দ্যাখো হ্যারি এখানে যেকোনো মুহূর্তে লড়াই লেগে যেতে পারে। এখন এখানে থাকাটা খুবই বিপজ্জনক। ভিগোতে যেতে আসতে কত আর সময় লাগবে। ভেন বলল।
–বেশ। সেনাপতির দিকে তাকিয়ে হ্যারি বলল–ঠিক আছে। আমরা যাবো।
–এই তো বুদ্ধিমানের মতো কথা। তাহলে দেরি না করে কালকে সকালেই তোমাদের জাহাজ ছাড়ো। আর একটা কথা। দূরত্ব আর কুয়াশার জন্যে রাজা অপৰ্তোর সৈন্যরা আমাদের অবস্থান কিছু বুঝতে পারছে না। কুয়াশা কেটে গেলেই আমাদের দেখতে পাবে। আমাদের আর তোমাদের জাহাজ এখনই বেশ দূরে নিয়ে যেতে হবে। রাজা অপৰ্তোর সৈন্যদের নজরের বাইরে তোমরা নোঙর ফেলো। সেনাপতি বলল।
সেনাপতি নিজেদের জাহাজ নিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল সেনাপতির জাহাজ দুটো গভীর সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে। হ্যারি ফ্লেজারকে বলল–ওদের পেছনে পেছনে চলো। ফ্লেজার সেই হিসেবেই জাহাজ চালাতে লাগল।
অনেকটা দূরে গিয়ে সেনাপতির জাহাজ দুটো থামল। হ্যারি ও জাহাজ দুটোর পাশে নিজেদের জাহাজ লাগাতে বলল। ফ্লেজার জাহাজ লাগাল।
একটু পরেই ভোর হল। হ্যারি তখনও জাহাজের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। দূরে। চেয়ে দেখল–কুয়াশ সরে গেলেও তীরভূমি দেখা যাচ্ছে না।
হ্যারিরা সকলেই খাবার খাচ্ছে তখনই দলপতি মারফত সেনাপতি জানিয়ে দিল যে দুপুরের খাওয়া খেয়ে হ্যারিদের জাহাজ ছাড়তে হবে।
দুপুরের খাওয়া হলে দলপতি এসে বলল–এখন তোমাদের জাহাজ ছাড়ো। মারিয়া হ্যারির কাছে এলো। বলল–ফ্রান্সিস কোনো বিপদ হবে না তো? হ্যারি বলল–চিন্তা করবেন না রাজকুমারী। আমরা কয়েকদিনের মধ্যেই ফিরে আসবো। তাছাড়া আপনি যাতে এখানেই সেনাপতির জাহাজে থাকতে পারেন তার ব্যবস্থা করছি।
হ্যারি দলপতির কাছে এলো। বলল আমি সেনাপতিরসঙ্গে একটা জরুরিকথা বলবো।
কী জরুরি কথা?
–সেটা তাকেই বলবো?
–বেশ। খোঁজ নিচ্ছি। দলপতি কথাটা বলে ওদের জাহাজের একজন সৈন্যকে বলল–দেখতো সেনাপতি কী করছেন। সৈন্যটা চলে গেল। একটু পরে ফিরে এসে বলল–সেনাপতি বিছানায় বসে আছেন।
তারমানে তাঁর বিশ্রাম করা হয়ে গেছে। দলপতি বলল। তারপর হ্যারিকে আসতে বলল।
দুজনে সেনাপতির জাহাজে গেল। সেনাপতির কেবিনঘরের সামনে এসে আস্তে দরজায় টোকা দিল। সেনাপতির গুরুগম্ভীর গলা শোনা গেল–কে?
–আমি দলপতি।
–এসো। সেনাপতি বলল।
দুজনে কেবনিঘরে ঢুকল। সেনাপতি দলপতির দিকে তাকিয়ে বলল–কী ব্যাপার। হ্যারিকে দেখিয়ে দলপতি বলল–এই ভাইকিং আপনাকে কিছু বলতে চায়।
-বলো। সেনাপতি হ্যারির দিকে তাকাল।
–বলছিলাম আমাদের সঙ্গে দেশের রাজকুমারী রয়েছেন। তাঁকে ভিগোতে নিয়ে যাবো না। তিনি আপনাদের জাহাজেই এখানে থাকবেন। আপনি এই অনুমতিটা দিন। হ্যারি বলল।
বেশ। থাকবে। সেনাপতি বলল।
–আপনাকে যে কী বলে–হ্যারি বলতে গেল। সেনাপতি থামিয়ে দিয়ে বলল যাও–তাকে আমাদের জাহাজে নিয়ে এসো। মারিয়াকে সেনাপতির জাহাজে নিয়ে আসতে সমস্যা হল। প্রথমে মারিয়া নিজেদের জাহাজ ছেড়ে আসতে চাইল না। হ্যারি আর ভেন অনেক করে বলেও মারিয়াকে রাজি করাতে পারছিল না। তখন ভেন বলল–এখানে জাহাজে থাকলে ফ্রান্সিস প্রথমে আপনাকেই দেখবে। ও কত খুশি হবে। এবার মারিয়া রাজি হল। দুটো জাহাজের মাঝখানে দুটো পাটাতন ফেলা হল। শাঙ্কো মারিয়াকে পাঁজকোলা করে পাটাতনের ওপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে সেনাপতির জাহাজে এলো। মারিয়াকে নামিয়ে দিল। সেনাপতির জাহাজ এলো। জাহাজ ছাড়ার উদ্যোগ আয়োজন চলল। পাল দরিদড়া সব দেখে নেওয়া হল। দলপতি সঙ্গে চারজন সশস্ত্র সৈন্য হ্যারিদের জাহাজে এলো।
জাহাজ ছাড়া হল। বাতাস বেগবান। পালগুলো ফুলে উঠল। এখন আর দাঁড় বাইতে হবে না। আকাশও নির্মেঘ। জাহাজ বেশ জোরেই সমুদ্রের ঢেউ ভেঙে চলল। হ্যারি জাহাজের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে রইল। কোথায় যাচ্ছি। বিপদ হবে না তো, এসব ভাবতে লাগল।
একদিন দুপুর নাগাদ জাহাজ ভিগো নগরের জাহাজঘাটায় পৌঁছল। দূর থেকে শহরটা দেখে হ্যারিরা খুব খুশি। কতদিন পরে মাটিতে হাঁটবে। লোকজন দোকানপাট দেখবে। শহরের ভিড়ে ঘুরে বেড়াবে। রাতে আলোর রোশনাই দেখবে।
জাহাজ ঘাটে ভিড়ল। দলপতি এগিয়ে এলো। বলল–সবাই নামো।
সবাই জাহাজ থেকে নামল। তারপর গিয়ে দাঁড়াল। দলপতি এগিয়ে এলো। বলল– তোমরা সার বেঁধে চলো। হঠাৎ আরো জনাদশেক সশস্ত্র সৈন্য কোথা থেকে এলো। হ্যারিদের ঘিরে দাঁড়াল। ভেন ইশারায় হ্যারিকে কাছে ডাকল। হ্যারি ভেন-এর কাছে এলো। ভেন বলল–হ্যারি আমরা বোধহয় বিপদে পড়লাম।
–তা কেন। আমরা তো বন্দি। এভাবেই তো নিয়ে যাবে। হ্যারি বলল। মাথা নেড়ে ভেন বলল–আমাদের পাহারা দেবার জন্যে এত সৈন্যের কি প্রয়োজন আছে?
–ঠিক বুঝতে পারছি না–এত সৈন্য কেন? হ্যারি বলল।
–তার মানে কিছু একটা ঘটবে যার জন্যে আমরা বিদ্রোহী হতে পারি। তাই এত সৈন্য। ভেন বলল।
হ্যারি ভাবল। বলল–ভেল আমি যেন এখন বুঝতে পারছি ঐ দলপতির কথা না শুনলেই হত।
–তারও তো উপায় ছিল না। হ্যারি। ভেন বলল।
–না। উপায় ছিল। আমরা বলতে পারতাম যে আমরা যাব না। আপনারা জাহাজ নিয়ে যান। হ্যারি বলল।
–হ্যাঁ এটাই করা উচিত ছিল। যাক গে–দেখি এরা আমাদের নিয়ে কী করে। ভেন বলল।
হ্যারিরা চলেছে। এই ভর দুপুরেও রাস্তায় বেশ লোকজন। হ্যারিরা যেমন রাস্তার লোকজন দেখছে তেমনি রাস্তার লোকজনও হ্যারিদের দেখছে। লোকেরা ভাবছে কারা এই বিদেশি। সৈন্যরা ঘিরে এদের নিয়ে যাচ্ছে কেন? কোথায় যাচ্ছে?
