–ঠিক আছে তলোয়ার চালাও। ফ্রান্সিস বলল।
দুজন রক্ষী তলোয়ার কোষমুক্ত করল।
ফ্রান্সিস তলোয়ার খুলে মারিয়ার হাতে দিল। মৃদুস্বরে বলল–আজকে তোমার পরীক্ষা। মারিয়া ঘাবড়াল না। তলোয়ারটা ভালো করে ধরে রুখে দাঁড়াল।
একজন সৈন্য বলল–এ তো মেয়ে। এর সঙ্গে লড়াই করতে গেলে ও তো মরে যাবে।
-কথা রাখো। তলোয়ার চালাও। মারিয়া বলল। রক্ষী তলোয়ার নিয়ে মারিয়াকে আক্রমণ করল। মারিয়া মার ঠেকাল। তারপর নিজে তলোয়ার চালাল। রক্ষীটা ঠেকালে শুরু হল লড়াই। ফ্রান্সিস লক্ষ্য রাখল মারিয়া যাতে আহত না হয়। লড়াই জমে উঠল। রক্ষীটি কিছুতেই মারিয়াকে হারাতে পারছে না। তলোয়ারের ঘায়ে মারিয়ার কাঁধের জামা কেটে গেছে। কিন্তু মারিয়া ভ্রূক্ষেপ করল না। তলোয়ার চালাতে লাগল।
ফ্রান্সিস চড়া গলায় বলে উঠল–এবার থামো। রক্ষীটি আর মারিয়া দুজনেই লড়াই থামাল। দুজনেইহাঁপাতে লাগল। ফ্রান্সিস বলল–একজন মেয়েকে তুমি হারাতে পারলে না। আমার সঙ্গে কী লড়বে?
অন্য রক্ষীটি এবার ফ্রান্সিসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্যত হল। ফ্রান্সিস দ্রুত মারিয়ার হাত থেকে তলোয়ারটা নিল। শুরু হল ফ্রান্সিসের সঙ্গে ঐ রক্ষীটির লড়াই।
এই সকালেও ফ্রান্সিসদের ঘিরে মানুষের জটলা হল। চলল লড়াই। রক্ষীটি একটু পরেই বুঝতে পারল কার পাল্লায় পড়েছে। ফ্রান্সিস ঠিকই করেছিল সৈন্যটির শরীরে আঘাত করবে না। ওর দম ফুরিয়ে দেবে। সৈন্যটি আর তলোয়ারই তুলতে পারবে না। কিছুক্ষণ পরে তাই হল। সৈন্যটি মুখ হাঁ করে হাঁপাতে লাগল। ফ্রান্সিস ওর বর্মের চামড়ার ফিতে কেটে দিল। বর্ম খুলে পড়ল। সৈন্যটি দাঁড়িয়ে পড়ল।
–আর লড়াইয়ের ইচ্ছে আছে? ফ্রান্সিস হাঁপাতে হাঁপাতে বলল। সৈন্যটি কিছু বলল না। মুখ নিচু করে হাঁপাতে লাগল।
ফ্রান্সিস কোমরে তলোয়ার খুঁজতে খুঁজতে বলল–এখন এখান থেকে চলে যাও। আমরা তোমাদের বা তোমাদের দেশের কোনো ক্ষতি করিনি। করবোও না। আমরা কিছুক্ষণ পরেই জাহাজ ছাড়বো। তাহলে তোমরা আবার কেন আমাদের বন্দী করতে চাইছো। বিনা দোষে আমাদের কেন কয়েদ করা হবে?যাকগে–তোমরা কারা অধ্যক্ষকে গিয়ে বলো আমরা এদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। মিছিমিছি রক্তপাত আমি চাই না। তোমার বন্ধুটিকে অনায়াসে মেরে ফেলতে পারতাম কিন্তু আমি মারিনি।
ফ্রান্সিস মারিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল-চলো।
দুজনে জাহাজ ঘাটের দিকে চলল। রক্ষী দুজন আস্তে আস্তে হাঁটতে হাঁটতে ফিরে গেল।
জাহাজঘাটায় এলো। দেখল যেখানে ওদের জাহাজটা নোঙর করে রেখে গিয়েছিল সেখানেই আছে। চুরি হয়ে যায় নি। ভাগ্য ভালো বলতে হবে।
দুজন পাতা পাটাতন দিয়ে হেঁটে গিয়ে জাহাজে উঠল। কোনো লোককে দেখল না। নীচে কেবিনঘরেফ্রান্সিসরা ঢুকল। দেখল কে একজন বিছানায় শুয়ে রয়েছে। বোধহয় ঘুমিয়ে আছে।
ফ্রান্সিস কিছু বলল না। অন্য ঘরগুলোতে দেখল আরো তিনজন বিছানায় শুয়ে ঘুমোচ্ছে। ফ্রান্সিস প্রথম ঘরটায় এলো। তলোয়ার খুলল। লোকটার বুকের ওপর দিয়ে তলোয়ার চেপে টেনে নিল। জামা কেটে দো-ফাল ও লাফিয়ে উঠে বসল। কাটা জায়গা থেকে রক্ত পড়তে লাগল। লোকটা বলল–তুমি আমার জামা কেটে দিলে কেন?
–শুধু জামা কেটেছি। এবার পালাও। নইলে এবার বুকে তলোয়ার বসাবো। লোকটা একটু ভয় পেলেও বেশ চেঁচিয়ে বলল–এই জাহাজ আমাদের।
–আমাদের মানে? ফ্রান্সিস বলল।
–অন্য ঘরে আমার দুই বন্ধু আছে।
–ও। হা হা, দেখলাম ওদের। সত্যি–ওদেরও তো দেখতে হয়। ফ্রান্সিস বলল। তারপর চলল অন্য দুটোর কাছে।
ঘরটায় ঢুকে দেখল–একজন হাই তুলে উঠে বসল। লোকটারনাকে জরুল। অন্যজন ঘুমে তখনও শুয়ে।
ফ্রান্সিস দেখে যে হাই তুলছিল সেই লোকটিকে বলল–তুমি কে হে? আমাদের জাহাজে উঠেছে?
–সত্যি–অন্যায় হয়ে গেছে। তা আপনাদের রাতে ভালো ঘুম হয়েছিল তো? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ-হ্যাঁ। লোকটি হেসে বলল।
কোনো অসুবিধে হয়নি তো? ফ্রান্সিস বলল।
–তুমি কে হে? এত কথা জনতে চাইছো? জড়ুলওয়ালা বলল।
আমি যে এই জাহাজের মালিক। ফ্রান্সিস বলল।
–এ্যা? লোকটা বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল। তারপর বলল-বাঃ! আমরা কত স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে কিনলাম সেই জাহাজ তোমার হয়ে গেল? জডুলওয়ালা বলল।
–বিক্রি করেছিল কে? ফ্রান্সিস বলল।
সুলেমান। ঐ যে মোড় ওখানে বিরাট দোকান সুলেমানের। একজন বলল।
–আচ্ছা–দেখছি। তোমরা উঠে রাস্তায় এসো। ফ্রান্সিস বলল।
যে লোকটা ঘুমোচ্ছিল, সে ততক্ষণে উঠে পড়েছে। ফ্রান্সিসদের কথাবার্তা শুনছে।
এবার চলো। ফ্রান্সিস বলল।
–কোথায় যাবো? ঘুম ভেঙে ওঠা লোকটা বলল।
সুলেমানের কাছে। ফ্রান্সিস বলল।
সুলেমানের কাছে যাবো কেন? লোকটি বলল।
-তোমরা ঐ সুলেমানের সামনে গিয়ে বলবে যে সুলেমানের কাছ থেকে তোমরা জাহাজটা কিনেছো। ফ্রান্সিস বলল।
–আমরা যাব না। আমরা এই জাহাজেই থাকবো। জডুল বলল।
ফ্রান্সিস বলল –ঠিক আছে। তোমরা এসো আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। যদি সুলেনানের কাছে তোমার না যাও তাহলে এই যে তলোয়ারটা দেখছো তাই দিয়ে তিন বন্ধুর গলা কাটবো।
ফ্রান্সিস আর মারিয়া বাইরে এল। ফ্রান্সিস বলল–মারিয়া তুমি জাহাজেই থাকো।
-না-না। সুলেমানকে কী করে সামলাও তা দেখবো।
–বেশ চলো।
দুজনে তীরে উঠল। তিনজনের জন্যে অপেক্ষা করতে লাগল।
