–ঠিক আছে। এরা এখানেই থাকুক তুমি চলো। সেনাপতি বলল।
–এখুনি? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। কোনো ব্যাপারে দেরি করা আমি পছন্দ করি না। সেনাপতি বলল।
–ঠিক আছে। চলুন। ফ্রান্সিস বলল।
সেনাপতি দরজার দিকে এগোল। ফ্রান্সিস পেছনে। পিছু ফিরে ফ্রান্সিস মারিয়াকে বলল–দুশ্চিন্তা করো না। আমরা মুক্তি পাবোই। মারিয়া স্থির বিছানায় বসে রইল। সবাই চলে গেলে মারিয়া বালিশে মুখ চাপা দিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
সেনাপতি ফ্রান্সিসকে নিয়ে জাহাজ থেকে নামল। সঙ্গের তিনজন ঘোড়সওয়ার সৈন্যও নামল।
বালিয়াড়ি পার হয়ে ঘাসের প্রান্তরে এলো। একজন সৈন্য তিনটি ঘোড়ার লাগাম ধরেছিল।
সবাই ঘোড়াগুলোর দিকে এলো। সেনাপতি নিজের ঘোড়ায় উঠল। সৈন দুজনও ঘোড়ায় উঠল। সেনাপতি ফ্রান্সিসকে বলল–তুমি একজনের পেছনে বসো। ফ্রান্সিস একজন সৈন্যের পেছনে বসল। তিনটি ঘোড়া ছুটল।
ফ্রান্সিস ওপরে তাকাল। আকাশ অনেকটা সাদাটে হয়ে এসেছে। ভোর হতে দেরি নেই। রাজধানী মিলা পৌঁছোবার আগেই সূর্য উঠল। রোদ ছড়াল বাঁপাশে জঙ্গলের মাথায় প্রান্তরে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা সকালে দামিলা পৌঁছল। সেনাপতি ঘোড়া চালিয়ে কয়েদুঘরের সামনে এলো। পাহারারত এক রক্ষীকে ডাকল। রক্ষী এগিয়ে এলো। ততক্ষণে ফ্রান্সিস ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে পড়েছে। ফ্রান্সিসকে দেখিয়ে সেনাপতি বলল– এটাকে কয়েদঘরে ঢোকা। রক্ষীটি একটা বড়ো চাবি নিয়ে কয়েদঘরের তালা খুলল। ফ্রান্সিস এগিয়ে এলো। নিজেই কয়েদঘরে ঢুকল।
ভাইকিং বন্ধুদের মধ্যে যারা জেগে উঠেছিল তারা ফ্রান্সিসকে ঢুকতে দেখে অবাক। ওরা তখন ভাবছিল ফ্রান্সিস মুক্ত থাকলে তবু পালাবার আশা ছিল। কিন্তু এখন তো সেই আশা আর রইল না। তবু ফ্রান্সিসকে দেখে ঘুম ভেঙে গেল। ওরাও ধ্বনি তুলল– ওহো-হো। বাকি বন্ধুদের ঘুম ভেঙে গেল। ওরাও ধ্বনি তুললও-হো-হো।
ফ্রান্সিস হেসে হ্যারির পাশে গিয়ে বসল। হ্যারি জিজ্ঞেস করল–ফ্রান্সিস, তুমি ধরা দিলে কেন? সব বন্ধুরা তখন বসে দাঁড়িয়ে ফ্রান্সিসকে ঘিরে ধরেছে।
ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে সব ঘটনা বলল। হ্যারি জিজ্ঞেস করল এখন কী করবে।
রাজা গঞ্জালেসের সঙ্গে দেখা করবো। বলবো যদি আমাকে আমার বন্ধুদের মুক্তি দেন তাহলে ঐ নররাক্ষসের হাত থেকে আপনার পৈতৃক ধনসম্পদ উদ্ধার করে দিতে পারি। দেখি রাজা গঞ্জালেস কী বলে। ফ্রান্সিস বলল।
কিছু পরেই ঢ্যাং ঢ্যাং শব্দে দরজা খুলে গেল। সকালের খাবার দিতে দুজন সৈন্য ঢুকল। প্রত্যেকের সামনে পাতা পেতে গোল রুটি আর তরকারির ঝোল দিল। ফ্রান্সিসরা খেতে লাগল।
খাওয়া শেষ হলে সৈন্য দুজন চলে গেল।শব্দ তুলে দরজা বন্ধ হল। ফ্রান্সিস লোহার দরজার সামনে গেল। একজন রক্ষীকে বলল–আমি সেনাপতির সঙ্গে কথা বলবো। সেনাপতিকে ডাকো।
উনি এখন বিশ্রাম করছেন। ডাকা যাবে না। রক্ষীটি বলল।
ফ্রান্সিস লোহার দরজা ঝাঁকিয়ে বলে উঠল নিকুচি করেছে বিশ্রামের। তুমি ডাকো। ফ্রান্সিসের চড়া গলা শুনে বন্ধুরা এগিয়ে এলো। একসঙ্গে ধ্বনি তুলল–ও-হো-হো
রক্ষীটি বেশভীত হল। অন্য রক্ষীটি এগিয়ে এলো। সব শুনে বলল–দরজা ধাক্কানো বন্ধ করো। আমি সেনাপতিকে ডেকে আনছি।
রক্ষীটি চলে গেল। ফ্রান্সিসের বন্ধুরাও ফিরে গেল নিজের নিজের জায়গায়। কিছু বসল, কিছু শুয়ে পড়ল।
কিছুক্ষণ পরে সেনাপতি এলো। লোহার দরজার সামনে এসে বলল–কী ব্যাপার? তোমরা নাকি হৈ চৈ করছো। লোহার দরজা ভেঙে ফেলতে চাইছো?
ফ্রান্সিস উঠে এলো। বলল–আপনার সঙ্গে আমার খুবই প্রয়োজন। তাই একজন রক্ষীকে বললাম আপনাকে ডেকে দেওয়ার জন্য। ও শুনল না কথা। তাই আমার ক্রুদ্ধ বন্ধুরা ধ্বনি তুলেছে। দরজায় ধাক্কা দিয়েছে।
যাক গে–শান্ত হয়ে না থাকলে কিন্তু সবাইকে বেত মারা হবে। সেনাপতি বলল।
–খুব ভালো কথা–ফ্রান্সিস বলল–তারপর বলল–রাজসভা বসলে আমি রাজার সঙ্গে দেখা করতে চাই।
-কেন? সেনাপতি বলল।
–আমার কয়েকটা জরুরী কথা বলার আছে। ফ্রান্সিস বলল।
–রাজার সামনে আজেবাজে বকবে না। সেনাপতি বলল।
–আজেবাজে নয়। খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। রাজসভা বসলে তোমাকে আমার সৈন্যরাই এসে নিয়ে যাবে। সেনাপতি বলল।
–অনেক ধন্যবাদ। ফ্রান্সিস বলল।
সেনাপতি চলে গেল। রক্ষীরা পাহারা দিতে লাগল।
একটু বেলায় দুজন সৈন্য কয়েদঘরের সামনে এলো। লোহার দরজার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে বলল–ফ্রান্সিস কে?
ফ্রান্সিস এগিয়ে এলো। বলল–আমি।
–সেনাপতি তোমাকে রাজদরবারে নিয়ে যেতে বলেছেন। একজন সৈন্য বলল।
–চলো ভাই। আমি তৈরি। ফ্রান্সিস বলল।
ঢং ঢং শব্দে দরজা খোলা হল। ফ্রান্সিস বেরিয়ে এলো। সৈন্য দুজনের সঙ্গে চলল রাজবাড়ির দিকে।
ফ্রান্সিস রাজসভায় এলো। তখন বিচার চলছে। সেনাপতির পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বলল–আমাকে কথা বলার সুযোগ দেবেন।
দাঁড়াও–দেখছি। সেনাপতি বলল।
বিচারটা শেষ হল। সেনাপতি একটু এগিয়ে গিয়ে মাথা একটু নিচু করে সন্মান জানাল। তারপর বলল–একদল ভাইকিংকে আমরা কয়েদঘরে বন্দি করে রেখেছি। তাদের যে দলনেতা ফ্রান্সিস সে আপনাকে কিছু বলতে চায়।
–বেশ। এগিয়ে আসুক। রাজা গঞ্জালেস বললেন।
ফ্রান্সিস এগিয়ে গেল। মাথা একটু নিচু করে সন্মান জানিয়ে বলল–মহারাজ আমি শুনেছি–উত্তরের টিলার নীচে দিয়ে একটা শুকনো খাদ চলে গেছে। ওখানে একটা ছোটো গুহায় নররাক্ষস থাকে।
