সন্ধে হল। ফ্রান্সিস বলল-মারিয়া– ঐ জাহাজে যাচ্ছি।
– আমিও যাবো। মারিয়া বলল।
— পরে যেও ফ্রান্সিস বলল।
–না না। এই জাহাজে আমি একা পড়ে থাকবো?
— আমার ফিরে আসতে কতক্ষণ আর লাগবে। ফ্রান্সিস বলল।
ঠিক আছে –একাই যাও। মারিয়া বলল।
–এটা তো রাগের কথা হল। তুমি না বললে আমি যাই কী করে? ফ্রান্সিস বলল।
–না। আমি আর কিছু বলবো না। তুমি যাও। মারিয়া বলল।
ফ্রান্সিস হাসল। বলল –এই ভিগো নগরে থাকা আমাদের পক্ষে বিপজ্জনক।
-তুমি ঘুরে এসো। আমি পরে যাবো। মারিয়া বলল।
ফ্রান্সিস জাহাজের বাইরে এল। রাস্তা দিয়ে হেঁটে গিয়ে ছোটো জাহাজটার কাছে গেল। তারপর পাতা পাটাতন দিয়ে জাহাজে উঠল। হ্যারি একটা ছোটো কেবিন ঘরে ফ্রান্সিসকে নিয়ে এল। ফ্রান্সিস বলল –এখন একটা কাজের কথায় আসি। আমাদের জাহাজে আধবস্তা চিনি ছাড়া কিছু নেই। আটা ময়দা চিনিও কিনে আনতে হবে। আর দুজন যাও পিপে দুটোয় জল ভরে নিয়ে এসো।
ফ্রান্সিসের কথামত কয়েকজন ভাইকিং কাজে নেমে পড়ল।
ফ্রান্সিস হ্যারিদের বলল–দুটো জাহাজই একসঙ্গে ছাড়বোনা। প্রথমে বড় জাহাজটা ছাড়বো। তার এক ঘণ্টা পরে ছোট জাহাজটা ছাড়বো। গভীর সমুদ্রে গিয়ে প্রায় সবাই বড় জাহাজে চলে আসবে। মাত্র তিন চারজন ছোট জাহাজে থাকবে। ফ্রান্সিস বলল।
– জাহাজ চালিয়ে কোথায় যাবো আমরা? হ্যারি বলল।
— আমরা রাজা অপৰ্তোর দেশে যাবো! ফ্রান্সিস বলল।
–তা কেন? আমরা তো ঐ দেশে না গিয়ে স্বদেশে ফিরে যেতে পারি। হ্যারি বলল।
–ঠিক এই কথাটাই বলতে আমি এসেছি। মাত্র একটা দিনের জন্যে অনায়াসে ঐ রাজ্যে থাকতে পারি। নকশা দেখে রাজা ওভিড্ডোর তরবারি উদ্ধার করবো। ফ্রান্সিস বলল।
– ঠিক আছে। একটা দিন আমরা ওখানে থাকবো। সেই দিন ও রাত্রের মধ্যে ওভিজ্ঞার তরবারি উদ্ধার করতে পারলে তো ভালোই। কিন্তু যদি ব্যর্থ হই তাহলে তার পরদিনই আমরা জাহাজ ছাড়বো। হ্যারি বলল।
–বেশ। ফ্রান্সিস বলল।
বড় জাহাজই অনেকটা দূরে এল। গভীর সমুদ্রে থামল। বেশ কিছুক্ষণ পরে ছোটো জাহাজ এল। এবার ছোটো জাহাজ থেকে বড় জাহাজে যাওয়া। ছোটো জাহাজটা গিয়ে বড় জাহাজের গায়ে লাগলো। ঢেউয়ের দুলুনির মধ্যে দিয়ে বড় জাহাজের ডেক-এ এক এক করে ভাইকিংরা উঠে এল।
দুটো জাহাজইচলল। বড়জাহাজটা চালাচ্ছিল ফ্লেজার। ও শাঙ্কোকে ডেকেবলল–তোমরা দাঁড়ঘরে যাও। জাহাজটার গতি বাড়াতে হবে। শাঙ্কো হ্যারিকে গিয়ে বলল। হ্যারি ডেক-এ উঠে এল। গলা চড়িয়ে বলল –ভাইসব জাহাজের গতি বাড়াতে হবে। দাঁড়ঘরে যাও।
ভাইকিং রেলিং ধরে ছোটো জাহাজে বন্ধুদের ডেকে বলল–বাতাস পড়ে গেছে। তোমরা দাঁড় টানো। জাহাজের গতি বাড়াও। ছোটো জাহাজের ভাইকিংরাও দাঁড়ঘরে গেল। দাঁড় বাইতে লাগল।
দুটো জাহাজই বেশ দ্রুতগতিতে চলল।
পরদিন বিকেলে জাহাজ রাজা অপৰ্তোর রাজ্যে পৌঁছল। দূর থেকে দেখা গেল ছোটো বন্দরটা তিনটে জাহাজ রয়েছে। ওর মধ্যে একটা জাহাজ রাজা ভিলিয়ানের। এখন রাজা অপৰ্তোর দখলে।
ফ্রান্সিস ফ্লেজারের কাছে এল। বলল –ফ্লেজার জাহাজ তীরের কাছে নিয়ে যেও না। দুরেই রাখো। ফ্লেজার জাহাজের গতি কমাল। তারপর আস্তে আস্তে জাহাজটা থামাল। ছোটো জাহাজটাও শাঙ্কোর চেঁচিয়ে বলা কথা শুনে থামাল।
শাঙ্কো ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল –আজকে রাতেই তো যাবে?
–হ্যাঁ। তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে নিতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
— ঠিক আছে। আমিই তোমাকে ডাকতে যাবো। শাঙ্কো বলল।
— বেশ। ফ্রান্সিস চলুন।
সন্ধের পর পরেই শাঙ্কো রাতের খাবার খেয়ে নিল। ফ্রান্সিস একটু পরে খেল।
কেবিন ঘরে গিয়ে পোশাক পরে নিল। কোমরে তলোয়ার গুজল। তারপর বিছানায় বসে শাঙ্কোর জন্যে অপেক্ষা করতে লাগল।
–আজ রাতে যাচ্ছো? মারিয়া বলল।
–হ্যাঁ। হ্যারি বাড়ি ফেরার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। আজ রাতটা আমাকে সময় দিয়েছে। আজ রাতে রাজা ওভিড্ডোর তরবারি উদ্ধার করতে হবে।
— তার মানে আজ রাতেই শেষ চেষ্টা করতে হবে। মারিয়া বলল।
–হ্যাঁ। ফ্রান্সিস বলল।
–নকশাটা সঙ্গে নিয়েছো? মারিয়া বলল।
–হ্যাঁ হ্যাঁ। এবার প্রথমে গুহাটা দেখতে হবে। তারপর চেস্টনাট গাছের বনভূমি।
কিছু পরে শাঙ্কো তৈরি হয়ে এল। বলল–মশাল নেবো?
–দরকার নেই। আজকে জোছনা উজ্জ্বল। দুজনে চলল জাহাজের পেছন দিকে। সেখানে দড়ির মইটা রাখা আছে। দুজনে দড়ির মইটা নিচে একটা নৌকোর ওপর নামিয়ে দিল। তারপর প্রথম ফ্রান্সিস পরে শাঙ্কো নৌকোটায় নামল। মই ছেড়ে দিল।
দুজনে নৌকায় নামল। দড়ির মইটা ওপরে উঠতে দেখে দুজনেই দেখল হ্যারি মইটা ওপরে তুলে নিল।
ফ্রান্সিস দাঁড় বেয়েচলল। আজ আকাশে জোছনার ছড়াছড়ি। কিছুটা পর্যন্ত ভালোই দেখা যাচ্ছে।
তীরভূমিতে পৌঁছল। নৌকো বালিয়াড়িতে তুলে রাখল। বন্দরের কাছে এসে দুজনে ঝোপ জঙ্গলে ঢুকল। কিছুদূর গিয়ে দেখল রাস্তার ওপাশেই বুনো চেস্টনাট গাছের জঙ্গল।
ফ্রান্সিস আস্তে বলল –চল– রাস্তাটা পার হই। দুজনে সদর রাস্তায় এল। দুদিকে তাকিয়ে দেখল সৈন্য বা পাহারাদার কেউ নেই। ফ্রান্সিস বলল-জলদি। দুজনেই দ্রুত সদ রাস্তাটা পার হল।
টিলার নিচে ফ্রান্সিস দাঁড়াল। বলল –টিলার গুহাটা দেখতে হবে।
– চল। শাঙ্কো বলল। ফ্রান্সিসনকটা বের করল। চাঁদের আলোয় দেখে নিল। গুহাটা পশ্চিমমুখী। দুজনে টিলাটায় উঠতে লাগল। ফ্রান্সিস হিসেব করে পশ্চিমের ঢাল ধরে উঠতে লাগল।
