আমাকে বাদ দাও। যে সরাইখানায় আলফানসো আছে সেখানে যাও নকশাটা চাইলেই পেয়ে যাবে। সেটা এনে দেখে বুঝে তোমরাই ধন ভাণ্ডার উদ্ধার কর। ফ্রান্সিস বলল।
–আমাদের সেই সাধ্য নেই। একমাত্র তুমিই পারবে ঐ ধনভাণ্ডার উদ্ধার করতে। সাইল বলল।
-তোমার সঙ্গী ঐ গুণ্ডাটাকে-ফ্রান্সিস কথাটা শেষ করতে পারল না। রবার্ট লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল। কোমর থেকে একটা বড় ছোরা এক ঝটকায় বের করল। চড়া গলায় বলল–আর একবার আমাকে গুণ্ডা বললে তোমার পেট ফাঁসিয়ে দেব।
-রাগ কর কেন? তুমি যা আমি তাই বলেছি। ফ্রান্সিস বলল।
–আবার? রবার্ট চেঁচিয়ে বলল।
–ঠিক আছে। আর এসব নিয়ে কথা বলবো না। কিন্তু আমাকে যে তোমরা ভীষণ বিপদে ফেললে। ফ্রান্সিস বলল।
কীসের বিপদ? সাইল বলল।
–আমার একদল বন্ধু পড়ে রইল তুলামের জাহাজঘাটায়। বাকি দু’জন পড়ে রইল এক সরাইখানায়। কবে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে, কবে তোমাদের হাত থেকে রেহাই পাবো। সব জগাখিচুড়ি পাকিয়ে গেছে। ফ্রান্সিস বলল।
–সব হবে। বন্ধুদের কাছে ফিরে যেতে পারবে। তার আগে রাজা হুনাকমিনের গুপ্তধন আমাকে খুঁজে বের করতে হবে। সাইল বলল।
তাই তো তোমাকে ধরে এনেছি। সাইল বলল।
–হুঁ। ফ্রান্সিস মুখে শব্দ করল। বেশ রাত হয়েছে। সাইল উঠে দাঁড়াল। মোমবাতিটা নিয়ে কোনার দিকে গেল। মোমবাতি রেখে জমানো খড় গাছপালার শুকনো ডাল নিয়ে পাথরের উনুনে মোমবাতি দিয়ে আগুন লাগাল। উনুন ধরতে ধরতে সাইল বস্তা থেকে আটা ময়দা বার করল। আটা ময়দা ঠাসলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই রুটি বানাল। আলু শিমের তরকারি দুপুরেই করা ছিল বোধহয়।
সাইল গলা চড়িয়ে ডাকল–ফ্রান্সিস, রবার্ট খাবার তৈরি। বসে পড়। ফ্রান্সিস আর রবার্ট বিছানা থেকে উঠল। রান্নার জায়গায় এল। সাইল লম্বাটে শুকনো পাতা পাতল। রুটি তরকারি দিল। ফ্রান্সিস প্রায় হাপুস হুপুস করে খেতে লাগল। খিদেও পেয়েছে। একেবারে রাক্ষুসে ক্ষিদে। খেতে খেতে ফ্রান্সিস বলল–আমি একটু বেশি খাই। সাইল সেটা ভালোভাবেই বুঝল। কিছু বলল না। ফ্রান্সিস আড়চোখে তাকিয়ে দেখল মাত্র কয়েকটা রুটি পড়ে আছে লোহার তাওয়ায়। ফ্রান্সিস আর রুটি চাইল না। তরকারি শেষ।
ফ্রান্সিস আর রবার্ট হাতমুখ ধুয়ে এসে বিছানায় বসল। ওদিকে সাইলকে মাত্র তিনটে রুটি তরকারি ছাড়াই খেতে হল।
আর একটু রাত বাড়তেই ওরা ঘুমিয়ে পড়ল। ফ্রান্সিসের চোখে ঘুম নেই। ও চুপ করে শুয়ে রইল। ঘণ্টা দুয়েক সময় পরে ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে বিছানা থেকে উঠল। মোমবাতি বোধহয় সাইল নিভিয়ে দিয়েছে। গভীর অন্ধকারে ফ্রান্সিস শুধু গুহার মুখটা দেখতে পাচ্ছিল। সেইদিক লক্ষ্য রেখে ফ্রান্সিস দু’পা যেতেই রবার্টের গলা শুনল।
“চুপ করে শুয়ে পড়ো গে। আমি যতক্ষণ খুশি জাগতে পারি, যতক্ষণ খুশি ঘুমুতে পারি। আমার চোখেকে ফাঁকি দিতে পারবে না। যাও।
ফ্রান্সিস বুঝল–এভাবে পালানো যাবে না। অন্য ছক কেটে পালাতে হবে। ফ্রান্সিস ফিরে এসে শুয়ে পড়ল। নানা চিন্তা মাথায়। ফ্রান্সিস মনকে শান্ত করল। আস্তে আস্তে একসময় ঘুমিয়ে পড়ল।
সকালের জলখাবার খেয়ে রবার্ট বলল–আমি আলফানসোর কাছ থেকে নকশাটা আনতে যাচ্ছি। ভালো কথা–ফ্রান্সিস নকশাটা এখন কার কাছে আছে?
–আমার বন্ধু শাঙ্কোর কাছে। ফ্রান্সিস বলল।
শাঙ্কো কি ভালোয় ভালোয় দেবে না আমাকে ছুরি চালাতে হবে।
না ভালোয় ভালোয় তোমাকে দেবে। আমি বলেছি এইকথা বলবে। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। রবার্ট বলল।
গুহার মুখের দিকে যেতে যেতে রবার্ট বলল–সাইল, একে সাবধানে পাহারা দেবে। এ কিন্তু ভীষণ চালাক। সবসময় চোখে চোখে রাখবে। হঠাৎ রবার্ট ফিরে এল। সাইলের কানে কানে বলল–আমার শিয়রে দিনের বিছানার নিচে একটা ছোরা আছে। দরকারে কাজে লাগাবে।
রবার্ট গুহা থেকে বেরিয়ে চলে গেল।
এবার ফ্রান্সিস বলল–আমাকে এভাবে আটকে রেখেছো কেন?
দরকার আছে। সাইল বলল।
–তোমরা আমার কাছে কী চাও? ফ্রান্সিস বলল।
–খুব সামান্য জিনিস রাজা হুনাবমিনের গুপ্ত ধনভাণ্ডারের হদিশ। সাইল বলল।
–আমি ওসব ভাণ্ডারের কী জানি। ফ্রান্সিস বলল।
–একমাত্র তুমিই জানো। সাইল বলল।
–তাহলে আমাকে পালাতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–কোনভাবেই পালাতে পারবে না। সাইল বলল।
–দেখি। ফ্রান্সিস মাথা ওঠানামা করল।
সাইল আস্তে আস্তে গিয়ে গুহার মুখে দাঁড়াল–একটা পাথরের আড়ালে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। একটা অল্পবয়সী ছেলে সাইলের কাছে এল। কী কথা হল দুজনে। সাইল ফেট্টি থেকে বোধহয় দাম বের করে দিল।
সাইল গুহার ভেতরে এসে বিছানায় বসল। কোনার রান্না করার জায়গাটায় রান্নার আয়োজন করতে লাগল।
ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রবার্ট ফিরে এল। গুহার মুখ থেকে দ্রুত ছুটে এল। ফ্রান্সিস বুঝলসাইল রবার্ট এই গুহায় গোপনে আশ্রয় নিয়েছে। এটাই ওদের গোপন আস্তানা।
রবার্ট ঢুকতেই সাইল বলে উঠল–রবার্ট–নকশা পেলে?
নকশা না দিয়ে যাবে কোথায়? মানে ছোরা টোরা দেখাতে হয় নি। রবার্ট বুঝতেই পারেনি যে শাঙ্কো যে নকশাটা দিয়েছে সেটা নকল। আসলটা রয়েছে হ্যারির কাছে।
নকশাটা দাও। সাইল বলল। রবার্ট কোমরে গোঁজা নকশাটা বের করে দিল। সাইল খুব মনোযোগ দিয়ে নকশাটা দেখতে লাগল। ফ্রান্সিস মৃদু হাসল। সাইলের নজরে পড়ল সেটা। সাইল বলল-হাসছো কেন?
