মনীশ–আমার ঔদ্ধত্য মার্জনা করবেন, কিন্তু Mr. Marsden-এর চিঠিগুলো যুবরাজের হস্তগত হয়েছে, একথাই কি আপনি বলতে চাইছেন?
প্যাট্রিসিয়া–আপনার অনুমান সত্য এবং সেই ব্যাপারেই বোঝাঁপড়া করতে চেয়েছিল। মার্সডেন।
মনীশ–তারপর?
প্যাট্রিসিয়া–এখানে এসে মার্সডেন প্রথমেই আমার সঙ্গে দেখা করে সব ব্যাপারটা আমায় জানায়। তারই নির্দেশমতো আমি যুবরাজের সঙ্গে দেখা করি। ভালোভাবেই শুরু করি কথাবার্তা– একথা-সেকথার পর আসল প্রসঙ্গে এলাম।
.
পঞ্চম দৃশ্য
(রাজঘর। যুবরাজ আর যুবরানি বসে আছেন)
চন্দ্রকেতু–কিছু বলবে?
প্যাট্রিসিয়া–হ্যাঁ ডার্লিং, একটা কথা তোমায় বলার ছিল–If you dont mind–
চন্দ্রকেতু–Oh yes, বলবে বইকী। বলার যখন আছে তখন নিশ্চয় বলবে। বলো–আমি শুনছি।
প্যাট্রিসিয়া–বেশ কিছুদিন ধরে আমার চিঠিপত্র নিয়মিত পাচ্ছি না।
চন্দ্রকেতু–তাই নাকি? বেশ, আমি খোঁজ নিচ্ছি।
প্যাট্রিসিয়া–খোঁজ আমি নিজেই নিয়েছি। অন্য সব চিঠি আমি ঠিক পেয়েছি। শুধু একজনের চিঠিরই গোলমাল হচ্ছে।
চন্দ্রকেতু–কে সেই ভাগ্যবান?
প্যাট্রিসিয়া–তার নাম তোমার অজানা নয়, চন্দ্র। মার্সডেনের একটা চিঠিও আমি গত কমাস ধরে পাইনি। What happened to those letters?
চন্দ্রকেতু–(তীব্রস্বরে) আমার সঙ্গে নরম সুরে কথা বলো, প্যা। মনে রেখো এটা তোমার মাদ্রিদ নয়।
প্যাট্রিসিয়া–জানি এটা মাদ্রিদ নয়–এটা Mysore, তোমার স্বদেশ–তোমার স্বেচ্ছাচারিতার, তোমার উজ্জ্বলতার লীলাক্ষেত্র। কিন্তু তাই বলে আমার ব্যক্তিগত চিঠি চুরি করার মতো মনোবৃত্তি আমি তোমার কাছে আশা করিনি।
চন্দ্রকেতু–চুরি।
প্যাট্রিসিয়া–Yes চুরি। না বলে পরের জিনিস নেওয়াকে চুরি বলে–তা কি তুমি জানো না।
চন্দ্রকেতু–মূর্খ! তুমি পুরুষ হলে চাবুক দিয়ে তোমায় শিখিয়ে দিতাম কী করে যুবরাজ চন্দ্রকেতুর সঙ্গে কথা বলতে হয়। Yes, তোমার সব চিঠি আমিই নিয়েছি নিয়েছি এ রাজ্যের মঙ্গলের জন্য। তোমার মতো পরপুরুষ আসক্ত নারীর যাতে এ রাজ্যের রানি হওয়ার কোনও দাবি না থাকতে পারে–তার ব্যবস্থাই করতে হবে আমায়।
প্যাট্রিসিয়া–Well, তুমি যদি ভেবে থাকো, তোমার রানি হওয়ার জন্য আমি আকুল– তবে, তুমি খুব ভুল করেছ। তুমি জানতে মার্সডেনের সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক আছে। তা সত্ত্বেও রূপের মোহে তুমি আমায় বিয়ে করেছিলে। আমার দরিদ্র বাবা-মাকে পয়সার লোভ দেখিয়ে মত আদায় করতে তোমার বাধেনি। বাবা-মার মনে কষ্ট দিতে চাইনি তাই মার্সডেনের সঙ্গে সকল সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়ে, এসেছিলাম তোমার সঙ্গে।
চন্দ্রকেতু–কিন্তু এখন আবার সে সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হল কেন? আমাকে দোহন করার জন্যে?
প্যাট্রিসিয়া–নিজে ব্যভিচারের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে নিশ্চয় আশা করো না তোমার স্ত্রী তোমার কীর্তিকলাপ শুনে পরম সুখে দিন যাপন করবে রানিমহলের নিঃসঙ্গ বিলাসকক্ষে? তোমার দ্বিতীয় প্রশ্নের শ্লেষটুকু আমি গায়ে মাখলাম না। মাদ্রিদে আমাদের বংশের ঐতিহ্য যে কত সুপ্রাচীন তা তোমার অজানা নয়।
চন্দ্রকেতু–নিশ্চয়ই অজানা নয়। আর তাই প্রমাণ করে দেব সে বংশে জন্মগ্রহণ করেও কত নিচে তুমি নেমেছ। একটা রাজ্যের যুবরানির পদে অভিষিক্ত থেকেও সামান্য একটা পর পুরুষের সঙ্গে প্রেম পত্রালাপ করতে তোমার ঐতিহ্যে বাধে না।
প্যাট্রিসিয়া–তার জন্যে তুমিই Responsible। আমি তো সব ছেড়েই চলে এসেছিলাম। কিন্তু তুমি…।
চন্দ্রকেতু–Yes, আর সেইসঙ্গে ঘুচিয়ে দেব এ রাজ্যের সঙ্গে তোমার সব সম্পর্ক। এই মার্সডেনের সঙ্গে তোমাকে ফেরত যেতে হবে তোমার বাবা-মার কাছে–মাদ্রিদে।
প্যাট্রিসিয়া–না, কেতু। তা তুমি কখনও করতে পারো না। আমার বৃদ্ধা মা, বাবা, আমার আত্মীয়স্বজন আমার বংশ–
চন্দ্রকেতু–অনেক-অনেক আগে তোমার ভাবা উচিত ছিল, তোমার মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনের কথা। এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। মজার কথা কি জানো, আমাদের হিন্দু বিবাহে Divorce পাওয়া খুব সোজা নয়। তাই তোমায় যদি আমি ত্যাগ করি, তাহলে স্বামী পরিত্যক্তার কলঙ্কিত জীবন নিয়ে তোমাকে হয়তো একা জীবন কাটাতে হবে।
প্যাট্রিসিয়া–না, না, চন্দ্র। এত নিষ্ঠুর তুমি হয়ো না। একদিন তো তুমি আমায় ভালোবেসেছিলে?
চন্দ্রকেতু–হ্যাঁ বেসেছিলাম। সে ভালোবাসার ফল তুমি পেয়েছ। এখন আমি তোমায় ঘৃণা করি। সে ঘৃণার বিষফলও তোমায় পেতে হবে। Good night, My Queen, Good night.
.
ষষ্ঠ দৃশ্য
(রানির ঘর। মনীশ, যুবানি, নাগরাজন বসে আছে।)
মনীশ–এ ঘটনাটা ঘটেছে কতদিন আগে?
প্যাট্রিসিয়া–মার্সডেনের মৃত্যুর পনেরো দিন আগে।
মনীশ–এ বিষয়ে মার্সডেনের সঙ্গে যুবরাজের কথা হয়েছিল?
প্যাট্রিসিয়া–হয়েছিল।
নাগরাজন–কবে?
প্যাট্রিসিয়া–তার মৃত্যুর রাত্রেই।
মনীশ–আপনি জানেন সেসব কথা?
প্যাট্রিসিয়া–জানি। (গলা ধরে আসে) সে রাতে লতিতা মহলের লাইব্রেরি রুমে ওদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা হয়েছিল।
মনীশ–যদি আপত্তি না থাকে…
প্যাট্রিসিয়া–বেশ শুনুন…
.
সপ্তম দৃশ্য
(লাইব্রেরি ঘর। একটা ব্রোঞ্জের গণেশ মূর্তি সিংহাসনে। সামনে পাদানী
মুকুট থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। চন্দ্রকেতু আর মার্সডেন তার সামনে দাঁড়িয়ে। পাশে একটা ডায়াল টেলিফোন। ব্রোঞ্জের মূর্তি, সদ্য ব্রোঞ্জপেন্ট করা। মূর্তির মুকুট থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে।)
