কিছুক্ষণ পরে তিন বন্ধু এল। সবাই চলল মোড়ের দিকে।
সুলেমানের বিরাট দোকানের সামনে এল। ফ্রান্সিস বলল– চলো সুলেমানকে দেখিয়ে দাও। একজন এগিয়ে গেল। ফ্রান্সিসও চলল। লোকটা পেছনে একটা টেবিলের কাছে গেল। টেবিলের ওপর ছোট কার্পেট। তার ওপর বসে আছে এক মধ্যবয়স্ক লোক। খুব ফর্সা সুলেমান। থুতনিতে অল্প দাড়ি। চোখে ধূর্ত দৃষ্টি। লোকটি ফ্রান্সিসকে বলল–
–ইনিই সুলেমান।
ফ্রান্সিস এগিয়ে এল। বলল –আপনি জাহাজটা কার কাছ থেকে কিনেছেন?
–তা আমি আপনাকে বলবো কেন? সুলেমান বলল।
–আমি আবার ঐ জাহাজটা এদের কাছ থেকে কিনতে চাইছি। কত স্বর্ণমুদ্রায় কিনেছিলেন? ফ্রান্সিস বলল।
–কিনেছিলাম একজন সওদাগরের কাছ থেকে। তাকে তো এখন পাওয়া যাবে না। সুলেমান বলল।
–আপনি আদৌ জাহাজটা কেনেননি। মুফতে পেয়েছেন। মানে চুরি করেছেন ফ্রান্সিস বলল।
–কে বলল আমি চোর? সুলেমান টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
-আমি বলছি। যাক গে–এই যে তিনজন কিনেছে তাদের বলু জাহাজটা আপনার নয়। আর ওদের স্বর্ণমুদ্রাগুলো ফিরিয়ে দিন।
— বা– জাহাজটা আমার। সুলেমান বেশ গলা চড়িয়ে বলল।
ফ্রান্সিস এক লাফে এগিয়ে গিয়ে সুলেমানের গলা চেপে ধরল। সুলেমান এই হঠাৎ আক্রমণে মেঝেয় কার্পেটে পড়ে গেল। ফ্রান্সিস সুলেমানের গলায় চাপ দিল। বলল– বল্ ধোঁকাবাজ– ঐ জাহাজ তোর নয়।
-না। আমার জাহাজ। সুলেমান বলল।
ফ্রান্সিস গলায় চাপ বাড়াল। বলল –এখনও বল্ ঐ জাহাজের মালিক তুই না। ব– নইলে গলা টিপে মেরে ফেলবো। সুলেমানের গলা বুজে এল। ও হাঁসফাস করতে লাগল। ফ্রান্সিস বলল- এবার সত্যি কথাটা বল্।
— জাহাজটা আমার নয়।
–বল কী দেখে জাহাজটা নিয়েছিলি?
–কিছুদিন নজর রাখলাম। দেখলাম কেউ জাহাজটায় থাকে না। আমি নিয়ে নিলাম। সুলেমান বলল।
ফ্রান্সিস তিনজন লোকের দিকে তাকাল। বলল– এইবার তোমাদের বিশ্বাস হল? ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। সুলেমান তখনও গলায় হাত বুলোচ্ছে।
ফ্রান্সিস দোকান থেকে বেরিয়ে এল। বাইরে তখন বেশ ভিড় জমে গেছে। লোকেরা তখন সেই রক্ষী দুজনকে ডেকে নিয়ে এল। দুই কারারক্ষী ছুটে এল। ফ্রান্সিস আর মারিয়াকে দেখল। একজন রক্ষী বলল–তুমি যে বললে তোমরা চলে যাচ্ছো।
– জাহাজের মালিকানা নিয়ে গোলমাল করল এই সুলেমান। অগত্যা তাকে গলা টিপে ধরতে হল। তখন সত্যি কথাটা বলল। ফ্রান্সিস বলল।
রক্ষী দুজন আর কিছু বলল না। চলে গেল।
ফ্রান্সিস আর মারিয়া জাহাজে এল। দুজনে নিজেদের কেবিন ঘরে এল। সব এলোমেলো। মারিয়া বলল– সব ঘরের ধুলো ময়লা দূর করতে সময় লাগবে। আমি হাত লাগাচ্ছি। তুমি ততক্ষণ রসুইঘরে দেখে এসো খাবার জল আটা চিনি ময়দা সব আছে কিনা।
ফ্রান্সিস সব দেখেশুনে ফিরে এল কেবিনঘরে। দেখল মারিয়া একটা ঝাটা দিয়ে সব পরিষ্কার করছে।
–আটা-ময়দা চিনির মধ্যে চিনিটা বেশি আছে। কিন্তু আটা ময়দা সাফ। ফ্রান্সিস বলল।
–ভেবো না। আমার কাছে আছে। মারিয়া বলল। তার পরে কোমরবন্ধনীতে চেপে রাখা একটা চোট চামড়ার ব্যাগমতো বের করল। ওটা থেকে পাঁচটি স্মৃর্ণমুদ্রা বের করে ফ্রান্সিসকে দিল। ফ্রান্সিস বিছানায় বসেছিল। উঠতে যাবে তখনই বাইরে থেকে ডাক শুনল– ফ্রান্সিস? ফ্রান্সিস চমকে উঠল। বলল –মারিয়া এত হ্যারির গলা। এক লাফ দিয়ে ফ্রান্সিস দরজার কাছে এল। টান মেরে দরজা খুলে ফেলল।
দেখল ঘরের কাঠের দেওয়ালে দুহাত রেখে হাতে মুখ চেপেহ্যারি ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ফ্রান্সিস কিছু বলার আগেই হ্যারি ফ্রান্সিসকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। কান্নায় হ্যারির শরীর ফুলে উঠতে লাগল।
ফ্রান্সিস হ্যারিকে ধরে ধরে ঘরের মধ্যে নিয়ে এল। বিছানায় বসিয়ে দিল।
মারিয়া বলল –হ্যারি– তোমরা কোথায় গিয়েছিলে? তোমাদের খুঁজে খুঁজেও কোন হদিশ পেলাম না। তারপর মারিয়া সব ঘটনা বলল। হ্যারি বলল –আমরাও তোমাদের খুঁজে বেড়িয়েছি।
–তুমি কি এই জাহাজটা দেখে ফ্রান্সিস এখানে আছে ভেবেছিলে।
— না। ফ্রান্সিসকে আমি আগেই দেখেছি। তখন ফ্রান্সিস একজন দোকানদারের গলা চেপে ধরেছিল।
— তখন তুমি ওখানেই ছিলে? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। ফ্রান্সিসের কয়েক হাত পেছনে। তখন আমি মুখ চোখে কাপড় চাপা দিয়ে কেঁদেছি। তারপরে এখানে এলা। এবার বন্ধুদের খবর দিতে যাবো। হ্যারি বলল।
— তোমরা জাহাজ পেলে কোথায়? ফ্রান্সিস জিজ্ঞেস করল।
–এখানেই কিনেছি। রাজা অপৰ্তোর দেশে যাবো বলে। হ্যারি বলল।
— ঠিক আছে। বন্ধুদের খবর দাও। ফ্রান্সিস বলল।
– সবাইকে একসঙ্গে আসতে দেব না। এখানকার কয়েদঘর থেকে আমরা পালিয়েছিলাম। তাই একসঙ্গে এতজন বিদেশি–সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। সৈন্যও হয়তো আসতে পারে।
–ঠিক আছে –তোমরা একজন দুজনকে পাঠাও। কথাবার্তা হবে। এইভাবে সকলের সঙ্গেই কথাবার্তা হবে। এখানে যতক্ষণ থাকবো আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
হ্যারি চলে গেল। একটু পরেই হ্যারি আর শাঙ্কো ঢুকল। শাঙ্কো ছুটে এসে ফ্রান্সিসকে জড়িয়ে ধরল। চোখে জল।
–ফ্রান্সিস–তেমাদের দেখবারজন্যে বন্ধুদেরমধ্যেহুড়োহুড়শুরুহয়ে গেছে। শাঙ্কো বলল।
তারপর দফায় দফায় বন্ধুরা এল। ফ্রান্সিসদের দেখে খুশি।
সবাই ফ্রান্সিস আরমারিয়াকে দেখে গেল। হ্যাঁব্রিা নিজেদের ছোট জাহাজটায় চলে গেল।
