-না–সেনাপতি ফেলকো দুটি মূর্তিই নেবেন। আন্তো বলল।
–তাহলে তো লড়াইয়ে নামতে হয়। কথাটা বলেই ফ্রান্সিস এক লাফে এগিয়ে এসে আন্তোর, কোমরে ঝোলানো তলোয়ারের খাপ থেকে তলোয়ারটা এক ঝটকায় খুলে নিল। তারপর খোলা তলোয়ার হাতে সৈন্যদের আক্রমণের মোকাবিলা করতে দাঁড়াল। আস্তে বলল–পারিসি তুমি এখান থেকে সরে যাও। পারিসি দ্রুতপায়ে সরে গেল। আন্তো চিৎকার করে বলল–সৈন্যরা খতম করো এই ভিনদেশীটিকে। ফ্রান্সিসের রুদ্রমূর্তি দেখে সকলেই একটু ঘাবড়ে গেল। আন্তো একটি চিৎকার করে বলে উঠল– আক্রমণ করো। ওর কাছেই নিওফিতসের মূর্তিটা রয়েছে। সেই মূর্তি আমাদের চাই। এবার চারজন সৈন্যই ফ্রান্সিসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফ্রান্সিস নানা কৌশলে ওদের তলোয়ারের মার ঠেকাতে লাগল। নিজে অক্রমণ করল না। সৈন্য চারজন অল্পক্ষণের মধ্যে হাঁপাতে শুরু করল। ফ্রান্সিস তখনও সমান তেজে তলোয়ার চালিয়ে যাচ্ছে।
সৈন্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। ফ্রান্সিসের বুকে বর্ম নেই মাথায় শিরস্ত্রাণ নেই। বেশ কিছুক্ষণ লড়াইয়ের পর এখনও ওর দেহ অক্ষত। সৈন্যরা বুঝল ফ্রান্সিসকে সহজে কাবু করা যাবে না।
ফ্রান্সিস বুঝল সৈন্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সিস এটাই চাইছিল। এবার ফ্রান্সিস আক্রমণ করল। এক সৈন্যের বাহুতে তলোয়ারের কোপ বসাল। সেই সৈন্যটা তলোয়ার ফেলে বাহু চেপে ধরল অন্য হাতে। তবু রক্ত পড়তে লাগল। একজন সৈন্যের শিরস্ত্রাণ তলোয়ারের মারে উড়িয়ে দিল। শিরস্ত্রাণ মাটিতে পড়ে গেল। এবার ফ্রান্সিস ওর মাথায় আস্তে তলোয়ারের কোপ বসাল। মাথা কেটে রক্ত বেরিয়ে এলো। আর একজনের পায়ে তলোয়ার চালাল। সে বেচারা দু’হাতে পা চেপে ধরে বসে পড়ল।
তলোয়ার চালানোর ফাঁকে ফ্রান্সিস লক্ষ্য করল আন্তো প্রান্তর দিয়ে ছুটে চলেছে।
আহত সৈন্যরা তখন যন্ত্রণায় গোঙাচ্ছে। দু’জন সৈন্য শুধু আহত হয়নি। দু’জন দূরে সরে গেল। ফ্রান্সিস বলে উঠল–পারিসি পালাও। একথা বলেই ফ্রান্সিস ঘাসে ঢাকা প্রান্তর দিয়ে ছুটল। পেছনে পারিসি। কিছুটা ছুটে গিয়ে দেখল প্রান্তরের ওপাশ থেকে একদল সৈন্য ছুটে আসছে। ফ্রান্সিস বুঝল আন্তো দুর্গে গিয়েছিল সৈন্যদের ডাকতে। দু’জনে ছুটেছে তখনও। সৈন্যরা ছুটে এসে দু’জনকে ঘিরে ফেলল। ফ্রান্সিস তলোয়ার ফেলে দিল। এখন এতজনের সঙ্গে লড়তে যাওয়া বোকামি।
আন্তো এগিয়ে এলো। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল–এবার মূর্তিটা দাও।ফ্রান্সিস বলল– তোমাকে মূর্তি দেব না। আমাদের সেনাপতির কাছে নিয়ে চল। মূর্তি আমি তাকেই দেব।
–বেশ চলো। আন্তো বলল। আন্তোর সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সিস আর পারিসি চলল।
প্রান্তরের শেষেই দুর্গ। পাথর দিয়ে তৈরি। দুর্গের সদর দেউড়ির কাছে এলো সবাই। বিরাট বন্ধ দরজা ঘর ঘশব্দে খুলে গেল। সৈন্যদের সঙ্গে ফ্রান্সিস আর পারিসি দুজনেই ঢুকল।
দুর্গের একটা ঘরে ওদের নিয়ে এলো আন্তো। মশালের আলোয় দেখা গেল এটা। পাথরের আসনে সেনাপতি ফেলকো বসে আছে। সভাঘরে শুধু ঢুকল আন্তো। পেছনে পেছনে ফ্রান্সিস আর পারিসি। আন্তো একবার মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানিয়ে গ্রীক ভাষায় সব জানাল। সেনাপতি ফেলকো ফ্রান্সিসদের দিকে তাকিয়ে কী বলল। ফ্রান্সিস কিছুই বুঝল না। ও বলল—আমি গ্রীক ভাষা জানি না। আপনি যা বলবার স্পেনীয় ভাষায়। বলুন। এবার সেনাপতি স্পেনীয় ভাষায় বলল–দুটো যীশুর মূর্তি তুমি উদ্ধার করেছে। একটা মূর্তি আন্তো নিয়ে এসেছে। অন্যটা তোমার কাছে আছে সেটা দাও। আমি স্থির করেছি একটা মূর্তি এই দুর্গের গীর্জায় বসাবো। ফ্রান্সিস বলল–
–এ কথা সত্য যে আমি দুটো মূর্তিই উদ্ধার করেছি। এর মধ্যে একটা আমার খুবই প্রয়োজন। একাট মূর্তি রাজা লুসিগনানকে দিতে পারলে আমার স্ত্রী ও বন্ধুদের মুক্ত করতে পারবো। কারণ ওরা সবাই আল জাহিরির কয়েদঘরে বন্দি হয়ে আছে। সেনাপতি ফেলকো সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো–না রাজাকে দেওয়া চলবে না। বোধহয় তোমরা জানো যে আমি রাজা গী দ্য লুসিগনানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছি। রাজাকে দেওয়া চলবে না। দুটো মূর্তিই আমার চাই।
–তাহলে আপনিই তাদের বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করুন। ফ্রান্সিস বলল।
–না আমি তা পারবো না। আল জাহিরি প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা আমাকে দিয়েছে। তাই তাকে ক্রীতদাস কেনা বেচার হাট এখানে খুলতে দিয়েছি। সেনাপতি বলল।
–তাহলে আল জাহিরিকে বলুন ও যেন আমার স্ত্রী ও বন্ধুদের মুক্তি দেয়।ফ্রান্সিস বলল।
–আমি তা পারবো না। এটা ওর ব্যবসা। সেনাপতি বলল। ফ্রান্সিস চুপ করে রইল। সেনাপতি বলল-মূর্তি দাও। ফ্রান্সিস অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলার দিকে দিয়ে হাত ঢুকিতে মূর্তিটা বের করল। এগিয়ে ধরল মূর্তি। সেনাপতি উঠে এগিয়ে এলো। বুকে ক্রশ এঁকে মূর্তিটা নিল। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল মূর্তিটার দিকে।
ফ্রান্সিস ঘিরে দাঁড়াল। পারিসিকে বলল–চলো। দু’জনে সেই ঘরটা থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো। পারিসি বলল–মূর্তিটা এভাবে দিয়ে দিলেন?
–উপায় কি। আমাদের মাথার শিরস্ত্রাণ তো দূরের কথা একটা ঢালও নেই। এ অবস্থায় লড়াইয়ে নামলে মৃত্যু অবধারিত। বেঁচে থাকলে সবই হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–এবার কী করবেন?
–একটা সরাইখানায় থাকবো। মূর্তিটা গীর্জায় প্রতিষ্ঠা করা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। তারপর মূর্তিটা চুরি করবো।
