আবার সেই স্টিরিও মিউজিকের মতো হাসি হাসল এলোকেশী, আমার ব্যাগ রেখে এসেছি দেখছেন না? আপনারটাও রেখে আসুন। কমপিউটার চেকিং হবে।
কমপিউটার চেকিং। সেটা আবার কী?
গজগজ করতে করতে নেমে এল গজানন। কলের হাত ওর হাত ছেড়ে দিয়েই আচমকা পেছন থেকে এমন একটা পদাঘাত করল পশ্চাৎদেশে যে ছিটকে গিয়ে দড়াম করে দরজার ওপর পড়ল গজানন দ্য গ্রেট এবং দরজা স্পর্শ করার আগেই পাল্লা খুলে গেল আপনা থেকে। তাল সামলাতে না পেরে গজানন মুখ থুবড়ে পড়ল ভেতরে।
এ অবস্থায় গজানন কেন, স্বয়ং দশাননও মাথার ঠিক রাখতে পারে না। তিড়িং করে লাফিয়ে মোটরটাকে তুলে আছাড় মারবে বলে বেরোতে যাচ্ছে গজানন এমন সময় দরজা বন্ধ করে দিয়ে ছিটকিনি টেনে সামনে এসে দাঁড়াল এলোকেশী।
আশ্চর্য এইটুকু সময়ের মধ্যেই ভোল পালটে ফেলেছে। জিনস প্যান্ট আর ঢিলে শার্ট অন্তর্হিত হয়েছে। পরনে শুধু ব্রা আর ব্রিফ। ফরসা বডিখানা লীলায়িত ভঙ্গিমায় মেলে ধরেছে গজাননের সামনে। কণ্ঠে মদির আহ্বান, গজানন, এখন আমাদের আধঘণ্টার রেস্ট। কাম, এনজয়–আই ওয়ান্ট ইউ।
বলে কী হারামজাদি! আই ওয়ান্ট ইউ বললেই হল! গজানন কি তেলেভাজা যে ফুটপাতে কিনতে পাওয়া যায় এবং খাওয়া যায়?
কিন্তু…কিন্তু গজানন এরকম হকচকিয়ে যাচ্ছে কেন? ঘরের মায়াময় আলো-আঁধারির জন্যে কি? ছোট্ট ঘর। একপাশে পুরু গদির ডাবল বেড। গজাননকে ওই দিকেই ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে প্রায় বিবসনা এলোকেশী। গজাননের সর্বাঙ্গ অসাড় হয়ে আসছে। হাত বাড়িয়ে গজাননের সার্টের বোতাম খুলে দিচ্ছে এলোকেশী। খাটে বসে পড়েছে গজানন। ভ্যাবা গঙ্গারামের মতো চেয়ে রয়েছে এলাকেশীর সরীসৃপের মতো ক্ষিপ্রতার দিকে। পাশের ছোট্ট টেবিল থেকে একটা মদের বোতল তুলে নিয়ে দুটো গেলাসে ঢেলে একটা এগিয়ে ধরেছে গজাননের দিকে। না…না…গজানন সুরাপান করবে না…কিছুতেই না…! এলোকেশী দু-হাতে দুটো গেলাস নিয়ে সবলে জাপটে ধরেছে গজাননকে–ঠোঁটে ঠোঁট…গরম হলকায় যেন পুড়ে যাচ্ছে গজাননের মুখ..কিন্তু মুখ সরাতে পারছে না..লিপস্টিকে মুখ মাখামাখি হয়ে যাচ্ছে–তবুও না–গজানন চিৎ হয়ে পড়ে গেছে খাটে। গেলাস দুটো টেবিলে রেখে টান মেরে ট্রাউজার্সটা খুলে দিল এলোকেশী। চকিতে গজাননের দিকে পেছন ফিরেই ব্রায়ের মধ্যে থেকে একটা হোমিওপ্যাথিক গ্লোবিউলের মতো সাদা জিনিস বের করে ফেলে দিল একটা গেলাসে। পরমুহূর্তেই দুটো গেলাস নিয়েই ঘুরে দাঁড়াল গজাননের দিকে। যে গেলাসে পড়েছে সাদা গ্লোবিউল, সেই গেলাসটা ঠুসে ধরল গজাননের হাঁ করা ঠোঁটের মধ্যে।
আর একটু হলেই সুরাপান করে বসত গজানন। তারপর ইয়া আল্লা বলে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিত নিজেকে। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে ছোট্ট ঘরের একদিকের দেওয়ালের খানিকটা সরে যেতেই চৌকো খুপরির মধ্যে দিয়ে আবির্ভূত হল একটা বিকটাকার মুখোশ–শূন্যে ভাসছে। মুখোশের দাঁতের ফাঁকে একটা সিগারেট। সিগারেটের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এল একটা ছোট্ট বুলেট–ঢুকল এলোকেশীর রগে।
গজাননের ঠোঁটের সামনে থেকে মদিরাপাত্র ছিটকে গেল খাটে। এলোকেশী তার নরম বুক নিয়ে শিথিল দেহে পড়ে রইল গজাননের ওপর।
.
গজানন এখন জামাপ্যান্ট পরে নিয়েছে। আঙুল দিয়ে আঁচড়াচ্ছে মাথার লম্বা চুল। ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে রামভেটকি এবং ডক্টর সিঙ্কারো নামে সেই দাড়িওলা বৃদ্ধ যিনি কিনা এককালে হিটলারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
ডক্টরের হাতে রয়েছে বিদঘুঁটে সেই অস্ত্র। জোরালো স্পট লাইটের তলায় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখছেন।
রামভেটকি হাসি গোপন করার চেষ্টা করে বলছে, মাই ডিয়ার গজানন, আপনার পদস্খলন হচ্ছিল বলে এলোকেশীকে শট ডেড করা হয়েছে একথা যেন ভাববেন না।
কটমট করে তাকাল গজানন, টার্গেট ছিলাম নিশ্চয় আমি?
জিভ কাটল রামভেটকি। গরিলামুখে জিভ কাটার ফলে আরও হাস্যকরই দেখাল শ্রীহীন। মুখাবয়ব।
বলল, ও নো। কমপিউটার চেকিং-য়ে ধরা পড়ল এলোকেশী ডাবল গেম খেলে চলেছে।
মা–মানে?
দরজার ফ্রেমে লাগানো আপনার ক্যামেরার ফিল্মে কার ছবি উঠেছে জানেন? এলোকেশীর। বিটকেল ওই হাতিয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসছে আপনার ঘর থেকে।
এলোকেশী।
ও ইয়েস। যাকে আপনি এনজয় করতে যাচ্ছিলেন।
শাট আপ।
এলোকেশীই প্রথম গিয়েছিল আপনাকে সাবাড় করতে–তখন আপনি ঘরে ছিলেন না। নিশ্চয়–
ডাইনিং রুমে গেছিলাম। রাইট।
তারপরেই এল সেই লোকটা। তার ফটোও উঠেছে সিক্রেট ক্যামেরার।
গজাননের গজমস্তিষ্কে একটা সূক্ষ্ম চিন্তা স্মৃতির আকারে কঁ করে দেখা দিল সেই মুহূর্তে। মস্তিষ্ক কখন যে কী করে বসে তা তাবড় মস্তিষ্কবিশারদরাও জানেন না। তাই আচম্বিতে গজাননের মনে পড়ে গেল সল্টলেকের ত্রিশূল ঘাঁটির দোতলায় দাঁড়িয়ে যখন যে নস্যগ্রহণ করছে, নিচের বাগানে সন্ধের আঁধারে সাঁৎ করে মিলিয়ে গেছিল একটা ছায়ামূর্তি। তড়িঘড়ি নিচে নেমে এসে দেখেছিল খান বুদোশের কবন্ধ দেহ।
এলোকেশীই কি তাহলে…?
সন্দেহটা মুখে প্রকাশ করতেই রামভেটকি সায় দিলে, রাইট ইউ আর। খান বুদোশ অনেক জানত। তাই মুন্ডু উড়িয়ে দিয়েছিল এলোকেশীই ইস তখন যদি জানতাম।
হারামজাদি ওই জন্যেই সরিয়ে দিয়েছিল আমাকে, দাঁত কিড়মিড় করে গজানন।
গলা খাঁকারি দিলেন ডক্টর সিঙ্কারো। ভালো বাংলায় বললেন, মহাশয়গণ, এই সেই অস্ত্র যার গোপন ফরমুলা হিটলার ছাড়া কাউকে জানানো হয়নি।
