.
বিকেল হলে ফ্রান্সিসরা বেড়াতে বের হয়। নগরে ঘুরে বেড়ায়। রাজপ্রাসাদ দেখে বিখ্যাত রাজউদ্যান দেখে। সন্ধ্যে নাগাদ সরাইখানায় ফিরে আসে।
দিন পাঁচেক কেটে গেল। সেদিন রাজপ্রাসাদের সম্মুখ দিয়ে ওরা আসছে দেখল। প্রাসাদে ঢোকবার প্রধান দরজার সামনে লোকজনের ভিড়। প্রাসাদ রক্ষীদের সামনে লোকেরা দাঁড়িয়ে আছে। ফ্রান্সিস চলো তো কী ব্যাপার দেখি। ফ্রান্সিসরা প্রাসাদ রক্ষীদের কাছে এল। তখনই গোমড়ামুখো রক্ষীদের দেখল-হাসছে। বেশ খুশি। ফ্রান্সিস একজনকে জিজ্ঞেস করল-কী ব্যাপার ভাই?
–শোনেননি? রাজপুত্র সম্পূর্ণ সুস্থ। রাজা জানিয়েছেন পূর্ণিমা উৎসব হবে। তবে দিনটা এখনও স্থির করেন নি। দিনটা জানার জন্যে আমরা অপেক্ষা করছি। ফ্রান্সিসরা সবাই শুনল ব্যাপারটা। ফ্রান্সিস বলল–আমরা এখানে অপেক্ষা করবো। পূর্ণিমা উৎসবের দিনটা জেনে যাবো।
ফ্রান্সিসরা অপেক্ষা করতে লাগল। ভিড় বাড়তে লাগল। একসময় ফ্রান্সিস বলল–হ্যারি তোমার সরাইখানায় চলে যাও। আমি খবরটা জেনে আসছি। হ্যারি আর শাঙ্কো চলে গেল। ফ্রান্সিস এদিক ওদিক হাঁটাহাঁটি করল কিছুক্ষণ। একজন লোককে ফ্রান্সিস জিজ্ঞেস করল–রাজার আদেশ কী করে জানবো?
লোকটি আঙ্গুল দিয়ে একটা চৌকোনো পাথর দেখাল। ফ্রান্সিস সেইদিকে গেল। দেখল পাথরের দেয়ালে একটা কষ্টিপাথর গেঁথে দেওয়া। প্রধান প্রবেশপথের আলো এখানে এসেছে। আট দশজন লোক কষ্টিপাথরের লেখাটা পড়ছে। লেখাটা স্পেনীয় ভাষায় লেখা। তলতেক ভাষায় কোন লিপি বা লিখিত রূপ নেই। ফ্রান্সিস পড়তে লাগল–ঈশ্বরের কৃপায় রাজপুত্র সুস্থ হয়েছে। পূর্ণিমা উৎসবের দিন ঘোষিত হবে।
ফ্রান্সিস লেখাটা সবে পড়ে শেষ করেছে একটা বলিষ্ঠ হাত পেছন থেকে ফ্রান্সিসের গলা পেঁচিয়ে ধরল। ফ্রান্সিস দুহাত দিয়ে গলায় চেপে ধরা হাতটা খুলতে চেষ্টা করতে লাগল। এইভাবে কিছুক্ষণ চলল। দুজনেই হাঁপাতে লাগল। ফ্রান্সিস ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল রবার্ট ওরা গলা পেঁচিয়ে ধরে আছে। সঙ্গে সাইল। সাইল ফ্রান্সিসের হাত দুটো দড়ি দিয়ে বাঁধল। এবার দুজন ফ্রান্সিসকে টেনে নিয়ে চলল। ভিড়ের দু’একজন জানতে চাইল–কী ব্যাপার? সাইল গলা চড়িয়ে বলল–লোকটা চোর। তাই ধরে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছি। ফ্রান্সিস এই অভিযোগের কোন জবাব দিতে পারল না। রবার্ট ওর গলা চেপে আছে।
ওরা ফ্রান্সিসকে টেনে নিয়ে চলল। রোগাটে চেহারার রবার্টের হাত লোহার মতো শক্ত। ফ্রান্সিস নানাভাবে চেষ্টা করেও গলা ধরা হাতটা সরাতে পারল না।
প্রাসাদের উদ্যানের কাছে এল সাইলরা। একটা ঘোড়ায় টানা গাড়ি দাঁড়িয়ে। ফ্রান্সিসকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হল। সবাই গাড়িতে বসে পড়ল। গাড়ি চলল। পাথুরে রাস্তায় টক্ টক্ শব্দ উঠল। ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দ।
গাড়ি বেশ কিছুটা পথ যেতে রবার্ট হাতের চাপ কমাল। ফ্রান্সিস হাঁপানো গলায় বললো–আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?
–আমাদের আস্তানায়। সাইল বলল।
–কেন? ফ্রান্সিস বলল।
–একমাত্র তুমিই নকশাটার নির্দেশ বুঝতে পেরেছো। তোমরা বার কয়েকবার চিচেন ইতজায় গেছ। আমরা সর্বক্ষণ তোমাকেনজরে রেখেছিলাম। তুমি নকশার নির্দেশ মেনে সব দেখেছো। আমরা নিশ্চিত তুমিই নকশাটার অর্থ ও নির্দেশ বুঝতে পেরেছে।
–আমি কিছুই বুঝতে পারি নি। ফ্রান্সিস বলল।
–তুমি মিথ্যে কথা বলছে। সাইল গলা চড়িয়ে বলল।
এই ব্যাপারে আমি কোন কথাই বলবো না। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমাকে বলতে বাধ্য করবো। দাঁত চাপাস্বরে সাইল বলল।
–আমাকে বাধ্য করার চেষ্টা করো না। সে চেষ্টা করলে তোমরা দুজনেই নরকে যাবে? ফ্রান্সিস বলল।
-বেশ। দেখা যাবে কে নরকে যায়! সাইল বলল।
গাড়ি একটা পাথরে টিলার সামনে এসে থামল। রবার্ট গাড়ি থেকে নামতে নামতে বলল–তোমার গলা ছেড়ে দিলাম। চাঁচামেচি করবে না।
টিলাটার পাশ দিয়ে ওরা চলল। কিছুদূর গিয়ে দেখা গেল একটা বাগান মতো। সবাই বাগানাটায় ঢুকল। বাগানের পরেই টিলার গায়ে একট গুহামত। তার মুখটা এমন ছোট যে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকতে হবে। রবার্ট হামা দিয়ে চলে।
ফ্রান্সিসদেরও হামা দিয়ে ঢুকতে হল। গুহার মধ্যে তখন অন্ধকার সাইল অন্ধকার খুঁজে খুঁজে একটা মোমবাতি বের করল চকমকিঠুকে আলো জ্বালল। মোমবাতির আলো ছড়াল।
ফ্রান্সিস বলল–তেষ্টা পেয়েছে। জল দাও। সাইল একটা বড় চামড়ার থলি আনল। মাটির গ্লাসে জল ঢেলে ফ্রান্সিসের দিকে এগিয়ে ধরল। ফ্রান্সিস জল খেল। গুহার মেঝেয় একটা মোটা কাপড় পাতা। এটাই বিছানা। রবার্ট শুয়ে পড়ল।
এবার ফ্রান্সিস বলল–তোমরা আমার এভাবে ধরে আনলে কেন?
“নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। সাইল বলল।
–সেটাই তো জানতে চাইছি। ফ্রান্সিস বলল।
–যারা রাজা হুনাকমিনের ধন ভাণ্ডার খুঁজেছে আর এখনও যারা খুঁজছে তুমি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান। আমার বিশ্বাস তুমি রাজা হুনাকমিনের গোপনে রাখা ধনভাণ্ডারের খোঁজ পেয়েছে। সাইল বলল।
অত সোজা। নকশাটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি কিন্তু ধনভাণ্ডারের হদিশ পাই নি। ফ্রান্সিস বলল।
–তুমি মিথ্যে কথা বলছে। সাইল বলল।
যদি খোঁজ পেতাম তাহলে কবে সব ধনভাণ্ডার নিয়ে পালাতাম।
–সেসব বুঝি না। তোমার মুক্তি নেই। তোমাকে চেষ্টা করে যেতে হবে। সাইল বলল।
