–তোমরাও রেহাই পাবে বলে মনে হয় না। বিন্তানো বলল।
–আমরা তার আগেই পালাবো। হ্যারি বলল।
–পারবে? বিন্তানো একটু অবিশ্বাসের সুরে বলল।
–পারতেই হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–সেই চেষ্টাই করতে হবে। এখানে পড়ে থাকলে আমরা কেউ বাঁচবো না। এবার বিন্তানো মারিয়াকে দেখিয়ে বলল–ইনি কে?
–আমাদের দেশের রাজকুমারী। হ্যারি বলল।
–রাজা আনোতার কেমন মানুষ বোঝ। উনি মহিলা। রাজকুমারী। তাকেও এই কয়েদঘরে বন্দী করে রেখেছে। বিন্তানো বলল।
–তোমাদের রানিকে কী করেছে? হ্যারি জানতে চাইল।
–অন্দরমহলে বন্দী করে রেখেছে। বিন্তানো বলল।
রাজকুমারীকে নিয়েই আমাদের সমস্যা। উনি সুস্থ থাকতে থাকতে। তাকে নিয়ে পালাতে হবে। হ্যারি বলল।
পারবে পালাতে? এত প্রহরী সৈন্যসামন্ত। সবার চোখে ধূলো দিয়ে পালানো সম্ভব? বিন্তানো বলল।
–আমাদের দলনেতার নাম ফ্রান্সিস। ও অনেক অঘটন ঘটাতে পারে। কত গুপ্ত ধনভাণ্ডার ও খুঁজে বের করেছে। বুদ্ধি খাটিয়ে পরিশ্রম করে। তা ছাড়া এরকম পাহারার মধ্যেও আমরা অনেকবার পালিয়েছি। দেখো–ঠিক পালাবো। হ্যারি বলল।
–তাহলে তো ভালোই একসঙ্গে আমরাও পালাতে পারবো। বিন্তানো বলল।
–সেই উপায়টাই এখন ভাবতে হবে। হ্যারি বলল।
হ্যারি ফ্রান্সিসের কাছে ফিরে এল। বিন্তানের সঙ্গে যা যা কথা হয়েছে বলল। ফ্রান্সিস রাজা পাকোর্দোর দিকে তাকাল। রাজার মাথার চুল উস্কোখুস্কো। রোগাটে মুখে দুশ্চিন্তার স্পষ্ট চিহ্ন। চোখের কোল বসে গেছে। পরনে দামি পোশাক ময়লা। দু’চোখ বুজে চুপচাপ বসে আছেন। রাজা ফ্রান্সিসের পরিচিত কেউ নন। তবু রাজার এই দুরবস্থা দেখে ফ্রান্সিস। তাঁর প্রতি গভীর সহানুভূতি বোধ করল।
পরদিন সকালের খাবার খাওয়া সবে শেষ হয়েছে–দুজন প্রহরী কয়েদঘরের দরজায় এসে দাঁড়াল। একটু গলা চড়িয়ে বলল–রাজা পাকোর্দো বেরিয়ে আসুন। আমাদের মাননীয় রাজা আপনাকে নিয়ে যেতে বলেছেন। প্রহরী দরজা খুলে দিল। ফ্রান্সিস দরজার কাছে গিয়ে বলল–আমরা দু’জন রাজা আনোতারের সঙ্গে দেখা করবো।
-কেন বলো তো? প্রহরী জানতে চাইল।
বিশেষ দরকার। ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–বেশ। চলো প্রহরী বলল।
রাজা পাকোর্দোর সঙ্গে ফ্রান্সিস আর হ্যারি বেরিয়ে এল। তিনজনে প্রহরীদের সঙ্গে রাজ বাড়ির দিকে চলল।
রাজ সভায় খুব ভিড় ছিল না। রাজা আনোতার রাজা পাকোর্দোর জন্যে অপেক্ষা করছিল। রাজা পাকোর্দোকে দেখে কাষ্ঠ হাসি হেসে বলল–এই যে রাজা পাকোর্দো। আসুন–আসুন। রাজা পাকোর্দো কোন কথা বললেন না।
–তা কয়েদঘরে থাকতে কোন অসুবিধে হচ্ছেনা তো? সেই একইভাবে হেসে বলল।
–না আমি ভালো আছি। রাজা পাকোর্দো বললেন।
–এটা মিথ্যে বললেন। কয়েদঘরের ঐ পরিবেশে কেউ ভালো থাকে না। রাজা আনোতার বলল।
–না আমি ভালো আছি। আমার থাকা খাওয়ার ভালোমন্দ বোধটা একটু কম? রাজা পাকোর্দো বললেন।
–তার মানে আপনি সবরকম অবস্থাতেই খুশি। রাজা আনোতার বলল।
–হ্যাঁ। কোনকিছুর বিরুদ্ধেইআমার কোন অভিযোগ নেই। রাজা পাকোর্দোর বললেন।
আপনি রাজা না হয়ে সাধুসন্ন্যাসি হলে ভালো করতেন। রাজা আনোতার বলল।
–রাজা হয়েও সাধু সন্ন্যাসীর মত থাকা যায়। তার জন্যে বনে জঙ্গলে যেতে হয়। রাজা পাকোর্দো বললেন।
–এইজন্যেই আপনি লড়াইয়ে হেরে গেলেন। রাজা আনোতার বলল।
–তাতে আমার দুঃখ নেই। শুধু একটাই দুঃখ আমার সুখী প্রজারা আপনার মত একটা পাষণ্ডের হাতে পড়ল। রাজা পাকোর্দো বললেন।
রাজা আনোতার একলাফে সিংহাসন থেকে উঠে দাঁড়াল। চিৎকার করে বলে উঠল আপনার এত সাহস আমাকে পাষণ্ড বললেন।
–আপনি আমার বন্দী সৈন্যদেরও হত্যা করেছেন। এ ধরণের কাজ একমাত্র পাষণ্ডরাই। করে রাজা পাকোর্দো বললেন। রাজা আনোতার সেনাপতির দিকে তাকিয়ে বলে উঠল সেনাপতি এটাকে চাবুক মারুন। সেনাপতি একজন প্রহরীকে ইঙ্গিত করল। প্রহরী চাবুকহাতে এগিয়ে এল। তারপর রাজা পাকোর্দোর পিঠে চাবুকমারল। রাজা পাকোর্দোর শরীরটা কেঁপেউঠল। পর পর কয়েকটা চাবুকের মার খেয়ে রাজা পাকোর্দো বসে পড়লেন। মাথা নিচু করে জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে লাগলেন। রাজা আনোতার হাত তুলে প্রহরীকে থামতে ইঙ্গিত করল। প্রহরী চাবুক গুটিয়ে সরে দাঁড়াল।
এবার রাজা আনোতার বলল–যাক গে ভবিষ্যতে সাবধানে কথা বলবেন। এখন যে জন্যে আপনাকে ডেকেছি সেটা বলছি। শুনেছি আপনার যথেষ্ট ধনসম্পদ আছে।
সেই ধন সম্পদ আমার পৈতৃক ধনসম্পদ। রাজা পাকোর্দো বললেন।
–সেই ধনসম্পদের জন্যে আপনার রাজকোষাগার তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়েছে কিন্তু কিছুই পাওয়া যায় নি। এখন বলুন কোথায় রেখেছেন সেসব। রাজা আনোতা বলল।
–আমি জানি না রাজা পাকোর্দো মাথা নাড়লেন।
–নিশ্চয়ই জানেন। আমার আক্রমণের খবর পেয়ে সে সব কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন। রাজা আনোতার বলল।
–বললাম তো আমি কিছুই জানিনা। রাজা পাকোর্দো বলল।
–আপনি সে সব ধনভাণ্ডারের কোন খোঁজই রাখতেন না। রাজা আনোতার বলল।
না। রাজা পাকোর্দো বললেন।
–কেন? রাজা আনোতার বলল।
–সে সব আমার পিতার ধনভাণ্ডার। আমার নয়। ঐ ধনভাণ্ডারের ওপর আমার বিন্দুমাত্র লোভও ছিল না। রাজা পাকোর্দো বললেন।
–তাহলে সে সবের খোঁজ রাখতো কে? রানি? রাজা আনোতার প্রশ্ন করল।
–না। মন্ত্রী মশাই। তিনিই যেসব দেখাশুনো করতেন। মন্ত্রী মশাইকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারেন। রাজা পাকোর্দো বললেন।
