–হ্যাঁ শাঙ্কো– আমার মনেও এই প্রশ্নগুলো আসছে। হ্যারি বলল। এখন আর এসব ভেবে কী লাভ? ফ্রান্সিসকে মুক্ত করে এখন দেশের দিকে জাহাজ চালাতে হবে। এ ছাড়া এখন আর কিছুই করণীয় নেই। হ্যারি বলল।
দু’দিন কেটে গেল। ফ্রান্সিস এলো না। হয়তো আবার পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। ভাইকিং বন্ধুরা দুশ্চিন্তায় পড়ল। বিস্কো কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে হ্যারির কাছে এলো। বলল–তুমি রাজি হলে আমরা কয়েকজন ফ্রান্সিসের খোঁজে যেতে পারি।
–না না–হ্যারি বলল–শাঙ্কো অনেক কষ্টে পালিয়ে এসেছে। তোমরাও বন্দী হলে আমরা বিপদে পড়ে যাবো। তার চেয়ে ফ্রান্সিসের জন্য আমরা অপেক্ষা করবো।
আরো একদিন কাটল। ফ্রান্সিস এলো না।
সেদিন গভীর রাত। নজরদার পেড্রো গা এলিয়ে আকাশের দিকেমুখ করে নজরদারের বসার আসনে বসেছিল। একটু তন্দ্ৰামতোই এসেছিল। সমুদ্রের উত্তাল বাতাস সত্ত্বেও নীচে দু-একজনের গলার শব্দ শুনল। পেড্রোর তন্দ্রা ভেঙে গেল। ও নীচের দিকে তাকাল। সর্বনাশ! ও দেখল একটা যুদ্ধ জাহাজ ওদের জাহাজের গায়ে এসে লাগল। ঐ জাহাজ থেকে যুদ্ধসাজ পরা সৈন্যরা ওদের জাহাজে উঠে আসছে।
পেড্রো সঙ্গে সঙ্গে মাস্তুল বেয়েনামতে গেল। দেখল একজন সৈন্য ওরআসন ধরেউঠদৗঁড়াল। হাতে খোলা তলোয়ার। সৈন্যটি বলল–নেমে এসো। একটা কথা জোরেবললে তুমি মরবে।
পেড্রো আস্তে আস্তে নেমে এলো। দেখল–একদল সৈন্য ডেকে-এ জড়ো হয়েছে। পেড্রোকে ডেক-এর একপাশে বসিয়ে রাখা হল।
সৈন্যরা সব প্রথমে অস্ত্রঘরে ছুটে গেল। দুজন ভাইকিং প্রহরীকে আহত করল। ওখানে চারজন সৈন্য অস্ত্রঘর পাহারা দিতে লাগল।
সৈন্যরা কেবিনঘরে ঢুকে ঢুকে নিদ্রিত ভাইকিংদের তলোয়ারের খোঁচা দিয়ে ঘুম ভাঙাল। ভাইকিংরা চমকে জেগে উঠে দেখল খোলা তলোয়ার হাতে সৈন্যরা। কিছু করার নেই। খালি হাতে লড়াই চলে না। একজন ভাইকিং ঘর থেকে পালাল। গেল অস্ত্রঘরের কাছে। দেখল চারজন সৈন্য অস্ত্রঘর পাহারা দিচ্ছে।
ওদিকে ভাইকিংরা ডেক-এ উঠে এলেই ডেক-এর একপাশে তাদের বসিয়ে দেওয়া হতে লাগল। মারিয়াকেও বসিয়ে দেওয়া হল।
একজন সৈন্য ওদের জাহাজে সেনাপতিকে খবর দিতে চলে গেল।
কিছুক্ষণ পরে সেনাপতিভাইকিংদের জাহাজের ডেক-এ উঠে এলো। সেনাপতির দশাসই চেহারা। ইয়া গোঁফ। মাথার চুল ঝাঁকড়া আঁকড়া। কানের নীচে তলোয়ারের কাটা দাগ।
সেনাপতি ডেক-এর এপার ওপার পায়চারি করল। হ্যারিদের কাছে এসে দাঁড়াল। তখন হ্যারি উঠে দাঁড়াল। সৈন্যরা ছুটে এলো। সেনাপতি হাত তুলে ওদের থামাল। হ্যারি বলল–আমরা জানি না। আপনারা কারা?
সেনাপতি দাঁত বের করে হাসল। বলল–আমরানরুল্লার রাজাভিলিয়ানের সৈন্য। আমি সেনাপতি। তোমাদের কাউকে একটু বেচাল দেখলে মুণ্ডু উড়িয়ে দেব।
একটু থেমে সেনাপতি বলল তোমরা তো দেখছি বিদেশি তোমরা কারা? এখানে এসেছো কেন?
রাজা ওভিড্ডোর তরবারি –আমরা বিদেশি। আমরা ভাইকিং। দেশে দেশে দ্বীপে দ্বীপে ঘুরে বেড়াই, আর কোনো গুপ্তধনের কথা শুনলে সেটা বুদ্ধি খাঁটিয়ে উদ্ধার করি।
–এখানেও শুনেছি রাজা ওভিড্ডোর একটা সোনার তরবারি আর তার খাপ রাখা আছে। তোমরা খুঁজবে নাকি? কথাটা বলেই সেনাপতি হো হো করে হেসে উঠল। সৈন্যরাও কেউ কেউ হাসল।
যাক গে ওসব গুপ্তধনটনের কথা। তোমাদের দলপতি কে? সেনাপতি বলল।
হ্যারি এগিয়ে এসে বলল–এখন আমিই দলপতি। আসল দলপতি যে সে রাজা অপৰ্তোর হাতে বন্দী।
শোনো সেনাপতি বলতে লাগল–আমরা রাজা অপৰ্তোর এই দেশ দখল করতে এসেছি। কেউ কি নিজের সম্পত্তি ছাড়ে? ছাড়ে না। রাজা অপৰ্তোও ছাড়বে না। কাজেই যুদ্ধহবে। আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। সেনাপতি থামল।
–এসবের সঙ্গে আমাদের কী যোগ? আমরা তো কারো পক্ষ হয়েই যুদ্ধ করতে যাচ্ছি না। হ্যারি বলল।
-কেন? আমাদের হয়ে তোমরা যুদ্ধ করতে পারো। সেনাপতি বলল।
–না। আমরা কোনো দেশেই যাবো না। হ্যারি বলল।
–ঠিক আছে। সেসব পরে দেখা যাবে। এখন এই যুদ্ধের জন্যে আরো জাহাজের প্রয়োজন। মাত্র দুটো জাহাজ নিয়ে এসেছি। অনেক সৈন্যকে ভিগোতে রেখে আসতে হয়েছে। সেই সৈন্যদের নিয়ে আসবো। এখনই তোমাদের জাহাজটা আমরা নেব। জাহাজ চালিয়ে ভিগোতে যাবো। আরো সৈন্য নিয়ে ফিরে আসবো। সেনাপতি বলল।
ঠিক বুঝলাম না। হ্যারি বলল।
–এ তো জলের মতো সহজ। তোমাদের জাহাজ আরো সৈন্য আনতে ভিগো যাবে তোমরাই চালিয়ে যাবে। আমাদের এক দলপতি তোমাদের সঙ্গে যাবে। তারপর ভিগো থেকে সৈন্য নিয়ে এই জাহাজে ফিরে আসবে। ব্যস। সেনাপতি বলল।
–কিন্তু আমাদের দলপতি এখনো রাজা অপৰ্তোর সৈন্যাবাসে বন্দী। সে যেকোনো মুহূর্তে এখানে আসতে পারে। হ্যারি বলল।
–পালিয়ে? সেনাপতি বলল।
–হ্যাঁ। হ্যারি বলল।
–অত সহজে পালাতে পারবে না। সেনাপতি বলল।
সহজ কঠিন যে অবস্থাই হোক না–সে পালাবে। হ্যারি বলল।
–ঠিক আছে। তাতে কী হল? সেনাপতি বলল।
–সে এসে আমাদের না দেখলে দুশ্চিন্তায় পড়বে। হ্যারি বলল।
তার ব্যবস্থাও আমরা করবো। আমি তো রয়েইছি। জাহাজ ভর্তি সৈন্য রয়েছে। আমরাই তাকে তোমাদের কথা বলবো। তাহলেই সে নিশ্চিন্ত হবে। কী? ঠিক আছে? হ্যারি কিছুক্ষণ ভাবলো। শাঙ্কোকে বলল কী করবে?
–এ ছাড়া তো কোনো পথ দেখছি না। শাঙ্কো বলল।
–ভেন তুমি কী বলো? হ্যারি ভেন-এর মতামত চাইল।
