কেউই যেখানে থৈ পাচ্ছে না সেখানে তুমি এমন ভাব দেখাচ্ছো যেন নকশাটার অর্থ বুঝে ফেলেছে। ফ্রান্সিস বলল।
–মন দিয়ে নকশাটা দেখছিলাম আর কি। অবশ্য নকশার অর্থ বোঝবার জন্যে তুমিই তো আছো। সাইল বলল।
–আমি কিছুই বুঝতে পারি নি। প্রথমেই চিন্তা তুলামেও এমনি একটা মন্দির আছে। এখন বুঝতে হবে এই নয় যে মন্দির মতো আঁকা হয়েছে সেটা তো তুলামের মন্দিরও হতে পারে। ফ্রান্সিস বলল। সাইল একটুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল–আচ্ছা, নকশায় কোথাকার মন্দিরটা আর্কা আছে বলে তুমি মনে কর।
–এখানকার মন্দিরটা তুলামের মন্দিরের চাইতে অনেক বড়। কিন্তু মন্দির দুটো দেখতে একরকম। তুমি তো রাজা।
–হা সাইল বলল।
তাই এবার প্রশ্ন কোন মন্দিরটা খুঁজবে? ফ্রান্সিস বলল।
সাইল চুপ করে কিছুক্ষণ ভাবল। তারপর বলল–আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। একটা কাজ করা যাক–তুলামের মন্দিরটা একবার খোঁজাখুঁজি করা যাক। দেখি হদিশ পাই কিনা। ফ্রান্সিস একবার ভাবল ওদের অভিজ্ঞতার কথা বলবে। পরক্ষণেই ভাবল আমি যা জানি বলি। তারপরেও যদি যেতে চায় মন্দিরটা দেখতে যায় তার দায়িত্ব সাইল আর রবার্টের। তবু ফ্রান্সিস ওদের সাবধান করে দিতে বলল–ঐ মন্দিরের নিচে গর্ভগৃহ আছে। তাতে আগুন জ্বলে।
–সবসময়? সাইল জানতে চাইল।
–না। আগুন জ্বললো না। কিছু পড়লেই দপ করে জ্বলে ওঠে। আগুন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গর্ভগৃহটি। ফ্রান্সিস বলল।
–আমরা তার আগেই খোঁজা শেষ করবো। সাইল বলল।
–পারবে না। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমরা নাকি ভাইকিং। খুব বীর নাকি তোমরা। এইটুকু ব্যাপারেই ভয় পেয়ে গেলে? সাইল হেসে বলল।
–ঠিক আছে। চলো৷ তবে তোমাদের কিছু ক্ষতি হলে আমাকে দোষ দিও না। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমাকে দোষ দেব না। তুমি রাজা হুনাকমিনের গুপ্তভাণ্ডারের সন্ধান দাও তাহলেই হবে। সাইল বলল।
বদলে আমাকে কী দেবে? ফ্রান্সিস বলল।
–আগে পাইতো তারপর দেওয়ার প্রশ্ন। সাইল বলল।
ফ্রান্সিস মাথা ঝাঁকিয়ে বললনা। আগে সেটা ঠিক করে নিতে হবে।
–বেশ তা করা যাবে। সাইল বলল।
–উঁহু–আমাকে আগে কথা দাও। ফ্রান্সিস বলল।
“ঠিক আছে গুপ্ত ধনভাণ্ডার তিনটে ভাগ করা হবে। আমরা তিনজনে এক ভাগ করে নেব। সাইল বলল।
— এইবার আমি রাজি। এখন বলো তুলামের মন্দিরেখুঁজতে যাবে?ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। সাইল বলল। এবার রবার্টকে বলল তুলামে যাবে তো?
–হ্যাঁ, হা–যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলো। রবার্ট বলল।
তাহলে কালকে সকালেই খেয়েটেয়ে তুলামের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়বো। সাইল বলল।
দুপুরের মধ্যে সাইলের রান্না হয়ে গেল। সাইল ফ্রান্সিসকে একটা পাহাড়ি ঝর্ণায় নিয়ে গেল। ঐ ঝর্ণার জলে স্নান সারল ওরা।
বিকেলে তিনজন বেড়াতে বেরুলো। কিছুক্ষণ রাজপ্রাসাদ বাগানটাগান দেখল। তাড়াতাড়িই আস্তানায় ফিরে এল। এসময় ফ্রান্সিস রাজপ্রাসাদের দেওয়াল দেখে এল। এখনও রাজা পূর্ণিমা উৎসবের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন নি। রাজা এখনও ঐ উৎসবের ব্যাপারে মনস্থির করেন নি।
অন্ধকারের মধ্যেই তিনজন গুহায় ঢুকল। ভেতরের দিকে যেতে লাগল সবাই। কিন্তু নিকষ অন্ধকার। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। অন্ধকারের মধ্যেই সাইল চকমকি ঠুকে। মোমবাতি জ্বালল।
কিছুক্ষণ পরে সাইল রান্না করতে শুরু করল। ফ্রান্সিস এর মধ্যে পালাবার ছক কষতে লাগল। কিন্তু রবার্ট গুণ্ডা খুনে। মানুষ মারতে ওদের হাত কাঁপে না। রবার্ট সবসময়ই সজাগ। ওর দৃষ্টি এড়ানো প্রায় অসম্ভব।
খাওয়া দাওয়ার পর ফ্রান্সিসরা একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ল। ফ্রান্সিসের ঘুম আসছে না। শুধু ভাবনা মারিয়া, বন্ধুরা কেমন আছে। ওরা ফ্রান্সিসের হঠাৎ বেপাত্তা হওয়ার খবর পেয়েছে কিনা। পেলে ওরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে।
রাত গম্ভীর হল। ফ্রান্সিসের চোখে ঘুম নেই। অন্ধকারে ও উঠে বসল। আস্তে আস্তে প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে গুহার মুখের দিকে চলল। কিন্তু যখন রবার্টের পায়ের কাছ দিয়ে ও যাচ্ছে তখনই রবার্টের ভারি গলা শুনল–ঘুমোও তো-নইলে ছুরি খেয়ে মরবে।
হতাশ ফ্রান্সিস ফিরে এসে শুয়ে পড়ল। একটু পরে ঘুমিয়ে পড়ল।
ওদিকে হ্যারি আর শাঙ্কো ফ্রান্সিসদের না ফেরার জন্যে চিন্তায় পড়ল। সরাইখানায় রাতের খাওয়ার সময় হয়ে গেল। সরাইখানার সকলের খাওয়া হয়ে গেল। হ্যারিরা তখনও ফ্রান্সিসদের জন্য অপেক্ষা করছে। সরাইখানার লোক দু’তিনবার এসে খেয়ে নিতে বলল। হ্যারি বলল–আমাদের বন্ধু এখনও ফেরে নি। বন্ধু এলে তবে খাবো।
রাত গম্ভীর হল। হ্যারি, শাঙ্কো তখনও খেল না। সরাইখানার কাজের লোকেরা সবাই শুয়ে পড়ল। ঘরের মোমবাতি নিভিয়ে দেওয়া হল। অন্ধকারে হ্যারি আর শাঙ্কো চুপ করে শুয়ে রইল। ওদের আর খাওয়া হল না।
পাখির ডাক শোনা গেল। রাত শেষ। হ্যারি আর শাঙ্কো তখনও জেগে। দুজনের আর ঘুম হল না।
সকাল হল। সরাইখানার লোক ওদের সকালের খাবার দিতে এল। হ্যারি আর শাঙ্কো মাথা নাড়ল। লোকটি বলল–আপনারা কাল থেকে কিছু খান নি।
বন্ধু ফিরলে খাবো। হ্যারি বলল।
বন্ধু হয়তো অন্য কোথাও গেছে। ফিরতে দেরি হচ্ছে। আপনারা কি ততদিন পর্যন্ত না খেয়ে থাকবেন? লোকটি বলল।
-দেখি। হ্যারি বলল। লোকটা চলে গেল।
দুজনে হাতমুখ ধুয়ে এল। হ্যারি বলল-শাঙ্কো চলো রাজপ্রাসাদের সামনে যাই। ফ্রান্সিস ওখানেই ছিল। আমরা চলে এসেছিলাম।
