–হ্যাঁ। ফ্রান্সিস বলল। তারপর সাইলকে নকশা দিতে বলল। সাইল নকশা বের করে দিল। ফ্রান্সিস রাজাকে দিল। রাজা মন্ত্রী দুজনেই ঝুঁকে পড়ে নকশাটা দেখতে লাগল।
–এটা ভূতুড়ে নকশা নয় তো? রাজা বললেন।
–না। আপনি আমাদের অনুমতি দিন। এখানকার মন্দিরে আমরা গুপ্তধন খুঁজে বের করবো। সাইল বলল।
–পারবে? রাজা বলল।
–নকশা পেয়েছি কাজেই কোন অসুবিধা হবে না। সাইল বলল।
–দেখ চেষ্টা করে। রাজা বলল।
–আপনি দুজন প্রহরী দিন। কিন্তু তারা গর্ভগৃহে নামতে পারবে না। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। নকশাটা আমার কাছেই থাকবে। রাজা বলল।
–কোন অসুবিধে নেই। তাহলে আমরা গুপ্তধন খুঁজতে যাচ্ছি। ফ্রান্সিস বলল।
–হুঁ। তুতজ মুখে শব্দ করল।
ওরা রাজবাড়ির বাইরে এল। ফ্রান্সিস বলল–আমরা এখনই খুঁজতে যাবো। আমি সময় নষ্ট করতে পারবো না। তোমরা আমাকে একা ছেড়ে দিলে আমিই খুঁজতে যেতাম। তোমরা সরাইখানায় খেয়ে টেয়ে আসতে পারতে।
–তোমাকে একা ছাড়া হবে না। রবার্ট বলল।
–বেশ চলো। ফ্রান্সিস বলল।
তখনই দুজন প্রহরী ওদের কাছে এল। বলল–সেনাপতি আপনাদের সাহায্য করতে বলেছেন। তাই আমরা এসেছি। চলুন। দুজন প্রহরীর হাতে দুটো নেভানো মশাল।
–আমাদের একটা মশাল লাগবে। ফ্রান্সিস বলল।
–পাবেন। প্রহরী বলল।
ওরা মন্দিরের সামনে এল। সিঁড়ির কাছে এল। ফ্রান্সিস মুখ ফিরিয়ে প্রহরীদের বলল–একটা মশাল জ্বেলে দাও। প্রহরীটি চকমকি পাথর ঠুকে মশাল জ্বালিয়ে দিল।
এবার তিনজনে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগল! তারপরই সিঁড়ি নেমে গেছে। ওরা নামতে লাগল। সিঁড়ি অন্ধকার হয়ে গেল। এখন মশালের আলোতে দেখে দেখে সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগল।
সিঁড়ি শেষ। সেই চৌকোনো ঘরটি। ফ্রান্সিস সাইলকে মশালটা দিয়ে বলল– মশালটা ধরো। কিন্তু সাবধানে আগুনের একটা ফুলকিও যেন মেঝেয় না পড়ে। যদি পড়ে ধোঁয়া আর আগুনে আমাদের মৃত্যু সুনিশ্চিত।
ফ্রান্সিস মশালের আলোতে ঘরটা ভাল করে দেখতে লাগল। হঠাৎ দেখল পাথরের একটা জোড়ের মধ্যে একটু ফাঁক রয়েছে। ফ্রান্সিস পাথরটায় ধাক্কা দিল। পাথরটা নড়ল। আবার জোরে ধাক্কা দিল। পাথর দুটো বেরিয়ে এল। ফ্রান্সিস পাথর দুটো খুলে রাখল। তারপর নিচু হয়ে ঐ খোঁদলের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে এল। ফ্রান্সিস এবার হাত বাড়িয়ে বলল–মশালটা দাও। এই ফোঁকরের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে এসো।
ফ্রান্সিস জ্বলন্ত মশাল তুলল। দেখল একটা বড় ঘর। ঘরভর্তি কঙ্কাল। শুয়ে বসে দাঁড়িয়ে। সাহসী ফ্রান্সিসও একটু ঘাবড়ে গেল। অত কঙ্কাল দেখে সাইল আর রবার্ট ভয়ে শিউরে উঠল।
ফ্রান্সিস মশাল হাতে ঘরটা দেখতে লাগল। ফ্রান্সিসের কেমন মনে হল এই ঘর থেকে বেরোবার পথ নিশ্চয়ই আছে। ও দেয়ালগুলো পরীক্ষা করে দেখতে লাগল। ফ্রান্সিস দেয়ালগুলো ধাক্কাতে লাগল। হঠাৎ একটা দেয়ালের অংশ নড়ে উঠলো। ফ্রান্সিস জোরে ঠেলা দিল। পাথরের অংশ খুলে গেল। বাইরে রোদ। ফ্রান্সিস ভেবে নিল এইবার পালাতে হবে। ও বাইরে আসছে তখনই রবার্ট ছুটে এসে ফ্রান্সিসকে জড়িয়ে ধরল। ফ্রান্সিস এক ঝটকায় ওকে ফেলে দিল। রবার্ট কোমর থেকে ছোরা বের করল। ফ্রান্সিস হাতের মশালটা দিয়ে রবার্টের মুখে জোরে এক ঘা লাগাল। রবার্টের হাত থেকে ছোরাটা খসে পড়ল। ও মুখ চেপে ধরে চিৎকার করে উঠল। সাইল তখন বেরিয়ে এসেছে। ফ্রান্সিস মশাল ছুঁড়ে ফেলে বনভূমির দিকে ছুটতে লাগল।
একবার পেছনে তাকিয়ে দেখল দুই প্রহরী ছুটে আসছে। ফ্রান্সিস গতি বাড়াল। দুই প্রহরী কাছে আসার অনেক আগে ফ্রান্সিস বনভূমিতে ঢুকে পড়ল। হাঁপাতে হাঁপাতে ফ্রান্সিস কয়েকটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখল সাইল ও রবার্টকে প্রহরীরা নিয়ে চলেছে। বোধহয় কয়েদঘরে বন্দী করে রাখবে।
এবার ফ্রান্সিস হাঁটতে হাঁটতে বন পার হতে লাগল। বনতল বেশ অন্ধকার। সাবধানে পা ফেলে হাঁটতে হচ্ছে। তারই মধ্যে যতটা দ্রুত হাঁটা যায় ততটা দ্রুতই ফ্রান্সিস হাঁটতে লাগল। পূর্ণিমা উৎসবের দিনে রাতের আগে চিচেন ইতজায় পৌঁছুতে হবে।
ভীষণ পেছল গাছের গোড়ায় আছাড় খেল কয়েকবার। তবু ফ্রান্সিস থামল না। যতটা দ্রুত সম্ভব চলল।
বনভূমি শেষ। সামনেই বিস্তৃত প্রান্তর। বাঁদিকের রাস্তায় এল। রাস্তার দু’ধারে দেখতে দেখতে চলল বুড়িমার বাড়ির উদ্দেশ্যে। খুঁজে খুঁজে বুড়িমার বাড়ি পেল। হাঁপাতে হাঁপাতে ফ্রান্সিস দরজায় ধাক্কা দিল। ভেতরে কোন সাড়া নেই। এবার জোরে ধাক্কা দিল। দরজাটা নড়ে গেল।
যাচ্ছি। বুড়িমার গলা দরজা খুলল। ফ্রান্সিস দেখে বলল–বুড়িমা, আমাকে চিনতে পারছেন? বুড়িমা কিছুক্ষণ ফ্রান্সিসের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল– চিনতে পারছি। আমার ছেলের বন্ধু। ছেলের সঙ্গে এসেছিল। একটু থেমে বলল– আচ্ছা আমার ছেলে এখন কোথায়?
চিচেন ইতজায়। ও সুস্থ। আনন্দে আছে। ফ্রান্সিস বলল।
–দেখা হলে তুমি আমার কাছে নিয়ে এসো। বুড়িমা বলল।
–আপনি কিছু ভাববেন না। আপনার ছেলেকে গেলেই ধরে নিয়ে আসবো। ফ্রান্সিস হেসে বলল।
বুড়িমা বলল–এসো। ফ্রান্সিস ঘরে ঢুকল। পাতা বিছানায় বসল। বলল– বুড়িমা, একটা কথা।
–কী কথা?
–বলছিলাম, রাজা তুতজের প্রহরীদের হাত থেকে আমি পালিয়ে এসেছি। বিকেল হয়ে এলো। এখনও একটা বাসি রুটি একটু মধু খেয়ে আছি। আপনি যদি একটু খেতে দিতেন।
