মার্সডেন–যুবরাজ, এত রাত্রে আমরা কেন এখানে মিলিত হয়েছি তা নিশ্চয়ই আপনার অজানা নয়।
চন্দ্রকেতু–নিশ্চয়ই। অজানা কেন হবে?
মার্সডেন–Whats your decision in the matter জানতে পারি কি?
চন্দ্রকেতু–চিঠিগুলো সম্বন্ধে–তাই না?
মার্সডেন–Yes।
চন্দ্রকেতু–সে কথা তো আপনার বান্ধবীকেই জানিয়েছি।
মার্সডেন–তা আমি জানি। But is that all?
চন্দ্রকেতু–Do you expect anything more?
মার্সডেন–ভেবে দেখুন তার মান-সম্মান, তার ভবিষ্যৎ জীবন, মাদ্রিদে তার বংশের সুনাম।
চন্দ্রকেতু-জানি, জানি। তার মান-মর্যাদার কথা ভাববার দায়িত্ব শুধু আমার একার নয়। তারও ভাবা উচিত ছিল।
মার্সডেন–তার সেই ভুলের সুযোগ নিয়েই কি তার সমস্ত জীবনটা নষ্ট করে দিতে চান আপনি?
চন্দ্রকেতু–Shut up। আমার সিদ্ধান্তের ওপর একজন বিদেশির সমালোচনা শুনতে চাই আমি। যাকে স্পেনের এক সামান্য পরিবার থেকে তুলে এনে বসিয়েছিলাম রানির সিংহাসনে– একদিন যার পুত্রসন্তান হত এ রাজ্যের রাজা–এই তার প্রতিদান? ভুল আমারই হয়েছে–মানুষ তার প্রকৃতির ঊর্ধ্বে কখনওই উঠতে পারে না। আপনার স্পর্ধা দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। জানেন, প্যাট্রিসিয়ার এই অবনতির জন্যে তার এই চরম দুর্ভাগ্যের জন্যে দায়ী কে?
মার্সডেন–আপনার মতে আমি?
চন্দ্রকেতু–হ্যাঁ আপনি। আপনি সেই লোক যার জন্যে আজ তাকে পেতে হবে সারাটা জীবন ধরে অশেষ যন্ত্রণা।
মার্সডেন–ভুলে যাচ্ছেন, যৌবনের শুরু থেকেই আমাদের মধ্যে ভালোবাসা ছিল। সে ভালোবাসা আজও অক্ষয়, অম্লান।
চন্দ্রকেতু–থামুন! ভালোবাসা! ভালো তাকে আমি বাসিনি? যে সিংহাসনের জন্যে এ রাজ্যের বহু সন্ত্রান্ত বংশ প্রতীক্ষা করছে বহুদিন–সে সিংহাসনে তাকে বসবার অধিকার দিয়েছে কে?
মার্সডেন–আপনি কি মনে করেন সেইটেই আপনার ভালোবাসার যথেষ্ট প্রমাণ? আসলে ভালো তাকে আপনি কোনওদিন বাসেননি। বেসেছিলেন তার রূপকে! সত্যিই যদি ভালোবাসতেন, তাহলে সে আমার প্রণয়াকাঙ্ক্ষী জেনেও শুধু রূপের মোহে তাকে জোর করে বিয়ে করতেন না। আপনার লজ্জা হওয়া উচিত যে আজ আপনি আপনার ভুলের সমস্ত দায়িত্ব আমার ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন।
চন্দ্রকেতু-Language! Language! Mr. Marsden। এই ধরনের মন্তব্য করার পরেও আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস আজ অবধি কারুর হয়নি। However, আপনার সঙ্গে বেশি সময় নষ্ট করার মতো সময় আমার নেই। বলুন, কী চান আপনি?
মার্সডেন–আমার চিঠিগুলো ফেরত চাই।
চন্দ্রকেতু–পাবেন না।
মার্সডেন–পাবই। এবং আপনি হাতে করে দেবেন।
চন্দ্রকেতু-তাই নাকি?
মার্সডেন–Exactly। মনে রাখবেন যুবরাজ। আগুন নিয়ে খেলা করছেন আপনি। আমাদের দুজনকে যদি আপনি কলঙ্কের পাঁকে ডোবাতে চান, মনে রাখবেন, আপনিও রেহাই পাবেন না। আপনাকে নিয়েই আমরা ডুবব।
চন্দ্রকেতু–অর্থাৎ?
মার্সডেন–অর্থাৎ চিঠি শুধু আমিই প্যাট্রিসিয়াকে লিখিনি, সেও আমায় লিখেছে। আর সে আপনার বিবাহিতা স্ত্রী।
চন্দ্রকেতু–Blackmail!!
মার্সডেন–অনেকটা। তবে আমার শর্ত ব্ল্যাকমেলারদের মতো অতটা কঠিন নয়। শুধু চিঠির প্যাকেটটা আমাকে দিলেই আপনি মুক্ত হতে পারেন। প্যাট্রিসিয়ার চিঠিগুলো আপনার সামনেই পুড়িয়ে ফেলব আমি।
চন্দ্রকেতু–ব্ল্যাকমেলারদের বিশ্বাস…
মার্সডেন–করা না করা আপনার মর্জি। তবে করলে আপনি উপকৃতই হবেন।
চন্দ্রকেতু–Mr. Marsden।
মার্সডেন–বলুন।
চন্দ্রকেতু–এ বিষয় নিয়ে আমার একটু চিন্তার দরকার। কয়েক মিনিট একলা থাকতে দেবেন?
মার্সডেন–Of course। আমি আমার ঘরে যাচ্ছি। আপনি ডেকে পাঠাবেন।
.
অষ্টম দৃশ্য
(রানির ঘর। যুবরানি, মনীশ আর নাগরাজন।)
মনীশ–এসব কথা আপনি জানলেন কী করে?
প্যাট্রিসিয়া–যুবরাজের সঙ্গে অদ্ভুত এক চুক্তিতে রফা হওয়ার পর মার্সডেন সেখান থেকেই টেলিফোন করে আমায় সব জানিয়েছিল। তার মনে তখন ছিল জয়ের উল্লাস।
মনীশ–কী অদ্ভুত চুক্তি? আপনি জানেন নাকি?
প্যাট্রিসিয়া–হ্যাঁ, শুনুন তবে।
.
নবম দৃশ্য
(লাইব্রেরি ঘর। গণেশ মূর্তি। যুবরাজ আর মার্সডেন।)
চন্দ্রকেতু–Mr. Marsden। চিঠিগুলো আপনাকে আমি দেব, কিন্তু একটি শর্তে।
মার্সডেন–বলুন?
চন্দ্রকেতু–চিঠিগুলো আপনাকে খুঁজে নিতে হবে।
মার্সডেন–আমাকে?
চন্দ্রকেতু–হ্যাঁ। আমি এখন ফরেস্টে যাচ্ছি শিকার করতে। চিঠিগুলো এই লাইব্রেরি ঘরেই আছে। খুঁজে নিন।
মার্সডেন–এই ঘরেই?
চন্দ্রকেতু–হ্যাঁ, এই ঘরে। খুঁজে নেওয়ার ভার আপনার। যদি পান ভালো না পেলেও ভয় নেই চিঠিগুলো আপনি পাবেন তবে আপনাকে এবং প্যাটকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
মার্সডেন–বেশ, আমি রাজি।
চন্দ্রকেতু–ঠিক আছে। আমি চললাম। (চন্দ্রকেতু বেরিয়ে যেতেই টেলিফোনের রিসিভার তুলল মার্সডেন।)
মার্সডেন–হ্যালো, প্যাট্রি, মার্সডেন Speaking….
(মঞ্চ অন্ধকার হয়ে এল..মার্সডেনের কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হতে ক্ষীণতর হয়ে এল।)
.
দশম দৃশ্য
(রানির ঘর। যুবরানি, মনীশ আর নাগরাজন বসে রয়েছে।)
প্যাট্রিসিয়া–তারপর সারাটা রাত কাটিয়েছি অস্থিরভাবে। ভোর হয়ে গেল কিন্তু মার্সডেন ফিরল না। বারবার ফোন করেছি। প্রতিবারই ফোনে Ring হয়েছে শুধু, কেউ ধরেনি। তখনই দারুণ সন্দেহ আর আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে পড়ি। তারপর কী হয়েছে–আপনারা তো জানেন।
