–হ্যাঁ মারিয়া বলতে লাগল–এই আনগেভিনের সৈন্যদের সঙ্গে জাহাজ উদ্ধারে। সাহায্য করার জন্যে তুমি যেতে রাজি হলো না কেন?
–এই সৈন্যদের সর্দারকে বিশ্বাস করলে আমাদের বিপদই বাড়তে শুধু। ওদের যুদ্ধ জাহাজ দখল হলে ওরা প্রথমেই আমাদের হত্যা করতো। কারণ ওদের কাছে তখন আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। শাঙ্কো বলল।
–সেটা আমিও ভেবেছি। সেক্ষেত্রে লড়াই শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে তোমরা জলে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কেটে সমুদ্রের পারে উঠবে। তারপর হেঁটে আমাদের জাহাজে গিয়ে উঠবে।মারিয়া বলল। একটু ভেবে নিয়ে শাঙ্কো বলল–আমরা লড়াইয়ে নামলে আবার হয়তো বন্ধুদের কাউকে না কাউকে হারাবো।
–জানি সেটা হতে পারে। কিন্তু যদি তোমরা আত্মরক্ষমূলক লড়াই করো তাহলে আহত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ওদিকে রাজা পিটারের পাহারাদার সৈন্য বেশি থাকবে না। জাহাজ পাহারার কাজে অল্প সৈন্যই থাকবে। তাদের হারিয়ে দেওয়া খুবই সহজ হবে। আনগেভিনের সৈন্যরা থাকবে তোমরা থাকবে লড়াইয়ে জেতা কঠিন হবে না। মারিয়া বলল।
–তাহলে এখন আমরা কী করবো? বিস্কো বলল।
–সর্দারকে ডেকে বল–আমরা তোমাদের সাহায্য করতে রাজি আছি।
–ঠিক আছে। শাঙ্কো উঠে দাঁড়াল। একটু গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব– আনগেভিনের সর্দার আমাদের সাহায্য চেয়েছে–আমরা সর্দারকে সাহায্য করবো। ভাইকিংদের মধ্যে গুঞ্জন উঠল। একজন ভাইকিং বলল–শাঙ্কো হঠাৎ মত পাল্টালে কেন?
–অনেক ভেবে চিন্তে দেখলাম–এখন এটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শাঙ্কো বলল।
রাজকুমারী এই প্রস্তাবটা দিয়েছেন। বিস্কো বলল।
গুঞ্জন থেমে গেল। রাজকুমারী বলেছেন। কাজেই মেনে নিতেই হবে। আর কেউ কোনো কথা বলল না।
শাঙ্কো উঠে দরজার কাছে এলো। আঙ্গুল ঠুকে দরজায় শব্দ করল। শাঙ্কো বলল, তোমাদের সর্দারকে একবার আসতে বললো। খুব দরকার। দরজা বন্ধ হল।
কিছুক্ষণ পরেই সর্দার দরজা দিয়ে ঢুকল। শাঙ্কোদের কাছে এসে দাঁড়াল। হেসে বলল তোমরা কী বলতে চাও?
–আমরা আমাদের আগেকার মতো পাল্টেছি। আমরা জাহাজ উদ্ধারের কাজে তোমাদের সাহায্য করবো। শাঙ্কো বলল।
–এই তো একটা কাজের মত কাজ। তোমরা দুঃসাহসী তোমরা সঙ্গে থাকলে আমরা লড়াইয়ে জিতবই। সর্দার বলল।
কিন্তু শর্ত রইল লড়াই শেষ হলেই আমরা আমাদের জাহাজে ফিরে আসবো। শাঙ্কো বলল।
–বেশ। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। সদার বলল।
–তোমরা জাহাজ উদ্ধার করতে কবে যাবে? বিস্কো জানতে চাইল।
–আজ রাতেই। সময়মতো তোমাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হবে।
–কিন্তু আমাদের অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে আমাদের জাহাজে। শাঙ্কো বলল।
“ঠিক আছে। তোমাদের মধ্যে কয়েকজন যাও। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসো।
–তোমরা কীভাবে জাহাজ দখল করতে চাও? শাঙ্কো বলল।
–তোমাদের জাহাজটা নিয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু ভেবে দেখলাম জাহাজ নিয়ে গেলে ওরা সাবধান হয়ে যাবে। আমরা সমুদ্রের জলে সাঁতার কেটে যাবো। সর্দার বলল।
– তাহলে শিরস্ত্রাণ বর্ম পরে যাওয়া যাবে না। শাঙ্কো বলল।
–কেন বলো তো? সর্দার বলল।
–জলে অত ভারী জিনিস পরে সাঁতার কাটতে অসুবিধে হবে। অল্পক্ষণের মধ্যেই আমরা পরিশ্রান্ত হয় পড়বো।শত্রুপক্ষের জাহাজে উঠে লড়াই করবো কী করে? কাজেই শুধু তলোয়ার নিয়ে আমরা যাবো। শাঙ্কো বলল।
–ঠিকই বলেছো। একটুক্ষণ ভেবে সর্দার বলল।
–আমরা তৈরি থাকবো। তুমি ডাকলেই রওনা হবে। তার আগে আমাদের রাজকুমারীকে আমাদের জাহাজে পৌঁছে দাও। দু’জন বন্ধু সঙ্গে যাবে। তারা তিনজনেই আমাদের জাহাজে থাকবে। শাঙ্কো বলল।
–বেশ। তাহলে তৈরি থেকো। সর্দার বলল। তারপর একজন পাহারাওয়ালাকে হাতের ইশারায় ডেকে বলল–এদের ভালো ঘরটায় নিয়ে যাও। তারপর রাজকুমারী আর দু’জন বন্ধুকে তাদের জাহাজে রেখে এসো।
–বেশ। পাহারাদার শাঙ্কোদের দিকে এসে দাঁড়াল। গলা চড়িয়ে বলল–সবাই ওঠো। তোমাদের অন্য ঘরে যেতে হবে। সর্দার তখন চলে গেছে।
ভাইকিংরা আস্তে আস্তে উঠেদাঁড়াল। পাহারাদার বলল-রাজকুমারী, এদিকে আসুন। মারিয়া এগিয়ে এলো। পাহারাদার বলল–যে দু’জন রাজকুমারীর সঙ্গে জাহাজে যাবে সেই দু’জনও এগিয়ে এসো। শাঙ্কো গলা চড়িয়ে বলল–বিস্কো আর পেড্রো এগিয়ে এসো।
বিস্কো এগিয়ে এসে বলল–না শাঙ্কো–আমি লড়াইয়ে যাবো।
–পাগলামি করো না বিস্কো। তুমি রাজকুমারীর কাছে আমাদের জাহাজে থাকলে আমি নিশ্চিন্ত মনে লড়াইয়ে যেতে পারবো। বিস্কো ভুলে যেও না আমরা এখনও বন্দি। বিস্কো আর কোনো কথা বলল না। পেড্রো এগিয়ে এলো। বিস্কোকে বলল–বিস্কো– রাজকুমারীকে ডাকো।
মারিয়াকে আর ডাকতে হল না। মারিয়া বিস্কোর কাছে এসে বলল–চলো।
বিস্কো মারিয়া আর পেড্রোকে নিয়ে কয়েদঘরের বাইরে এলো। সেই পাহারাদারটি দাঁড়িয়ে ছিল। পাহারাদার ওদের দেখে হাঁটতে শুরু করল। মারিয়া বিস্কো পেড্রো পাহারাদারদের পেছনে পেছনে চলল।
তখন দুপুর হয়েছে। পাহারাদার মারিয়াদের নিয়ে পায়েচলা পথটা ধরল। গাছগাছালির মধ্যে দিয়ে চলল।
একসময় পাহারাদার ডানদিকে ঘুরল। এখানে সেই পায়েচলা পথটা নেই। ঝোঁপঝাড় জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ওরা চলল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা খাঁড়িটার সামনে এলো। দেখল ওদের জাহাজটা শান্ত ঢেউয়ের ধাক্কায় দুলছে।
পাটাতন পাতাই ছিল। মারিয়ারা পাটাতনের ওপর দিয়ে গিয়ে জাহাজে উঠল। পাহারাদারটি চলে গেল। ঝোঁপঝাড় গাছের মধ্যে ওকে আর দেখা গেল না।
