মনীশ–হত্যাকারী কে, তা তো পরোক্ষভাবে বলেই দিলেন আপনি। কিন্তু প্রমাণ কোথায়? ঘটনার সময় তো তিনি ফরেস্টে রাইফেল চালাচ্ছেন। নিখুঁত alibi। ঘরের দরজা জানলা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় যুবরাজের নিয়োজিত অন্য কারুর পক্ষেও ঘরের মধ্যে ঢুকে খুন করা Practically impossible
প্যাট্রিসিয়া–Inspector। প্রমাণ খুঁজে বার করার ভার আমার নয়, আপনার। আপনাদের আর কিছু জিজ্ঞাস্য আছে কি? I am so tired।
নাগরাজন–না, Your highness। ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে হয়তো আপনাকে বিরক্ত করতে হতে পারে। আজ আমরা চলি।
প্যাট্রিসিয়া–Just a minute. আজ সকালে যুবরাজ টেলিফোনে আমাকে Contact করেছিলেন। আমাকে আজ রাত্রে Guest House-এর লাইব্রেরি রুমে দেখা করতে বলেছেন।
নাগরাজন–রাত্রে কখন?
প্যাট্রিসিয়া–রাত আটটায়।
নাগরাজন–ব্যাপারটা অদ্ভুত! যুবরাজ আপনার সঙ্গে তো এখানেই দেখা করতে পারেন। উদ্দেশ্য কিছু জানিয়েছেন?
প্যাট্রিসিয়া–উদ্দেশ্য একই। চিঠির প্যাকেট নিয়ে আমার সঙ্গে একটা Final বোঝাঁপড়া করতে চান।
নাগরাজন–আপনি কি যাচ্ছেন?
প্যাট্রিসিয়া–না। একলা অত রাত্রে নিজের মহল ছেড়ে অতদূরে যাওয়ার কোনও বাসনাই নেই। I suggest আমার বদলে যাবেন আপনারা। আমার মনে হয় এমন কিছু আপনারা আজ দেখতে পাবেন সেখানে, যাতে আপনাদের তদন্তের অনেক সুবিধা হতে পারে।
নাগরাজন–মিঃ সরকার কী বলেন?
মনীশ–যুবরানির Plan-এর প্রশংসা করছি। রহস্যময় ঘরখানি দেখতে পারলে ভালোই হয়।
নাগরাজন–বেশ তাহলে আমার অফিসে চলুন। রাত আটটা বাজতে তত বেশি দেরি নেই। ওখান থেকে আমরা আমাদের নিরাপত্তার কিছু সরঞ্জাম নিয়ে নিতে পারব। Good night your Highness।
.
একাদশ দৃশ্য
(লাইব্রেরি ঘর। গণেশ মূর্তি। সামনে দাঁড়িয়ে নাগরাজন আর মনীশ।)
নাগরাজন–দেখুন Mr. Sarkar, এই সেই অভিশপ্ত কক্ষ যেখানে মৃত মার্সডেনকে পাওয়া গিয়েছিল। ওই সেই গণেশ মূর্তি–ওই সিংহাসনের তলায় পড়েছিল লাশ।
মনীশ–মূর্তিটি অপূর্ব। মাথার মুকুট থেকে বিচ্ছুরিত ওই আলোয় কেমন যেন একটা Hypnotic spell রয়েছে। কিন্তু সময় তো উত্তীর্ণ হয়ে গেল। কই, যুবরাজ তো এলেন না।
নাগরাজন–সেই কথাই তো ভাবছি। তবে কি যুবরাজ সব টের পেয়ে গেলেন? তা হলে তো বিপদের কথা।
মনীশ–(ভীতস্বরে) তাহলে আমাদেরই বা থেকে কী লাভ। অনর্থক সমস্ত রাত এখানে বসে থাকার কোনও মানে হয় না। চলুন ফিরে যাই।
নাগরাজন–আর একটু বসুন। নটা বাজলেই ফিরব।
.
দ্বাদশ দৃশ্য
(বসবার ঘর। মনীশ আর ছন্দা বসে আছে।)
মনীশ–শুনলে তো আমাদের আজকের Adventure-এর Report।
ছন্দা–তা তো শুনলাম। কিন্তু যুবরাজ যে সব জানতে পেরে গেছে। কী হবে তাহলে?
মনীশ–কী আবার হবে? অত ভাববার কী আছে?
ছন্দা–দ্যাখো, অমন করে সব উড়িয়ে দিও না। এদেশের লোক আমরা নই, বলতে গেলে বিদেশি–শুধু-শুধু ভবিষ্যৎ মহারাজের বিরাগভাজন হওয়া কি ভালো?
মনীশ–খারাপটাই বা কি?
ছন্দা–(রেগে) খুব বীরত্বপনা দেখানো হয়েছে। কিছুই যেন হয়নি। আমি বলে দিলাম তোমায়–এ ব্যাপারে তোমার আর মাথা গলাবার দরকার নেই। খুনের গল্প লেখো যত খুশি আপত্তি নেই। কিন্তু এ ব্যাপারে যদি আবার মাথা গলাও তবে–তবে দেখবে মজাটা।
মনীশ–আহা, রাগ করো কেন, ছন্দা। কাল নাগরাজন আসবে। তখন অনেক আলোচনা করা যাবে। অত চট করে চটলে কি চলে?
ছন্দা–না, চটবে না। এই বিদেশে সত্যিকার আপনজন বলতে কেই বা আছে বলো তো? বিপদে পড়লে কে দেখবে? দুজনের মধ্যে একজনের যদি কিছু হয় তখন আমার কী হবে? তুমি কি তা ভাবো না?
.
ত্রয়োদশ দৃশ্য
(অন্ধকার মঞ্চে শুধু স্পটলাইটের ফোকাসে দেখা যাচ্ছে মনীশের প্রায়-উন্মাদ আকৃতি। কান্নাজড়ানো গলায় সে বলে যাচ্ছে..)
সেদিনের স্মৃতি আজও আমার মনের মধ্যে দগদগে হয়ে রয়েছে–আজও মনে হয় এ বুঝি মাত্র সেদিনের ঘটনা। স্বামীর অমঙ্গল কামনায় উদগত অঞ কম্পিত কণ্ঠ ছন্দার সেই মিনতি যদি রাখত, মহীশুরের রাজপরিবারের রহস্য থেকে যদি নিজেকে সরিয়ে আনতাম, তবে জীবন আমার এমন অভিশপ্ত হত না। ভগবান, আর যে আমি পারি না।
.
চতুর্দশ দৃশ্য
(বসবার ঘর। মনীশ আর ছন্দা।)
ছন্দা–কী গো, দেখছ কী অমন করে? নিজের বউকে চিনতে পারছ না?
মনীশ হঠাৎ একি বেশ, দেবী। সোনার গয়না ফেলে সর্বাঙ্গে ফুলের সাজ, কবরীতে করবী– গলায় মালা–আমি তো বাপু মুনি ঋষি নয়। আমাকে ভোলাবার জন্যে এত সাজ কেন প্রিয়ে। আমি তো প্রাকটিকালি ভুলেই রয়েছি।
ছন্দা–বাঃ বাঃ! বেশ মানুষ যা হোক। আমি কি তোমায় ভোলাতে এসেছি? কেন আজকের তারিখটা মনে নেই?
মনীশ–আজকের তারিখ…১৭ই ফেব্রুয়ারি। ওঃ হোঃ, একদম ভুলে গেছি। আর তোমারই বা আক্কেলটা কী? মনে করিয়ে দেবে তো। কিছু কেনাকাটা হল না।
ছন্দা–কেন? আমি কেন মনে করাব? দেখছিলাম পুরুষের মন। কিছুই মনে থাকে না। আমি মরলেই তো—
মনীশ–এই সেরেছে। হে সম্রাজ্ঞী, ক্রোধ সংবরণ করুন। আমি আপনার দাস বই আর কিছু না। দাসের সঙ্গে এ মতো ব্যবহার আপনার সাজে না, মহিষী। আমি আপনাকে Gentlemans word দিচ্ছি, যে কানন থেকে এই পুষ্পসম্ভার সঞ্চয় করেছেন আপনি, আমি হবো সেই মালঞ্চের মালাকার।
ছন্দা–বাবাঃ, পেটে পেটে এত! নাও ছাড়ো, অনেক কাজ আছে।
