-এখন কী চাও? ফ্রান্সিস ক্ষুব্ধস্বরে বলল।
–এই ঘরে তোমাদের বন্দী করে রাখবো। তোমাদের জাহাজের বন্ধুরা এ কথা জানতেও পারবে না। মোকাকে বন্দী করবনা। ওকে সব সময় আমাদের সঙ্গে রাখবো। ইকাবোরা তাদের রাজাকে মুক্তই দেখবে। ওদের মনে কোন সন্দেহ হবে না।
-তারপর? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
-তারপর আসল কাজ। গিয়ানি মন্দিরের সবকটা রূপোর থাম আমাদের জাহাজে নিয়ে যাবো। রূপোর নদী থেকে যতটা রূপো সম্ভব কেটে নেব। ইকাবোদের মনে কোন সন্দেহ হবে না। ওরা ভাববে রাজাই এসব আমাদের দিচ্ছে। কেউ বাধা দেবে না। ওদিকে তোমাদের জাহাজের বন্ধুরা কিছু বোঝার আগেই আমরা জাহাজ ছেড়ে দেব। দেশে ফিরে তালতাল রূপা বিক্রি করে আমি রাজার হালে বাকী জীবনটা কাটিয়ে দেব! পাঞ্চো হা হা করে হেসে উঠল।
–অত সহজে সব কাজ হাসিল করতে পারবে না পাঞ্চো?
–তুমি বাধা দেবে?
-আমি তো বন্দী। কিন্তু জাহাজে আমার বন্ধুরা রয়েছে। দুতিন দিন আমাদের কোন খবর না পেলেই খোঁজ করতে এখানে আসবে। তখন? তোমরা তো দশ বারো অন। আমরা তিরিশ। পারবে মোকাবিলা করতে?
-তার আগেই আমরা কাজ হাসিল করবো। দাড়ি গোঁফের ফাঁকে পাঞ্চো হাসল।
ফ্রান্সিস চুপ করে রইল। কী ভাবল কিছুক্ষণ। তারপর বলল
–কিন্তু পাঞ্চো–রূপোর চেয়েও অনেক দামী জিনিস রয়েছে এই দ্বীপে। পাঞ্চো স্পষ্ট চমকে উঠল। বলল–কী জিনিস?
-সোনা।
–সোনা? পাঞ্চো লাফিয়ে উঠল। বলল–তুমি তার খোঁজ জানো?
–না।
পাঞ্চো একত্সাফে ফ্রান্সিসের সামনে এসে দাঁড়াল। তরোয়ালের ডগাটা ফ্রান্সিসের কণ্ঠনালীতে চেপে ধরল। দাঁতচাপা স্বরে বলল-তুমি নিশ্চয়ই জানো। বলো সেই সোনা কোথায়? ফ্রান্সিস নির্বিকার ভঙ্গীতে বলল-দেখ পাঞ্চো আমি যদি সেই সোনার হদিস জানতাম তাহলে তোমাকে আগ বাড়িয়ে বলতে যেতাম না।
–হু। পাঞ্চো তরোয়াল সরিয়ে নিল? |||||||||| –কিন্তু তুমি কি নিশ্চিত যে এখানে সোনা আছে।
-হ্যাঁ-রূপোর স্তরের মত সোনার স্তর।
–বলো কি?
–হ্যাঁ। তবে সেই ধাঁধার সমাধান মাথা খাঁটিয়ে বের করতে হবে।
–কোথায় রয়েছে সেই ধাঁধার সমাধান?
–ঐ যে–মোকার গায়ে জড়ানো কোহালহোর মধ্যে। পাঞ্চো মোকার গায়ের কোহালহোর দিকে তাকাল। কিছুই বুঝল না। অস্পষ্ট হয়ে আসা কিছুনক্সা আঁকা ওটাতে।
–ওটা পেলে তুমি সোনার হদিশ করতে পারবে?
–চেষ্টা করতে পারি।
পাঞ্চো মোকার দিকে তাকাল। বলল–মোকা তোমার গায়ের ঐ কাপড়টা খুলে দাও।
–না। মোকা ঘাড় নাড়ল। বলল–এটা গিয়ানির মন্ত্রপূত কোহালহো। এটা খুলতে পারবো না। পাঞ্চো রুখে উঠল। তরোয়াল উঁচিয়ে মোকাকে বলল-এক্ষুণি ওটা খুলে দে। নইলে তোর মাথা কেটে ফেলে ওটা নেব। পাঞ্চোর চোখ দুটো জ্বলতে লাগল। ফ্রান্সিস বুঝল-ওটা না পেলে পাঞ্চো নির্ঘাত মোকাকে হত্যা করবে। ফ্রান্সিস ডাক মোকা?
-কী? মোকা ফ্রান্সিসের দিকে তাকাল।
-কোহালহোটা এর আগেও আমাকে দিয়েছে। এবারও দাও আমি কোহালহোর পবিত্রতা নষ্ট হতে দেব না।
-কিন্তু–
-আমি জানি মোকা। কোহালহো তোমরা কখনও হাতছাড়া করো না। সেদিন জাহাজে কোহালহো রোদে শুকাতে দিয়ে তুমি প্রচণ্ড রোদের মধ্যে সারাদিন কোহালহোর সামনে বসে ছিলে। তবু আমার অনুরোধ আজকে রাতের মত কোহালহোটো আমার কাছে দাও। দেখি ধাঁধার, সমাধান করতে পারি কিনা। পারি বা না পারি-কালকেই তোমার কোহালহো ফিরিয়ে দেব। মোকা মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইল একটুক্ষণ। তারপর গা থেকে কেহালহোটা খুলতে খুলতে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল–ফ্রান্সিস আপনি আমাদের প্রাণে বাঁচিয়েছেন। আপনার কাছে আমি অশেষ ঋণী। শুধু আপনি চাইলেন–তাই এই কোহালহো আপনাকে দিলাম।
-তুমি নিশ্চিত থাকো মোকা–এর পবিত্রতা রক্ষা করবো। ফ্রান্সিস বলল।
পাঞ্চো এবার সঙ্গীদের হুকুম করল-এই দুজনকেই দুটো খুঁটির সঙ্গে বাঁধো। ওর সঙ্গীরা এগিয়ে এল। ফ্রান্সিস এবার মোকাকে বলল–মোকা তোমার কোহালহোটা আমার সামনে মেঝেতে পেতে দাও। আমি ধাঁধার সমাধানটা বের করবো।
মোকা গা থেকে কোহালহোটা খুলে ফ্রান্সিসের সামনে রাখলো।
হঠাৎ মোকা উবু হয়ে শিস দিয়ে উঠল। পাঞ্চো দ্রুত ছুটে এসে মোকার মাথার ওপর তরোয়াল উচিয়ে চিৎকার করে উঠল–শিস দেওয়া বন্ধ কর-নইলে; মোকা শিস দেওয়া বন্ধ করল। পাঞ্চো বলল–তোমাদের শিস দিয়ে খবর পাঠানোর ব্যাপারটা আমি জানি। সাবধান-আর শিস দেবে না। তারপর পাঞ্চো দলের সঙ্গীদের দিকে তাকিয়ে বলল-মোকাকে শিস দিতে দেখলেই মেরে ফেলবে। পাঞ্চোর এই হুকুমের অর্থটা সঙ্গীরা বুঝল না। তবে মাথা ঝাঁকিয়ে ওরা বোঝার ইঙ্গিত করল।
মোকা বলল-ফ্রান্সিস-আপনাদের বাঁচাবার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু হল না। আমাকে ক্ষমা করুন।
-তুমি এই নিয়ে মন খারাপ করো না মোকা–ফ্রান্সিস বলল।
পাঞ্চো বলল–ফ্রান্সিস তুমি ধাঁধার সমাধান করবার চেষ্টা কর। সোনা আমার চাই।
–চেষ্টা করবো সমাধান বের করতে।
-তোমাকে একদিন সময় দিলাম। যদি না পারো–তোমাদের দুজনকে খতম করে জাহাজে উঠব গিয়ে! তারপর দেশের দিকে পাড়ি জমাবো। জলদি–সময় নেই।
পাঞ্চো তার সঙ্গীদের আর মোকাকে সঙ্গে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। বাইরে থেকে ঘরের দরজা ভালো করে বন্ধ করে দিল। ঘরের বাইরে বারন্দায় পাঞ্চোর এক সঙ্গী তরোয়াল হাতে পাহারা দিতে লাগল।
