–এক ঘণ্টাই যথেষ্ট। ভেন বলল।
পাথরের টেবিলের ওপর থেকে সেনাপতি একটা পার্চমেন্ট কাগজ নিল। পাখির পালকে তৈরি কলমটা হাতে নিল। রুপোর দোয়াতদানে কলমটা ডুবিয়ে নিল। লিখতে লাগল। লেখা হলে কাগজটা ফ্লেজারের হাতে দিল।
দুজনে উঠে দাঁড়াল। তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
ফেরার পথে দুজনে শাসক ওয়াজির্মোর প্রাসাদের সামনে এলো। দেউড়ির কাছে গেল। একজন প্রহরীকে ডাকল। প্রহরী কাছে এলে সেনাপতির অনুমতিপত্রটা দেখাল। প্রহরী অনুমতিপত্রটা নিয়ে আরেকজন প্রহরীর কাছে গেল। তার হাতে দিল। বোঝা গেল ঐ প্রহরীটিই এদের দলপতি।
প্রহরীটি অনুমতিপত্রটি হাতে নিয়ে ফ্লেজারদের কাছে এলো। বলল–সেনাপতি এক ঘণ্টার সময় দিয়েছেন। তোমরা কখন দেখতে যাবে?
–এখনই যাবো। ফ্লেজার বলল।
–বেশ। এই বলে সে একজন প্রহরীকে ডাকল। প্রহরীটি এলে তাকে বলল–এই দুজনকে রাজবাড়িটা দেখিয়ে আনো। সময়–এক ঘণ্টা।
প্রহরীটি ফ্লেজারদের কাছে এলো। বলল–চলুন। প্রহরীটির বয়েস কম। পোশাক টোশাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।
প্রহরীটি চলল রাজবাড়ির দিকে। পেছনে ফ্লেজার আর ভেন। যেতে যেতে ফ্লেজার ভাবল-রাজবাড়ির মন্ত্রণাকক্ষটা কোথায় সেটা জানাই আমাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু আগেই মন্ত্রণাকক্ষটা কোথায় জানতে চাই এসব বলা যাবে না। সময় বুঝে বলবো।
মূল রাজবাড়ির সামনে এসে ওরা দাঁড়াল। প্রহরীটি বলল–আগেই পশ্চিমটা দেখে আসি। সেইদিকে চলল। পেছনে ফ্লেজার আর ভেন।
একটা বড়ো ঘরের কাছে এসে প্রহরী বলল–এটা হচ্ছে পড়াশুনোর জন্যে ঘর। বড়ো বড়ো পণ্ডিতরা থাকে। আর একটা লম্বাটে ঘর দেখিয়ে বলল–এখানে ছাত্ররা থাকে। তারই পাশে একটা মাঠমতো। এখানে খেলাধূলো হয়।
কিছু পরে রাজবাড়ির মধ্যেই একটা বড়ো ঘর দেখিয়ে প্রহরীটি বলল–এটা হচ্ছে অস্ত্রাগার। দেখা গেল চারজন প্রহরী ঘরটা পাহারা দিচ্ছে। হাতে খোলা তলোয়ার।
রাজবাড়িটার দক্ষিণ কোণায় একটা ছোটো ঘর দেখিয়ে বলল–এটা মন্ত্রণাকক্ষ। ফ্লেজার এই ঘরটাই খুঁজছিল।
–এখানে তো কোনো প্রহরী নেই। ফ্লেজার বলল।
–থাকে যখন এই কক্ষে রাজা মন্ত্রী সেনাপতি দুজন অমাত্য এসে বসেন। এখানে দেশ শাসন যুদ্ধে আর্থিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রহরী বলল।
–এই মন্ত্রণাসভা কখন বসে। ফ্লেজার জানতে চাইল।
সাধারণত সন্ধের পরে। প্রহরীটি বলল। প্র
ত্যেকদিনই কি বসেন সবাই। ফ্লেজার বলল।
-প্রায় প্রত্যেকদিন। তবে প্রতি সোমবার আলোচনা সভা বসবেই। সেদিন বেশ রাত পর্যন্ত সভা চলে। প্রহরীটি দাঁড়িয়ে পড়ল। বলল–আপিন এত কথা জানতে চাইছেন কেন? সঙ্গে সঙ্গে ফ্লেজার সতর্ক হল। বলল–দেখুন–এখানকার কয়েকটি দেশ নিয়ে আমি পড়াশুনো করেছি। এবার দেখতে বেরিয়েছি। রানি ঈশিকা আর সেউতার শাসক মিনের রাজত্ব গেছি। সব সংবাদ সংগ্রহ করেছি। এবার এখানে এসেছি। এইসব এলোকার আর্থিক অবস্থা কেমন সেটা লিখতে গিয়ে আরো তথ্য চাই। আমি এসব নিয়েই পড়াশুনো করি লিখি।
–ও। তাই বলুন। এখানে আর বিশেষ কিছু দেখার নেই। প্রহরীটি বলল।
–সৈন্যাবাসটা কোথায়? ভেন বলল।
–সেটা দক্ষিণ দিক দেখিয়ে বলল রাজবাড়ির দেয়ালের ওপাশে বিরাট মাঠ রয়েছে সেখানেই সৈন্যদের আসন।
–ঠিক আছে–ফ্লেজার বলল–তাহলে আর কিছু দেখার নেই।
–একটা ছোটো চিড়িয়াখানা আছে। প্রহরীটা বলল।
–না–না। অনেক দেখা হয়েছে। ফ্লেজার বলল-চলো ভেন।
দুজনে সদর দেউড়িতে এলো। প্রহরীটিকে ধন্যবাদ দিয়ে দরজার গায়ে হাত রাখল। প্রহরীটি এসে ঠেলে দরজাটা খুলে দিল।
দুজনে সদর রাস্তায় এসে দাঁড়াল।
ফ্লেজাররা যখন সরাইখানায় ফিরল তখন বেশ বেলা হয়েছে। সরাই মালিক একটু দ্রুতই ওদের কাছে এলো। বলল–কোথায় গিয়েছিলেন?
রাজবাড়িটা দেখে এলাম। ভেন বলল। তারপর বলল–সেনাপতি অনুমতি দিল।
–বোধহয় আমাদের বিদেশি দেখে সেনাপতির দয়া হয়েছিল। এক ঘণ্টার জন্যে রাজবাড়ি দেখতে অনুমতি দিয়েছিলেন। ফ্লেজার বলল।
সরাই মালিক সজোরে বলে উঠল আরে–আমাকে তো বলবেন।
–কেন বলুন তো? ভেন বলল।
–রাজবাড়ির এক পাহারাদার ইগর আমার খদ্দের। আমার দোকানে সপ্তাহে দুতিনদিন আসবেই। খেয়ে যাবেই। মালিক বলল।
–ও। ফ্লেজার বলল–তাহলে উনি তো ভালোভাবে।
মালিক ফ্লেজারকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল–আপনাদের সব দেখাতো।
যাক গে–দেখা তো হয়েছে। ভেন বলল।
ফ্লেজার তখন চিন্তামগ্ন। দ্রুত ভাবছে ঐ প্রহরীর মারফৎই গোপন সংবাদ বের করা যাবে। তাই বলল–আচ্ছা ইগর কি আজকে খেতে আসবেন?
আসবেন বই কি। ইগরের স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি গেছে। ইগরের রান্নার বালাই নেই। দুবেলা আমার এখানেই খাচ্ছে। মালিক বলল।
–রাতে কখন খেতে আসে? ফ্লেজার বলল।
–তার ঠিক নেই। মালিক বলল।
–এলে আমাদের কথা একটু বলবেন। বলবেন যে আমরা ওঁর সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই। ফ্লেজার বলল।
–নিশ্চয়ই বলবো। মালিক বলল। মালিক চলে গেল।
দুজনে পেছনের ঘরটায় এলো।
দুপুরের খাওয়াদাওয়া সেরে ফ্লেজার আর ভেন বিছানার ওপর এসে বসল। ফ্লেজার শুয়ে পড়ল। ভেন বসে রইল। একটু পরে ভেন বলল–ফ্লেজার পারবে ইগরের সঙ্গে কথা বলে গোপন সংবাদ বের করতে?
–চেষ্টা তো করি। দেখা যাকে। ফ্লেজার বলল।
বিকেলের দিকে দুজনে জায়গাটা দেখতে বেরুলো। ছোটো নগর। জনসংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে রাস্তাঘাট দোকান বাজার বেশ পরিচ্ছন্ন।
