একজন তরুণ আর সইতে পারল না প্রথম রিপুর অগ্নিদহন। ছিটকে গেল মঞ্চের ওপর। যেন তৈরি হয়েই ছিল ষোড়শী। আঁকাবাঁকা বিজলী রেখার মতো মঞ্চের ওপর তরুণটিকে খেলিয়ে নিয়ে উন্মত্ত অট্টরোল সৃষ্টি করে সাঁৎ করে অদৃশ্য হল পেছনের দরজায়–তরুণটিও তিন লাফ মেরে ঢুকে গেল ভেতরে।
বন্ধ হয়ে গেল দরজা। পরমুহূর্তে আর একটি ললনা পাশের দরজা দিয়ে ছুটে এল মঞ্চে যেন গেমরুম-এর দরজায় আঁকা ছবির অনুরূপ একটি মূর্তি…শুরু হয়ে গেল হাসি মুখে মদির চোখে আদিম নৃত্য…
এতক্ষণে দম আটকে দেখছিল পুঁতিবালা। বহুবল্লভা পুঁতিবালা! কিন্তু এ হেন রাধাবল্লভী নাচ তাকেও কখনও নাচতে হয়নি।
তোবা! তোবা! বেশ বোঝা যাচ্ছে এই খেলাই চলবে সারারাত। কিন্তু জিরো জিরো গজানন গেল কোথায়? পুঁতিবালা আসবার আগেই গ্রীনরুমে উধাও হয়নি তো একটা চলমান ছবির পেছন পেছন?
বড্ড উৎকণ্ঠা হয় পুঁতিবালার। বড় আনাড়ি এই দাদাটি। তাই তো একলা ছেড়ে দেওয়া যায় না। সঙ্গে-সঙ্গে থাকতে হয়,–আড়ালে থেকে রক্ষা করতে হয়।
ওই তো…ওই তো গজাননদা! কিন্তু সামনে ওই মেয়েছেলেটা আবার কে? গজাননদার ঝাকড়া চুল দেখেই মজেছে মনে হচ্ছে। খুব যে হেসে-হেসে বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে কথার রঙ্গ হচ্ছে! ওই তো চেহারা! কালো! তবে হ্যাঁ, চেহারায় চটক আছে বটে। কালো মেয়েরা একটু সেক্সি হয় ঠিকই। কিন্তু এই ঢলানিটা যেন একটু বেশি রকমের সেক্সি। যৌনতা বুঝি উপচে-উপচে উঠছে পা থেকে মাথা পর্যন্ত গড়িয়ে-গড়িয়ে নামছে শরীরের খাঁজ খোঁদল বেয়ে পাহাড়ি ঝরনার মতো!
গজানো পটে গেল নাকি? মরেছে! তাড়াতাড়ি এগিয়ে যায় পুঁতিবালা, এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে উদ্দাম নাচ দেখতে থাকে, যেখানে গজাননের চোখ যাবে না কিন্তু ওদের কথা কানে ভেসে আসবে।
বলছে কী হারামজাদী? আঁ! নেমন্তন্ন করছে গজাননদাকে। বলছে ছেনালিগলায়–মিঃ ওয়ান্ডারম্যান, আপনার জন্ম কি হারকিউলিসের ঔরসে? চলুন আমার ঘরে।
পুঁতিবালার ইচ্ছে হল তেড়ে গিয়ে ঠাস করে একটা চড় কষায় আন্নাকালীর গালে। আস্পর্ধা তো কম নয়। গজানো বোঝে কি এ সবের? হারকিউলিসের সঙ্গে বাপের তুলনা! এই রাত্রে তাকে ঘরে তোলার মতলব? গজাননদা, গজাননদা, কথার ফাঁদে পা দিও না মরবে বলে দিলাম। ওই আন্নাকালী তোমাকে খেয়ে ফেলবে।
কী বলছে গজানো? হাসছে। হাসিটা কিন্তু বেশ প্যাচাল ধারাল। হাজার হোক জিরো জিরো গজানন তো। কায়দা কানুনগুলো প্র্যাকটিস করছে ভালোই।
বলছে হেসে-হেসে ডার্লিং, আপনার হাজব্যান্ড অ্যাংরি হতে পারেন।
ওঃ! আবার ইংলিশ ছাড়া হচ্ছে! স্বামী মহাশয় রাগ করবেন বলেই যাওয়ার ইচ্ছে নেই। রাগ না করলেই সুড়সুড় করে চলে যেতে, তাই না গজানো? মাইরি, তোমাদের এই পুরুষ জাতটাকে দেবা ন জানন্তি–
বলে কী কেলে মেয়েমানুষটা? উৎকর্ণ হয় পুঁতিবালা।
আন্নাকালী বলছে, আমার হাজব্যান্ড এখন ডিউটিতে।
এত রাতে?
সারা রাতই তো ওর ডিউটি। তাই সারারাত আমার বড় একা-একা লাগে–ঘরে তো আর দ্বিতীয় প্রাণী নেই। চলুন না–
ডার্লিং, আমি এসেছি দেশ দেখতে–
ও নটি বয়! নতুন দেশের নতুন মেয়েদের আগে দেখতে হয়। আমার দেশকে ভালোবাসি বলেই তো এত ডাকাডাকি, মিঃ সন অফ হারকিউলিস!
আরে বাস্! এ যে দেখছি ছেনালিপনায় মহারানি। গজাননদা, গজানো, অমন করে আন্নাকালীর মুখের দিকে চেয়ে আছে কেন?
তারা! তারা! ব্রহ্মময়ী! গজাননদা, তুমিও? তুমিও ওই মেয়ে হ্যাংলাদের দলে?
বিড়বিড় করে আবার কী বলা হচ্ছে আন্নাকালীকেও। পুঁতিবালার কানকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না, গজাননদা, যত আস্তেই বলো না কেন।
কেয়াবাত! গজাননদা, তোমার চোখ এত ধারালো?
খুব আস্তে বললেও কথাগুলো সুস্পষ্ট ধ্বনিত হল পুঁতিবালার কানে–আপনি ড্রাগ অ্যাডিক্ট? হেরোইন খান?
চোখের তারা খুব একটা কাপল না আন্নাকালীর।
বললে একই রকম নিনাদী কণ্ঠেওটা তো স্ট্যাটাস সিম্বল, মিঃ…মিঃ..
হোসেন। মহম্মদ হোসেন।
বুঝলেন কী করে?
আপনার চোখের তারা দেখে। আসলে আন্দাজ মিশিয়ে ঢিল ছুঁড়ছিল গজানন–লেগেছে ঠিক জায়গায়। আমারও ইচ্ছে যায় জিনিসটা চেখে দেখতে।
ও মাই মিঃ ওয়ান্ডারম্যান। তাহলে চলে আসুন আমার ঘরে। ভয় নেই, আমার গাড়িই আপনাকে পৌঁছে দিয়ে যাবে হোটেলে।
গেল! গেল! সব গেল! পুঁতিবালা ইচ্ছে করে বোরখার ভেতর থেকেই হাউমাউ করে ওঠে। গজানো, ও গজাননদা, তোমার এতটা মতিচ্ছন্ন হয়েছে, জানা ছিল না তো! হেরোইন খাওয়ার শখ হয়েছে! আঁ! হেরোইন কিঙকে ধরতে এসে হেরোইন চেখে দেখবার শখ হয়েছে! কী চাখতে চাও, গজাননদা! কষ্টিপাথরের মতো কালো ওই ঢলানিটাকে? ওটা তো বাজারের মেয়েরও অধম– ঘরে স্বামী থাকতে পরপুরুষ নিয়ে ছিঃ ছিঃ ছিঃ।
ও কী! একি কাণ্ড! গজাননদা যে ঢলানিটার পেছন-পেছন চলল গো! ওমা কী হবে গো! ওরা যে গাড়ি করে যাবে। পুঁতিবালা সঙ্গে যাবে কেমন করে?
হিল্লে একটা হবেই। পুঁতিবালাও মেয়ে কম নয়। কোথাকার কে এসে গজাননদাকে বাগিয়ে নিয়ে যাবে–সেটি হতে দেওয়া চলবে না।
আন্নাকালীর পেছন-পেছন গ্রেট-গজানন যাচ্ছে অন্য দরজার দিকে। যে দরজা দিয়ে ভেতরে এসেছে–সে দরজা দিয়ে নয়। কেলে ঢলানি এখানকার সব খবরই রাখে তাহলে। ইস। আবার তাঁতের শাড়ি পরা হয়েছে। কালচার তো কচু! পরপুরুষকে নিয়ে রাত কাটাস। তবে হ্যাঁ, শাড়িটা চমৎকার। পছন্দ আছে বটে ঢলানির।
