সেই প্রথম বড়ো ক্যাডাররা এসে বড়ো সেইটাছাড়ার বাড়ি জিপ পাঠায়।
সেইটাছাড়া স্যুটকোট পরে প্রস্তুত হয়েই বসে ছিলেন, কয়েক দিন ধরেই বসে ছিলেন, ডাক আসতে একটু সময় লাগে, তারা তখনো খুনাখুনি শেষ করে উঠতে পারে নি, বসে থাকতে থাকতে তার পাছায় বাত ধরে যায়; হঠাৎ একঝক ক্যাডার দরোজা ভেঙে ঢুকছে দেখে তিনি ভয় পেয়ে যান, দৌড়ে গিয়ে বাথরুমে ঢোকেন; কমোডের ওপর বসে পড়েন, কিন্তু কমোডে বসে কী করতে হয় ভুলে যান; এবং উল্টোপাল্টা কাজ করতে থাকেন। একবার লাফিয়ে কমোডের ভেতরে ঢুকে পড়তে চান, কিন্তু মাথায় বাড়ি লেগে আবার কমোডে বসেন; আবার কমোডের ঢাকনার ওপর বসে পড়েন যেমন ছেলেবেলায় পিঁড়িতে বসতেন। ব’সে জীবনে এতো আরাম আর কখনো তিনি পান নি।
তিনি বলেন, কমোড, আমারে রক্ষা করিও, জীবন দান করিও।
কমোড থপথপ শব্দ করতে থাকে।
এক ক্যাডার দরোজায় লাথি মেরে বলে, স্যার, প্লিজ কাম আউট, ডোন্ট বি অ্যাফ্রেইড; আওয়ার লিডার হ্যাঁজ অর্ডার্ড আস টু মেইক ইউ অ্যাভেইলেবল অ্যাট বঙ্গভবন ইন টেন মিনিটস টাইম; হি উইল মেইক ইউ দি প্রেছিডেন্ট অ্যান্ড দি ছিএমএলএ। দ্যাশে ইম্মেডিয়েটলি ড্যামোক্রেসি দরকার, প্লিজ কাম আউট উইদাউট মাচ ডিলে; দি বাথরুম ইজ নট ইয়োর প্রপার প্লেস, বঙ্গভবন কস্ ইউ; আওয়ার ড্যামোক্রেসি ওয়ান্টস্ ইউ।
সেইটাছাড়া বাথরুম থেকে বেরিয়ে ক্যাডারদের স্যালুট দেন।
ক্যাডাররা তাকে কোলে করে জিপে তোলে। সান্ধ্য আইন বুঝে নভেম্বরের হাল্কা কুয়াশা তখন বিব্রতভাবে ছড়িয়ে আছে চারদিকে, পথে কোনো মানুষ নেই, কয়েকটি কুকুর রাজত্ব করছে রাজপথে, ক্যাডাররা তাঁকে জিপে তুলে দেখে বসার জায়গা নেই। তারা তাকে কোলেই তুলে রাখে–বেশ হাল্কাপাতলা জিনিশ, দেশি মুরগির মতো; এবং বঙ্গভবনের ভেতরে ঢুকে প্রধান ক্যাডারের সামনে বাজারের থলের মতো ছুঁড়ে দেয়।
সেইটাছাড়া কোনো মতে দাঁড়িয়ে প্রধান ক্যাডারকে স্যালুট দেন।
প্রধান ক্যাডার বলেন, ইউ শুড নট স্যালুট মি, ইনস্টেড আই শ্যাল স্যালুট ইউ; আই অ্যাম গোয়িং টু মেক ইউ দি প্রেছিডেন্ট অ্যান্ড দি ছিএমএলএ রাইট নাউ। দ্যাশে ড্যামোক্রেসি দরকার, পিপল আর হাংরি ফর ড্যামোক্রেসি, ড্যামোক্রেসি নিড়স্ ইউ ফর দি টাইম বিয়িং।
প্রধান ক্যাডার একটা মারাত্মক স্যালুট মারেন, তাঁর বুটের আঘাতে বঙ্গভবন ভেঙে পড়তে চায়; সেইটাছাড়া স্যালুটের শব্দে ভয় পেয়ে যান।
প্রধান ক্যাডার বলেন, নাউ, ইউ আর দি প্রেছিডেন্ট অ্যান্ড দি ছিএমএলএ। আমি যেভাবে বলবো, সেভাবে আপনি কান্ট্রি রুল করবেন; তাহলে ড্যামোক্রেসি আসতে দেরি হবে না; উই অল বিলিভ ইন ড্যামোক্রেসি, আমরা দ্যাশে ড্যামোক্রেসি এনে ছাড়বো, ড্যামোক্রেসি ছাড়া কান্ট্রি চলতে পারে না।
প্রেসিডিএমএলএ প্রধান ক্যাডারের গোঁফ দেখতে পান, কিন্তু চোখ দেখতে পান না; তার চোখ দেখতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সানগ্লাসের সামরিক বেরিয়ার পেরিয়ে ওই অসূর্যম্পশ্য চোখ দুটি তিনি দেখতে পান না।
প্রধান ক্যাডারের কথায় চমকে উঠে তিনি বলেন, ইয়েস, স্যার।
প্রধান ক্যাডার বলেন, ইউ আর দি প্রেছিডেন্ট অ্যান্ড দি ছিএমএলএ, ডোন্ট অ্যাড্রেস মি অ্যাজ স্যার; আই অ্যান্ড উই অল উইল অ্যাড্রেস ইউ অ্যাজ স্যার। ইউ মাস্ট আন্ডারস্ট্যান্ড ড্যামোক্রেসিতে দি প্রেছিডেন্ট অ্যান্ড দি ছিএমএলএ ইজ অ্যাবাভ অল।
প্রেসিছিএমএলএ বলেন, ইয়েস, মাই প্রভু, জি, আমার মনিব।
প্রধান ক্যাডার বলেন, ইউ আর দি প্রেছিডেন্ট অ্যান্ড ছিএমএলএ; আই অ্যাম দি ডিজিএমএলএ নাম্বার ওয়ান, দ্যায়ার আর টু মোর ডিছিএমএলএস; অ্যান্ড দিজ গাইজ আর ইওর অ্যাডভাইজারস্। হিয়ার ইজ এ রিটায়ার্ড জাস্টিস অফ দি সুপ্রিম কোর্ট, হি উইল অ্যাক্ট অ্যাজ ইউর স্পেশাল অ্যাসিস্টেন্ট, বাট ইন ফ্যাক্ট হি উইল অ্যাক্ট অ্যাজ মাই ব্যাটম্যান। উই অল আর ওয়েটিং ফর ড্যামোক্রেসি।
প্রেছিছিএমএলএ ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করেন, আমার কী কাজ হইবে, আপনি আমাকে কী কাজ দিবেন দয়া করিয়া?
প্রেছিছিএমএলএ অভ্যাসবশত একটি সম্বোধন করতে গিয়ে সানগ্লাসের দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে থেমে যান। সানগ্লাসে তিনি কালো আগুন জ্বল জ্বল করে জ্বলে উঠতে দেখেন।
প্রধান ক্যাডার বলেন, আপনার কিছুই করতে হবে না, আমরাই সব কাজ করবো; আপনি শুধু অনারেবল প্রেছিডেন্ট অ্যান্ড ছিএমএলএ থাকবেন, আপনি বঙ্গভবনে ঘুমাইবেন খাইবেন অ্যাচ মাচ অ্যাজ ইউ নিড, আর না দেখে সাইন করবেন, আমরা তখন ইলেকশন আর ড্যামোক্রেসির রাস্তা পাকা করবো। দি কান্ট্রি নিস্ ড্যামোক্রেসি অ্যাজ আর্লি অ্যাজ পসিবল।
কোনো কাজ করতে হবে না শুনে খুব খুশি হন প্রেছিছিএমএলএ।
প্রধান ক্যাডার বলেন, ইউ ওয়্যার এ ফেসলেস নেমলেস আননৌন টপ লিগাল ব্যুরোক্র্যাট; ন্যাশন আপনাকে চিনে না, এইবার আপনাকে ন্যাশন চিনতে পারবে, এভরি নাউ অ্যান্ড দেন যখন উই উইল ফিল নিড আপনাকে টেলিভিশনে ন্যাশনাল ফ্ল্যাগের নিচে বসে ড্যামোক্রেসি আর আমাদের মহৎ পারপাস সম্পর্কে ন্যাশনকে অ্যাড্রেস করতে হবে। আই শ্যাল ডিক্টেট দি অ্যাড্রেস হুইচ ইউ উইল রিড। ঠিক মতো রিডিং পড়া শিখতে হবে, যেমন ক্লাশ ফোর ফাইভে পড়তেন। ভেরি সুন ইউ উইল বি এ নৌন ফিগার ইন দি কান্ট্রি। আই অ্যাম শিউর ইউ উইল এনজয় ইট।

চমৎকার খুব ভাল লাগলো