জি হ্যাঁ। পুঁ
তিবালাকে নেওয়া যাবে না।
যাবে না?
না। বড় ডেঞ্জারাস গেম, গজানন। কিঙ ওই শহরেই আছে খবর পেয়েছি। সাদা গুঁড়োও তার কাছে। তুমি তাকে খুঁজে বের করবে, মুন্ডু ছিঁড়বে–
গেণ্ডুয়া খেলব।
যা খুশি। যদি তার আগে তোমার মুণ্ডু ভেঁড়া যায়?
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলোরে!
ননসেন্স!
লাইন ডেড হল। গজানন প্রোজ্জ্বল চোখে পুঁতিবালার দিকে চাইল। বলল, এই ছুঁড়ি, এবারকার অ্যাডভেঞ্চারে তোর ঠাই নেই।
পুঁতিবালা কিছু বলল না। একটা কথাও না।
কিন্তু পুঁতিবালা যে কী চীজ, তা গজাননও জানত না। মেয়েরা যখন গুপ্তচরী হয়, বাঘিনীদেরও হার মানায়। পুঁতিবালা যে লাইন থেকে এসেছে, সে লাইনে মোহিনী হওয়ার ছলাকলা শিক্ষার বিলক্ষণ স্কোপ ছিল। পুঁতিবালা এই মস্ত আর্ট-টি রপ্ত করেছে।
বাকিটা তার বডি খেলিয়ে ঠিক ম্যানেজ করে নেয়।
ফলে, বাংলাদেশের সেই শহরটিতে গজানন যখন ঢুকল তার গাড়ি নিয়ে অনেক পেছনে একটা ট্যাক্সিতে বোরখাপরা একটা মেয়েকেও দেখা গেল-ফলো করছে গজাননকে। গজানন গিয়ে উঠল একটা ফাইভ স্টার হোটেলে, পুঁতিবালাও (বোরখা পরিহিতা) উঠল সেখানে। রেজিস্টারে গজানন নাম লেখালো মহম্মদ হোসেন। পুঁতিবালা লিখল সুলতানা রাজিয়া। তারপর কী অপূর্ব কৌশলে, কী দৈবক্রমে জানা নেই–দু-জনেরই ঘর পড়ল পাশাপাশি–একই করিডরে।
তখন রাত হয়েছে। হোটেলের ঘরেই ধড়াচূড়ো পালটে নিল গজানন। রিভলভারটা নেবে কি নেবে না ভাবল সেকেন্ড কয়েক। তারপর না নেওয়াটাই ঠিক করল। যাচ্ছে তো খড়ের গাদায় উঁচ খুঁজতে। সিকিউরিটিতে রিভলভার ধরা পড়লেই যাবে সব গুবলেট হয়ে।
এদিকে পাশের ঘরে পুঁতিবালা কী করছে?
বোরখা ছুঁড়ে ফেলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছে। পটাপট ব্লাউজ খুলে সড়াৎ করে শাড়ি আর সায়া খুলে–না…না…অতটা সে যায়নি!)…পরনের একটি মাত্র জাঙ্গিয়ার মতো পরিধেয়কে লোলুপ নয়নে দেখছে। একবার নিতম্ব নাচিয়ে দেখে নিল সব ঠিকঠাক আছে কিনা।
আছে, আছে। পুঁতিবালা এখনও মরেনি। মাতাহারিও বোমকে যাবে তার এই অপ্সরী মূর্তি দেখলে। বুকের এক চিলতে আবরণী থাকুক দরকার হলে টান মেরে খুলে ফেলা যাবে।
রাইফেল, রিভলভার, চাকু, হাতবোমকেও এখন আর ভয় পায় না পুঁতিবালা। মুখের রং টঙগুলো আর একবার ফ্রেস করে নিল গজাননের চ্যালা। কিঙকে রং নিয়েও যদি ঘায়েল করতে না পারা যায় তাহলে পুঁতিবালার লাইন ছেড়ে দেওয়া উচিত।
বোরখাটা মাথা দিয়ে গলিয়ে নিয়ে দরজা ফাঁক করে দাঁড়াল পুঁতিবালা।
আর ঠিক সেই সময়ে আঁকড়াচুলো গজানন গ্যাটর-গ্যাটর করে বেরিয়ে গেল ওর ঠিক নাকের ডগা দিয়ে। নাকে এল আতরের গন্ধ।
গজাননদা আতর মেখেছে। বলি ব্যাপারটা কী!
নীরস কাঠখোট্টা গজাননদা গন্ধদ্রব্য কস্মিনকালেও দু-চক্ষে দেখতে পারে না–নাকে শুঁকে ফেললে পচা গোবর শুঁকে ফেলেছে, এমনিভাবে নাক সিঁটকোয়।
সেই মানুষটা কিনা সারা গায়ে আতর মেখে পাঁচতারকা হোটেলের অলিন্দ পথ হাঁটছে। মতলবটা কী দেখতে হচ্ছে তো!
সুরুৎ করে ঘর থেকে বেরিয়ে এল পুঁতিবালা। গটগট করে চলল গজানন ওরফে মহম্মদ হোসেনের পেছন-পেছন। উঠল একই লিফটে। একতলায় নামল একইসঙ্গে। চোখ পাকিয়ে জিরো জিরো গজানন একবারটি দেখেছিল পাশের বোরখাধারিণীকে। সন্দেহ করেনি। করবেটা কী করে? বোরখা ছুঁড়ে দেখবার ক্ষমতা তো নেই। থাকলে দেখতে পেত হেসে কুটিপাটি হচ্ছে পুঁতিবালা। আর মনে-মনে বলছে-বটে! বটে! গজাননদা! বিদেশে এসে শেষকালে কামিনীকাঞ্চনে মজবে! আমি থাকতে তা হতে দেব না। সাধনার ব্যাঘাত ঘটতে দেব না!
একতলায় লিফট থেকে বেরিয়ে গজানন জিগ্যেস করে নিল, গেমরুম কোথায়। গেমরুম মানে জুয়ো খেলার আড্ডাঘর। এ হোটেলে সে ঘর আছে একতলারও নিচে মানে পাতালঘরে।
গজানন চলল সেই দিকে। পকেটে কাড়ি কাড়ি টাকায় একবার হাত বুলিয়ে নিল। টাকার বান্ডিলে হাত বুলোলে নার্ভ-টার্ভগুলো বেড়ে ঠান্ডা হয়ে যায়!…তারপরেই জমাটি ঠেঙানি শুরু করা যায় শীতল মস্তিষ্কে।
কে জানে পাতাল ঘরে এখুনি তাই শুরু হবে কিনা! এসে গেছে গেমরুম। পুরো করিডরটা এয়ারকন্ডিশন করা। গেমরুমের দরজায় খেলাটেলার ছবি থাকলে বোঝা যেত ঘরটায় কী হয়।
কিন্তু যে ছবি রয়েছে, তা দেখলে ভুল ধারণা ঢুকে যায় মগজে।
একটা মেয়ের ছবি। ঘূর্ণমান গ্যালারি থেকে রাশি-রাশি নক্ষত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে সে যেন নেমে আসছে মতে। অহো! অবতীর্ণ হওয়ার কী অপূর্ব ছন্দ! মনোমুগ্ধকর নিঃসন্দেহে। অবশ্য সেইরকম মনই মুগ্ধ হবে এই তিলোত্তমাকে দেখলে।
কেননা, প্রথম মানব আদম প্রথম মানবী ঈভকে পরিধেয় আবিষ্কারের বহু আগে যে সজ্জায় দেখেছিল কটাক্ষময়ী এই ললনাও যে রয়েছে সেই সজ্জায়।
দেখেই সভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেছিল গজানন। সামলে নিল অবশ্য মুহূর্তের মধ্যেই। এসব মামলা হাতে নিলে চোখ খোলা রাখা দরকার–চোখের সামনে যা-ই পড়ুক না কেন–দেখতেই হবে।
অতএব খুঁটিয়ে দেখল গজানন। কোথায় যেন পড়েছিল, ভালো করে চোখ মেলে দেখার নাম পর্যবেক্ষণ, তাই পর্যবেক্ষণ করল অতীব নিষ্ঠার সঙ্গে।
খুব একটা খারাপ লাগল না। নারীদেহ বরাবরই তার কাছে একটা অজ্ঞাত মহাদেশ অথবা মহাসমুদ্র হারিয়ে যাওয়ার চান্স এত বেশি…
