—না। তবে আমাদের জীবন বিপন্ন হলে লড়াইতে তো নামতেই হবে। হ্যারি বেশ দৃঢ় স্বরে বলল।
যাকগে, এলাইমো সহজ ভঙ্গিতে বলল, আমি এলাইমো, রাজা ফ্রেডারিকের প্রধান সেনাপতি। এক বিদ্রোহী নেতা আর তার পরামর্শদাতার খোঁজে এসেছি।
—আমরা এখানকার কাউকেই চিনি না। হ্যারি বলল।
—কিন্তু তাদের আপনারা দেখেছেন। এলাইমা বলল।
—না, দেখেনি। হ্যারি বলল।
-–ঠিক আছে, রেলিঙে ঝুঁকে দেখুন তো আপনাদের জাহাজের সঙ্গে একটা নৌকো বাঁধা রয়েছে কিনা।
হ্যারি রেলিঙের কাছে গিয়ে ঝুঁকল। সর্বনাশ! বিস্কো কী সাংঘাতিক ভুল করেছে। মোরাবিতদের নৌকোটা বেঁধে রেখেছে। হ্যারি একবার বিস্কোর দিকে তাকাল। তারপর ফ্রান্সিসের কাছে এলো। নিচুস্বরে সবকথা বলল।
ফ্রান্সিস বলল, দ্যাখো মিথ্যে বলে কাজ হয় কিনা। হ্যারি এলাইমোর দিকে তাকাল। বলল, ওটা আমাদেরই নৌকো।
—অসম্ভব। ঐরকম গ গোলের মতো দেখতে নৌকো একমাত্র এই অঞ্চলের লোকেরাই ব্যবহার করে। এলাইমো বলল।
—খালি নৌকোটা ভাসছিল, আমরা জাহাজে বেঁধে নিয়েছি। হ্যারি বলল।
এলাইমো মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, গতরাতে অন্ধকারে মধ্যে ওরা ঐ নৌকোটায় লুকিয়ে পালিয়েছিল। কাজেই—এস্টুথেমে বলল,—ওরা দুজন আপনাদের জাহাজেই আশ্রয় নিয়েছে।
এবার হ্যারি ফ্রান্সিসকে নিম্নস্বরে সব বলল।
ফ্রান্সিস বুঝল এখন সব স্বীকার করা ছাড়া উপায় নেই। ফ্রান্সিস দ্রুত হ্যারিকে বলে গেল কী বলতে হবে। হ্যারি বলল, আমরা সত্যি কথাই বলছি। কাল রাতে নৌকোয় আত্মগোপন করে যে দুজন এসেছিল তারা কারা আমরা জানি না। দুজন বিপদগ্রস্ত মানুষ। তার মধ্যে একজন আবার গুরুতর আহত, তাই আমরা মানবিক কারণেই তাদের আশ্রয় দিয়েছি, আহতকে চিকিৎসা করিয়েছি।
—কোথায় ওরা? এলাইমো বলল।
—একটা কেবিনে। হ্যারি বলল।
—আমাকে ওদের কাছে নিয়ে চলুন। এলাইমা বলল।
—নিয়ে যাবো একটি শর্তে। আপনি ওদের হত্যা করতে পারবেন না। হ্যারি বলল।
—যদি করি। এলাইমো বলল।
—তাহলে আমরা লড়াইয়ে নামবো। হ্যারি কথাটা বলে ফ্রান্সিসকেও বলল। ফ্রান্সিস মাথা ঝাঁকিয়ে সমর্থন করল।
এলাইমো একটু চুপ করে ভাবল। তারপর বলল, ঠিক আছে। ওদের জীবিত রাজা ফ্রেডারিকের ইচ্ছে। ওদের রাজার কাছে নিয়ে যাবো।
—আমরাও ওদের সঙ্গে যাবো। হ্যারি বলল।
—আপনারা যাবেন কেন? এলাইমো একটু আশ্চর্য হয়ে বলল।
—যদি যাওয়ার পথে আপনারা ওদের মেরে ফেলেন। হ্যারি বলল।
এলাইমো বুঝল এরা সহজে মোরাবিত আর সাভোনাকে ছাড়বে না। ও বলল, ঠিক আছে, আপনারা ক’জন যাবেন চলুন।
—আমরা সবাই যাবে। হ্যারি বলল।
—তার মানে? এলাইমো বলল।
—মোরাবিত আরসাভোনা আমাদের জাহজে যে কেবিন ঘরে আছে সেখানেই থাকবে। আমরা মোরাবিতের চিকিৎসা ও শুশ্রূষা করবো। আপনাদের জাহাজের
সঙ্গেই আমাদেরও জাহাজ যাবে।
এবার এলাইমো বলল, রাজা ফ্রেডারিক সিরাক বন্দরের ম্যামিয়েস দুর্গে আছেন। সিরাকস বন্দর কাছেই। একটু থেমে বলল, কিন্তু—আপনাদের বিশ্বাস কি! আমাদের দুটো জাহাজ আপনাদের জাহাজের দুপাশে থাকবে। এভাবেই আমাদের নজরদারির মধ্যে দিয়ে আপনাদের সিরাকস বন্দরে যেতে হবে।
হ্যারি নিম্ন স্বরে ফ্রান্সিসকে সব বলল। ফ্রান্সিস বলল, বলো আমরা এই প্রস্তাবে রাজি। হ্যারি সে কথাই বলল।
এলাইমো সঙ্গের জনা দশেক সৈন্যকে ফ্রান্সিসদের জাহাজে পাহারায় থাকতে হুকুম দিল। দুজন সৈন্যকে দেখিয়ে বলল, এরা মোরাবিত আর সাভোনা যে কেবিনঘরে আছে।
সে ঘরের সামনে পাহারা দেবে।
হ্যারি মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, বেশ। হ্যারি ফ্রান্সিসকে বলল সে কথা। মারিয়া বলল, আমি এই সৈন্য দুজনকে নিয়ে যাচ্ছি। মারিয়া হাত নেড়ে সৈন্য দুজনকে আসতে বলে নীচে নামার সিঁড়ির দিকে চলল। পেছনে খোলা তলোয়ার হাতে সৈন্য দূজনও চলল। এলাইমো নিজের জাহাজে ফিরে গেল।
ফ্রান্সিসের নির্দেশে জাহাজের গুটানো পাল তুলে দেওয়া হলো। জাহাজ চলল। দুধারে এলাইমোর দুটো যুদ্ধজাহাজও সঙ্গে সঙ্গে চলল।
ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে সিঁড়ি বেয়ে নীচে মোরাবিতদের কেবিনঘরের সামনে এলো। দেখল, খোলা তলোয়ার হাতে দুজন সৈন্য পাহারা দিচ্ছে। ও কেবিনঘরে ঢুকল। মারিয়া তখন মোরাবিতের শরীরের ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগাচ্ছে। সাভোনা চুপ করে বসে আছে। ফ্রান্সিস সাভোনার সাহায্যে মোরাবিতের সঙ্গে কথা বলতে লাগল।
ফ্রান্সিস বলল, এখন কেমন আছো?
মোরাবিত হেসে বলল, এখন অনেকটা ভালো আছি। কিন্তু মনে শান্তি পাচ্ছি না।
কেন? ফ্রান্সিস বলল।
আপনাদের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কিন্তু সেই আপনারা আমাদের জন্যে কী বিপদে পড়লেন! এর চেয়ে আমরা ধরা দিলে ভালো হতো। মোরাবিত বলল।
তুমি এই নিয়ে ভেবো না। ফ্রান্সিস বলল।
সাভোনা বলল, আমরা বিদ্রোহী—প্রাণপণে লড়াই করেছি কিন্তু আমরা অস্ত্রে বা যুদ্ধবিদ্যায় রাজার সৈন্যদের সমকক্ষ নই। যদি কিছু অর্থ জোগাড় করতে পারতাম—
—ওর সঙ্গে মোরাবিতও কী বলে উঠল। সাভোনা হেসে উঠল।
—মারিয়া বলল, হাসছেন যে?
—মোরাবিত বলছে কাউন্ট রজারের গুপ্তধন ও খুঁজে বার করবার চেষ্টা করবে। সাভোনা হেসে বলল।
এবার ফ্রান্সিস চমকে ওদের দিকে তাকাল। বলল, কাউন্ট রজার কে? তার গুপ্তধন—মানে ব্যাপারটা কী বলুন তো?
—সাভোনা বলল, সেসব শুনে আপনাদের কী হবে?
