আগে বেরিয়ে যাক দুজনে, ওঃ! হাঁটছে দ্যাখো, ঠিক যেন কপোত-কপোতী। ঝাড়ু মার পুরুষ জাতটার মুখে। গজাননদার এতখানি অধঃপতন হবে, ভাবতেই পারেনি পুঁতিবালা।
বেরিয়ে গেছে ওরা। বেরোবে পুঁতিবালা। না কোথাও বাধা নেই। হোটেলের পেছনদিকটা যে এত অন্ধকার, কে জানত। অন্ধকারই বা হবে না কেন। যা কাণ্ডকারখানা চলেছে ভেতরে তাদের জন্যেই তো দরকার অন্ধকারের যবনিকা।
গেল কোথায় দুশ্চরিত্র দুটো? ওই তো…ওই.ওই কিন্তু একটা ছায়া কেন? হরি! হরি! দুজনে গায়ে গা দিয়ে এক হয়ে গেছে। গজাননদাকে হয় হারামজাদী চুমু খাচ্ছে, নয় তো গজাননদাই–
আচম্বিতে গাছের আড়াল থেকে ধেয়ে এল দুটো ছায়ামূর্তি।
ছিটকে সরে গেছে গজাননদা আর আন্নাকালী। আন্নাকালী ছুটছে হরিণীর মতো। কোথায় যাচ্ছে? ওহো। গাড়ি এনেছিল। সেই গাড়িতে উঠে বসে ঝড়ের মতো চালিয়ে দিয়েছে। হেডলাইটের ডবল আলোয় অন্ধকার ছিঁড়েখুঁড়ে মিলিয়ে যাচ্ছে দুর হতে দুরে।
গজাননদাকে দুদিক থেকে ঘিরে ধরেছে দুই আগন্তুক। ঠিক হয়েছে।
বিদেশে এসে বিদেশিনীকে আস্বাদনের বড় শখ হয়েছিল। এখন ঠেলা সামলাও।
বোরখাটা খুলে অলিম্পিক স্পিড় দেওয়ার জন্যে তৈরি হচ্ছে পুঁতিবালা প্ল্যান কষা হয়ে গেছে কীভাবে ক্যারাটে ঝেড়ে দুদিকে ছিটকে দেবে দুই হানাদারকে, এমন সময়ে…
গম্ভীর গলায় বললে একজন আগন্তুক মানিব্যাগটা বার করুন।
ব্যাগ বের করে ছুঁড়ে দিল গজানন। সঙ্গে-সঙ্গে ছুঁড়ে দিল নিজেকেও। মরি! মরি! এ সেই বিখ্যাত গজানন লম্ফ। হনুমানও যা দেখে লজ্জা পায়।
মানিব্যাগ লুফবে, না গজাননকে রুখবে? শূন্য পথে ধেয়ে আসছে যে দুটোই। চোখের পলক ফেলতে-না-ফেলতেই ভ্যাবাচ্যাকা আগন্তুকের ঘাড়ের ওপর গিয়ে পড়ল গজানন, তারপর গোঁ-গোঁ একটা আওয়াজ শোনা গেল।
নেতিয়ে পড়ে কাতরাচ্ছে লোকটা। হাত-টাত ভেঙে দিল নাকি গজানো? গুণের তো শেষ নেই তোমার। রাগলে চণ্ডাল! উন্মাদ। কী করছ তখন আর খেয়াল থাকে না।
দ্বিতীয় লুঠেরাটা মহা ধড়িবাজ তো! ধরাশায়ী দোস্তের বুকের ওপর থেকে গজাননদা উঠে দাঁড়াতে-না-দাঁড়াতেই তীরের মতো ছুটে এসে অন্ধকারেই ছোঁ মেরে মাটি থেকে কী তুলে নিয়ে ভো দৌড় দিল অন্ধকারে।
কাওয়ার্ড! দুটো মার খেয়ে গেলি না গ্রেট গজাননের হাতে? বাপের নাম ভুলিয়ে ছেড়ে দিত।
একী! গজাননদা আমার মানিব্যাগ বলে অন্ধকারে বিলীয়মান মূর্তিটার পেছনে তেড়ে যেতেই ভুলুণ্ঠিত আহত লোকটা তড়াক করে লাফিয়ে উঠে মিলিয়ে গেল অন্ধকারে।
রাম! রাম! এত ভীতু! জিরো জিরোর আসল খেল না দেখেই চম্পট দিলি! এখনও তো তার অ্যাসিস্ট্যান্ট নামেনি আসরে। নরম হাতের গরম ধোলাইয়ে পিত্তি ছরকুটে যেত তোদের!
বোরখাটা পরে দিল পুঁতিবালা। বডি খেলানোর যাও-বা একটা চান্স পাওয়া গেল মিল্ড হয়ে গেল।
গজানো ফিরে আসছে। পলাতকদের পালাতে দিয়ে ফিরে আসছে।
অন্ধকারে গা-ঢাকা দিল পুঁতিবালা।
দরজা খুলে গেমরুমে ঢুকে গেল গ্রেট গজানন। কিছুক্ষণ পরে ঢুকল পুঁতিবালা। কিন্তু গজাননকে দেখতে পেল না।
বেরিয়ে এল সামনের দরজা দিয়ে। ওই তো করিডোরের মোড় ঘুরে হোটেল অফিসের দিকে যাচ্ছে গজানো।
যাক। মানিব্যাগের জন্যে হাল্লাক হয়ে মরুক। যাচ্ছে তো নালিশ ঠুকতে। পুলিশকে খবর দেবে কি?
.
৪.
দিতেও পারে। দাদার প্ল্যানটা ঠিক বুঝে ওঠা যাচ্ছে না। কিঙ-য়ের শহরে পা দিতে না দিতেই এই যে হামলা, একি শুধু মানিব্যাগের লোভে?
মনে তো হয় না।
আড়াল থেকে সব দেখল পুঁতিবালা। অফিস থেকে পুলিশ অফিসেই টেলিফোন করল গজানো। তারপর গটগট করে লিফটে চড়ল। পুঁতিবালাও উঠল লিফটে। আড়চোখে তাকে একবার দেখে নিল গজানন। কটমটে চাহনি দেখে মনে-মনে হেসে কুটিপাটি হল পুঁতিবালা। লিফট থেকে সটান নিজের ঘরে ঢুকল গ্রেট গজানন। পুঁতিবালা নিশ্চিন্ত হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এল একতলায়। সেখান থেকে পাতাল ঘরের গেমরুমে।
আসল গেমটাই যে এখনও খেলা হয়নি।
কদমছাঁট এবার তাকে দেখেই একলাফে দাঁড়িয়ে উঠে শুধু বললে–আবার?
কী আবার? প্রচণ্ড মুখ ঝামটানি দেয় পুঁতিবালা সার্চ হবে নাকি আবার?
না, না, না, না, বলতে-বলতে দরজা খুলে ধরে পাংশু মুখে বললে কদমছাঁট–যান।
যাব তো বটেই, কিন্তু বোরখাটা রইল এখানে। যাওয়ার সময়ে নিয়ে যাব, কেমন?
–বলেই বোরখা খোলা হয়ে গেল পুঁতিবালার। ছোট্ট চেম্বারে পুঁটলি পাকিয়ে ফেলে ঝ করে ঢুকে পড়ল গেমরুমে।
সত্যিই! শেষ নেই ওই আদিম নাচের! এখনও মঞ্চে চলছে সেই একই উদোম লীলা। জঘন্য!
ওভাবে পুরুষ মজাতে সবাই পারে। পারবি পুঁতিবালার মতো? এই দ্যাখ!
কটিতে আর বক্ষদেশে যার সামান্যতম বস্ত্রের আবরণ, এহেন লাস্যময়ীর দিকে মুনি ঋষিরও দৃষ্টি চলে যায়। পুঁতিবালাও চুম্বকের মতো ঘরসুদ্ধ লোকের নজর কেড়ে নিল চক্ষের নিমেষে।
কিন্তু পুঁতিবালার নজর কাড়ল কে?
একজন পুলিশ অফিসার। বয়েস চল্লিশের ওপরে। সেই কারণেই শিকার ভালো।
তাছাড়া পুলিশের লোক। হাতে রাখা দরকার।
বার কাউন্টারে হাতে স্কচ হুইস্কি নিয়ে দাঁড়িয়েছিল ব্রোঞ্জ মূর্তির মতো সেই অফিসার। বেশ চেহারা। পছন্দ হয় পুঁতিবালার।
চোখে-চোখে আমন্ত্রণ বিনিময় হয়ে যায় তৎক্ষণাৎ। কাছে এগিয়ে যায় পুঁতিবালা।
এক গেলাস জিন উইথ লাইম অ্যান্ড বিটার চেয়ে নিয়ে চুমুক দিয়ে চোখ রাখে পুলিশ অফিসারের চোখের ওপর।
