–ঠিকই ধরছো। কিন্তু রাজকুমারীকে কিছু বলল না। বলবে- জ্বর ছেড়ে গেছে। তুমি এখন সুস্থ। ভেন বলল।
–কিন্তু সত্যি সুস্থ হবে কবে? ফ্রান্সিস বলল।
–আর কয়েকটা দিন লাগবে। ওষুধে কাজ হয়েছে–এটাই সুলক্ষণ। এবার তুমি ভাবো কী করবে। ভেন বলল।
–হু–ওটাই ভাবছি এখন। ফ্রান্সিস বসল।
হঠাৎ সিঁড়িতে জুতোর শব্দ শোনা গেল। কারা আসছে। ফ্রান্সিস সঙ্গে সঙ্গে বিছানা থেকে নেমে কাঠের তক্তায় তৈরি বিছানার নীচে ঢুকে গেল। মারিয়া দেখল ঘরের কোণায় ফ্রান্সিসের ভেজা পোশাক রাখা। মারিয়া যত দ্রুত সম্ভব বিছানা থেকে নেমে পোশাকগুলো থেকে টিপে জল বের করতে লাগল।
কারারক্ষী দুজন ঢুকল। হাতে খোলা তলোয়ার। দুজনেই ঘরের চারদিকে তাকিয়ে দেখল ভেজা পোশাক চিপছে। একজন বলল–একজন বলল–এই ভেজা পোশাক কার?
–আমার। ভেন হেসে বলল।
–এত বেলায় চান করলে? কারারক্ষী বলল।
–আমি অনেক সময় সন্ধেবেলাও চান করি। ভেন বলল।
–হু। একজন রক্ষী চলে গেল খাওয়ার ঘরে। ফিরে এসে বলল খাবার ঘরে দেখলাম দুটো এঁটো থালা। দুজন খেয়েছে।
–আমি আর ভেন খেয়েছি। মারিয়া ভেজা পোশাক নিয়ে বাইরে যেতে যেতে বলল।
যাক গে–তোমাদের দলনেতা কী নাম যেন ওর?
–ফ্রান্সিস। ভেন বলল।
–হ্যাঁ ফ্রান্সিস। ও এলেই আমাদের খবর দেবে।
নিশ্চয়ই। ভেন হেসে বলল।
–ওকে ধরতে পারলেই কয়েদঘরে ঢোকানো হবে। রক্ষী বলল।
–বটেই তো। ভেন আবার হেসে বলল।
বলা যায় না হয়তো রাজা গঞ্জালেস ওকে মৃত্যুগুহায় ঢুকিয়ে দেবে।
–মৃত্যুগুহা? সে আবার কী? ভেন জানতে চাইল।
–মৃত্যুগুহা কী জানো না। কারারক্ষী বলল।
–না। না শুনলে কী করে জানবো। ভেন বলল।
রক্ষীটি তলোয়ার কোষবদ্ধ করে বলল–তবে শোনো। কয়েদঘরের পেছনেই দেখবে বড়ো খাদ। প্রায় এখান অব্দি খাদটা রয়েছে। এই খাদের গায়েই একটা টিলা। সেই টিলায় আছে একটা গুহামতো। সেই গুহায় থাকে নররাক্ষস। মানুষ ওখানে গেলেই মেরে ফেলে। ঐ গুহার ধারে কাছে কেউ যায় না। কারারক্ষী বলল।
কিন্তু রাজা গঞ্জালেসের তো কত সৈন্য। নররাক্ষসকে মেরে ফেললেই হয়। ভেন বলল।
–নররাক্ষসকে মারা অত সোজা নয়। গুহাটায় একজনের বেশি কেউ ঢুকতে পারবে না। রক্ষী বলল।
–তাহলে দফায় দফায় ঢুকবে একজন করে। ভেন বলল।
–হ্যাঁ যা শুনেছি বলছি। গুহার ভেতরটা নাকি বড়ো।
কয়েকজন মানুষ দাঁড়াতে পারে। রক্ষী বলল।
–সেই কয়েকজন নররাক্ষসকে মেরে ফেলতে পারে। ভেন বলল।
–অত সহজ নয়। তোক ঢুকলেই নররাক্ষস একটা পাথরের ফাটালের মধ্যে ঢুকে, পড়ে। সেই ফাটলে ঢুকে আর নররাক্ষসকে আক্রমণ করা যায় না। কারারক্ষী বলল।
–কেন? তলোয়ার বা বর্শা দিয়ে খুঁচিয়ে নররাক্ষসকে মারা যায়। ভেন বলল।
–উঁহু। নররাক্ষস যেখানে ঢুকে পড়ে সেটা একটা লম্বা ফাটল। তরবারি তো নই। বর্শা অতদূর পর্যন্ত যায় না। তবে কথা হল রাজা গঞ্জালেস সেই নররাক্ষসকে মারতে চান না। বরং বাঁচিয়ে রাখতে চান। রক্ষী বলল।
–কেন বলো তো? ভেন জানতে চাইল।
–যে ফাটলের মধ্যে নররাক্ষস লুকিয়ে পড়ে তাতে আছেহীরেমণিমুক্তোর ভান্ডার। নররাক্ষস সেই ভান্ডার পাহারা দেয়। এই নররাক্ষসকে পাহারাদার হিসেবে রেখেছিল গঞ্জালেসের পিতা। পাশের রাজ্য সেতুবলের সঙ্গে এই দামিলা রাজ্যের লড়াই চলে আসছে অনেকদিন থেকে। তাই গঞ্জালেসের পিতা এইভাবে তার সঞ্চিত ধনভান্ডার লুকিয়ে রেখে নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন। গঞ্জালেসের তাই নররাক্ষসকে পাঁঠা ভেড়া খরগোস এসব প্রতিদিন সকালে গুহার মুখে রেখে আসার জন্য তোক রেখেছিল। রক্ষী বলল।
–তাহলে তো ঐ কাঁচা মাংসই নররাক্ষস খায়। ভেন বলল।
–হ্যাঁ। আর ধনভান্ডার পাহারা দেয়। রক্ষী বলল।
–এই গুপ্তধনের খবর কি সবাই জানে? ভেন জানতে চাইল।
–হ্যাঁ-টিলার ঢালের দিকে কেউ যায় না। রক্ষী বলল।
–কেউ কি নররাক্ষসকে দেখেছে? ভেন বলল।
–হ্যাঁ মাত্র কয়েকজন। তারাই এসে রটিয়েছে যে নররাক্ষস প্রচন্ড শক্তিমান — শূন্যে উড়তে পারে, হাতের ঘায়ে-বড়ো বড়ো পাথরের চাই ভাঙতে পারে। রক্ষী বলল।
–এসব বিশ্বাস করা যায় না। ভেন বলল।
–নানা লোকের নানা মতো। কারারক্ষী থামল।তারপর বলতে লাগল–তোমাদের দলনেতাকে বলো ও যেন রাজার কাছে ধরা দেয়। রাজা গঞ্জালেস তাহলে কঠিন শাস্তি দেবেন না। শুধু কয়েদঘরে বন্দি করে রাখবেন। কিন্তু যদি সে ধরা না দেয় আর হঠাৎ ধরা পড়ে যায় তবে মৃত্যুগুহায় তাকে ঢোকানো হবে। একবার ঢোকানো হলে জীবিত অবস্থায় আর ফিরে আসতে পারবে না। রক্ষী বলল।
–বুঝলাম–সাংঘাতিক শাস্তি। ভেন মাথা এপাশ-ওপাশ করতে করতে বলল।
–আচ্ছা–একটা কথা। ভেন বলল।
–বলো। রক্ষী বলল।
–রানি উরাকার সঙ্গে কি গঞ্জালেসের লড়াই হবে? ভেন জানতে চাইল।
–অবস্থা যা দেখতে পাচ্ছি–লড়াই হবেই। রক্ষী বলল।
–কে জিতবে? ভেন বলল।
–রানি উরাকার জেতার সম্ভবনা বেশি। রক্ষী বলল।
–কারণ? ভেন বলল।
–রানির অনেক সৈন্য।যুদ্ধজাহাজ আছে। আমাদের রাজা গঞ্জালেস লিসবনে গিয়ে জাহাজ বরাত দিয়ে এসেছেন। শুনলাম কয়েকদিনের মধ্যে সেই জাহাজ আসবে। রক্ষী বলল।
–তাহলে বেশ লড়াই টড়াই হবে। ভেন বলল।
–মনে তো হয়। যাক গে–চলি। আমরা ডেক-এ আছি। তোমাদের দলনেতা এলে আমার কথাগুলো বলো। রক্ষী বলল।
নিশ্চয়ই বলবো। ভেন বলল।
