মদন নামের একটি ছেলেকে, আমি কথা শেষ করতে পারি না।
মদ্না, দি বাস্টার্ড, ফয়জুন্নেসা ফয়েজ বলেন, আপনি ওই বাস্টার্ডটার পক্ষে কথা বলতে এসেছেন? খুব উত্তেজিত ফয়জুন্নেসা ফয়েজ।
না, ভাবী, আমি কথা বলতে এসেছি মদনের বিপক্ষেই। মদনের সাথে আমার ছোটো বোনের বিয়ে হয়েছিলো, আমি বলি, একটি বাচ্চাও আছে।
আমি জানতাম বাস্টার্ডটা বিয়ে করেছে, একটি মুসলমান মেয়েকেই করেছে, সে যে আপনার বোন, তা জানতাম না। বাস্টার্ডটাকে আমি পছন্দই করতাম, সে বলতো সে আমাকে পছন্দ করে, বলতো আমার জন্যেই এ-বাসায় আসে, আমি বিশ্বাস করতাম। তার বউ আছে এটা কোনো সমস্যাই ছিলো না, বাস্টার্ডটাকে ভাগানোর কোনো ইচ্ছে আমার ছিলো না। আমি চেয়েছিলাম মাঝেমাঝে সঙ্গ।
আপনি মনে হয় ভুল করেছিলেন, আমি বলি।
ভুল করেছিলাম, তবে ভাগ্য ভালো মেনোপজটা অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিলো, নইলে একটা ঝামেলা হতো। ফয়জুন্নেসা ফয়েজ বলতে থাকেন, হারামজাদার বাচ্চা দুপুর হলেই এখানে চলে আসতো, খেতো এখানেই, তিলোত্তমা ওকে জড়িয়েটড়িয়ে ধরতো, কিন্তু রিলেশনটা ছিলো আমার সঙ্গেই। খেপে ওঠেন। ফয়জুন্নেসা ফয়েজ।
এখন কী করা যায় বলুন, একটা কিছু করা দরকার, আমি বলি।
কিছু করতে পারলে আমি নিজের জন্যেই করতাম, ফয়জুন্নেসা ফয়েজ বলেন, তিলোত্তমা চার মাসের প্রেগন্যান্ট, আমিও দেড় বছরের প্রেগন্যান্ট হতে পারতাম মেনোপজটা না হলে।
আমার বোনটি ভেঙে পড়েছে, আমি বলি, ওও মদনকে বিশ্বাস করতো।
আমি কি কম ভেঙে পড়েছি মনে করেন? ফয়জুন্নেসা ফয়েজ বলেন, মদনের সাথে দুপুরগুলোর কথা কি আমার মনে পড়ে না? মেয়ের কাছে হেরে যেতে আমার কষ্ট লাগে না? ও আমার অভ্যাসই বদলে দিয়েছিলো, রাতের বদলে দুপুর। খুব দক্ষ ছিলো মদন।
আমি কথা হারিয়ে ফেলি, শুধু বুঝতে পারি ইসমতকে আমি উদ্ধার করতে পারবো না।
ফয়জুন্নেসা ফয়েজ বলেন, তিলোত্তমার কাছে আমি দাঁড়াতে পারি না, তার যৌবন আছে, আপনি তো তাকে দেখেছেন, মদনা তিলোত্তমাকে রেখে আপনার বোন বা আমার কাছে ফিরে আসবে না।
দেয়ালে তিলোত্তমার ছবিটার ওপর আমার চোখ পড়ছে বারবার, আমি তার সাথে একমত; আমি যদি মদন হতাম তাহলে কি ফিরতাম, দেয়ালের ওই ছবিটি যার, তার শরীরটি ফেলে কি পাঁচপাঁচটি বাচ্চার মায়ের শরীরের কাছে ফিরতাম? মদনকে জেলে পাঠাতে পারি, হয়তো পাঠাতেও হবে, তবে মদন আনন্দে জেলে যাবে, জেলে যেতে তার কষ্ট হবে না, সুখই লাগবে, বেরিয়ে তিলোত্তমার কাছে যাবে তিলোত্তমা যতো দিন। তিলোত্তমা আছে, তারপর অন্য কোথাও যেতে পারে, কিন্তু তার আগে যাবে না, আমিও যেতাম না।
ফয়জুন্নেসা ফয়েজ বলেন, আপনার বোনের একটি পুরুষ দরকার, আমারও একটি পুরুষ দরকার, আমি এখনো বাতিল হয়ে যাই নি। পুরুষ আমি পাবো, পেতেই হবে আমাকে, রাস্তাঘাটে পুরুষের অভাব নেই, কুত্তার মতো ঘুরছে তারা, কিন্তু মদনার মতো একটা ছোঁকরা পাবো কি না জানি না।
আমাকে উঠতে হবে, ইসমতকে আমি উদ্ধার করতে পারবো না, কাউকেই পারবো না। উদ্ধার করার কথা ভাবতেই আমার খারাপ লাগছে, আমি হয়তো সুস্থ নই, নইলে এমন নিরর্থক কাজের ভার আমি নিলাম কী করে? ইসমতের একটি পুরুষ লাগবে, ইসমতকে একটি পুরুষ নিজেই খুঁজে নিতে হবে, তা ইসমত পারবে; ইসমত চাইলে ইসমত পারে, কিন্তু মদনকে সে পাবে না। মনে হচ্ছে মদনকে ইসমত ফিরে পেতে চায়, এখানেই আমার একটু কষ্ট হচ্ছে, যে ফিরে পেতে চায় সে ভিক্ষুক, ইসমত এখন ভিক্ষুক, আমার কষ্ট হচ্ছে, মদনকে ফিরে পেতে চায় ইসমত, হয়তো তার ঘুম হয় না। কাউকে ফিরে পেতে চাওয়ার মধ্যে গভীর যন্ত্রণা আছে, ইসমত সে-যন্ত্রণার মধ্যে আছে। পরিত্যাগ করা বেশ সুখকর; যে পরিত্যাগ করে, সে ফেলে যায় বাসি মাল, যে-বাসি মাল তার আর রোচে না, সে আরো টসটসে কিছু পেয়েছে, তার স্বাদ তীব্র, সে কোনো অভাববোধের মধ্যে থাকে না; ইসমত এখন বাসি বস্তু, মদনের অখাদ্য, এখন চরম অভাববোধের মধ্যে রয়েছে ইসমত, আর ফয়জুন্নেসা ফয়েজ; তাদের কাউকেই আমি উদ্ধার করতে পারবো না। আমাকে এখন উঠতে হবে।
আপনি মাঝেমাঝে দুপুরবেলা আসতে পারেন, ফয়জুন্নেসা ফয়েজ বলেন।
ধন্যবাদ ভাবী, আসতে চেষ্টা করবো, কিন্তু আমি বেশ ব্যস্ত থাকি, আমি বলি।
তার মানে আমার শরীরে আপনার চলবে না, উত্তেজিত হন ফয়জুন্নেসা ফয়েজ, আপনার তরতাজা শরীর দরকার, পুরুষদের আমি ভালোভাবেই চিনি। তিলোত্তমা যদি আসতে বলতো তাহলে আপনার কোনো ব্যস্ততা থাকতো না।
আমি বেরোনোর জন্যে উঠে দাঁড়াই, ফয়জুন্নেসা ফয়েজ উঠবেন না মনে হচ্ছে, আমার তা দরকার নেই। ইসমত অপেক্ষা করে আছে, আমার খারাপ লাগছে ইসমত অপেক্ষা করে আছে, অর্থাৎ আশা করছে আমি তার শান্ত সুবোধ মদনকে ধরে নিয়ে যাবো, মদন তার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলবে ভুল হয়ে গেছে, সে আর তিলোত্তমার কাছে যাবে না, তার কাছেই থাকবে, তার কাছেই সে সুখ পায়, অন্য কোথাও পায় না, সে। তিলোত্তমাকে ভালোবাসে না, ইসমতকেই ভালোবাসে। রাতে আবার এক সঙ্গে ঘুমোবে, ইসমত আশা করে আছে, এটাই আমার খারাপ লাগছে। ইসমতের আজকাল ঘুম হচ্ছে না, সে খুব হতাশ হয়ে পড়েছে, নিজেকে বুড়িই মনে করছে; সে যতোবার কথা বলছে মদনকে দোষ দিচ্ছে না, দোষ দিচ্ছে তিলোত্তমাকে, তিলোত্তমা একটি খানকি, সে-ই নিয়ে গেছে তার মদনকুমারকে, মদনকুমারের মতো দুধের শিশুকে, মদনকুমারের কোনো দোষ নেই, সব দোষ তিলোত্তমার। হেরে যাওয়ার কাঁটাটা ধারালোভাবে ঢুকে গেছে ইসমতের ভেতরে, আরেকটি পুরুষ না পাওয়া পর্যন্ত কাঁটাটা গেঁথে থাকবে, ভেতরে পচবে, আরো জ্বালা দেবে, খসবে না। শরীরটিও কষ্ট পাচ্ছে ইসমতের, এমন অবস্থায় শরীর আরো খাই খাই করে, সবখানে ব্যথা করতে থাকে, মনে হতে থাকে কেউ ভেঙে চুরমার করে দিলে শাবল দিয়ে খুঁড়ে তছনছ করে দিলে শান্তি হতো, ইসমতের তেমন হচ্ছে নিশ্চয়ই, কিন্তু আমি তার কোনো উপকার করতে পারি না।
