–আজ বেলা হয়ে গেছে। খিদেও পেয়েছে। চলো ফিরি। কালকে আসবো ফ্রান্সিস বলল।
চার জনে ভারসাম্য রেখে আস্তে আস্তে পাথরের স্তূপ থেকে নেমে এল।
পরদিন সকালের খাবার খেয়ে ফন্সিস বলল হ্যারি চলো আগে রাজার সঙ্গে কথা বলে নি। তারপর পুরনো রাজবাড়ির দিকে যাবো।
ওরা যখন রাজসভায় এল তখন দেখল রাজা মন্ত্রীমশাইয়ের সঙ্গে কথা বলছে। রাজসভায় আজ ভিড় কম। কথাবার্তা শেষ করে রাজা ফ্রান্সিসদের দিকে তাকাল। বললকী? কিছু হদিশ করতে পারলে?
–সবে তো খোঁজ শুরু করেছি। এতদিন আগে গোপন রাখা ধনসম্পদ–কিছু দিন তো সময় লাগবে। এই ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কিছু কথা বলতে এসেছি। এই গুপ্তধন কোথায় থাকতে পারে বলে আপনার মনে হয়? ফ্রান্সিস বলল।
–সেটা কী করে বলি। রাজা বলল।
–তবু-আপনার অনুমান? ফ্রান্সিস বলল।
–রাজবাড়ির কোথাও। রাজা বলল।
না। রাজবাড়ি আমি তন্নতন্ন করে দেখেছি। ফ্রান্সিস বলল
–তাহলে এই রাজত্বেরই কোথাও। রাজা বলল।
–আচ্ছা–প্রাচীন রাজবাড়িতে? ফ্রান্সিস বলল।
–ও তো ধ্বংসস্তূপ! রাজা বলল।
–কিন্ত রাজা মিলিন্দা তোঐ রাজবাড়িতেই থাকতেন। ফ্রান্সিস বলল
–হ্যাঁ শেষ জীবনে ঐ বাড়িতে ছিলেন। রাজা বলল।
–উনি কী ভাবে মারা গিয়েছিলেন। ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–হঠাৎ হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে। রাজা বলল।
–এমনও তো হতে পারে উনি মৃত্যুর আগে কাউকে বলে গেছেন। ফ্রান্সিস বলল।
-রানি আগেই মারা গিয়েছিলেন। রানি ছাড়া আর কাকে বলে যাবেন। রাজা বলল।
–ছেলেমেয়ের কাউকে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে তো গোপনীয় কিছুই থাকতো না। রাজা বলল।
–যা হোক–যা বুঝতে পারছি প্রাচীন ভাঙা রাজবাড়িতেই কিছু হদিশ পাওয়া যেতে পারে। ফ্রান্সিস বলল।
-দেখ চেষ্টা করে। রাজা একটু বিরক্তির সঙ্গেই বলল।
লার্দোর পাহারায় ওরা প্রাচীন ভাঙা প্রাসাদের কাছে এল। ফ্রান্সিস ঘুরে টিলার দিকে গেল। ওপর থেকে যে গহুরটা দেখেছিল তার পাশে এল। একটা আধভাঙা দেয়ালের ওপাশেই গহ্বরটা। ও পাথরের পাটার খাঁজে খাঁজে পা রেখে রেখে দেয়ালে উঠল। তরপর দেয়ালের ওপাশে একই ভাবে নামল। গহুরের ভাঙা অংশে রোদ। পড়েছে। অস্পষ্ট হলেও ভিতরটা দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে নেমে এল। দেখল ভাঙা পাথরের পাটায় ঢাকা একটা মেঝে মত। চারপাশে তাকিয়ে আন্দাজ করে বুঝল এখানে একটা বড় ঘর ছিল। খুব সম্ভব অন্দরমহলের ঘর। মেঝের ওপর জমে থাকা পাথরের ভাঙা পাটাতন সরাতে পারলে ঘরটা দেখা যাবে। ও মুখ উঁচু করে ডাকল–শাঙ্কো শাঙ্কো।
–বলো। শাঙ্কোর গলা শুনল। ও বলল–আমার মত দেয়াল ধরে ধরে এখানে নেমে এসো। লার্দোকেও সঙ্গে নিয়ে এসো। হ্যারি পারবে না। হ্যারি থাক্।
কিছু পরে শাঙ্কো আর লার্দো নেমে এল। ফ্রান্সিস বলল–হাত লাগাও। সব ভাঙা পাথরের পাটা সরাতে হবে।
তিনজন মিলে পাথরের ভাঙা পাটা তুলে তুলে একপাশে জড়ো করতে লাগল। গহুরে শব্দ হতে লাগল। খট খট খটাৎ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পাথরের মেঝেটা দেখা গেল। সেই স্বল্পালোকে ফ্রান্সিস মেঝেটা খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। কিন্তু কোন বিশেষ চিহ্ন কিছু দেখল না। দক্ষিণ কোণায় গিয়ে দেখল এদিকটায় ধ্বস নেমেছে। সেখানে একটা কিছুর কোনা বেরিয়ে আছে। ফ্রান্সিস ডাকল শাঙ্কো। শাঙ্কো এগিয়ে এল। ফ্রান্সিস বলল–ঐ দেখ। একটা চৌকোনো ফোকর। ওখানকার পাথর সরাও। তিনজনে ওখানকার পাথর সরাতে লাগল। জায়গাটা পরিষ্কার হল। দেখা গেল একটা চৌকোনো গর্ত মত। গর্তের গা মসৃণ পাথরের। বোঝাই যাচ্ছে এই চৌকোনো গর্তে কছু রাখা ছিল। ফ্রান্সিস গর্তটার চারপাশ ভালো করে দেখতে দেখতেবলল–শাঙ্কো এইখানে রাজকোষ ছিল। নিশ্চয়ই কোন কাঠের অথবা লোহার বাক্স এখানে ছিল। রাজা মিলিন্দার আমলে।
–তাহলে কোথায় গেল সেই বাক্স? শাঙ্কো বলল।
–সেটাই প্রশ্ন মনে হয় রাজা মিলিন্দা সেই রাজকোষ অন্য কোথাও গোপনে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু ফ্রান্সিস–এও তো হতে পারে যে পরের কোন রাজা সেটা পেয়েছিলেন। শাঙ্কো বলল।
–উঁহু। তাহলে সেটা গোপন থাকতো না। সবাই জানতো। সন্দেহ নেই–এখান থেকে রাজকোষ অন্যত্র কোথাও সরানো হয়েছিল-কাজেই এখানে আর দেখার কিছু নেই। এখানে সব ভেঙেচুরে গেছে এই অংশটুকুই যা মোটামুটি আস্ত আছে। এবার অন্য জায়গাগুলো দেখতে হবে। চলো টিলাটা ভালো করে দেখি।
তিনজনে ভাঙা দেয়ালে পা রেখে রেখে উঠে এল। হ্যারি বলল–কিছু হদিশ পেলে? ফ্রান্সিস সব বলল। হ্যারি বলল–বোঝাই যাচ্ছে রাজা মিলিন্দার রাজকোষ অন্য কোন নিরাপদ জায়গায় রেখেছেন।
চারজন ঝোঁপঝাড় জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে টিলার ওপরে উঠল। টিলার মাথাটা নিরেট পাথরের। টিলার মাথা থেকে ফ্রান্সিস চারদিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল। কিন্তু লুকিয়ে রাখার মত কোন গুহা বা গর্ত দেখতে পেল না।
এখানে কালকে আবার আসবো ফান্সিস বলল। জঙ্গল এলাকাটা দেখতে হবে। বেলা হয়েছে। ফিরে চলো এখন।
চারজন ফিরে এল।
পরদিন সকালে ফ্রান্সিস বলল–হ্যারি চলো রাজার কাছে যাবো। প্রাচীন রাজাবাড়ির ধ্বংসস্তূপ যা দেখলাম সে সব নিয়ে কথা বলবো। তখন বন্ধুরা কয়েকজন এগিয়ে এসে বলল–ফ্রান্সিস এভাবে বন্ধ ঘরে অসহ্য গরমে রাতদিন তুমি রাজাকে বলো এভাবে থাকলে আমরা বাঁচবো না। ফ্রান্সিস বলল–আমার চিন্তা মারিয়া আর হ্যারিকে নিয়ে। তোমরা তবু সহ্য করতে পারবে অন্তত কিছুদিন। কিন্তু মারিয়া আর হ্যারি কতদিন পারবে সেটাই চিন্তার। কাল থেকে দিন রাত ধরে সারা রাজ্য ঘুরে বেড়াবো। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গুপ্তধন ভাণ্ডার উদ্ধার করবো। তাহলেই আমাদের মুক্তি। অনুরোধ –ধৈর্য হারিও না। আমার ওপর বিশ্বাস রাখো। বন্ধুরা আর কিছু বলল না।
