-চলো। শাঙ্কো বলল। উঠে দাঁড়াল। হ্যারিও উঠল।
দুজনে রাজপ্রাসাদের দিকে চলল। রাস্তায় নোকজন যে যার কাজ করছে। হ্যারি এই লোকজনের মধ্যে ফ্রান্সিসকে খুঁজতে লাগল। কিন্তু কোথায় ফ্রান্সিস? হ্যারি হতাশ হল। শাঙ্কোর মনে একটা আশঙ্কা ছড়াল–ফ্রান্সিসকে কেউ মেরে ফেলে নি তো? হ্যারিকে বলল সে কথা। হাারি একটু ভেবে বলল–এটা কী করে হবে? এই বিদেশে কারো সঙ্গে তো আমাদের শত্রুতা নেই। আমার মনে হয় ফ্রান্সিসকে বন্দী করে রাখা হয়েছে।
–কে বা কারা ফ্রান্সিসকে বন্দী করবে? শাঙ্কো বলল।
–সেটাই তো ঠিক বুঝতে পারছি না। হ্যারি বলল।
দুজনে রাজপ্রাসাদের সামনে এল। এই সকালেও এখানে লোকজন জড়ো হয়েছে। বোধহয় দেখতে যে পূর্ণিমা উৎসব সম্পর্কে রাজা কোন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন কি না। ওরা দেখল পাথুরে গায়ে রাজার সেই পুরোনো বিজ্ঞপ্তিটাই রয়েছে। ফ্রান্সিস এখানে এসেছিল। ফ্রান্সিস ওদের চলে যেতে বলেছিল। ওরা চলে গিয়েছিল। সেইদিন থেকে ফ্রান্সিস নিরুদ্দেশ। হ্যারি ও শাঙ্কো চারদিকের লোকজন দেখতে লাগল। কিন্তু ফ্রান্সিস নেই। শাঙ্কো বলল–হ্যারি–ফ্রান্সিস একাই চিচেন ইতজায় গিয়ে রাজা হুনাকমিনের গুপ্তধন খুঁজছে না তো।
–না–না। মনে আছে তোমার ফ্রান্সিস বলেছিল পূর্ণিমা উৎসবের দিন ফ্রান্সিস ঐ গুপ্তধন উদ্ধার করতে যাবে।
–হ্যাঁ ফ্রান্সিস বলেছিল বটে। শাঙ্কো বলল।
কিছুক্ষণ পরে হ্যারি বলল–এখানে ফ্রান্সিসকে পাবো না। ভাবছি–চিচেন ইতজায় যাবো কি না।
–তাই চলো। একবার তো দেখি।
দুজনে চিচেন ইতজার দিকে চলল। গত কয়েকদিনের মতো রাস্তায় মানুষের ভিড় নেই। তখন পূর্ণিমা উৎসবে অনেক লোক এসেছিল। রাজকুমারের অসুখের জন্যে পূর্ণিমা উৎসব বন্ধ হয়ে গেল। প্রায় সবাই চলে গেছে। এজন্যেই রাস্তায় লোকজনের তেমন ভিড় নেই।
চিচেন ইতজায় এল ওরা। হ্যারি চারদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগল। এই মন্দিরে কিন্তু মানুষের ভিড় আছে।
শাঙ্কোকে নিয়ে হ্যারি মন্দিরের সিঁড়ির কাছে এসে দাঁড়াল। কত লোক উঠছে। নামছে। কিন্তু কোথায় ফ্রান্সিস? দুজনে গর্ভগৃহেও নামল। আবার উঠে এল। ওরা বুঝল এভাবে খুঁজে লাভ নেই। ফ্রান্সিসের যদি শারীরিক কোন ক্ষতি না হয়ে থাকে তবে ও নিজেই এদিকে আসবে। তবু মন মানে না। দুজনে ফ্রান্সিসকে খুঁজতে খুঁজতে সরাইখানায় ফিরে এল। সরাইওয়ালার দেওয়া বিছানায় বসল। বিছানা মানে শুকনো ঘাস ভেতরে। বাইরে একটা মোটা কাপড়।
শাঙ্কো বলল হ্যারি। কাল রাত থেকে না খেয়ে আছি। চল–কিছু খাওয়া যাক।
–ফ্রান্সিসকে না দেখা পর্যন্ত আমি খাবো না। হ্যারি বলল।
–পাগলামি করো না হ্যারি। ফ্রান্সিসকে খুঁজতে হলে আমাদের সুস্থ থাকতে হবে। অনাহারে দুর্বল শরীর নিয়ে আমরা কিছুই করতে পারবো না। কথাটা ভেবে দেখ। শাঙ্কো বলল।
হ্যারি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বললো–বন্দী দশায় ফ্রান্সিস বলতো –পেট ভরে খাও। খেতে ভালো না লাগলেও খাও। শরীরটা চাঙ্গা রাখো।
–আমিও তাই খেয়েটেয়ে সুস্থ থাকার কথা বলছিলাম। বুঝে দেখ–রাজবাড়ি গেলাম চিচেন ইতজায় গেলাম এখন ফিরে আসছি–শরীর একটু দুর্বল লাগছে না?
হ্যারি বলল–হ্যাঁ। ঠিকই বলেছো। শরীর বেশ দুর্বল লাগছে।
কাজেই পেট পুরে খেতে হবে। আবার সন্ধ্যেবেলা বেরোতে হবে। ফ্রান্সিসকে খোঁজা চলবে। শাঙ্কো বলল।
–ঠিক আছে। দুপুর থেকে আমরা খাওয়াদাওয়া করবো। আমাদের সুস্থ থাকতে হবে। হ্যারি বলল।
সরাইখানার মালিক এল। হেসে হেসে ভাঙা ভাঙা স্পেনীয় ভাষায় বলল– গতকাল রাতে খান নি। সকালেও খান নি। রান্না ভাল হয়নি?
রান্না ঠিক আছে। আমাদের এক প্রাণের বন্ধুর কোন হদিশ পাচ্ছি না। সে নিজের থেকেও ফিরে আসেনি–তার জন্যেই আমরা খাই নি। হ্যারি বলল।
–কী করে বন্ধুটি হারালো? সরাইখানার মালিক জানতে চাইলো।
–গত সন্ধ্যায় রাজবাড়ির সামনে আমরা গিয়েছিলাম কবে রাজা পূর্ণিমা উৎসব করতে কোন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন কিনা সেটা দেখতে। আমরা তেমন কোন বিজ্ঞপ্তি দেখলাম না। রাত হল। বন্ধুটি বলল–তোমরা সরাইখানায় চলে যাও আমি অপেক্ষা করি। দেখি–বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হল কিনা। আমি পরে যাচ্ছি। একটু থেমে হ্যারি বলল
আমরা দুজনে ফিরে এলাম। বন্ধুর জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলাম। রাতে গেলাম না। সারারাত ঘুমুতেও পারি নি। বন্ধু ফিরল না। আজও রাজবাড়ির কাছে চিচেন ইতজায় বন্ধুকে খুঁজে বেড়ালাম। বন্ধুকে পেলাম না।
সরাইখানার মালিক মাথা এপাশ ওপাশ করে বলল–সত্যি এটা তো খুবই দুশ্চিন্তার ব্যাপার।
শাঙ্কো বলল–আজ থেকে আমরা খাবো। শরীর সুস্থ রাখতে হবে।
হ্যারি বলল–আর এক সমস্যা। তুলামের জাহাজঘাটায় আমাদের জাহাজ রয়েছে। বত্রিশজন বন্ধু রয়েছে। তারা এখনও বন্ধুর নিখোঁজ হয়ে যাবার খবর জানে না। তারাও আমরা ফিরলাম না দেখে ভীষণ চিন্তায় পড়বে।
–তাহলে এখন কী করবেন? মালিক বলল।
–সেটাই ভেবে ঠিক করতে পারছি না। হ্যারি বলল।
–আমি বলি কি একজন জাহাজে যান। বন্ধু নিখোঁজ এই সংবাদটা জানান। আরো কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে আসুন।
হ্যারি মাথা নিচু করে ভাবল। তারপর শাঙ্কোকে বলল
–শাঙ্কো কী করবে?
–ঠিকআছে। আমরা এন্টু ভেবে দেখি। শাঙ্কে বলল সরাইখানার মালিক চলে গেল।
সেদিন বিকেলে ফ্রান্সিসরা রুটি, মধু খেল। সাইল কয়েকটা থলি নিল। আটা-ময়দা তরিতরকারি এসব কিনে আনতে তৈরি হল। ফ্রান্সিস বলল–সাইল–রাজপ্রাসাদের সামনের পাথুরে দেওয়ালে রাজার বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে কিনা দেখো তো?
