–হ্যাঁ থাকে। রাজা বললেন।
–আপনার পিতা মূল্যবান বেশ কিছু ধনসম্পদ–ঐ গুহায় রেখে নররাক্ষসকে পাহারাদার হিসেবে রেখেছিলেন। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। কিন্তু নররাক্ষস এখন আর ঐ ধনসম্পদের পাহারাদার হিসেবে থাকতে চাইছে না। ধনসম্পদের মালিক হতে চাইছে। রাজা বললেন।
নররাক্ষসকে হত্যা করে আপনার পৈতৃক ধনসম্পদ উদ্ধার করতে পারতেন। ফ্রান্সিস বলল।
–সেই চেষ্টা করেছি। অন্তত পাঁচজনকে নররাক্ষস হত্যা করেছে। তারপরে আর কেউ যেতে চাইছে না। রাজা বললেন।
–আমি গতকাল দুপুরে ঐ গুহার কাছে গিয়েছিলাম। নররাক্ষসকে দেখেছি। ও আক্রমণ করার আগেই তলোয়ার দিয়ে ওর দুটো আঙ্গুল কেটে ফেলেছি। ও তখন পালিয়ে যায়। ফ্রান্সিস বলল।
-সে কি! তোমার ভয় করল না? রাজা বললেন।
ভয়ের কী আছে। ও তো আমাদের মতোই মানুষ। ওকে দেখতে বীভৎস। কাঁচা মাংস খায়। ফ্রান্সিস বলল।
–তুমি পারবে ঐ নররাক্ষসকে হত্যা করতে? আমার পৈতৃক সম্পদ উদ্ধার করতে? রাজা বললেন।
–হ্যাঁ পারবো। একা নয়। সঙ্গে দুই বন্ধুও থাকবে। ফ্রান্সিস বলল।
–চেষ্টা করে দেখো। রাজা বললেন।
–এবার আমার একটা শর্তের কথা বলি। ফ্রান্সিস বলল।
–বলো কী শর্ত? রাজা বললেন।
–আপনি এখন আমার বন্দি বন্ধুদের মুক্তি দিন। ফ্রান্সিস বলল।
রাজা একপাশে বসা বৃদ্ধ মন্ত্রীকে বললেন–মন্ত্রীমশাই আমি এই প্রস্তাবে রাজি হব?
–না। আগে ঐ যুবক নররাক্ষসকে হত্যা করে আপনার ধনসম্পদ উদ্ধার করে দিক। তারপর ওর বন্ধুদের মুক্তি দেওয়া হবে। মন্ত্রী বললেন।
ফ্রান্সিস মাথা নিচু করে একটু ভাবল। তারপর মাথা তুলে বলল–বেশ তখনই মুক্তি দেবেন। তবে আমাকে আর আমার দুই বন্ধুকে মুক্তি দিতে হবে। অস্ত্র দিতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
রাজা সেনাপতির দিকে তাকালেন। বললেন–এদের তিনজনকে মুক্তি দিন আর অস্ত্র বর্ম ওরা যা চায় দিন।
ফ্রান্সিস রাজা গঞ্জালেসকে মাথা নুইয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজসভার বাইরে এলো। সেনাপতি ওর সঙ্গে এলো। দুজনে চলল কয়েদঘরের দিকে।
সেনাপতি কয়েদঘরের রক্ষীদের আদেশ করল–এই যুবক যে দুজন বন্ধুর মুক্তি চাইবে তাদের মুক্তি দাও। তারপরে অস্ত্রঘরে গিয়ে ওরা যা যা অস্ত্র চায়–দেবে।
সেনাপতি বলল–কবে যাবে নররাক্ষসের গুহায়?
–আজ দুপুরে খেয়েদেয়ে যাবো। ফ্রান্সিস বলল।
-দেখো–নররাক্ষসদের সঙ্গে লড়তে পারো কিনা। ওকে মেরে ফেলার সাধ্য কারো নেই। খুব বেশি হলে ওকে আহত করতে পারো। কিন্তু সেটা করতে গিয়েও তোমাদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সেনাপতি বলল।
–আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন–নররাক্ষসকে আমরা হত্যা করবো। রাজা গঞ্জালেসের পৈতৃক সম্পদ উদ্ধার করবো। ফ্রান্সিস বলল।
-বেশ–দেখা যাক। সেনাপতি বলল।
সেনাপতি চলে গেল। ফ্রান্সিস রক্ষীকে বলল–আমরা দুপুরে খেয়ে যাবো। তখন আমাদের মুক্তি দিয়ো। অস্ত্রঘরেও তখন যাবো।
রক্ষী দরজা খুলে দিল ফ্রান্সিস ঢুকল। বন্ধুরা এগিয়ে এলো। ফ্রান্সিস বসল। বলল– খাওয়া হয়ে গেলে আমি শাঙ্কো আর বিস্কোনররাক্ষসকে নিকেশ করতে যাবো। তোমরা আমাদের সাফাল্য কামনা করো। হ্যারি আস্তে ধ্বনি তুলল–ও-হো-হো-। বন্ধুরাও একসঙ্গে ধ্বনি তুলল–ও-হো-হো-।
দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষ হল। ফ্রান্সিস বলল–আমি তোমাদের মুক্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু বাদ সাধলেন মন্ত্রীমশাই। তিনি বললেন–নররাক্ষসকে হত্যা করতে পারলে আমার বন্ধুদের মুক্তি দেওয়া হবে।
ফ্রান্সিস রক্ষীকে ডাকল। রক্ষী দরজা খুলে দিল। ফ্রান্সিস শাঙ্কো বিস্কো বেরিয়ে এলো। রক্ষী ওদের নিয়ে চলল অস্ত্রাগারে।
অস্ত্রাগারের সামনেও রক্ষীদের পাহারা। কয়েদঘরের রক্ষী ওদের কাছে গেল। বলল–সেনাপতির হুকুম–এই তিনজনে যা যা চায় তা এদের দিতে হবে। রক্ষী অস্ত্রাগারের দরজা খুলে দিল। তিনজনে অস্ত্রাগারে ঢুকল। তিনজনেই তলোয়ার নিল। বর্ম শিরস্ত্রাণ নিল। পরল সেসব। একটা মশাল আর চকমকি পাথর নিল। তারপর তলোয়ার কোমরে গুঁজে বেরিয়ে এলো। অস্ত্রাগারের রক্ষী বলল–তোমরা কার সঙ্গে লড়াই করতে যাচ্ছো?
–নররাক্ষসের সঙ্গে। বিস্কো বলল।
-বলো কি। রক্ষী বলে উঠল। রক্ষীদের একজন বলল তোমাদের প্রাণটা বেঘোরে যাবে। আজ পর্যন্ত কেউ নররাক্ষসকে আহতও করতে পারেনি।
–আমি ওর দুটো আঙ্গুল কেটে দিয়েছি। গিয়ে দেখে আসতে পারো। ফ্রান্সিস বলল।
–এ অসম্ভব। রক্ষী বলল।
–আমরা অসম্ভবকেই সম্ভব করি। আমরা ভাইকিং। শাঙ্কো বলল। সব রক্ষীরা অবাক চোখে ফ্রান্সিসদের দিকে তাকিয়ে রইল।
তিনজনে চলল খাদের দিকে। খাদের একেবারে শেষে এসে ঢাল দিয়ে নামল। তারপর খাদ দিয়ে চলল। খাদে জংলা গাছ ঝোপ কয়েকটা বড়ো গাছ।
তিনজনে চলল। সামনে ফ্রান্সিস।
ফ্রান্সিস গতকালের দেখা ছোটো গুহাটার সামনে এলো। বলল–নররাক্ষস নিই। এই গুহাটায় থাকে। গুহা দেখে বিস্কো বলল–আমাদের তো শুয়ে পড়ে ঢুকতে হবে।
-হ্যাঁ। নররাক্ষসকে ডাকাডাকি করা যাক। বেরিয়ে এলে লড়াইটা এখানেই হতে পারে। শাঙ্কো বলল।
তিনজনে গুহার মুখে এসে ডাকতে লাগল–নররাক্ষস বেরিয়ে আয়। তোর সঙ্গে আমরা লড়তে এসেছি। সাহস থাকে তো গুহা থেকে বেরিয়ে আয়।
কিছুক্ষণ সময় গেল। নররাক্ষস বেরিয়ে এলো না। ফ্রান্সিস বলল–ও বেরিয়ে আসবে না। এটা বোঝা যাচ্ছে। যাকগে–আমাদেরই ঢুকতে হবে। তার আগে দুটো কাজ। একটা লম্বা গাছের ডাল চাই। আর মশালটা জ্বালাতে হবে।
