হ্যারিদের জাহাজ চলেছে। ছোট্ট জাহাজ। হুইলটাও ছোটো ফ্লেজারেরও মন খারাপ। এই ছোট্ট জাহাজ চালিয়ে যাওয়া। ফ্লেজারের মনে পড়ল ওদের বড়ো জাহাজের কথা।
হ্যারিদের জাহাজ চলেছে। ভাইকিং বন্ধুদের মন খারাপ। এখনও ফ্রান্সিস রাজকুমারীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
একদিন পরে হ্যারিদের জাহাজ রাজা অপৰ্তোর রাজ্যের বন্দরের কাছে পৌঁছল। হ্যারি ফ্লেজারের কাছে এলো। বলল–অনেক দূরে জাহাজ থামাও।
ফ্লেজার বেশ দূরে জাহাজ থামাল।
ভাইকিংরা জাহাজের ডেক-এ এসে দাঁড়াল। হ্যারিরা দেখল রাজা ভিলিয়ান আর রাজা অপৰ্তোর সৈন্যদেরমধ্যে যুদ্ধ লেগে গেছে। জাহাজগুলোর ডেক-এদুপক্ষের সৈন্যদেরলড়াই চলছে। উভয়পক্ষের সৈন্যদের চিৎকার রণধ্বনি আর্তনাদ এত দূরেও শোনা যেতে লাগল।
ঐ জাহাজগুলোর মধ্যেই রয়েছে হারিদের জাহাজ। সেই জাহাজেও এতক্ষণ লড়াই চলেছিল। এখন লড়াই ছড়িয়ে গেল জাহাজের বাইরে–সবুজ ঘসের প্রান্তরে।
হ্যারি ভেবে পাচ্ছে না এখন কী করবে। একটা কথা বুঝল যে এখন এই যুদ্ধের ডামাডোলে ফ্রান্সিসদের খোঁজ করা যাবে না। এখন শুধু অপেক্ষা করা।
পরদিন শাঙ্কোরা বুঝতে পারল যুদ্ধ শেষ হয়েছে। সৈন্যদের পোশাক দেখে হ্যারি বুঝল রাজা ভিলিয়ানের সৈন্যরা হেরে গেছে। ঐ সৈন্যদের প্রান্তরে সারিবদ্ধ করে দাঁড় করানো হল। হাতে দড়ি বাঁধা হল। তার আগে রাজা ভিলিয়ানের সৈন্যরা অনেকে পালিয়ে গেল। সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ল। সাঁতরাতে সাঁতরাতে পালিয়ে গেল।
হ্যারি নজরদার পেড্রোকে বলল–ভালো করে নজর রাখবে চারদিকে। বিশেষ করে ঐ ঘাটে আমাদের জাহাজটা নোক করে আছে। আর দু’একটা দিন যাক। তারপর এক আমাদের জাহাজটা নিয়ে পালাবো।
পরদিন কাটল। রাত হল। চাঁদের আলো অনেকটা উজ্জ্বল। পেড্রো হঠাৎ দেখল ওদের জাহাজটা ঘাট থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে। পেড্রো সঙ্গে সঙ্গে ছুটল হ্যারির কাছে। হ্যরির কেবিনঘর খোলা ছিল।
পেড্রো হ্যারির বিছনার কাছে চলে এলো। ডাকল–হ্যারি হ্যারি। হ্যারি চোখ খুলে উঠে বসল–কী ব্যাপার?
–আমাদের জাহাজটা তীরের কাছে ছিল। পেড্রো বলল।
–হ্যাঁ। হ্যারি বলল।
জাহাজটা তীর থেকে বেশ দূরে আস্তে আস্তে ভেসে আসছে। পেড্রো বলল।
–তার মানে জাহাজে চড়ে সৈন্যটি পালাচ্ছে। হ্যারি বলল।
–তা হতে পারে। তুমি চলো। পেড্রো বলল।
–যাবো তো বটেই। আমরা ঐ জাহাজটার পিছু ছাড়বো না। চলো। হ্যারি বলল।
দুজনে ডেক-এ উঠে এলো। একটু আবছা দেখা যাচ্ছে, জাহাজের সব পাল খুলে দেওয়া হয়েছে। বেশ জোরে জাহাজ চলেছে সমুদ্রের ওপর দিয়ে।
–পেড্রো শিগগির যাও। শাঙ্কো বিস্কোদের ডাকো। অমরা এক্ষুণি জাহাজ ছাড়বো।
পেড্রো ছুটে চলল সিঁড়িঘরের দিকে। সিঁড়ি দিয়ে নামল।
অল্পক্ষণের মধ্যেই শাঙ্কো বিস্কো আর কিছু বন্ধু ডেক-এ উঠে এলো।
হ্যারি অঙ্গুলে দিয়ে দূরের চলন্ত জাহাজটা দেখল।
হ্যারি বলল–আমাদের জাহাজটা কে বা কারা উত্তর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
–কী করবে এখন? শাঙ্কো বলল।
জাহাজটাকে দূর থেকে অনুসরণ করব, হ্যারি বলল।
–তাহলে তো এখুণি আমাদের জাহাজ ছাড়তে হয়। বিস্কো বলল।
–হ্যাঁ। শাঙ্কো বিস্কো তোমরা এক্ষুনি জাহাজ ছাড়ো। সব পাল খুলে দাও। যত দ্রুতবেগে সম্ভব জাহাজ চালাও। ঐ জাহাজকে অনুসরণ করো–দূর থেকে।
ওদিকে সেদিন বিকেলে ফ্রান্সিস বলল–আজই চলো কয়েদখানায় যাবো। বন্ধুদের খোঁজ করবো। দেরি করবো না। দুজনেই এই দেশীয় পোশাক পরবো।
কিছু পরে তীরে নামল। রাস্তায় বেশ ভিড়। দোকানপাটে বেশ ভিড়। কেনাকাটা চলছে। মারিয়ার মন খুশিতে ভরে উঠল।
ফ্রান্সিস এসব দেখছে না। হ্যারি শাঙ্কোদের দেখা না হওয়া পর্যন্ত মনে শান্তি নেই। লোকজনকে জিজ্ঞেস করতে করতে ওরা কয়েদঘরের সামনে এলো। দেখল ছোটো সদর দরজায় তিনজন করারক্ষী খোলা তলোয়ার হাতে পাহারা দিচ্ছে।
ফ্রান্সিস এগিয়ে গেল। একজন কারারক্ষীকে বলল–এই কয়েদখানার যিনি অধ্যক্ষ তার সঙ্গে একটু কথা বলবো। কারারক্ষী বলল দাঁড়ান–আমি খবর দিয়ে আসছি।
–বলবেন যে একজন ভাইকিং কথা বলবেন।
–ঠিক আছে। কারারক্ষী চলে গেল।
–মারিয়া ফিস্ ফিস্ করে বলল–ফ্রান্সিস আমরা ভাইকিং, দেখা করতে এসেছি এটা বললে কেন?
–এটা তো বলতেই হবে। ফ্রান্সিস বলল।
কারারক্ষী ফিরে এসে বলল–ভেতরে গিয়ে ডানদিকে একটা বড়ো ঘর দেখবে। সেখানেই কারা অধ্যক্ষ বসেন। আপনারা যান।
ফ্রান্সিস আর মারিয়া ঢুকল। ডানদিকের ঘরটার সামনে এলো। ঘরে ঢুকল। দেখল কারা অধ্যক্ষ একটা শ্বেতপাথরের টেবিলের ওপাশে বসে আছে। টেবিলের এপাশে একটা লম্বাটে সিটের আসন। ফ্রান্সিসরা সেখানে বসল। অধ্যক্ষ বলল–
–এদেশি পোশাক পরছো বটে–কিন্তু তোমরা বিদেশি সেটা বোঝা যাচ্ছে।
–হ্যাঁ –আমরা জাতিতে ভাইকিং। ফ্রান্সিস বলল।
–বলো কী বলতে চাও? কারা অধক্ষ্য বলল।
–এই কয়েদঘরে আমাদের দেশের কেউ বন্দী আছে কিনা। ফ্রান্সিস বলল।
–কিছুদিন আগে একদলভাইকিংকেআমরা বন্দী করে এখানে রেখেছিলাম। অধ্যক্ষ বলল।
–এখনও আছে ওরা? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–না। খুব বুদ্ধি খাঁটিয়ে পালিয়েছে। কারা অধ্যক্ষ বলল।
–এটা কতদিন আগের কথা? ফ্রান্সিস বলল।
–হবে–দিন দশ-পনেরো আগে। কারা অধ্যক্ষ বলল।
–ফ্রান্সিস মারিয়ার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। কারা অধ্যক্ষের নজরে পড়ল তা।
