—বলো—বলো। সিনার্কা খুশি হয়ে বলল। ফ্রান্সিস মাথা তুলে বলল—মহামান্য রাজা—এখানকার আপনার রাজাদের মুখে অতীতের একটা রহস্যময় ঘটনার কথা শুনেছি।
—কোনো রহস্যময় ঘটনা? সিনার্কা কপাল কুঁচকে বলল।
—রানী ইসাবেলার রত্নালংকারের পেটিকার কথা। ফ্রান্সিস বলল।
—ও। সিনার্কা মুখে শব্দ করল।
—শুনেছি এই দুর্গের ওপরের দিকে দুটি কক্ষের কোথাও ইসাবেলার সেই রত্নালংকারের পেটিকা আজও আছে।
—হ্যাঁ—বংশানুক্রমে এটা আমরা শুনে আসছি। সিনার্কা বলল। ফ্রান্সিস আবার একটু মাথা নুইয়ে সম্মান জানিয়ে বলল—
—মহামান্য রাজা আপনি যদি দয়া করে অনুমতি দেন তবে আমরা সেই রত্নভাণ্ডার উদ্ধারের জন্যে চেষ্টা করতে পারি।
—পারবে তোমরা উদ্ধার করতে? সিনাৰ্কার কথায় বেশ আগ্রহ ফুটে উঠল। ফ্রান্সিস আবার একটু মাথা নুইয়ে বলল—মহামান্য রাজা—আপনি তো আমাদের মৃত্যুদণ্ডই দেবেন। মরার আগে একবার শেষ চেষ্টা করবার সুযোগ দিন। মরে তো a যাবোই-রত্নভাণ্ডার উদ্ধার করতে গিয়েই না হয় মরলাম।
—হুঁ—ওদুটো ভূতুরে ঘর। কয়েকজন লোক ঐ ঘরের জানালা দিয়ে ঢুকতে গিয়ে মারা গেছে—তা জানো। সিনার্কা বলল।
—বললামই তো—মরে যেতে পারি জেনেই যাবো। ফ্রান্সিস বলল।
—বেশ দেখো চেষ্টা করে। সিনার্কা বলল।
-তাহলে মহামান্য রাজা—আপনি সবাইকে আদেশ দিন কেউ যেন আমাদের স্বাধীন চলাফেরায় বাধা না দেয়। ফ্রান্সিস বলল।
—বেশ—আদেশ দেওয়া হবে। সিনার্কা বলল।
—এবার একটা ঘটনা আপনাদের বলি—বোধহয় আপনারা জানেন না। ফ্রান্সিস বলল।
—কোন্ ঘটনা? সিনার্কা বলল।
—ঐ ঘরদুটোর একটা নক্শা রানী ইসাবেলা এঁকেছিলেন একটা পার্চমেন্ট কাগজে। ফ্রান্সিস বলল।
—বলো কি? সিনার্কা অমাত্যের দিকে তাকাল। দু’জনেই অবাক।
—হয়তো মৃত্যু আসন্ন বুঝতে পেরে রানী ইসাবেলা ঐ নকশায় সঠিক নিশানা দিয়েছিলেন কোথায় গোপনে রাখা হয়েছে সেই বহু মূল্যবান রত্নালংকারের পেটিকা। তারপর হয়তো নকশাটি জানালার গরাদের ফাঁক দিয়ে নীচে ফেলে দিয়েছিলেন।
—সেই নকশা কোথায়? সিনার্কা সাগ্রহে বলে উঠল।
—সব বলছি। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল—সেই নকশা অনেক হাত ঘুরে এই বিদ্রোহীদের হাতে এসেছে।
—তুমি কী করে জানলে? অমাত্যটি স্পেনীয় ভাষায় বলল।
—ঐ বাড়িটায় মানে বিদ্রোহী কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় রোক্কা এই কথা বলেছিল। আমরা আড়াল থেকে শুনেছিলাম। বিদ্রোহীদের ঐ আস্তানাতেই কোথায় লুকোনো আছে সেই নশা। ফ্রান্সিস বলল। সিনার্কা ক্রুদ্ধদৃষ্টি রোক্কার দিকে তাকিয়ে বলল—কোথায় লুকিয়ে রেখেছে সেই নকশা?
—সব মিথ্যে কথা—রোক্কা প্রায় চেঁচিয়ে বলে উঠল—সব বানানো গপপো। ফ্রান্সিস একটু নরম গলায় বলল—মহামান্য রাজা—ঐ নকশা পেয়ে কী লাভ! আগে তো ঘর দুটোয় ঢুকতে হবে তারপরে তো নকশা মেলাতে হবে। সিনার্কা এবার সমস্যাটা বুঝতে পারল। সত্যিই তো সেই ঘরদুটোয় ঢোকাই তো সবচেয়ে বড়ো সমস্যা।
—হুঁ—তা ঠিক। সিনার্কা বলল। তারপর একটু ভেবে বলল—তাহলে ঐ রত্নপেটিকা উদ্ধারের উপায় কী? ফ্রান্সিস বলল—
—প্রথমে মানে আজকেই দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর আমরা ঐ বাড়িটায় মানে বিদ্রোহীদের ঐ আস্তানায় যাবো। সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজে নশাটা উদ্ধার করবো।
—পারবে? সিনার্কা একটু সংশয়ের সুরে বলল।
—নিশ্চয়ই পারবো। ফ্রান্সিস গলায় বেশ জোর দিয়ে বলল।
—বেশ—তারপর? সিনার্কা বলল।
—এবার ঐ বন্ধ ঘরদুটোয় ঢোকার উপায় বের করতে হবে। এটাই আসল সমস্যা। ঘরদুটোয় ঢোকার উপায় বের করতে পারলে তখন—রোক্কাকে দেখিয়ে বলল—এই ৭ লোকটাকে নকশার রহস্য বুঝিয়ে দিতে বলবো।
—যদি না বলতে চায়? অমাত্যটি বলল।
উৎপীড়ন চালিয়ে কথা বের করতে হবে। ফ্রান্সিস বলল—
—মহামান্য রাজা-নকশার রহস্যের সমাধান একমাত্র এই লোকটাকে জানে। কিন্তু সেটা ওর কাছ থেকে জেনে নেওয়ার আগেই যদি লোকটাকে মেরে ফেলেন তাহলে সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
—তাহলে—সিনার্কা অমাত্যটিকে বলল কী করবেন? অমাত্যটি একটু চিন্তা করে বলল—দেখুন—এই ভাইকিং যোদ্ধাটি কী বলে।
—এই বিদ্রোহী লোকটাকে এখন বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তারপর কী করতে হবে আমি মহামান্য রাজাকে সময়মতো বলবো। ফ্রান্সিস বলল। অমাত্যটি এবার বলল—বেশ। কিন্তু একটা শর্ত আছে। রত্নভাণ্ডার উদ্ধার হলে সব মাননীয় সিনার্কার হাতে তুলে দিতে হবে।
—হ্যাঁ-হ্যাঁ—সিনার্কা দ্রুত বলে উঠল—তোমরা বিদেশি তোমাদের বিশ্বাস কি। কিন্তু এই কথাটা ভালো করে জেনে রেখো রত্নভাণ্ডার নিয়ে পালাবার চেষ্টা করলে তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে বন্দি করা হবে।
—বেশ—ফ্রান্সিস মাথা ওঠানামা করল। তারপর বলল—এবার তাহলে আমাদের মুক্তির ব্যবস্থা করুন।
কামেরাতকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে সিনার্কা বলল—কিন্তু এই বিদ্রোহীটাকে মুক্তি দেওয়া হবে না। ফ্রান্সিস আবার মাথা একটু নুইয়ে বলল—এর নাম কামেরাত। ঐ বিদ্রোহীদের আস্তানাটার দেখাশুনো করতো। ও ঐ বাড়িটার সবকিছু চেনে। ওর সাহায্য খুবই প্রয়োজন।
—হুঁ—একটু ভেবে সিনার্কা বলল কিন্তু ও যেন পালাতে না পারে।
—আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন—ওর হাতের দড়ি আরো শক্ত করে বেঁধে নিয়ে যাবো। ফ্রান্সিস বলল।
—বেশ। সিনার্কা বলল।
