(নেপথ্যে নাগরাজনের গলা–আসতে পারি?)
ছন্দা–এই…নাগরাজন…ছাড়ো না।
মনীশ–আরে আসুন আসুন Inspector। এত সকালে কি ব্যাপার?
নাগরাজন–কী ব্যাপার? ম্যাডাম যে একেবারে বনলক্ষ্মী সেজেছেন! Splendid! কোনও Occassion আছে নাকি?
মনীশ–না, না, occassion মানে আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী কিনা।
ছন্দা–আপনার যদি আপত্তি না থাকে আজ আমাদের এখানে lunch খেয়ে যাবেন।
নাগরাজন–My goodness! নিশ্চয়ই খাব। কিন্তু কোনও special arrangement করতে পারবেন না। আপনার যা রান্নাবান্না হবে তাই এক মুঠো দেবেন। যাক মিসেস সরকার, কালকের ঘটনা সব শুনেছেন তো?
মনীশ–হ্যাঁ। ও তো একেবারে ভয়ে সারা। বলছে রাজারাজড়ার সঙ্গে বিবাদ করা–
নাগরাজন–না, মিসেস সরকার–আপনি ভয় পাবেন না। Mr. Sarkar-এর সব দায়িত্ব আমার। আমি Government-এর একজন গেজেটেড অফিসার। আমার কথার একটু মূল্য তো আছে?
(ঘোড়ার পদশব্দ)
নাগরাজন–ঘোড়ার পায়ের আওয়াজ। ঘোড়ার চড়ে এখানে আবার কে এল? যুবরাজ নাকি?
(চন্দ্রকেতুর প্রবেশ)
চন্দ্রকেতু–ব্যঙ্গচ্ছলে অভিবাদন) Yes Inspector। যুবরাজই বটে। আপনাকে এ বাড়িতে ঢুকতে দেখেই নামলাম।
নাগরাজন–স্যালুট করে) Yes, Your honour।
চন্দ্রকেতু–এখানে কি আপনার C.I.D. ডিপার্টমেন্টের Branch Office খুলেছেন নাকি?
নাগরাজন–আমার বন্ধু Mr. Manish Sarkar, Mrs. Sarkar–যুবরাজ চন্দ্রকেতু।
চন্দ্রকেতু–ও, Mr. Detective, তাই না?
মনীশ–আজ্ঞে না। আমি সামান্য গৃহস্থ ঘরের ছেলে। কাজের ধান্দায় এখানে এসেছি।
চন্দ্রকেতু–তাই নাকি। কিন্তু Mr. Sarkar, জানেন তো আগুন নিয়ে খেলতে গেলে সে আগুন মধ্যে-মধ্যে নিজের দেহেও ছড়িয়ে পড়ে।
মনীশ–জানি Your Highness। এও জানি যে যারা আগুন নিয়ে খেলতে জানে, তারা নিজের শরীর বাঁচিয়ে খেলা দেখায়।
চন্দ্রকেতু–বটে! আচ্ছা আশা করি আবার দেখা হবে। তবে মাইন্ড ইউ মিঃ সরকার, তখনও যেন যুবরাজ চন্দ্রকেতুর সঙ্গে এইভাবে মাথা তুলে কথা বলতে পারেন। চিয়ারিও Inspector, কতদূর এগোলেন? সময় তো যথেষ্ট নিয়েছেন।
নাগরাজন–কাজ, এগুচ্ছে, স্যার।
চন্দ্রকেতু–এগোচ্ছে নাকি? Very good Very good. I wish your every success Inspector। হাঃহাঃহাঃ।
(চন্দ্রকেতুর প্রস্থান। অশ্বখুর ধ্বনি দূরে মিলিয়ে গেল)
ছন্দা–সর্বনাশ! উনি কি করে জানলেন যে তুমি এর মধ্যে গোয়েন্দাগিরি করছ?
মনীশ—(কঠিনভাবে) জেনেছেন যে করেই হোক। মনে হচ্ছে ওঁর আর কিছুই অজানা নেই। তাই সাবধান করতে এসেছিলেন আমাকে।
নাগরাজন–Mrs. Sarkar, যুবরাজের কোপদৃষ্টিতে শুধু আমি নয়–আপনারাও পড়লেন শেষে।
মনীশ–সে জন্যে চিন্তা করবেন না Inspector। সত্যের অন্বেষণ করা আপনার পেশা– আর আমার নেশা। দেখাই যাক না শেষ পর্যন্ত কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।
.
পঞ্চদশ দৃশ্য
(অন্ধকার মঞ্চে শুধু স্পটলাইটের ফোকাসে দেখা যাচ্ছে মনীশের প্রায়-উন্মাদ আকৃতি। কান্নাজড়ানো গলায় সে বলে যাচ্ছে…)
সমস্ত দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর গৃহলক্ষ্মীর মধু সঙ্গলাভের সুখচিন্তাই ছিল আমার কাজের প্রেরণা। প্রতিদিন পথের মোড় থেকে জানলায় প্রতীক্ষার ছন্দাকে দেখা ছিল আমার দৈনন্দিন কার্যসূচির একটা অঙ্গ। কপালে ছোট্ট কুমকুমের টিপ সিঁথিতে জ্বলজ্বলে সিঁদুর রেখা বাঁকানো ভূ আর মিষ্টি হাসি দিয়ে সে প্রতিদিন অভ্যর্থনা জানাত তার এই দীন স্বামীকে। বিয়ের পর থেকে একটি দিনের জন্যেও ব্যতিক্রম দেখিনি এ নিয়মের। অসুস্থ শরীর নিয়েও উঠে এসেছে জানলায়। কিন্তু হঠাৎ সেদিন দেখলাম চিরন্তন এ নিয়মের ব্যতিক্রম। সেই প্রথম, সেই শেষ। যুবরাজের সঙ্গে আলাপের ঠিক পরের দিন বাড়ি ফেরার পথে দূর থেকে দেখলাম জানলা শূন্যধড়াস করে উঠল বুকটা। নাম-না-জানা এক ভয় সাপের মতো পেঁচিয়ে-পেঁচিয়ে ধরতে লাগল হৃৎপিণ্ডটাকে। দুরুদুরু বুকে প্রবেশ করলাম গৃহে। সারা বাড়ি খুঁজে কোথাও দেখতে পেলাম না ওকে। রান্নাঘর বাথরুম খুঁজি নাম ধরে ডাকি, অপেক্ষা করি, কিন্তু কোনও সাড়া নেই। দু-একজন প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিলাম–সেখানেও নেই। এই করে কাটল দুটি অসহ্য ঘণ্টা। সে কী রুদ্ধশ্বাস উৎকণ্ঠা! কোথায় গেল? কোথায় যেতে পারে? আমার ফেরার সময় সে তো কোথাও যায় না। তবে কি কোনও accident হল রাস্তায়! আর পারলাম না। বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছুটতে লাগলাম নাগরাজন এর অফিসের দিকে।
ষষ্ঠদশ দৃশ্য
(পুলিশ অফিসারের ঘর। যুবরাজ বসে, নাগরাজন দাঁড়িয়ে। যুবরাজের জামার আস্তিনে আর কাঁধে লেগে ব্রোঞ্জ পাউডার। ঝড়ের বেগে মনীশের প্রবেশ)
মনীশ–মিঃ নাগরাজন…
নাগরাজন কী হয়েছে, মিঃ সরকার? আপনার চোখমুখ এরকম কেন? কী হয়েছে?
মনীশ–(ঠোঁট কেঁপে ওঠে) ছন্দা নেই, নাগরাজন–ছন্দা নেই—
নাগরাজন–কেন? কোথায় গেছেন তিনি।
মনীশ–জানি না। বাড়ি ফিরে তাকে দেখতে পেলাম না–দু-ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। মিঃ নাগরাজন, এই সময় সে কোথাও যায় না। নিশ্চয় তার কিছু হয়েছে। আপনি আপনি আমায় help করুন।
(চন্দ্রকেতু উঠে দাঁড়াল। মুখে ক্রুর ব্যঙ্গ-হাসি)
চন্দ্রকেতু–All right, Inspector/ আমি তাহলে এখন চলি। আপনার Progress কেমন হচ্ছে সে বিষয়ে আমার খুবই কৌতূহল। তাই আমি আসি মাঝে-মাঝে। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যেই আপনার তদন্তের report পাব। এতদিন সময় লাগানো অবশ্য আপনাদের মতো দক্ষ অফিসারের উচিত নয়। বিশেষ করে মিঃ সরকারের মতো প্রাইভেট ডিটেকটিভের সাহায্য যখন নিচ্ছেন–চলি–
