাকড়াটা চেপে চেপে ধরতে লাগল। সেইসব কাটা জায়গাগুলো ভীষণ জ্বালা করে উঠল। ফ্রানিস মুখে শব্দ করল–আ-আ। ফ্রান্সিসের গায়ে ওষুধ দেওয়া হলে মারিয়া হ্যারি শাঙ্কোর কাছেও গিয়ে ওষুধ লাগিয়ে এল। হ্যারির কেবিনঘরে গিয়ে দেখল–ভেন হ্যারির ডান কাঁধে ন্যাকড়া বাঁধছে। মারিয়া ভেনকে বলল–খুব বেশি কেটেছে?
