ফ্রান্সিস জাহাজে উঠতেই দুজনে তলোয়ার উঁচিয়ে ছুটে এলো। ফ্রান্সিস দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে পড়ল। ওরা কাছাকাছি আসতেই বলল–তোমরা কি লড়াই চাও?
হা-লড়াই করে তোমাকে হারিয়ে তোমাকে বন্দি করে নিয়ে যাবো। একজন কারারক্ষী বলল।
–কী দরকার লড়াইয়ে। আমি নিজেই কাল সকালে রাজা গঞ্জালেসের রাজদরবারে যাচ্ছি। ফ্রান্সিস বলল।
–ওসব বুঝি না। সেনাপতির হুকুম জীবিত বা মৃত তোমাকে তাঁর কাছে হাজির করতে হবে। রক্ষীরা বলল।
-বাবা–সেনাপতি দারুণ ফরমান দিয়েছে তো। ফ্রান্সিস হেসে বলল।
একজন রক্ষী তলোয়ার উঁচিয়ে ফ্রান্সিসের সামনে লাফিয়ে পড়ল। ফ্রান্সিস বলল– আমাকে তলোয়ারটা খুলতে দাও ভাই।
–খোলো তলোয়ার। কারারক্ষীটি বলল।
–শেষবার বলছি–লড়াই বন্ধ রাখো। ফ্রান্সিস বলল।
–না-না আমরা তোমাকে লড়াইয়ে হারিয়ে বন্দি করে নিয়ে যাব। রক্ষী বলল।
–ও। বেশ তাহলে লড়াই-ই হোক। ফ্রান্সিস বলল। ওদিকে এখানকার জোরে জোরে কথাবার্তা শুনে ভেন ডেক-এ উঠে এলো। ও রক্ষীদের দিকে তাকিয়ে বলল– তোমরা কি পাগল–ফ্রান্সিসের সঙ্গে তলোয়ারের লড়াই করতে চাও?
-হা-হা চাই। রক্ষীরা বলল।
–ফ্রান্সিস মেরে ফেলো না। একটু রয়ে সয়ে তলোয়ার চালিও। ভেন ফ্রান্সিসকে বলল।
ফ্রান্সিস কোমর থেকে তলোয়ার খুলল। একজন রক্ষী ফ্রান্সিসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারপর ফ্রান্সিসের ওপরে তলোয়ার চালাল। ফ্রান্সিস মারটা ঠেকাল। অন্যজনও তলোয়ার চালাল। ফ্রান্সিস ওর মারও ঠেকাল। ওরা লাফালাফি করে তলোয়ার চালাতে লাগল। ফ্রান্সিসও ওদের মার ঠেকিয়ে চলল। ওরা হাঁপাতে লাগল। এবার ফ্রান্সিস একজন রক্ষীর তলোয়ারে এমন ঘা মারল যে তলোয়ার ছিটকে নীচের বালিয়াড়িতে গিয়ে পড়ল। সেই রক্ষী হাঁ করে ফ্রান্সিসের দিকে তাকিয়ে রইল। ফ্রান্সিস ওর গলায় তলোয়ার ঠেকিয়ে বলল–আরো লড়াই করার ইচ্ছে আছে।
অন্য রক্ষীটি এই দেখে কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। ফ্রান্সিস দ্রুত তলোয়ার চালাল। রক্ষীটি পিছিয়ে গেল। ফ্রান্সিস তলোয়ার চালিয়ে চালিয়ে ওকে রেলিঙের ধারে নিয়ে এলো। তারপর দ্রুত তলোয়ার চালিয়ে ওর পোশাকের বুকের দিকটা লম্বালম্বি কেটে দিল। কিছুটা কেটেও গেল। রক্ত পড়তে লাগল। রক্ষীটি হাঁপাতে লাগল।
–বাছাধনরা এবার বাড়ি যাও। ভেন বলল।
ফ্রান্সিস বুকের কাছে পোশাক কাটা রক্ষীটির হাত থেকে তলোয়ার খুলে নিয়ে জলে ফেলে দিল। তারপর ওকে দুহাতে তুলে ধরে জলে ফেলে দিল। বলল–যা তলোয়ার খোঁজ গে।
একটু হাঁপাতে হাঁপাতে ফ্রান্সিস বলল–ভেন-মারিয়া কেমন আছে?
খুব ভালো। রাতে ডিমসেদ্ধ খেতে চেয়েছে। ভেন বলল।
–না না কটা দিন খাওয়া দাওয়াটা মানে তোমরা যাকে সহজপাচ্য বল–তাই। খাওয়াও। ফ্রান্সিস বলল।
–এসব আমার হাতে ছেড়ে দাও। চলো। ভেন বলল।
জাহাজ থেকে ওরা দেখল দুই কারারক্ষী বালিয়াড়ি পার হয়ে তীরের প্রান্তরে উঠল। ফ্রান্সিস ভাবল– ওরা নিশ্চয়ই গিয়ে সেনাপতিকে সব বলবে। সেনাপতিও আমার খোঁজে এখানে আসবে। আবার ঝামেলা। যাকগে–যা হবার হবে। কালকে সকালে রাজা গঞ্জালেসের সঙ্গে দেখা করতেই হবে।
একটু অন্যমনস্কভাবেই ফ্রান্সিস খাওয়া-দাওয়া সারল। মারিয়া এখন অনেকটা সুস্থ। ভেন কিন্তু মারিয়াকে অল্পসেদ্ধডিম খেতে দিল। ফ্রান্সিস কিছু বলল না। ভেন রাজবৈদ্যর শিষ্য ছিল। ও যা ভালো বোঝে করুক।
বেশ রাত তখন। হঠাৎ ডেক-এ অনেক পায়ের শব্দ। ভেনই প্রথম শব্দটা শুনতে পেল। ও উঠে পড়ল। নীচে নামার সিঁড়ির কাছে এলো। দেখল কিছু সশস্ত্র সৈন্যের সঙ্গে বোধহয় সেনাপতিই নামছে। ভেনকে দেখে জিজ্ঞেস করল–ফ্রান্সিস কোথায়?
ভেন বলল–আসুন। সবাই ফ্রান্সিসের কেবিনঘরে এসে দাঁড়াল। সেনাপতি দরজায় ধাক্কা দিল।
ফ্রান্সিসের কানেও শব্দ গেছে। ও উঠে পড়েছে ততক্ষণে। মারিয়ারও ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। বলল কী ব্যাপার?
সেনাপতি এসেছে–আমায় বন্দি করবে বোধহয়? ফ্রন্সিস বলল।
–তুমি পালাও। মারিয়া বলল।
–দেরি হয়ে গেছে–পালানো যাবে না। ফ্রান্সিস বলল। দরজায় তখনও ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে ফ্রান্সিস বিছানা থেকে নেমে দরজায় দিকে এগোল। দরজা খুলে দাঁড়াল।
সেনাপতি বলল–তাহলে পালাওনি।
পালাবার তো কোনো কারণ ঘটেনি। ফ্রান্সিস বলল।
–আমার দুই কারারক্ষীকে তুমি আহত করেছে। সেনাপতি বলল।
–মেরে তো ফেলিনি। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে আর দাঁড়িয়ে এতক্ষণ কথা বলতে পারতে না।
তার আগেই যাক গে–তুমি কি আমাদের সঙ্গে তলোয়ারের লড়াই চালাতে চাও। আমার দুজন তলোয়ার দক্ষ সৈন্যকে এনেছি। তুমি লড়বে?
ফ্রান্সিস মাথা নেড়ে বলল–না।
–না লড়েই পরাজয় স্বীকার করলে। সেনাপতি বলল।
–হুঁ ফ্রান্সিস মাথা কাত করে বলল।
সেনাপতি হাসল। বলল–তবে যে শুনি ভাইকিংরা বীরদুঃসাহসী। তলোয়ার চালনায় দক্ষ।
–সেটা যথাসময়ে যথাস্থানে প্রমাণ পাবেন। ফ্রান্সিস বলল।
–থাক গে–তোমাকে বন্দি করা হল। সেনাপতি বলল।
–তাহলে তো আমাকে কয়েদঘরে গিয়ে থাকত হবে। ফ্রান্সিস বলল।
অবশ্যই। সেনাপতি বলল। তারপর মারিয়াকে আর ভেনকে দেখিয়ে বলল এরাও তো বন্দি ছিল।
হা–রাজকুমারী অসুস্থ হয়ে পরেছিলেন তাই তাঁকে চিকিৎসার জন্যে এখানে আনা হয়েছিল। ঐ বৃদ্ধ ভেন–আমাদের চিকিৎসক বৈদ্য। ফ্রান্সিস বলল।
