–অসম্ভব। রানি অর্থ পিশাচিনী। সেই অর্থ যে পথেই আসুক না। ভেন বলল।
-হু। দেখা যাক। রানি মুক্তি না দিলে মুক্তির ব্যবস্থা আমাদেরই করতে হবে। ফ্লেজার বলল।
–রানির কয়েদখানা থেকে পালাতে পারবে? ভেন বলল।
—চেষ্টা তো করতে হবে? ফ্লেজার বলল।
চেষ্টা করতে গিয়ে আমরা না মারা যাই। ভেন বলল।
–আমরা যাতে না মরি অথচ মুক্তি পাই সেটাই করতে হবে। উপায় একটা হবেই। আর দেরি নয়। দুপুরে খেয়েই রানির রাজত্বের দিকে চলো। ফ্লেজার বলল।
–বেশ। পিওনকে সঙ্গে নেবে? ভেন বলল।
-না না। পিত্তান জাহাজেই থাক। জাহাজ দেখাশুনোর জন্যে তো একজনকে থাকতেই হবে। ফ্লেজার বলল।
দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে তৈরি হয়ে ফ্লেজার আর ভেন জাহাজের ডেক-এ উঠে এলো। ভেন দুতিনটে ওষুধের শিশি নিয়ে নিল। জাহাজ থেকে দড়িরমই দিয়ে নৌকোর ওপর নেমে এলো। জাহাজের রেলিঙে ঝুঁকে পিত্তন হাত নাড়াল। ফ্লেজার নৌকো চালাচ্ছিল। ভেন হাত নাড়ল।
সমুদ্রতীরে বেশি দূরে নয়। অল্পক্ষণের মধ্যেই নৌকো তীরে ভিড়ল। নৌকো তীরের অনেকটা উপরে টেনে তুলে রাখল। তারপর বললো। রানি ঈশিকার রাজত্বের দিকে।
বনভূমি পার হয়ে যখন ঘাসে ঢাকা প্রান্তরে পৌঁছল তখন বিকেল হয়ে গেছে।
কিছুক্ষণ পরেই সূর্য ডুবে গেল। দুজনে রানি ঈশিকার বন্দীঘরের সামনে পৌঁছল।
দুজনে কয়েদঘরের দরজার কাছে পৌঁছল। প্রহরী দুজন এগিয়ে এলো বলল রানির হুকুম তোমরা ফিরলেই যেন তার সঙ্গে দেখা করো।
–তাহলে চলো রানির কাছে। ভেন বলল।
একজন প্রহরী বারান্দা প্রহরী বারান্দা থেকে মাটিতে নামল। চলল রানির মন্ত্রণাকক্ষের দিকে। মন্ত্রণাকক্ষের সামনে এসে দুজনকে দাঁড়াতে বলে প্রহরীটি ঘরে ঢুকল।
কিছু পরে ফিরে এসে বলল-চলো। প্রহরীর সঙ্গে দুজনে মন্ত্রণাকক্ষে ঢুকল।
ঘরে একটা বড়ো শ্বেতপাথরের টেবিল। টেবিলের চারপাশে বাঁকা পায়া ওককাঠের চেয়ার। তাতে গদীপাতা।
ফ্লেজার আর ভেন বসল। প্রহরী ভেতরে চলে গেল।
কিছু পরে প্রহরীটি ফিরে এলো। বলল-রানিমা আসছেন।
বেশ কিছুক্ষণ পরে রানি ঘরে ঢুকল। দুজনে চেয়ার ছেড়ে উঠে সম্মান জানাল। রানি বসল। বসল দুজনে বলল–তোমরাই তো ভাইকিং?
-হ্যাঁ। ভেন বলল।
–তোমাদের দুজনকে। শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। রানি বলল।
–হ্যাঁ। ফ্লেজার বলল।
–কী গুপ্ত সংবাদ আনলে শুনি। রানি বলল।
ফ্লেজার সেই সৈন্যাবাসে সেনাপতির কথা জানাল।
–ও। তাহলে ওরা আরো সেনা সংগ্রহ করে আক্রমণ চালাবে। খুব ভালো খবর এনেছো। আমরা কিছু সময় পেলাম। আমরাও বিদেশ থেকে সৈন্য আনাবো। একটু থেমে রানি বলল–আর কোনো সংবাদ?
না। আর কোনো সংবাদ জানতে পারিনি। ফ্লেজার বলল
রানি চেয়ার ছেড়ে উঠেদাঁড়াল। ফ্লেজাররাও উঠেদাঁড়াল। ফ্লেজার বলল–মাননীয়া রানি–গোপন সংবাদ এনেছি। তাহলে এবার আমাদের মুক্তি দিন।
-না-না। তোমাদের তো হাটে বিক্রি করব। রানি বলল।
–কিন্তু আমাদের তো কোন দোষ নেই। ভেন বলল।
–বিনা অনুমতিতে তোমরা আমার রাজত্বে ঢুকেছে। এটাই তোমাদের অপরাধ। রানি বলল।
রানি দরজার দিকে এগোল। বোঝা গেল রানি যা বলবার বলে দিয়েছে। তার অন্যথা হবে না। ফ্লেজার বুঝল মুক্তির আশা নেই।
ফ্লেজারের খুবই মন খারাপ হলো। তাদের মুক্তির আর কোনো আশাই রহিল না। একমাত্র পথ বুদ্ধিকরে পালানো। সেক্ষেত্রেও দু-একজন বন্ধুর হয়তো প্রাণ যাবে। ফ্লেজার এমন সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে প্রহরীর সঙ্গে কয়েদখানায় ফিরে এলো।
দুজনে কয়েদখানায় ঢুকতেই বন্ধুরা এগিয়ে এলো। তাদের চোখেমুখে একটা জিজ্ঞাসা আমরা মুক্তি পাবো তো? ফ্লেজার আস্তে আস্তে সব ঘটনা বলল। সব শেষে বলল–যা বুঝলাম তাতে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া মুক্তির আশা নেই। ভেবেছিলাম মিন-এর রাজত্বে। গিয়ে গোপন খবরটা রানিকে দিলেই রানি আমাদের মুক্তি দেবে। এখন বুঝতে পারছি রানি আমাদের মুক্তি দেবে না। লড়াই শুরু হলে আমাদের জোর করে লড়াইয়ে নামাবে। রানির হয়ে আমাদের লড়তে হবে।
–আমরা লড়াইয়ে নামবো না। একজন ভাইকিং বলল—
–আমাদের বাধ্য করবে। ভেন বলল।
–ফ্লেজার এখন তাহলে আমরা কী করবো? একজন ভাইকিং বলল।
অপেক্ষা করবো। তারপর সুযোগ পেলেই পালাবো। ফ্লেজার বলল
–তাহলে তো আমাদের এখন সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে। পেড্রো বলল।
–হ্যাঁ, ফ্লেজার বলল।
ফ্লেজার মোটা কাপড়ের বিছানায় বসল। মাথায় চিন্তা কী করে পালাবো। এমনভাবে পালাতে হবে যেন আমাদের কেউ মরে না যায়, আহত না হয়। ভেন বিছানায় শুয়ে পড়ল। এত ক্লান্ত ওর শরীর।
কয়েকদিন একঘেয়ে কাটল। ভাইকিং বন্দীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিল। এই বন্দীদশা থেকে মুক্তি নেই। এরকমই ভাবতে লাগল ওরা। ওরা ফ্লেজারকে বলল–আমাদের। মুক্তির ব্যাপারটা ভেবো ফ্লেজার।
আমি শুধু মুক্তির কথাই ভাবছি। তার জন্যে প্রহরীদের কাজকর্মের দিকেও লক্ষ্য রাখছি। এখন সময় আর সুযোগ। ফ্লেজার বলে। বন্ধুরাও চুপ করে যায়।
বোঝা ফ্লেজার মুক্তির পরিকল্পনা করছে। ফ্লেজার নিশ্চয়ই একটা উপায় বের করতে পারবে।
সেদিন দুপুরে হঠাৎ আকাশে মেঘ করল। আকাশ ঘেন ফালা ফালা করে বিদ্যুৎ চমকাতে লাগল। সন্ধের দিকে নামল বৃষ্টি। হাওয়ার তেজও বেড়ে গেল। শুরু হল ঝড় আর সেই সঙ্গে প্রচণ্ড বৃষ্টি।
প্রহরীরা খাবার নিয়ে কখন আসে ফ্লেজার তারই অপেক্ষা করতে লাগল। এবার ফ্লেজার সবাইকে কাছে ডাকল। ভাইকিং বন্ধুরা ফ্লেজারকে ঘিরে বসল।
