–তাহলে এখন কী করবে?
–লড়াই-পাঞ্চোর দলের সঙ্গে।
সবাই চিৎকার করে উঠল–ও-হো-হো-হো
জাহাজের বদ্যিকে খবর পাঠানো হল। বদ্যি এল। ফ্রান্সিসের আগুনে পোড়া দুহাতের কব্জিতে ওষুধ লাগিয়ে দিল। জ্বালা যন্ত্রণা কমল।
ফ্রান্সিস সবাইকে বলল-আমি ঘন্টাখানেক বিশ্রাম নেব। এর মধ্যে সবাই তৈরী হয়ে নাও।
ঘন্টাখানেক কাটল। সবাই খাওয়া দাওয়া সেরে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তৈরী হয়ে এল। ফ্রান্সিসও খেয়ে দেয়ে তৈরী তখন।
কিন্তু সমস্যা দেখা দিল নৌকো নিয়ে। মাত্র দুটো নৌকো রয়েছে। বাকী তিনটে নৌকো তো কঙ্কাল দ্বীপে রয়েছে। পাঞ্চো লুকিয়ে রেখেছে সেগুলো।
ফ্রান্সিস বলল-দুটো নৌকোতেই আমরা দফায় দফায় দ্বীপে যাবো। বিস্কোকে বলল-বিস্কো–হ্যারির জন্যে খাবার নিয়ে যেও।
প্রথম দফায় ফ্রান্সিস বিস্কো আর শাঙ্কোকে সঙ্গে নিয়ে গেল।
ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে সবাই কঙ্কালদ্বীপের সমুদ্রতীরের বনের মধ্যে জড়ো হল। হ্যারি এর মধ্যেই খেয়ে নিল।
বিস্কো বলল-এখন আমরা কোথায় যাবো?গিয়ানির মন্দির। পাঞ্চো ওর দল নিয়ে নিশ্চয়ই এখানে আছে। রূপোর থামগুলো চুরীর মতলব ওর। ফ্রান্সিস বলল।
ওরা পাহাড়ের সবুজ ঘাসে-ভরা ঢাল দিয়ে উঠতে লাগল।
এক সময় কঙ্কালের মাথার কাছে এসে পৌঁছল সবাই। ফ্রান্সিস নীচে তাকিয়ে দেখল ওর অনুমানই ঠিক বেশ কিছু শক্ত সমর্থ ইকাবোকে দিয়ে পাঞ্চো রুপোর থাম ভোলাচ্ছে। দুটো থাম ভোলা হয়েছে। পাথুরে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে থাম দুটো। বাকীগুলো তোলবার চেষ্টা চলছে।
ফ্রান্সিস চাপাস্বরে বলল দুভাগে ভাগ হয়ে সবাই নীচে নামো। ওদের কাছাকাছি গিয়ে পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকবে। আমি না বললে কেউ আক্রমণ করবে না।
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে বেয়ে দুদল ভাইকিং দুপাশ থেকে নামল। তারপর গিয়ানি মন্দিরের পেছনের দিকে পাথরের আড়ালে লুকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।
তখনই একটা পাথরের চাঁইয়ের আড়াল থেকে ফ্রান্সিস দেখল একটু দূরে মোক একটা পাথরের ওপর বসে আছে। অসহায় মোক দেখছে. ওর চোখের সামনে পাঞ্চোর দল রূপোর থামগুলো তুলছে।
ফ্রান্সিস মোকাকে ডাকতে গিয়ে সাপান হল। মোকার ঠিক পেছনেই তলোয়ার হাতে পাঞ্চোর দলের একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে।
ফ্রান্সিস তখন একটা পাথরের নুড়ি হাত দিয়ে কুড়িয়ে নিল। তারপর ছুঁড়ল মোকার দিকে। মোকার গায়ে নুড়িটা লাগতেই মোকা এদিকে ফিরে তাকাল। দেখল-ফ্রান্সিস পাথরের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে। মুক্ত ফ্রান্সিসকে দেখে ওর চোখমুখ খুশিতে উজ্জ্বল হল। পাহারাদারটা দেখল সেটা। সে-ও ওদিকে তাকাল। ফ্রান্সিস পাথরের আড়ালে লুকিয়ে পড়বার আগেই পাহারাদার ওকে দেখল। তলোয়ার হাতে ছুটে এল পাহারাদারটা। কাছাকাছি আসতেই বিস্কো ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। দুজনে জড়াজড়ি করে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়াতে গড়াতে অনেকটা নীচে নেমে এল। বিস্কোই আগে উঠে দাঁড়াল। পাহারাদারটা উঠে দাঁড়াতে গেল।
তার আগেই বিস্কো তরোয়াল চালাল ওর ডান হাত লক্ষ্য করে। তরোয়ালের ঘা লাগল ওর ডান কাঁধে। তরোয়াল ফেলে লোকটা কাটা কাঁধ বাঁ হাতে চেপে ধরল। তারপর শুয়ে পড়ে গোঙাতে লাগল।
এবার ফ্রান্সিস হাতের তরোয়াল উঁচিয়ে চিৎকার করে উঠল সবাই নেমে চলে–গিয়ানির মন্দিরের দিকে।
ভাইকিংরা দ্রুতপায়ে পাহাড়ের ঢাল থেকে নেমে আসতে লাগল। এবার পাঞ্চোর নজরে পড়ল ফ্রান্সিসরা। ইকবোরা থাম তোলার কাজ বন্ধ রেখে তাকিয়ে রইল সেই দিকে। পাঞ্চো আর তার সঙ্গীরা তরোয়াল উঁচিয়ে লড়াইয়ের জন্য তৈরী হয়ে গেল।
মন্দিরের কাছাকাছি এসে ফ্রান্সিস দুহাত তুলে নির্দেশ দিল থামো।
ভাইকিংরা পাঞ্চোর দলের মুখোমুখি দাঁড়ালো।
ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে ডাকল। শাঙ্কো তীরধনুক হাতে ফ্রান্সিসের পাশে এসে দাঁড়াল।
ফ্রান্সিস চিৎকার করে বলল–পাঞ্চো তুমি ভাইকিংদের বীরত্বের কথা জানো। আমরা তোমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছি। সংখ্যায় আমরা তোমাদের দ্বিগুণ। যদি প্রাণের মায়া থাকে-তাহলে এক্ষুনি অস্ত্র ত্যাগ কর।
-না-সবগুলো রূপোর থাম আমার চাই।
-পাঞ্চো-ভালো করে ভেবে দেখো একবার সড়াইতে নামলে তোমরা কেউ প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবে না।
-আমরা পরোয়া করি না?
–বেশ-তাহলে তুমিই আমাদের লড়াইয়ে নামতে বাধ্য করলে। ফ্রান্সিস বলল।
ঠিক তখনই গিয়ানি মন্দিরের পুরোহিত পাগলের মত ছুটতে ছুটতে গিয়ে একটা রূপোর থাম জড়িয়ে ধরল। পাগলের মত চিৎকার করে কী বলতে লাগল ও কাঁদতে লাগল। পাঞ্চো ছুটে গিয়ে পুরোহিতের মাথার বেণী ধরে একহ্যাঁচকা টান দিল। পুরোহিত থাম ছেড়ে পাথুরে মাটিতে ছিটকে পড়ল। পাঞ্চো পুরোহিতের মাথার ওপর তরোয়াল উচিয়ে ধরল?
–পাঝে? ফ্রান্সিস চিৎকার করে ডাকল। পাঞ্চে ফ্রান্সিসের দিকে রক্তচক্ষু মেলে একবার তাকাল শুধু। পুরোহিত এই ফাঁকে মাটি থেকে উঠে পালাতে গেল। পাঞ্চো আবার ওর মাথার বেণী টেনে ধরল। ফ্রান্সিস বলে উঠল-শাঙ্কো-চালাও তীর। ওর পাশে দাঁড়িয়ে শাঙ্কো তৈরীই ছিল। সঙ্গে সঙ্গে পাঞ্চোর বুক লক্ষ্য করে তীর ছুঁড়ল। নিখুঁত নিশানা। তীরটি ঠিক পাঞ্চোর বুকে গিয়ে বিঁধল। পাঞ্চে ঠিক তখনই তরোয়াল চালাল। কিন্তু তরোয়ালের কোপ লক্ষ্য ভ্রষ্ট হল। পুরোহিতের মাথায় কোপ লাগল না। শুধু ওর মাথার বেণীটা কেটে গেল। পাঞ্চো তরোয়াল ফেলে দিল
