আমরা আধুরা জনগণ, বেশি কথা বলা আমাদের উচিত না, আমাদের গলায় বেশি কথা সাজে না, গলা আমাদের দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা উচিত, আল্লাতাল্লা গফুরের রাহিম সব কথা বলার ক্ষমতা দিছেন শুধু রাজাগো। আমরা তো তারে সব ক্ষমতা দিছিলাম, বাঙলায় ক্যাপিটাল লেটার থাকলে সেটা দিয়েই আমরা জনগণরা ‘তাঁরে’ লিখতাম, যতোটা দেওনের আছিল বাকি রাখি নাই, আরো থাকলে আরো দিতাম, দিনরাইত তাঁর গুণগান গাইতে গলারে অবসর দেই নাই, তিনি বিদেশ থিকা বিদেশির মতো দেশে এসেছিলেন, বিমান থেকে নেমে ট্র্যাকে উঠে তিনি দ্যাশটা দেখে চিনতে পারতেছিলেন না, তার চোখমুখের দিকে তাকিয়ে তা-ই মনে হচ্ছিলো; তিনি কোন ক্ষমতা পেলে সুখ পাবেন বুঝতে পারছিলেন না, রাষ্ট্রপতি হবেন না রাজা হবেন না আবার রাষ্ট্রপতি হবেন না বাদশাহ্ হবেন না সুলতান হবেন না মহারাজ হবেন না সম্রাট হবেন না একলাই সব হবেন না ভাইগ্না ভাইস্তা শালা বোনের জামাই পোলামাইয়ারে দেশটা দিয়ে দেবেন, দেশটারে কয় ভাগে ভাগ করবেন, কয়টা সুবাদার লাগাইবেন, তা ঠিক করতে পারতেছিলেন না; তখন বড়ো ক্যাডাররা দেখা দিলো, শক্তির উত্সবাদী রাজবংশের উৎপত্তি হলো; নতুন কালিতে সব নতুন ইতিহাস লেখা হলো। আমরা ইতিহাস লেখালেখি বড়ো পছন্দ করি, কয়েক বছর পর পর আমরা নতুন কালিতে সব নতুন ইতিহাস লিখি, নতুন নতুন ইতিহাস মুখস্থ করি।
পাওয়ার হচ্ছে আসল কথা; পাওয়ার পেলে করাপশন করতেই হয়। পাওয়ার হচ্ছে দামড়া পুরুষপোলা, সব সময় খাড়া হইয়া আছে, আর করাপশন হইছে পাটক্ষেতে ডেকড়ি মাইয়ালোক; তাই করতেই হয়। হাজার বচ্ছর ধরে করাপশনে থাকতে থাকতে করাপশনরে আমরা খারাপ মনে করি না, পলিটিশিয়ানরা যতোই চিৎকার করুক, আমরা জানি ওইটা হইছে খালি আওয়াজ; যারা করাপশন করে, করতে পারে তাদের আমরা ভক্তিশ্রদ্ধাই করি। আমরা যাগো ছবি বঙ্গভবনে ভঙ্গভবনে বান্ধাইয়া রাখছি তাগো মইধ্যে কে করাপশন করেন নাই? তাই বলে কি আমরা তাগো মায়ের পেট হইতে খালাশ হওনের দিনে আর দুনিয়া থেকে আমাগো কান্দাইয়া যাওনের দিনে ইস্কুলের। পোলাপানরে ছুটি দিয়া খুশি করি না?
পাওয়ার? তা কে চায় না? আমরা হাজার বচ্ছরে পাওয়ার পাই নাই, তাই আমরা সবাই পাওয়ার চাই; আমরা একদল লর্ড ক্লাইভ হইতে চাই, আরেকদল আইউব খা হ’তে চাই; পাওয়ার পাওয়ার পর তাদের ছাড়িয়ে যেতে চাই। ছাড়াবাড়ির খুদির মায় পাওয়ার চায়, ঢালারপাড়ের রকমান পাওয়ার চায়। পাওয়ার পেলে খুদির মার মস্তক ঠিক থাকে না, দিনে পাঁচসাতবার পাগল হয়; রকমানের অণ্ড ফুলে ওঠে, কোষ ফুলে ওঠে, সব জায়গায় পাওয়ার বোধ করে।
ওই যখন বড়ো ক্যাডাররা প্রথমবার আসলো। ক্যাডাররা এসে চাষাভুষাগো বিধিবিধান খোঁচা দিয়ে লাথি মেরে বাতিল করে ক্যাডারগো ধরো মারো ঝোলাও গুতাওগুলি চালু করলো, চাষাভুষার নিয়ম চিৎ হয়ে পড়লো খাড়া হয়ে দেখা দিলো ক্যাডারগোগুলি; চালু করার জন্যে তারা চাষাগো মানুষগোই কামে লাগাইলো। আমরা চাষা চামারকামাররা না খেয়ে পাছা উদলা রেখে তাগো মোটামোটা বেতন দেই, গাড়িবাড়ি ফ্লাগ দেই, তারা আমাগো নিয়ম বাঁচাইবো ব’লে; কিন্তু আমরা কী দেখতে পাইলাম? যা দেখতে পাইলাম, তা বলন যায় না। ক্যাডাররা এসে আমাগো তাগো গোমস্তা বানাইলো, তারা খুশি হয়ে গোমস্তা হইলো। আমি কান্দি মাইয়ার লিগা মাইয়া কান্দে নাঙ্গের লিগা। এইটা আমরা আগেও দেখছি; ক্যাডাররা আইসাই খোঁজে তাগো, আর তাঁরা ফজরবেল ক্যাডারদের ট্রাকের আওয়াজ পাওয়ার পর থেকেই অজু গোশল কুলুপ ও অন্যান্য ক্রিয়াকর্ম সম্পন্ন করে সেলাত আদায় করে কাজের মেয়ের হাতে (বৃদ্ধা স্ত্রী নিদ্রিত) আখের গুড়ের মুড়ির মোয়া আর চা খেয়ে স্যুটকোটটাই পরে নিজের হাতে জুতো পালিশ করে অপেক্ষা করতে থাকেন, কখন ক্যাডাররা নিতে আসবে। কখন জিপের শব্দ পাওয়া যাবে। কখন পাওয়ারে বসাবে, মহামান্য প্রেছিডেন্ট করবে, সর্বশক্তিমান ছিএমএলএ করবে। আমি কান্দি মাইয়ার লিগা মাইয়া কান্দে নাঙ্গের লিগা।
এইটা কি রাজনীতি না? রাজনীতি কি হয় খালি শ্লোগান দিলে আগুন লাগাইলে ভাঙলে চুরলে মিছিল করলে ভোট চাইলে ভোট ডাকাতি করলে? ছৈজদ্দি ব্যাপারী বলে শ্লোগান দিয়ে আগুন লাগিয়ে মিছিল করে ভেঙেচুরে রাজনীতি করতে হলে পোতার ওপর সেইটা থাকতে হয় খাড়াইতে হয় দাঁড়াইতে হয়; আর বড়ো ক্যাডার আসার পর স্যুটকোট ফিলে প্রেছিডেন্ট ছিএমএলএ হওয়ার জন্যে দরকার হচ্ছে–দরকার হচ্ছে পোতা না থাকন সেইটা না থাকন। ইসহাক মওলানা সাব বলেন তাগো সেইটা কাইট্যা নুন ভইর্যা দেওয়া হইছে। ছৈজদ্দি ব্যাপারী বলে এগো নাম পোতাছাড়া পলিটিশিয়ান, করনের ইচ্ছা আছে ষোলো আনা কিন্তু খাড়ায় না; ক্যাডাররা বুটের লাখি দিয়ে এগো সিংগাসনে বসিয়ে দেয়, আবার পাছায় লাথি মেরে নামিয়ে দেয়। এতেই তাদের আনন্দ।
দালানের ওপরের আন্ধা মেয়েলোকটা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, পাগলির মতো খলখল করে হাসে কলকল করে কাঁদে রাস্তায় পড়ে গড়াগড়ি খায় চুল ঘেঁড়ে। পাটের দড়িতে বান্ধা বেতের দাঁড়িপাল্লা এদের মাথার ওপর ঠাশ ঠাশ করে ছিঁড়ে পড়ে; তারা বুঝতে পারে না।

চমৎকার খুব ভাল লাগলো