–যদি তোমার অনুমান সত্যি হয় তবে ঐ স্বর্ণভাণ্ডার উদ্ধার করতে পারবে? ইবু গ্যাব্রিয়েল আবার চোখ পিট পিট করতে লাগল।
–এখনই বলতে পারছি না। ফ্রান্সিস মাথা এপাশ ওপাশ করল।
–যদি উদ্ধার করতে পারো তহলে আমাদের ফাঁকি দিয়ে ঐ ধনসম্পদ নিয়ে গোপনে পালাবে। এটাই তো তোমাদের মতলব।
–একটা স্বর্ণমুদ্রাও নেব না। ফ্রান্সিস আস্তে বলল।
–অবাক কাণ্ড। তোমাদের এই জাহাজটা তো একটা সিন্দুকে দামি দামি গয়না সোনার চাকতি পেয়েছি। সে সব কি কেউ তোমাদের বিলিয়ে দিয়েছে? ইবু গ্যাব্রিয়েল ঠাট্টার ভঙ্গিতে বলল।
–সেই সম্পদের সঙ্গে বহু মানুষের রক্ত চোখে জল মিশে আছে। এই সম্পদ অভিশপ্ত সম্পদ। ফ্রান্সিস বলল।
–এখন ভাল ভাল কথা বলো হয়তো। অত স্বর্ণমুদ্রা খুঁজে পেলে তখন অন্য চেহারা ধরবে। তোমরা তো লুঠেরার দল।
–এই অভিযোগ এই সন্দেহের চেহারা আমরা আগে দেখেছি। কিন্তু যখন তারা দেখেছে আমরা একটা সোনার আংটিও চাই নি তখন আমাদের বিশ্বাস করেছে। ইবু গ্যাব্রিয়েল, আমরা অন্য ধরনের মানুষ। যদি সোনা ভর্তি সিন্দুক উদ্ধার করতে পারি ইবু সালোমানের যর্থাথ দাবিদার আপনাকেই সব দিয়ে যাবো। বললাম তো একটা স্বর্ণমুদ্রাও নেব না।
–আমাকে বোকা বুঝিয়ে পালিয়েও যেতে পারবে না।
–আমরা আমাদের বন্ধুদের বন্দী অবস্থায় রেখে হাজার প্রলোভনেও এক পা যাবো না। ফ্রান্সিস দৃঢ়স্বরে বলল।
–বিশ্বাস কি! আবার ইবু গ্যাব্রিয়েল চোখ পিট পিট করতে লাগল।
–বেশ। আপনার সেনাপতি রব্বানি নিশ্চয়ই খুব বিশ্বস্ত। তার সঙ্গে আপনার কিছু দুধর্ষ যোদ্ধা আমাদের সঙ্গে চলুক। তাহলে তো আপনার বিশ্বাস হবে আমার কথা? ওদের হুকুম দিয়ে রাখবেন আমরা কেউ পালাতে গেলে তারা যেন তাকে হত্যা করে। আমরা তো নিরস্ত্র। ইবু গ্যাব্রিয়েল একবার রব্বানির দিকে তাকাল। তারপর বলল–বেশ। তোমাদের ওপর নজর রাখতে ওরা তোমাদের সঙ্গে যাবে। ফ্রান্সিস এটাই চাইছিল। ও নিশ্চিন্ত হল।
কবে কোথায় যাবে তোমরা? ইবু গ্যাব্রিয়েল জানতে চাইল।
–সেটা রব্বানি দেখতেই পাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশি না। এখানে তোমরা যে কজন আছো- শুধু তারা যাবে। তার বাইরে আর কেউ যাবে না। ইবু গ্যাব্রিয়েল বলল।
–কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে?
–কি শর্ত?
–গুপ্তধন উদ্ধার করে যখনই আপনাকে দেব তখনই আমাদের সবাইকে মুক্তি দিতে হবে। ফ্রান্সিস কথাটা বেশ জোর দিয়ে বলল।
–সে তখন দেখা যাবে। ডান হাত শূন্যে ঘুরিয়ে গ্যাব্রিয়েল বলল।
–উঁহু। আগে এই শর্তটা আপনাকে মেনে নিতে হবে। ফ্রান্সিস জোর দিয়ে বলল।
ইবু গ্যব্রিয়েল একবার চোখ পিট পিট করে রব্বানির দিকে তাকাল। রব্বানি– বলল মান্যবর শর্ত মেনে নিন। ওরা ঐ স্বর্ণসিন্দুক কোনদিন উদ্ধারই করতে পারবে না। তখন ওদের বন্দি করে জাহাজ সুষ্ঠু রাজধানী ফিরে যাবো আমরা।
–হুঁ। বেশ তোমার শত মেনে নিলাম। তোমরা কখন যাবে? ফ্রান্সিসের মুখের দিকে তাকিয়ে গ্যাব্রিয়েল বলল।
–আজ রাতের খাওয়া শেষ করে। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু যাবে যে থাকবে কোথায়? খাবে কী?
–ইরেকাশ নামে একটা গ্রাম আছে। ওখানেই আমরা থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ফ্রান্সিস বলল।
–ব্বাঃ! বেশ আটঘাট বেঁধেই নেমেছে। ঠাট্টা করে গ্যাব্রিয়েল বলল।
-বুদ্ধিমানরা তাই করে। অবশ্য জঘন্য চরিত্রের মানুষেরাও তাই করে থাকে। ফ্রান্সিস মৃদু হেসে বলল।
–হুঁ। রব্বানিরা আমাদের নৌকোয় যাবে।
তাহলে তো ভালই হয়। কারণ–কিছু লম্বা কাছি আর দড়ি নিয়ে যেতে হবে আমাদের। নৌকো দরকার।
–ব্বাঃ! বেশ অনুমান মাত্র করেছে। এর মধ্যেই–
–হ্যাঁ। আমি ভেবেচিন্তে বুদ্ধি খাটিয়ে এর আগেও বেশকিছু গুপ্ত ধনভাণ্ডার ও উদ্ধার করেছি। অবশ্য বন্ধুদের সাহায্যও পেয়েছি।
–ভালভাল। ইবু গ্যাব্রিয়েল পিছু ফিরে হালের দিকে চলল। বোধ হয় নিজের : জাহাজের দিকে যাবে বলে।
সিঁড়িঘরের কাছে এখন মারিয়া দাঁড়িয়ে ছিল। তখন অস্পষ্টই জ্যোৎস্না মারিয়াকে দেখে ফ্রান্সিস তাড়াতাড়ি মারিয়ার কাছে এল। স্বল্প আলোয় মারিয়ার মুখচোখ দেখেই বুঝল-পেট ভরে খায় নি মারিয়া চিন্তায়। রাতও জেগেছে। ফ্রান্সিস কাছে এসে বলল মারিয়া–তোমার চেহারা খারাপ হয়ে গেছে। তুমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাদের বিপদ বাড়বে। তুমি সুস্থ থাকার চেষ্টা কর। কিছু ভেবো না। ঐ স্বর্ণভাণ্ডার আমরা উদ্ধার ঠিক করতে পারবো। সবাই মুক্তি পাবো। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে জাহাজ দেশের দিকে চালাবো। একেবারে দুশ্চিন্তা করো না। শুধু আমার উপরে বিশ্বাস রেখো। মারিয়া মৃদু হাসল।
–যাও–গিয়ে শুয়ে পড়ো। বিশ্রাম করো। গুপ্ত স্বর্ণভাণ্ডার খোঁজ করে ফ্রান্সিসরা কতটা সফল হয়েছে সেটা আর জিজ্ঞেস করল না। আস্তে আস্তে নিঃশব্দে মারিয়া নেমে গেল। রব্বানি এগিয়ে ফ্রান্সিসকে একসঙ্গে বসতে নির্দেশ দিল। দুজন যোদ্ধা খোলা তরোয়াল হাতে ওদের পাহারা দিতে লাগল। ফ্রান্সিসরা কজন চুপচাপ ডেকএ বসে রইল। সেনাপতি রব্বানি ফ্রান্সিসের কাছে এল।
বলল–বন্ধুদের দেখবে না?
-কি হবে দেখে? ওদের মুক্ত তো করতে পারবো না বরং ওদের কষ্ট বাড়িয়ে দেবো। তবে একটু অনুরোধ একটা খবর ওদের দিলে উপকার হয়। খবর দেবেন যে আমরা সবাই সুস্থ আছি আর আজ রাতেই স্বর্ণভাণ্ডার অনুসন্ধানে যাচ্ছি। আমার প্রতিজ্ঞা বন্দী বন্ধুদের মুক্ত করবোই।
