ভেন এ সময় বলল–ফ্লেজার আমরা গুপ্তচরবৃত্তি করবো না।
ফ্লেজার মাথায় কঁকুনি দিয়ে বলল–ভেন–ঐ গোঁ ধরে বসে থাকলে আমাদের ক্ষতিই হবে। আমি পরে সব বুঝিয়ে বলবো। এখন রানি যে প্রস্তাব দিল সেটা গ্রহণ করা যাক।
–ঠিক আছে। তুমি যা ভালো বোঝো করো। ভেন বলল।
ফ্লেজার রানির দিকে তাকিয়ে বলল–মহামান্য রানি–আপনি যে প্রস্তাব দিলেন সেটা আমরা গ্রহণ করলাম। আমাকে আর ভেনকে মুক্তির আদেশ দিন। আমরা মুক্তি পেলে-থর্ন বনভূমির মধ্যে দিয়ে শাসক মিনের রাজত্বে যাবো। যুদ্ধের গোপন খবর জোগাড় করে ফিরে আসবো।
–আর তোমাদের বন্ধুদেরও মুক্ত করে আনবো। তোমাদের সবাইকে ক্রীতদাসের হাটে বিক্রি করতে পারলে আমার আর কোনো অভাব থাকবে না। রানি বলল।
–কিন্তু আমরা এরকম কথা দিতে পারি না। বন্ধুরা যদি বন্দী হয়ে থাকে তবে তাদের মুক্তি করতে পারবো এরকম কথা বলে লাভ নেই। কারণ বন্ধুরা কীভাবে কোথায় আছে আমরা এখনও জানি না। ফ্লেজার বলল।
-ঠিক আছে-তোমরা ছজন থাকলেই চলবে। রানি বলল।
–তাহলে দেরি না করে তোমরা এখনই বেরিয়ে পড়ো। রানি বলল।
–না–আমরা কয়েদঘরে যাবো এখন। বন্ধুদের সব বুঝিয়ে বলবোতারপর থর্ন বনভূমির দিকে যাত্রা করবো। ফ্লেজার বলল।
বেশ–তাই করো। আমি সেনাপতিকে সেই আদেশই দিচ্ছি। রানি বলল।
রানি সেনাপতির দিকে তাকিয়ে বলল–সেনাপতি –এই দু’জনকে আমি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিচ্ছি। এরা শাসক মিনের রাজত্বে গিয়ে কী কাজ করতে বলেছি তা তো শুনেছেন। আপনি সেভাবেই কাজ করুন।
রানিকে মাথা নুইয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবই দরবার কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলো
সেনাপতি ফ্লেজারদের নিয়ে কয়েদঘরে এলো। পাহারাদার দুজনকে ডেকে বলল দ্যাখো এই দুজন বন্দীকে রানি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছেন। এরা যখন মুক্তি চাইবে তখনই মুক্তি দেবে।
সেনাপতি চলে গেল। ফ্লেজাররা কয়েদঘরে ঢুকল। বন্ধুরা কয়েকজন উঠে দাঁড়াল। বলল–ফ্লেজার রানির সঙ্গে কী কথা হল?
–সব বলছি। ফ্লেজার বলল। তারপর বন্ধুদের লক্ষ্য করে বলল ভাই সব–আমি খুব সমস্যায় পড়েছি; রানি আমাকে আর ভেনকেমুক্তি দিয়েছে কিন্তু শর্তসাপেক্ষে। শাসক মিনের রাজত্বে গিয়ে তাদের যুদ্ধপরিকল্পনার গোপন খবর আমাদের নিয়ে আসতে হবে।
–এ তো গুপ্তচরের কাজ। এক ভাইকিং বন্ধু বলে উঠল।
–হ্যাঁ–গুপ্তচরবৃত্তি। এখন আমি সেই প্রস্তারে রাজি হয়েছি।
একজন ভাইকিং বন্ধু বলে উঠল-বলো কি।
ফ্লেজার বলল, আমরা রাজি হয়েছি। একটু থেমে ফ্লেজার বলল–ভাইসব– ভেবে দেখো। ফ্রান্সিসরা কোথায় কী অবস্থায় আছে আমরা কিছুই জানি না। আবার আমরা এখানে কয়েদঘরে পড়ে আছি। আমাদের এখন দিশেহারা অবস্থা। কাজেই অন্তত আমি আর ভেন মুক্ত হয়ে ফ্রান্সিসদের খোঁজখবর করতে পারবো। তোমাদের মুক্তির ব্যবস্থাও করতে পারবো। যত শিগগির সম্ভব এটা করতে হবে। রানি ঈশিকা স্থির করে রেখেছে জাহাজঘাটায় যে ক্রীতদাস কেনাবেচার হাট বসবে সেখানে আমাদের সবাইকে বিক্রি করবে। আমরা সবাই যুবক এক ভেন বাদে কাজেই আমরা ভালো দামে বিকোবো। অর্থাৎ রানি আমাদের জন্যে ভালো দর পাবে। ফ্লেজার থামল। তারপর বলতে লাগল–কাজেই বেশিদিন আমদের হাতে নেই। এর মধ্যেই আমাদের পালাতে হবে। কাজেই আমি আর ভেন এ অবস্থায় কয়েদঘরের বাইরে থাকতে পারলে পালাবার ব্যবস্থা করতে পারবো, ফ্রান্সিসদের খোঁজখবরও নিতে পারবো। বন্দী হয়ে এখানে পড়ে থেকে কিছুই করতে পারবো না। তাই গুপ্তচরবৃত্তির কাজ আমাদের করতে হবে। আমরা এখন নিরুপায়।
ভাইকিং বন্ধুরা কোনো কথা বলল না। সবাই বুঝতে পারল ভবিষ্যতের কথা ভেবে এছাড়া অন্যকিছু করার উপায় নেই। যদি ফ্লেজাররা মুক্ত থাকে তাহলে সবদিক থেকেই মঙ্গল। ফ্লেজার বাইরে থেকে ফ্রান্সিসদের খোঁজখবর করতে পারবে আবার ওদের মুক্তির জন্যেও চেষ্টা করতে পারবে। কাজেই ফ্লেজারের সিদ্ধান্ত ওরা মেনে নিল।
দুপুর তখন। ঢং ঢংশব্দেকয়েদঘরের দরজা খুলে গেল। খাবার নিয়ে টুক কয়েকজন পাহারাদার। দেওয়া হল গোল করে কাটা রুটি পাখির মাংসের ঝোল শাকসবৃজি।
কিছুক্ষণের মধ্যে ভাইকিংদের খাওয়া হয়ে গেল। পাহারাদাররা কাঠের থালা বাটি রেকাবি এসব নিয়ে চলে গেল। হাতমুখ ধুয়ে ফ্লেজার এসে ঘাসের বিছানা রাখল। অনেক চিন্তা ওর মাথায়। তখনই ভাবলো–ফ্রান্সিসদের খোঁজখবর যুদ্ধের গোপন খবর এসব করতে হলে এই বিদেশি পোশাকে চলবে না। এদেশী পোশাক চাই।
ফ্লেজার উঠে দরজার কাছে এল। একজন পাহারাদারকে ডাকল। পাহারাদার এলো। ফ্লেজার বলল–সেনাপতিকে একবার ডেকে দাও। জরুরি কথা আছে। পাহারদারটি চলে গেল।
কিছুক্ষণ পরে সেনাপতি এলো। ফ্লেজার বলল-দেখুন যে কাজে আমরা যাচ্ছি। তা সুষ্ঠুভাবে করতে গেলে আমাদের এই বিদেশি পোশাক চলবে না। আপনি দুজোড়া ঢোলা হাতা পোশাক দিন। এ দেশের লোকেরা যেমন পরে।
–তাহলে তো পোশাক তৈরি করাতে হয়। সেনাপতি বলল। —
না না–আমাদের পুরানো পোশাক দিন ছেঁড়াখোঁড়া হলে আরো ভালো। ফ্লেজার বলল।
–বেশ–দেখছি। পেলে পাঠিয়ে দিচ্ছি। সেনাপতি বলল। তারপর চলে গেল।
ফ্লেজার অপেক্ষা করতে লাগল। এই কয়েদঘর থেকে বেরিয়ে কী কী করবে তাও ভাবতে লাগল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পাহারাদার দুটো ছেঁড়া পোশাক নিয়ে এলো। পোশাক দেখে ফ্লেজার খুশি। ফ্লেজার একটা পোশাক ভেনকে দিল। অন্যটি নিয়ে ভাইকিংদের পোশাকের ওপরেই পরে নিল। দেখাদেখি ভেনও তাই করল।
