রাজা পিটার একটুক্ষণ ভাবলেন। তারপর বললেন–আমাদের এই মাল্টাতেও একটা গুপ্তধন ভাণ্ডারের কথা আমরা জানি। সেই গুপ্তধন ভাণ্ডার আজ পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও কেউ উদ্ধার করতে পারেনি। তোমরা উদ্ধার করতে পারবে? ফ্রান্সিস বলল সব ঘটনা জেনে এবং কোথায় থাকতে পারে সেটা সেই জায়গায় গিয়ে জেনে তবেই বলতে পারবো সেই গুপ্তধনভাণ্ডার উদ্ধার করা যাবে কিনা। আপনি আগে ঘটনাটা বলুন।
একটু কেশে নিয়ে রাজা পিটার বলতে লাগলেন–খুব বেশিদিনের কথা নয়। বছর পঞ্চাশের আগে–এখান থেকে দক্ষিণদিকে আনজুনামে একটা জায়গা আছে। সেখানে ছিলেন চার্লস নামে একজন ভূস্বামী। পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে চার্লস প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা অলঙ্কারের অধিকারী হয়েছিলেন। সকলেই একথা জানতো কিন্তু কেউ কখনো চোখে দেখে নি। চার্লসের স্ত্রীও জানতেন না। তারা নিঃসন্তান ছিলেন। স্ত্রী আগেই মারা যান। চার্লস পিসায় গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি মারা যান। স্বর্ণমুদ্রা অলঙ্কার তিনি কোথায় রেখে গেছেন তাও তিনি কাউকে বলে যান নি।
–চার্লস কি কোনো সূত্র রেখে যান নি? ফ্রান্সিস জিজ্ঞেস করল।
–না–কোনো সূত্র রেখে যান নি। নানাভাবে গত পঞ্চাশ বছর ধরেই খোঁজাখুঁজি চলছে। কেউ কোনো সূত্র বের করতে পারেনি। রাজা পিটার বললেন।
–তাহলে আমাকে একবার আনজু যেতে হবে। ঐ জায়গায় খোঁজখবর করে বলতে পিরবো চার্লসের ঐ ধনভাণ্ডার উদ্ধার করতে পারবো কি না। ফ্রান্সিস বলল।
-ঠিক আছে। এই ব্যাপারে তোমাদের আমি সমস্ত সুযোগ-সুবিধে করে দেব। দেখো–যদি উদ্ধার করতে পারো। রাজা পিটার বললেন।
এই সময় হ্যারি বলল–গ্রীক ভাষায় অভিজ্ঞ একজনকে আমাদের চাই রাজা পিটার তার কাছে-বসা একজন প্রৌঢ় ব্যক্তিতে দেখিয়ে বলল–ইনি সাজ্জিও–পাঁচটা ভাষা ইনি অনর্গল বলতে পারেন লিখতেও পারেন। সারা মাল্টাদ্বীপে সাজ্জিওর মতো ভাষাভিজ্ঞ বিদ্বান কেউ নেই। ফ্রান্সিস আর হ্যারি সাজ্জিওকে মাথা একটু নুইয়ে সম্মান জানাল। সাজ্জিও এতক্ষণ চুপ করে বিছানার একপাশে বসেছিলেন। এবার হেসে তিনিও একটু মাথা ঝোকালেন। ফ্রান্সিস বলল–প্রয়োজনে আমরা সাজ্জিওর সাহায্য নেব।
সাজ্জিও ফ্রান্সিসদের দেশীয় ভাষায় বললেন–আমি আনন্দের সঙ্গে আপনাদের সাহায্য করবো। ফ্রান্সিস আর হ্যারি অবাক। তারা আবার মাথা নুইয়ে সাজ্জিওকে সম্মান জানাল।
এবার ফ্রান্সিস রাজা পিটারকে বলল–আমার বন্ধুরা এখানে বন্দি অবস্থায় রয়েছে। তাদের মুক্তি দিন এই আর্জি জানাচ্ছি।
রাজা পিটার বললেন–এসব পরে ভাববো। আগে চার্লসের গুপ্ত ধনসম্পদ উদ্ধার করো। তারপরে তোমার বন্ধুরা মুক্তি পাবে। রাজা বলেন।
–সমুদ্রতীরে আমাদের জাহাজ রয়েছে। সেখানে আমাদের দেশের রাজকুমারী রয়েছে। কিছু বন্ধুও সেই জাহাজে রয়েছে। তাদের কী ব্যবস্থা করবেন?
রাজা পিটার সেনাপতি মালোকে ইশারায় ডাকলেন। দু’জনে কী কথা হল। রাজা পিটার বললেন–তোমাদের রাজকন্যা ও বন্ধুদের জাহাজেই বন্দি করা হয়েছে।
ফ্রান্সিস বললেন–মান্যবর রাজা–আনগোভিনের হয়ে লড়াই করতে গিয়ে আমাদের দুই বন্ধু মারা গেছে, একজন আহত হয়েছে। এই যুদ্ধে আমরা ইচ্ছে করে জড়াই নি। অথচ দুই বন্ধুকে হারিয়েছি। তাই অনুরোধ ঐ জাহাজেই বন্দি করে রাখুন। এখানে উন্মুক্ত আকাশের নীচে থাকতে গিয়ে হয়তো আরো বন্ধুকে হারাবো। আপনি দয়া করে আমার বন্ধুদের ঐ জাহাজেই বন্দি করে রাখুন। এতে ওদের শারীরিক ক্ষতি হবে না।
-বুঝলাম–রাজা পিটার মাথা নেড়ে বললেন–কিন্তু তোমরা যারা ধনসম্পদ খুঁজবে তোমারা তো সুযোগ বুঝে বন্দি বন্ধুদের নিয়ে জাহাজ চালিয়ে পালাতেও পারো।
ফ্রান্সিস বুঝল–রাজা পিটারের মনের সন্দেহ কিছুতেই দূর করা যাবে না। ফ্রান্সিস বলল ঠিক আছে। আমার বন্ধুদের কয়েদঘরে রাখুন। মাথার ওপর একটা ঢাকা তো থাকবে।
–এবার যাতে আমরা আনজু যেতে পারি তার ব্যবস্থা হলে ভালো হয়। হ্যারি বলল। রাজা পিটার সেনাপতি মালোকে কাছে ডাকলেন ফ্রান্সিসদের সাহায্য করার কথা বললেন।
ফ্রান্সিস ও হ্যারি মাথা একটু নুইয়ে রাজা পিটারকে সম্মান জানিয়ে দুর্গের বাইরে এলো।
দুর্গের বাইরে এসে দেখল–একটা শস্যটানা ঘোড়ার গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। সেনাপতি মান্দো গাড়ির কাছে দাঁড়িয়েছিল। ফ্রান্সিসরা কাছে আসতে বলল, এই গাড়োয়ান আপনাদের আনজু নিয়ে যাবে। চার্লস-এর বিরাট অট্টালিকা গীর্জা গ্রন্থাগার দেখতে পাবেন ওখানে।
ফ্রান্সিস আর হ্যারি গাড়িতে উঠল। গাড়ি চলল আনজুর দিকে। পথের দুপাশে! গাছপালা টিলা ঝর্ণা।
হ্যারি বলল–ফ্রান্সিস দেখো কী সুন্দর প্রকৃতি।
ফ্রান্সিস বলল–হ্যারি–প্রকৃতি দেখার মতো মনের অবস্থা আমার নেই। অনেক চিন্তা মাথায়।
বিকেল নাগাদ ফ্রান্সিসরা আনজু পৌঁছল। দু’জনে উঠল গিয়ে এক সরাইখানায়। গাড়ির গাড়োয়ানকে সঙ্গে নিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিল।
দু’জনে যখন চার্লস-এর অট্টালিকার সামনে এলো তখন সন্ধে হয় হয়। দেয়াল ঘেরা অট্টালিকা। দেয়ালের মধ্যে প্রধান প্রবেশ পথ। ফ্রান্সিসরা প্রবেশ পথের সামনে এসে দেখল দুজন পাহারাদার বর্শা হাতে দাঁড়িয়ে আছে।ফ্রান্সিসরা একজন পাহারাদারকে বেশ কষ্ট করে বোঝাল যে ওরা চার্লস-এর অট্টালিকা গীর্জা দেখতে এসেছে। একথাও বলল যে ওরা বিদেশি।
