রাজা ফ্রান্সিসদের দেখল। সেনাপতি আসন থেকে উঠে রাজার কাছে এল। কিছু বলল। তারপর নিজের আসনে ফিরে গেল। রাজা বলল, তোমরা বিদেশি ভাইকিং।
হ্যাঁ। এ তো আগেই বলেছি। ফ্রান্সিস একটু এগিয়ে গিয়ে বলল।
কী বলতে চাও তোমরা? রাজা জানতে চাইল।
কয়েদঘর নয় অস্ত্রঘরে আমাদের বন্দী করে রাখা হয়েছে। ঘরে একটা জানালাও নেই। কোনো ফোকরও নেই। দরজা সবসময় বন্ধ করে রাখা হয়। আমরা এতজন একসঙ্গে আছি। দম বন্ধ হয়ে আসে।
কয়েদঘর তোমরাই আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছ। এবার তার ফল ভোগ কর। রাজা বলল।
একটা আর্জি। ফ্রান্সিস বলল।
হুঁ। বলো।
আমাদের সঙ্গে রয়েছে আমাদের দেশের রাজকুমারী আর একজন বয়স্ক বৈদ্য। তারা দুজন এত কষ্ট সহ্য করতে পারবেনা। তাদের অন্য কোথাও বন্দী করে রাখা হোক।
না, সবাইকে ঐ অস্ত্রঘরে থাকতে হবে। তোমাদের এভাবে আমার রাজত্বে আসা সন্দেহজনক। নিশ্চয়ই তোমাদের কোন উদ্দেশ্য আছে রাজা বলল।
কোন উদ্দেশ্য নেই। আগেও বলেছি এখনও বলছি জাহাজ চালাতে চালাতে এসে পড়েছি। আমরা এরকমই কোন উদ্দেশ্য না নিয়েই দ্বীপে দ্বীপে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াই। আপনাকে আগেই বলেছি আরো একটা কাজ আমরা করি। গুপ্তধন ভাণ্ডারের খোঁজ পেলে কোন সূত্র ধরে চিন্তা আর বুদ্ধি খাটিয়ে আমি আর বীর বন্ধুরা সেসব উদ্ধার করি।
–আর সে সব নিয়ে জাহাজে চড়ে পালাও। রাজা গম্ভীর হয়ে বলল।
–না। আগেও বলেছি যথার্থ মালিককে সব দিয়ে দি। দু-একবার পোশাক খাদ্য। কেনার জন্য তার সম্মতি নিয়ে কিছুস্বর্ণমুদ্র নিয়েছি। বাঁচতে হবে তো। নইলে কিছুই নিই। নি। ফ্রান্সিস বেশ দৃঢ় স্বরে বলল। রাজা ফ্রান্সিসের এই আত্মপ্রত্যয় দেখে খুব খুশি হল। দেখা যাক এদের দিয়ে কার্যোদ্ধার হয় কিনা। বেশ ভাবান্তর ঘটল রাজার। সাগ্রহে বলল এই রাজত্বের কোথাও গোপনে রাখা আছেঅতীতের এক রাজা মিরান্দার ঐশ্বর্য ভাণ্ডার। পারবে উদ্ধার করতে। ফ্রান্সিস একটু চমকে রাজার মুখের দিকে তাকাল। মনে পড়ল সেনাপতিও এই গুপ্তধনের কথা কথাপ্রসঙ্গে বলেছিল। কিন্তু ফ্রান্সিস বিশেষ আগ্রহ দেখল না। রাজাকে বিশ্বাস নেই। বলল–চেষ্টা করতে পারি।
–উঁহু। তোমরা কাল থেকেই লেগে পড়ো। রাজার লোভর্তি চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝল রাজা সত্যিই গুপ্তধনের জন্যে মরীয়া হয়ে উঠেছে। আবার ভাবল– অস্ত্রঘরের নরকযন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে গেলে যত শিগগির সম্ভব গুপ্তধন খুঁজে বের করতে হবে। বলল-দেখুন গুপ্ত ঐশ্বর্য সন্ধান করে উদ্ধার করতে পারবো এরকম কথা দিতে পারবো না। তবে রাজ্যের চারদিকে দেখে শুনে চিন্তা ভাবনা করে তবেই উদ্ধার করতে পারবো। তারপর বলল–যদি অনুমতি দেন তবে কাল থেকেই লাগতে পারি।
-খুব ভালো কথা। রাজা হেসে বলে উঠলেন।
–কিন্তু তার আগে কয়েকটা কথা। ফ্রান্সিস বলল।
বলো বলো সাগ্রহে রাজা বলল।
–শুধু আমরা তিনজন থাকবো। বাকি সব বন্ধুদের মুক্তি দিয়ে জাহাজে চলে যেতে দিতে হবে।
–উঁহু। তা হবে। গুপ্ত ঐশ্বর্য উদ্ধার করলে তবেই তোমরা মুক্তি পাবে। ফ্রান্সিস হ্যারির দিকে তাকাল। হ্যারিও চাপাস্বরে বলল–এ সুযোগ হাতছাড়া করো না। কাজ হয়ে যাবে।
–বেশ–ফ্রান্সিস বলল–আমাদের তিনজনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। খোঁজখবর নিতে যে কোন জায়গায় আমাদের যেতে দিতে হবে। কোন শর্ত চাপানো চলবে না।
–আপত্তি নেই। খোঁজ খবর সেরে ঐ অস্ত্রঘরেই ফিরে আসতে হবে। একটা কথা, তোমাদের সঙ্গে সব সময় থাকবে–এক বিশ্বস্ত যোদ্ধা রাজা বলল।
-কেন?
–তোমরা পালিয়ে যেতে পারে। রাজা বলল।
–রাজকুমারীকে, বন্ধুদের বন্দী রেখে আমরা পালিয়ে যাবো? এটা আপনিও ভাবতে পারেন–আমরা কল্পনাও করতে পারি না। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। ঠিক আছে। কাল থেকে কাজে লেগে পেড়ো। তবে ঐ গুপ্ত ঐশ্বর্য পারবে না উদ্ধার করতে। রাজা মিলিন্দার পরে যারা রাজা হয়েছিল তারা অনেকদিন চেষ্টা করেও পারেনি। তাদের তো লোকবল কিছু কম ছিল না।
–দেখা যাক। ফ্রান্সিস মাথা উঠানামা করে বলল।
ফ্রান্সিসরা সৈন্যদের পাহারায় অস্ত্র ঘরে ফিরে এল। ওদের দুজনকে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। মারিয়ার বন্ধুরা গভীর আগ্রহেফ্রান্সিসদের জন্য অপেক্ষা করছিল। ফ্রান্সিস আর হ্যারি বলল। শাঙ্কো এগিয়ে এল। বলল কিছু সুরাহা হল? হ্যারি মাথা নাড়ল। তারপর রাজার সঙ্গে যা যা কথা হয়েছে গুপ্ত ধনভাণ্ডার রাজার শর্ত সব বলল। সকলেই শুনল সে সবকথা। বুঝল–এই দমবন্ধ করা বন্দী দশা থেকে আপাতত মুক্তি নেই। হ্যারি বলল–ফ্রান্সিস যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই গুপ্তধনভাণ্ডার উদ্ধার করতে হবে।
–সে আর বলতে। তবে এরকম পরিস্থিতিতে আগে কখনও পড়িনি। খোঁজ খবর চালাতে হবে। দ্রুত। বিশ্রাম টিশ্রাম কপালে নেই। যত তাড়াতাড়ি ঐ ধনভাণ্ডার উদ্ধার করতে পারবো তত তাড়তাড়ি মুক্তি পাবো। ফ্রান্সিস বলল। একটু থেমে বলল কিন্তু হ্যারি ঐ ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে তেমন কোন তথ্যই এখানো জোগাড় করতে পারেনি। যা হোক–দুপুরের খাবার খেয়েই কাজে নামতে হবে।
–প্রথম কী ভাবে খোঁজ খবর শুরু করবে? হ্যারি জানতে চাইল।
–প্রথম রাজবাড়ির ভেতরটা দেখবো। তন্ন তন্ন করে খুঁজবো। দেখি কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাই কিনা।
–না পেলে? হ্যারি প্রশ্ন করল।
