নাগরাজন–কোনও অস্ত্র তো পাওয়া যাচ্ছে না।
চন্দ্রকেতু–মার্ডার?
নাগরাজন–দরজা-জানলা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, হাইনেস। খুনি এল কোথা দিয়ে গেলই বা কী করে?
চন্দ্রকেতু–খুনও নয়–আত্মহত্যাও নয়। Well, then?
নাগরাজন–এ রহস্যের কিনারা করতে সময়ের প্রয়োজন।
চন্দ্রকেতু–বটে। সময় পেলে কিনারা করতে পারবেন? বেশ, দিলাম সময়। করুন কিনারা। You want my statement?
নাগরাজন–If you please.
চন্দ্রকেতু–মার্সডেনের সঙ্গে আমার আলাপ মাত্র একমাসের আর গতরাত্রে আমি Forest এ ছিলাম আমার অনুচরদের সঙ্গে–এই আমার জবানবন্দি। আর খুনি কে তা যদি জানতে চান তাহলে শুনুন–খুনি আমি নিজে।
নাগরাজন–Your হাইনেস, আমি একজন নগণ্য কর্মচারী। আপনার পরিহাসের যোগ্য নই।
চন্দ্রকেতু–পরিহাসের সময় এটা নয় Inspector। আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, এটা আত্মহত্যা না খুন–আমি বলব খুন। যদি জিগ্যেস করেন, খুনি কে? বলব আমি স্বয়ং। তারপরের কাজটা–প্রমাণ করার দায়িত্বটা আপনার আমার নয়। প্রমাণ করুন, আমি খুনি। সময় চাইছিলেন– সময় দিলাম।
(শিস দিয়ে প্রস্থান)
.
তৃতীয় দৃশ্য
(বসবার ঘর। নাগরাজন, ছন্দা আর মনীশ বসে রয়েছে।)
নাগরাজন–(চিন্তিতভাবে) যুবরাজ সময় দিয়েছিলেন বটে, কিন্তু প্রায় একমাস হয়ে গেল। Mr. Sarkar, এক পা-ও এগুতে পারলাম না।
মনীশ–যুবরাজের কথা শুনে আপনার কী মনে হল? সত্যিই কি তিনি
নাগরাজন–ভগবান জানেন। যে সুরে তিনি কথা বললেন–তা থেকে সত্যি মিথ্যে ধরা অসম্ভব।
মনীশ–মার্সডেনের সঙ্গে কি যুবরাজের কোনওরূপ শত্রুতা থাকা সম্ভব? মানে যদি কোনও ত্রিভুজ প্রেমের ব্যাপার–
নাগরাজন–কী করে বলি বলুন? যদি সেরকম কিছু থেকে থাকেও, যুবরানির confession ছাড়া তো সেকথা জানা যাবে না কোনওদিন।
মনীশর–Statement নেননি এখনও?
নাগরাজন–রাজাদের ঘরের বউয়ের নাগাল কি আর অত সহজে পাওয়া যায় মনীশবাবু। দরখাস্ত করেছি মহারাজের কাছে। এখনও অনুমতি মেলেনি। তবে গতকাল একটা চিরকুট পেয়েছি যুবরানির কাছ থেকে। এই দেখুন–
(নাগরাজন চিরকুট দিল মনীশের হাতে। মনীশ সামনে ধরে রয়েছে)
মনীশ–নারীকণ্ঠে শোনা যায় চিরকুটের কথাগুলি) মার্সডেনের মৃত্যু রহস্য নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করলে উপকৃত হবেন। কোনও Signature নেই দেখছি। কবে যাচ্ছেন?
নাগরাজন–কাল যাওয়ার ইচ্ছে আছে। আপনিও চলুন না আমার সঙ্গে।
মনীশ–আমি মানে কিন্তু তিনি ডেকেছেন আপনাকে আমাকে allow করবেন কেন?
নাগরাজন–সে দায়িত্ব আমার। দেখুন crime detection-এর দিক দিয়ে কলকাতা যে আজ ভারতবর্ষকে পিছনে ফেলে দিয়েছে তা আমার অজানা নয়। এদিক দিয়ে বাঙালিদের আমি শ্রদ্ধা করি। তা ছাড়া আপনি ডিটেকটিভ গল্প লেখেন–জেরা করার একটা সহজাত প্রবণতা থাকা আপনার স্বাভাবিক। কী বলেন, মিসেস সরকার?
ছন্দা–তা আর বলতে। আমি তো একেবারে জেরবার হয়ে যাচ্ছি দিনেরাতে।
(সকলে হেসে ওঠে)
মনীশ–কিন্তু।
নাগরাজন–আর কোনও কিন্তু নয়, তাহলে ওই কথাই রইল।
.
চতুর্থ দৃশ্য
(রানির ঘর। যুবরানি প্যাট্রিসিয়া, নাগরাজন আর মনীশ।)
প্যাট্রিসিয়া–Your name please?
নাগরাজন–আলেক নাগরাজন–C.I.D. Inspector, যাকে আপনি আসতে বলেছিলেন। আর ইনি হচ্ছেন আমার বন্ধু মনীশ সরকার বাঙালি। ইনি একজন অ্যামেচার প্রাইভেট ডিটেকটিভ।
প্যাট্রিসিয়া–বিশ্বাস করতে পারি নিশ্চয়ই?
নাগরাজন–আমাকে যদি পারেন–তাহলে ওঁকেও পারবেন।
প্যাট্রিসিয়া–বেশ, বলুন কী জানতে চান।
নাগরাজন–Your highness আমাকে আজ ডেকে পাঠিয়েছিলেন to discuss Mr. Marsdens death.
প্যাট্রিসিয়া–Right. But do you think it an ordinary death?
নাগরাজন–Postmortem একে আত্মহত্যা নয় বলেই Report দিয়েছে।
প্যাট্রিসিয়া–Alright. আপনি কি জানেন It is a case of murder?
নাগরাজন–Yes, your highness
প্যাট্রিসিয়া–হত্যাকারী কে, জেনেছেন?
নাগরাজন–আমি যদি বলি, বিশ্বাস করবেন না, Your highness।
প্যাট্রিসিয়া–হত্যাকারীকে উচিত শাস্তি দিতে পারবেন? ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলুন।
নাগরাজন–শপথ করছি।
প্যাট্রিসিয়া–মার্সডেনের সঙ্গে এ দেশে কার কার আলাপ আছে জেনেছেন?
নাগরাজন–যতদূর জেনেছি, শুধু আপনার সঙ্গে আর যুবরাজের সঙ্গে।
প্যাট্রিসিয়া–এদের মধ্যেই একজন খুনি।
মনীশমাপ–করবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে স্পষ্ট প্রশ্ন করা ছাড়া উপায় নেই।
প্যাট্রিসিয়া–Dont hesitate।
মনীশ–আপনি নিশ্চয় খুন করেননি?
প্যাট্রিসিয়া—(মৃদু হেসে) আপনার অনুমান সত্য। আমি তাকে ভালোবাসতাম।
মনীশ–একথা যুবরাজ জানতেন?
প্যাট্রিসিয়া–Yes, জানতেন।
মনীশ–কতদিন থেকে।
প্যাট্রিসিয়া–স্পষ্টভাবে জানতে পারেন বিয়ের ছমাস পর থেকে।
মনীশ–Excuse me, এরপর থেকে কি আপনাদের মধ্যে অশান্তির সূত্রপাত হয়?
প্যাট্রিসিয়া–Thats right।
মনীশ–কিন্তু Mr. Marsden হঠাৎ এ দেশে এলেন কেন?
প্যাট্রিসিয়া–আমায় নিয়মিত চিঠি লিখত Marsden। আমিও লিখতাম। আমার এ দেশে আসার পর প্রায় ছমাস ঠিকমতো তার চিঠি পেয়েছিলাম। তারপর হঠাৎ একদিন বন্ধ হয়ে গেল চিঠি আসা। অধীর হয়ে চিঠির পর চিঠি লিখতে লাগলাম। কিন্তু কোনও উত্তর পেলাম না। তারপর হঠাৎ একদিন মার্সডেন এসে হাজির হল এখানে।
