—তারপর? হ্যারি বলল।
দোনিয়া বলল—জানি না কি করে আমার এই গভীর রাতে সন্ধানের কথা স্পিনোলার কানে গেল। স্পিনোলা সঙ্গে সঙ্গে রাজা এনজিওকে আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করলেন। তারপর রাজা এনজিওর ব্যক্তিগত জাহাজটায় রাজাকে নিয়ে এখানে এলেন। এখানকার রাজপ্রাসাদে এসে উঠলেন। নৌবাহিনীর চারজন বাছাই করা সৈন্যকে হুকুম দিলেন যে করেই হোক আমাকে বন্দী করতে হবে। ঐ সৈন্যদের হাত থেকে বারকয়েক পালাতে পেরেছিলাম। গত রাতে আর পারলাম না। আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলাম। তাই ধরা পড়তে হলো।
দোনিয়া থামল। ফ্রান্সিস স্যার দু’জনেই চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর হারি বলল—আমরা দুঃখিতআমাদেরজন্যই আপনারা ধরা পড়লেন দোনিয়া কোনো কথা বলল না। ফ্রান্সিস সমস্ত ঘটনাটা ভাবল। তারপর বলল—দোনিয়া, আপনার অন্তঃকরণ মহৎ এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আপনার মতো মানুষ আমি কমই দেখেছি-একটু থেমে ফ্রান্সিস বলতে লাগল-তবে আপনি কিছু ভুল করেছেন। একেবারে সাদা মনের মানুষ বলে রাজা এনজিওকে আপনি সবকথাই বলেছেন। স্পিনোলার মত মানুষ সেই সুযোগটাই নিয়েছেল। তবে মুবারকের চিঠির ব্যাপারটা গোপন করে খুব বাস্তব বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। স্পিনোলা চিঠির কথা জানতে পারলেই আপনার কাছে মূল চিঠিটা চাইতেন, আপনিও দিতেন। তখন স্পিনোলা নিজেই ঐ মূর্তি উদ্ধরের কাজে লাগনে। আপনার সব স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেত।
দোনিয়া মাথা ওঠানামা করল। বলল—আপনি ঠিকই বলেছেন।
এবার ফ্রান্সিস হেসে বলল—যদি কিছু না মনে করেন তাহলে বলি।
—বলুন। দোনিয়া বলল।
—স্বর্ণমুর্তির মূল্যের সমান অর্থ দিতে আপনি রাজা এনজিওকে বলেছিলেন।
কোনো কথা না বলে দোনিয়া মাথা ওঠানামা করল।
—এক্ষেত্রে সমমুল্য চাওয়াটা কিন্তু ভুল হয়েছে। আপনার মতো উদার মন তো সকলের নয়। স্পিনোলা এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছেন। রাজাকে বুঝিয়েছেন আপনার সমান মূল্যের অর্থ চাওয়া মানেই আপনি অর্থলোভী। হয়তো দরিদ্র জেলে চাষীদের জন্য কিছু খরচ করবেন, বাকি অর্থ আপনি নিজে আত্মসাৎ করবেন।
দোনিয়া একটুক্ষণ ভাবল। তারপর বলল—হ্যাঁ—স্পিনোলা যেরকম মানুষ তাতে রাজাকে এরকম ভুল বোঝাতে পারেন।
—সবচেয়ে ভালো হতো যদি আপনি মোট মূল্যের চারভাগের একভাগ চাইতেন। তাহলে স্পিনোলা রাজাকে আপনার বিরুদ্ধে কিছুই বলতে পারতো না। স্পিনোলা তো বটেই রাজা এনজিও নিজেও অর্থমৃধু। তিনভাগ অর্থ দিতে হবে না ভেবেই তারা খুশি হতেন। আপনাকে অনুমতি দিতেন—ফ্রান্সিস বলল।
দোনিয়া একটুক্ষণ ভেবে বলল—তা ঠিক কিন্তু চারভাগের একভাগ তো খুব কম।
—সেটা মূর্তিগুলো উদ্ধারের পর সোনা দেখে সঠিক মূল্য পেয়ে হিসেব করে বোঝা যেত। এখনো তো মূর্তিগুলো উদ্ধারই করা যায় নি। আগে নিখোঁজ মূর্তিগুলো তো উদ্ধার করুন-ফ্রান্সিস বলল।
-দেখি আপনার কথাটা ভেবে-দোনিয়া বলল।
হ্যারি বলল—দেখুন দোনিয়া, এত বড় খাঁড়িটায় শুধু ঐ দড়িবাঁধা বঁড়শিগুলো দিয়ে খুঁজে খুঁজে কি মূর্তিগুলো উদ্ধার করতে পারবেন?
—জানি না পিরবো কি না। তবে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবো-দোনিয়া বলল।
ফ্রান্সিস বলল—হ্যারি ঠিকই বলেছে, অতবড় খাঁড়ির জলে কোথায় ডুবো নৌকাটা। একটা বড়শি ফেলে ফেলে খুঁজে বের করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এভাবে কতদিন আর খোঁজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তাছাড়া আপনাকে খোঁজ চালাতে হবে রাতে। রাতের পর রাত কতদিন জেগে পারবেন?
—কিন্তু আমাকে যে গোপনেই খোঁজ চালাতে হবে-দোনিয়া বলল।
-–ঠিক আছে। রাজা এনজিওর কাছে তো আমাদের নিয়ে যাওয়া হবেই। তখন আমি চেষ্টা করবো রাজার অনুমতি আদায় করতে। শুধু আপনি আমার অভিমতের বিরুদ্ধে কিছু বলবেন না, আমাকে সমর্থন করবেন। ফ্রান্সিস বলল।
—বেশ। কিন্তু আপনি কি পারবেন অনুমতি আদায় করতে? দোনিয়া বলল।
—দেখি চেষ্টা করে-ফ্রান্সিস বলল।
হ্যারি বলল—দেখো ফ্রান্সিস, আমার কেমন মনে হচ্ছে নৌকোটা সোনার মূর্তিগুলো নিয়ে খাড়ির কোথায় ডুবে গিয়েছিল, তার কোনো না কোনো সূত্র মুবারক নিশ্চয়ই কোথাও যেভাবে তোক রেখে গেছে।
-আমারও তাই বিশ্বাস। তবে সব না দেখে-শুনে এখনই ঠিক বলতে পারছি না মুবারক কোথায় কিভাবে জায়গাটার হদিশ রেখে গেছে-ফ্রান্সিস বলল।
-আচ্ছা এও তো হতে পারে যে মুবারক তার বন্ধুদের সাহায্যে পরে জলের তলা থেকে মূর্তিগুলো সব তুলে নিয়ে গেছে-হ্যারি বলল।
—আমরা তা মনে হয় না। কারণ সেই চিঠিটা মুবারক লিখেছিল তার স্বদেশের বন্ধুদের কাছে—স্পেনের দোনিয়ায়। কিন্তু চিঠিটা আমি পেয়েছি পিসায়। চিঠিটা যদি স্পেনে চলেই যেত তাহলে পিসায় চিঠিটা আমি পেতাম না-দোনিয়া বলল।
ফ্রান্সিসরা কথাবার্তা বলছে তখনই একজন সৈন্য এসে বলে গেল ওরা যেন স্নানখাওয়া সরে নেয়।
একটু বেলায় ফ্রান্সিসদের খেতে দেওয়া হল। চিনে মাটির বড় থালায় বড় বড় দুটো গোল রুটি। বাটিতে ভেড়ার মাংসের ঝোল। ঐ ঘরেই ঘাসের বিছানায় বসে ওরা খেতে লাগল। খেতে খেতে হ্যারি বলল, ফ্রান্সিস এবার কী করবে?
—সেটা নির্ভর করছে রাজা এনজিও কি বলে তার ওপর-ফ্রান্সিস বলল।
—যদি মূর্তি উদ্ধার করতে দিতে সম্মতি দেয়? হ্যারি বলল।
—তাহলে থেকেই লেগে পড়বো-ফ্রান্সিস বলল।
