ফ্লেজার কিছুক্ষণ ভাবলো তারপর বলল–ভেন– তোমার কথা ঠিক। দু দুটো গোপন সংবাদ দিতে পারলে রানি নিষ্মই আমাদের মুক্তি দেবে।
–ভেবে দেখোবাধ্য হয়ে আমরা গুপ্তচরবৃত্তির মতো হীন কাজ করছি। আমরা নিরুপায়। যেভাবেই হোক এই পথটা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ভেন বলল।
কিন্তু প্রথমে তো দিক ভুল করে এখানেই এসে পড়েছি। এবার এখান থেকে শাসক ওয়াজির্মো কীভাবে রানি ঈশিকার দেশ আক্রমণ করার পরিকল্পনা নিচ্ছে এটা জেনে রানিকে সাবধান করে দিতে পারলে রানি খুব খুশি হবে। আমরাও মুক্তি পাবো। ফ্লেজার বলল।
তাহলে এখন কী করবে? ভেন বলল।
–এখানেই সরাইখানায় থাকবো ঘুরে ঘুরে খবর সংগ্রহ করবো। ফ্লেজার বলল।
–কিন্তু যদি ধরা পড়ি তাহলে কিন্তু মরতে হবে। ভেন বলল।
–যাতে মরতে না হয় সেইমতো কাজে নামতে হবে। ফ্লেজার বলল।
দেখা যাক গুপ্তচরবৃত্তিতে আমরা কতটা সফল হই। ভেন বলল।
সন্ধে হয়ে এলো। ফ্লেজার আর ভেন গাছতলায় বসে রইল। যখন সন্ধের পর রাত হল তখন দুজনে উঠে দাঁড়াল। রাস্তায় নামল। হাঁটতে হাঁটতে সরাইখানাটার সামনে এলো।
ওরা এদিকে ওদিকে দেখে নিয়ে সরাইখানায় ঢুকল। সরাইখানায় বেশ ভিড়। ভিড় কাটিয়ে ভেন সরাইওয়ালার কাছে গেল।
বলল–চিনতে পারছেন?
মোমবাতির আলোয় ভেনকে দেখে সরাইওয়ালা চিনল।
নিশ্চয়ই। একটা কাজের ছেলেকে সরাইওয়ালা ডাকল। ছেলেটি এলে বলল– যা–দুটো বিছানা পেতে দে। ছেলেটি পেছনের দিকে চলল। লম্বা ঘর। তার ওপর লম্বা ফুল লতাপাতা আঁকা মোটা কাপড়। ছেলেটি বালিশ রেখে চাদরটা টেনে তুলে ঠিক করে দিল। চলে গেল।
ভেন শুয়ে পড়ল। বলল–অত ভিড়ে আমরা খেতে যাবো না। রাত হোক। পরে খাবো। ফ্লেজার উঠল। বসে রইল।
কিছুক্ষণের মধ্যে আরো দুজন লোক এলো। ছেলেটি তাদেরও বিছানা বালিশ ঠিক করে দিয়ে চলে গেল।
-ফ্লেজার? ভেন বলল।
—বলো।
–দেখো-এখনি কিছু দরকারি কথা সেরে ফেলি। পরে ভিড় বাড়বে।
–বলো। কথাটা বলে ফ্লেজার ভেনের মুখের দিকে ঝুঁকে বসল।
–কীভাবে খবরটবর জোগাড় করবে? ভেন বলল।
-দেখো–আমি যা ভেবেছি বলছি। একটু থেমে ফ্লেজার বলল–রাজবাড়িতে। মন্ত্রণাকক্ষটা কোথায় সেটা খুঁজে বের করতে হবে।
কক্ষটি নিশ্চয়ই রাজবাড়ির মধ্যেই কোথাও আছে। ভেন বলল।
–তা তো বটেই। কিন্তু সেই ঘরটা রাজবাড়ির কোথায়? ফ্লেজার বলল।
–রাজবাড়িতে না গেলে জানা যাবে না। ভেন বলল।
তাহলে কালকে সকালে চলো। রাজবাড়ির মধ্যে যেতে হবে। ফ্লেজার বলল।
প্রধান প্রবেশ পথে নিম্মই প্রহরীরা থাকবে। ভেন বলল।
–থাকবে তো বটেই। ওদের ধোঁকা দিতে হবে। সেইসঙ্গে মন্ত্রণাকক্ষটি কোথায় তাও জানতে হবে। ফ্লেজার বলল।
সে রাতটা কাটল। বেশ ভিড় হল সরাইখানায়। কিন্তু ফ্লেজার আর ভেন-এর বিশেষ অসুবিধে হয় নি। কিন্তু নানা চিন্তা তো মাথায়। ভালোভাবে ঘুমুতে পারেনি। একটু বেশি রাতেই দুজন ঘুমোতে পেরেছিল। কাজেই একটু বেলায় দুজনের ঘুম ভাঙল।
প্রাতরাশ খেয়ে দুজনে তৈরি হল। তলোয়ার নিল না।
বেলা বাড়ল। দুজনে চলল রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে। বেশ হাঁটতে হল। রাজবাড়ির সামনে এলো। সত্যি বেশ অর্থব্যয় করে বাড়িটা নির্মাণ করা হয়েছে। দামি পাথর আর শ্বেতপাথর দিয়ে তৈরি। সদর দেউড়িতে প্রহরী আছে চারজন। চারজনেরহাতেই পেতলের ঝকঝকে বর্শা। কোমরে তলোয়ার।
ফ্লেজার আর ভেন সদর দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। সদর দরজা বন্ধ। দুজনে লোহার গরাদে তৈরি সদর প্রবেশ দ্বারে। ফ্লেজাররা গরাদের ফাঁক দিয়ে রাজবাড়ির ভেতরটা দেখতে লাগল। সদর দেউড়ির পরেই বেশ বড়োদুটো ফুল বাগান। তারপরেই রাজবাড়ি। দুটো বাগানের মধ্যে দুটো ফোয়ারা।
ফ্লেজার একজন প্রহরীকে বললআচ্ছা আমরা ভেতরে ঢুকেরাজবাড়ি দেখতে পারিনা?
না। ভেতরে যাওয়ার অনুমতি আনতে হবে সেনাপতির কাছ থেকে।
আমরা ভেতরটা দেখতে চাই। সেনাপতিকে কোথায় পাবো?ফ্লেজার বলল।
–ঐ যে শুধুকাঠে তৈরি বাড়িটা–প্রহরী আঙ্গুল দিয়ে দেখাল–ঐ বাড়িটার পরেই। দামি পাথরের বাড়িটা। সেনাপতির বাড়ি ওটাই। প্রহরী বলল।
–ঠিক আছে। ফ্লেজার বলল।
দুজনে সদর রাস্তায় এলো। চলল সেনাপতির বাড়ির দিকে। কাঠের বাড়িটার পরেই সেনাপতির বাড়ি।
সেনাপতির বাড়ির দরজায় দুজন সশস্ত্র প্রহরী। ফ্লেজার একজন প্রহরীকে বলল– সেনাপতির সঙ্গে দেখা করতে চাই। সেনাপতি দেখা করতে দেবেন কিনা এটা জানতে পারলে ভালো হত।
–দেখছি। একজন প্রহরী বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেল। একটু পরে প্রহরীটা ফিরে এলো। বলল–বাইরের ঘরে অপেক্ষা করো। সেনাপতি আসবেন।
প্রহরী দরজা খুলে ধরল। ফ্লেজাররা বাইরের ঘরে ঢুকল। মোটামুটি সাজানো গুছোনো ঘরটা।
দুজনে কালো কাঠের চেয়ারে বসল। একটু পরেই সেনাপতি ঘরে ঢুকল। গদিপাতা চেয়ারটায় বসল। ফ্লেজারদের দিকে তাকিয়ে বলল–তোমরা বিদেশি।
–হ্যাঁ–আমরা ভাইকিং। ফ্লেজার বলল।
–হু–তা আমার কাছে কী মনে করে? সেনাপতি বলল।
–আমরা রাজবাড়িটা একটু ঘুরে দেখতে চাই। তাই আপনার অনুমতি চাই। ফ্লেজার বলল।
হঠাৎ রাজবাড়ি দেখার শখ হল কেন? সেনাপতি বলল।
–রাজা ওয়াজিমোর রাজপ্রাসাদনাকি এত সুন্দর যে নিসবনেও এত সুন্দর অট্টালিকা নেই। ফ্লেজার বলল।
হ্যাঁ। কথাটা মিথ্যে শোনো নি। যাকগে–আমি এক ঘণ্টার সময় দিচ্ছি। তার বেশি থাকতে পারবে না। সেনাপতি বলল।
