শাঙ্কো বলল রাজবৈদ্য নিশ্চয়ই আছে। তিনিই চিকিৎসা করুন। রাজা বিদেশী ভেনকে চিকিৎসা করতে অনুমতি দেবে না। কাজেই সে চেষ্টা না করাই ভালো।
ফ্রান্সিসরা এসব কথাবার্তা বলছে তখন সরাইখানার মালিক ঘরে ঢুকল। বলল– রান্না হয়ে গেছে। আপনারা খেতে বসুন। ফ্রান্সিস তড়াক করে উঠে বসল। বলল– হ্যারি ভীষণ খিদে। আর রাত করবো না। খেতে বসো। ফ্রান্সিসরা বসে পড়ল। মালিক আর দুটো মোম জ্বালিয়ে দিয়ে গেল। পরিচারক এসে ফ্রান্সিসদের সামনে গোল গোল শুকনো পাতা পেতে দিয়ে গেল। ফ্রান্সিস গলা নামিয়ে বলল–কী খাওয়াবে ভাই?
–আজ মাংস হয়েছে।
–বেঁচে থাকুক সরাইওয়ালা। একটু তাড়াতাড়ি দাও। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিসের কথাটথা শুনে হারি হাসল। বলল–ফ্রান্সিস তুমি দিনকে দিন পেটুকহচ্ছে।
কদিন আর বাঁচবো। ফ্রান্সিস গম্ভীরমুখে বলল। হ্যারি হো হো করে হেসে উঠল।
সবাইর খাওয়া হল। হাতমুখ ধুয়ে ফ্রান্সিসরা বিছানায় বসল। ওখানে মোটা কাপড় পাতা। ওটাই বিছানা। ওখানেই শোয়া ঘুমোনো।
ফ্রান্সিসরা নিজেদের মধ্যে কিছু কথাবার্তা বলল। তারপর ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুমোবার আগে হ্যারি বলল–বেশ কিছুদিন আমরা জাহাজ ছেড়ে এসেছি। রাজকুমারী আর বন্ধুদের কথা বড় বেশি মনে পড়ছে।
“ওসব নিয়ে ভেবো না। মন দুৰ্বল হবে। এখন গুপ্ত ধনভাণ্ডার ছাড়া অন্য কিছু ভেবো না। ফ্রান্সিস বলল।
তখন সবে ভোর হয়েছে। হঠাৎ সরাইখানার দরজা ধাক্কা দেবার শব্দ শোনা গেল। ফ্রান্সিস হ্যারি উঠে বসল। আবার দরজায় ধাক্কা। এবার বেশি জোরে। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–ও মালিকমশাই দেখুন তো কী ব্যাপার। মালিক কাশতে কাশতে এল। আবার ধাক্কা। মালিক গলা চড়িয়ে বলল–যাচ্ছি।
মালিক দরজা খুলল। ঢুকল দুজন। মাইল আর ওর এক সঙ্গী রবার্ট মালিক ফ্রান্সিসদের কাছে এসে বিড় বিড় করে বলল–এদের একজন রবার্ট। এখানকার কুখ্যাত গুণ্ডা। মানুষ মারতে ওর হাত কাঁপে না। সঙ্গে সাইল। আর এক চীজ। মালিক সরে গেল।
সাইল ফ্রান্সিসদের দিকে এগিয়ে এল। আলফানসো দ্রুত উঠে দাঁড়াল। সাইল বলল–পালাবার চেষ্টা করবে না। আমার বন্ধু–রবার্ট–ছোরা চালাতে ওর মতো এই নগরে আর কেউ নেই। ভয়ে আলফানসোর মুখ শুকিয়ে গেল। ও বলল তোমরা এসেছো কেন?
সাইল বলল–নকশাটা নিতে এসেছি।
আমি তো বলেছি সেই সরাইখানার মালিকের কাছে আমি রেখে দিয়েছিলাম। আলফানসো বলল।
–সেই মালিক বলছে কোনরকম নকশা বা ছবি কেউ তাকে দেয় নি। সাইল বলল।
মালিক মিথ্যে কথা বলছে। আলফানসো বলল।
–ঠিকআছে। এক্ষুণি তুমি আমাদের সঙ্গে চলো। ঐ মালিকের কাছে যাবো। সাইল বলল।
আমি যাবো না। আলফানসো বললো, সাইল রবার্টকে ইঙ্গিত করল। সাইল কোমর থেকে ছোরা বের করল। ছুটে এসে আলফানসোর গলায় ছোরাটা চেপে ধরল। শাঙ্কো দ্রুত উঠে দাঁড়ালো। এক ঝটকায় তরোয়ালটা খুলল। রবার্টের বুকের ওপর তরোয়ালটা টেনে নিল। জামাটা দোফালি হয়ে গেল। দেখা গেল বুক কেটে রক্ত বেরুচ্ছে। রবার্ট ঘাবড়ে গেল। দুতিন পা পিছিয়ে এল। শাঙ্কো সাইলের দিকে তাকিয়ে বলল–তোমার জামাটাও কেটে দেব? সাইল সঙ্গে সঙ্গে দু’পা পিছিয়ে গেল। ওরা কখনও তরোয়াল দেখে নি। চ্যাপ্টানো কালো রঙের লাঠিটা যে এত ধারালো তা ওরা কল্পনাও করেনি। রবার্ট ছোরাটা কোমরে গুঁজল। তারপর দুজনে ছুটে পালালো।
–আলফানসো নকশাটা কোথায় রেখেছো?
–আমি রেখে দিয়েছি। শাঙ্কো বলল।
চিচেন ইতজায় ফ্রান্সিস–ওটা আলফানসোকে দিয়ে দাও। ফ্রান্সিস বলল। শাঙ্কো কোমরের ফেট্টি থেকে নকশাটা বের করে আলফানসোকে দিলে। আলফানসো ওটা কোমরের ফেট্টিতে রেখে দিল। ফ্রান্সিস বলল–আলফানসো, এবার সাইল আর ঐ গুণ্ডাটা তোমাকে ধরলে নকশাটা দিয়ে দেবে।
-বলেন কি। তাহলে তো ওরা
–জীবনেও গুপ্তধন খুঁজে বের করতে পারবে না। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু আপনাকে তো নকশার নির্দেশ মানতে হবে। আলফানসো বলল।
ফ্রান্সিস মাথা নেড়ে বলল–আমার কাছে নকশাটার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। আমার সব ভাবা হয়ে গেছে। এখন শুধুই কাজে নামা।
–তাহলে আপনি কি নকশা ছাড়াই গুপ্তধন উদ্ধার করতে পারবেন? আলফানসো বলল।
–এখন পর্যন্ত পারবো ভাবছি। তবে কাজে নেমে কিছু কাজ এগিয়ে বুঝতে পারবো গুপ্তধন উদ্ধার করতে পারবো কি না। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে আপনার আর নকশাটার দরকার নেই? আলফানসো বলল।
–না। তুমি সাইলদের নকশাটা দিয়ে দিও। তোমাকে একা পেলে ওরা তোমার ক্ষতি করতে পারে। তার আগেই নকশাটা দিয়ে দিও। ফ্রান্সিস বলল।
সকালের খাবার খেতে খেতে হ্যারি বলল–ফ্রান্সিস তাহলে তো এখন আমাদের কিছুই করণীয় নেই।
-না। শুধু শুয়ে বসে সময় কাটানো। রাজকুমারের রোগমুক্তির জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ফ্রান্সিস বলল!
ফ্রান্সিসদের একঘেঁয়ে দিন কাটতে লাগল। এরমধ্যে দু’দিন ওরা চিচেন ইতজায় গেল। ফ্রান্সিস ঘুরে ঘুরে সব দেখল–সিঁড়ি দিয়ে উঠল নামল। সব দেখেই সে ফিরে এল। হ্যারি বলল–ফ্রান্সিস–পারবে রাজা হুনাকমিনের গুপ্তধন উদ্ধার করতে?
–অবশ্যই পারবো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ফ্রান্সিস দৃঢ়কণ্ঠে বলল।
–কিন্তু নকশাটা যদি আলফানসো জীবন বাঁচাতে ওদের দিয়ে দেয়। তাহলে তুমি কোন অসুবিধেয় পড়বে না?
–এখন পর্যন্ত ভাবছি কোন অসুবিধে হবে না। ফ্রান্সিস বলল।
