–না–আরো আছে। এই কথা বলে ফ্রান্সিস দুটো চোখের ফোকরে আঙ্গুল ঢুকিয়ে একটু টান দিতেই একটা লম্বাটে কাঠের অংশ উঠে এলো। লম্বাটে ফোকর দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মনিমুক্তোখচিত সোনার অলঙ্কার সোনার চাকতি বেরিয়ে এসে গীর্জার মেঝেয় পড়তে লাগল। সাজ্জিও এই দেখে হতবাক হয়ে সেই অলঙ্কার সোনার চাকতির দিকে তাকিয়ে রইলেন। একটু পরে সম্বিত ফিরে পেয়ে ফ্রান্সিসকে বললেন–ফ্রন্সিস আপনার অসাধারণ অনুমানশক্তির কী বলে প্রশংসা করবো বুঝতে পারছি না।
–ওসবের প্রয়োজন নেই। আপনি এখন এখানে পাহারায় থাকুন। আমরা যাচ্ছি। গাইদাকে দিয়ে রাজা পিটারের কাছে চার্লসের গুপ্ত ধনভাণ্ডার উদ্ধারের কথা জানাচ্ছি। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিস আর হ্যারি আস্তে আস্তে গীর্জার দরজার দিকে চলল। ওরাতো এরকম ধনসম্পদ উদ্ধার আগেও করেছে। ওরা অভ্যস্ত। তাই সাজ্জিওর মতো ওরা আশ্চর্য হয়ে যায় নি।
চার্লসের প্রাসাদে এলো দু’জনে। গাইদার ঘরে ঢুকে দেখল গাইদা কী লিখছে। হ্যারি বলল–গাইদা এখন সব কাজ রেখে একটা অত্যন্ত দরকারি কথা শুনুন। চার্লসের ধনসম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে। কথাটা গাইদা হাঁ মুখ করে ফ্রান্সিসদের দিকে তাকিয়ে রইল। ফ্রান্সিস হেসে বলল কী? বিশ্বাস হচ্ছে না?
আঁ-না- না মানে–গাইদা আর কথা বলতে পারল না।
গীর্জায় যান। নিজের চোখেই সব দেখুন। তারপর রাজাপিটারকে সংবাদ পাঠান। এখন এটাই আপনার কাজ। হ্যারি বলল।
গাইদা আসন ছেড়ে লাফিয়ে উঠে ছুটল ঘরের বাইরে। তারপর গীর্জাটার দিকে।
গীর্জায় ঢুকে দেখল বেদীর কাছে সাজ্জিও বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছেন। তার সামনে মেঝেয় পড়ে আছে বহু মূল্যবান কিছু অলঙ্কার সোনার চাকতি স্বর্ণমুদ্রা গাইদা হাঁ করে সেদিকে তাকিয়ে রইল। সাজ্জিও এবার বললেন–আপনি যান। প্রথমে কয়েকজন পাহারাদার সৈন্যকে এখানে পাঠান। তারপর মহামান্য রাজা পিটারকে সংবাদ পাঠান যে চার্লসের ধনসম্পদ ফ্রান্সিস আবিষ্কার করেছেন। তিনি যেন যত শীঘ্র সম্ভব এখানে চলে আসেন।
তখন বিকেল। রাজা পিটার আর সেনাপতি মান্দো ঘোড়া ছুটিয়ে এসে হাজির হলেন। সাজ্জিও গীর্জার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাজাপিটার আর মান্দো ঘোড়া থেকে নামলেন। সাজ্জিও তাঁদের গীর্জার মধ্যে নিয়ে এলেন। সাজ্জিওর নির্দেশে পাহারাদার সৈন্যরা বেদীর ফোকর থেকে সব হীরে মুক্তো বসানো বহু মূল্যবান গয়নাগাটি, সোনার মুদ্রা আর চাকতি বের করে বেদীর ওপর সাজিয়ে রেখেছিল।
রাজা পিটার বেদীর ওপর রাখা সব স্বর্ণসম্পদ অবাক চোখে দেখতে লাগলেন। তিনি স্বপ্নেও ভাবেন নি চার্লসের স্বর্ণসম্পদ উদ্ধার করা যাবে।
সাজ্জিও তখন মৃদুস্বরে রাজা পিটারকে বুঝিয়ে বললেন–কী করে যীশুর একটা উপদেশকে ভিত্তি করে ফ্রান্সিস গুপ্ত স্বর্ণসম্পদ উদ্ধার করেছে। রাজা পিটার সেনাপতি মান্দোকে বললেন–যান ফ্রান্সিসকে ডেকে আনুন।
একটু পরে হ্যারিকে সঙ্গে নিয়ে ফ্রান্সিস এলো। রাজা পিটার হেসে ফ্রান্সিসের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। ফ্রান্সিস হেসে রাজা পিটারের হাত ধরলেন। রাজাপিটার বললেন– তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। কী বলে আমি কৃতজ্ঞতা জানাবো ভেবে পাচ্ছি না।
–তার দরকার নেই মহামান্য রাজা–হ্যারি বলল–ফ্রান্সিস এর আগেও অনেক গুপ্ত ধনভাণ্ডার উদ্ধার করেছে।
–তোমরা চিন্তা করে পরিশ্রম করে এই স্বর্ণসম্পদ উদ্ধার করেছে। গুপ্ত ধনভাণ্ডারের কিছু অংশ তো তোমাদের প্রাপ্য হয়। রাজা পিটার বললেন।
একটি স্বর্ণমুদ্রাও আমরা নেব না। এই ধনসম্পদ আপনার দেশের মানুষের। ফ্রান্সিস বলল।
তবু বলো–তোমরা কী চাও? রাজা পিটার বললেন। আমি আমার বন্ধুদের মুক্তি চাই! ফ্রান্সিস বলল। রাজা হেসে বললেন তোমার অনুরোধের আগেই তোমার বন্ধুরা নিজেরাই দুর্গের দেয়াল ডিঙিয়ে পালিয়েছে।
–সে কি। কেউ মারা যায় নি তো? হ্যারি বলল। রাজা পিটার সেনাপতি মান্দোকে বললেন–আর সব খবর মান্দো বলবেন। মান্দো বলল–আপনার বন্ধুরা গভীর রাতে দুর্গ থেকে পালিয়েছে। এই সংবাদ আমরা ভোরবেলা পেয়েছিলাম। ধরেই নিয়েছিলাম সবাই নিশ্চয়ই আপনাদের জাহাজেই আশ্রয় নিয়েছে। আমরা সমুদ্রতীরে ছুটে গেলাম। কিন্তু কোথাও আপনাদের জাহাজের চিহ্নমাত্র নেই। আপনার বন্ধুরা আমাদের পাহারাদারদের সঙ্গে লড়াই করে নি। সবাইকে জল ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। কাজেই তাদের মারা যাওয়া বা আহত হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ফ্রান্সিস নিশ্চিন্ত হল যে শাঙ্কোরা পালিয়েছে। বুদ্ধিমানের মতো কোনো লড়াইয়ে নামে নি।
ফ্রান্সিস বলল–মাননীয় রাজা–আমরা ঠিক জানি আমাদের বন্ধুরা সমুদ্রের কাছাকাছি কোথাও আছে। ওরা অপেক্ষা করছে আমি চার্লসের স্বর্ণসম্পদ উদ্ধার করতে পেরেছে কিনা এটা জানতে।
হতে পারে। রাজা বললেন।
ফ্রান্সিস বলল–আপনাদের সম্পদ তো উদ্ধার হল। আমরা এবার সেন্ট অ্যাঞ্জেলো দুর্গের দিকে যাবো। সমুদ্রতীরে খোঁজাখুঁজি করতে হবে।
হ্যারি বলল–মাননীয় রাজা আমাদের জন্যে যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। তাহলে খুবই উপকার হয়।
রাজা পিটার সেনাপতি মান্দোকে বললেন গাড়ির কথা।
ফ্রান্সিস আর হ্যারি গীর্জার দরজার দিকে চলল। সাজ্জিও ওদের পেছনে পেছনে এলেন। দরজার বাইরে আস্তে এগিয়ে এসে ফ্রন্সিসের হাত দুটো ধরলেন। বললেন– এত মূল্যবান সম্পদ উদ্ধার করলেন অথচ সম্পদের কিছুই দাবি করলেন না–এতে আমি অবাক হয়ে গেছি। মানুষ যখন যেভাবে হোক ধনী হতে চায় আপনি তখন এত নির্লিপ্ত। এরকম মানুষ আমি দেখিনি। ফ্রান্সিস হেসে বলল–সাজ্জিও–আমি মুখখুসুখখু মানুষ। বাইবেল পড়ি নি। তবে কখনো-সখনো বাইবেল পড়া শুনেছি। প্রভু যীশুর
