কুদ্দুস চৌধুরী, তিন চারটা মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব, গেলাশ ভরে নিতে নিতে বলেন, কতোটা বলবেন গেলাশে চুমুক দিতে দিতে তা ঠিক করেন, এবং বলেন, জেনারেল কেরামত ভাই যা বলেছেন দ্যাট ইজ ট্র, বাট হি হ্যাঁজ মিস্ড় সাম ভেরি ইমপরটেন্ট পয়েন্ট; আওয়ার ব্রাদার্স ইন দি আর্মড় ফোর্সেস অলসো মেক মাচ মানি, দে মেইক টু মাচ আই শু্যড সে, আমরা তা অডিটও করি না; ব্যুরোক্র্যাটরা কেনো টাকা বানায় তার কজগুলি দেখতে হবে। নাউ এ ডেইজ অল আওয়ার কোটিপতিজ আর স্মাগলারস, অ্যান্ড দি সোকন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস্ আর থিভস্; অ্যান্ড দে আর অল ইলিটারেট আনএডুকেটেড পিম্প। দে ইভেন ক্যানট স্পেল দি ওয়ার্ড ‘মিলিয়ন’, ইয়েট দে আর মিলিয়নিয়ার্স।
লিয়াকত আলি মিয়া বলেন, আমার কতা কইলেন না ত কুদ্দুস ভাই? স্মাগলিং না। করলে ত আপনেগো কাছে আসতে পারতাম না, পাঁচ দশ কোটি দিতে পারতাম না। স্মাগলিং কামটা অত্যান্ত কঠিন; সবাই পারবো না। ইংরাজি সব বোঝতে পারি নাই, তয় কতাগুলিন ভালই লাগছিলো; মদ খাইয়া ইংরাজি শোনতে আর কইতে ভালই লাগে, মনে হয় নতুন মাইয়ামানুষ লইয়া ফাইভ স্টারে শুইয়া, আছি কুদ্দুস ভাই, আরো কন।
তারপর গায়িকা ও নর্তকীদের দিকে তাকিয়ে বলেন, ও সিংগার ড্যাঞ্চার সিস্টাররা, আমাগো কুলকার্নি হ্যাঁমামালিনি বইনরা একটু চুলি কা নিচে কাহে চুরাকে দিল মেরা ড্যাঞ্চ ধরেন।
নর্তকী তিনটি হেসে কয়েকবার শিনা ঝাঁকুনি দেয়, কয়েকবার পাছা দোলায়।
কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, দেশের সোসিও-ইকনমিক ফেনোমেননগুলি দেখতে হবে; উই মাস্ট ফেস রিয়েলিটি। সারা জীবন ফার্স্ট সেকন্ডে হয়ে, ইউনিভার্সিটিতে ফার্স্ট ক্লাশ সেকেন্ড কাশ ফার্স্ট সেকেন্ড হয়ে বিসিএস পাশ করে যে-ছেলেটি ব্যুরোক্র্যাট হলো, তার বেতন কতত? বিশ বছর চাকুরি করার পর সে ক-টাকা জমাতে পারে? একটাকাও না। অথচ সে দেখতে পায় তার সাথে যে-ছেলেটা ফেল করতো, থার্ড ডিভিশন পেয়েছিলো সে মস্তানি করে, ঠিকাদারি করে, স্মাগলিং করে কোটিপতি হয়ে গেছে; আর কোটিপতিটি স্যার, স্যার’ করে কাজগুলি বাগিয়ে নিচ্ছে তারই কাছ থেকে। তখন হি ক্যানট রিমেইন এ সেইন্ট, হি শুড নট রিমেইন অনেস্ট। রাস্তার পাজেরোগুলি কারা দৌড়ায়? গুড স্টুডেন্টস্ ক্যান নেভার ড্রিম অফ এ পাজেরো; নাউ এ ডেইজ অল বিউটিফুল বাক্সম সেক্সি উইমেন অ্যান্ড পাজেরোজ বিলং টু ইলিটারেট রাঙ্কেলস্।
অধ্যক্ষ রুস্তম আলি পন্টু বলেন, সবাই খাইতেছে, কিন্তু স্কেপগোট হইতেছি আমরা। পলিটিশিয়ানরা, আমাগো বদনামে দুনিয়া ছাইয়া যাইতেছে, আমরা পলিটিশিয়ানরা মাইর খাইতেছি, জ্যালে পচতেছি, পোলামাইয়া ইস্ত্রীগো কাছে মোখ দ্যাখাইতে পারতেছি না, আর অন্যরা তখন ফাইভ স্টার হোটেলে ছেমরি লইয়া ডিস্কো নাচতেছে, অন্যের বউরে লইয়া ব্যাংকক সিঙ্গাপুর যাইতেছে।
ছয়ফুর চাকলাদার একটু বেশি পান করেছেন, বা বেশি পান করেন নি, অল্প পান করলেই তার ঠোঁটে গান আসে দেহে নাচ আসে, অধিকাংশই হিন্দি গান হিন্দি নাচ; তিনি একটু নাচ আর গান শুরু করেন; এবং নাচতে নাচতে বলেন, এইর জইন্যে দোষ আমরাগোই, কাউয়ার গোস্ত কাউয়ায় খায় না শোনছি কিন্তু পলিটিশিয়ানরা পলিটিশিয়ানগো গোস্ত দিনরাইত খায়। পাওয়ারে যাওনের লিগা আমরা লাফাইয়া লাফাইয়া অন্যেগো চোর কই; এখন অরা আমরাগো চোর বলছে; এইটা হইছে পলিটিক্স। যদ্দিন পলিটিক্স থাকবো তদ্দিন এইটা থাকবো, নাইলে আমরা পলিটিশিয়ানরা খামু কী কইর্যা?
জেনারেল কেরামত বলেন, ঠিকই বলছে ছয়ফুরভাই, উই ডু নট হ্যাভ মেনি ইস ফর পলিটিক্স, সো উই হ্যাভ টু ডিপেন্ড অন আদার্স করাপশন অ্যান্ড রিলিজিয়ন ফর গোয়িং টু পাওয়ার। আমরাও ক্ষমতায় আসনের আগে খোজাবংশের করাপশন নিয়ে শাউট করছি, ব্যাংক ডিফলটারদের নাম পাবলিশ করছি; লেটার অন দে বিকেইম আওয়ার ফ্রেইন্ডস অ্যান্ড মাস্টার্স। আমাদের মহাদেশনেত্রী হ্যাঁজ টোল্ড দি ফাঁইন্যাল টুথ দ্যাট ইন পলিটিক্স নাথিং ইজ ফাঁইন্যাল, ইন পলিটিক্স দ্যায়ার ইজ নো পারম্যানেন্ট ফ্রেইন্ড অর ফো।
আমরা জনগণরাও এইটা বুঝতে পারতেছি। অন্যের করাপশন লইয়া কে চিল্লাপাল্লা করে নাই? পাওয়ারে আইসা কে করাপশন করে নাই? চিল্লাপাল্লা হচ্ছে পলিটিক্স, রাজনীতি। যারা অন্যের করাপশন লইয়া চিল্লাপাল্লা করেন, নিজেদের করাপশন লইয়া অন্যেরা চিল্লাপাল্লা করলে বলেন গণতন্ত্র বিপন্ন, দেশ বেচে দেয়া হচ্ছে, একেবারে বিনা পয়সায় একেবারে পানির দরে ছাইড়া দেয়া হচ্ছে, তারা রাজনীতিবিদ, পলিটিশিয়ান। বহু বচ্ছর আগে জনগণমনবংশ ক্ষমতায় এসেছিলেন, তাঁরা তখন ছিলেন রাজার রাজা, রাজাধিরাজ, সম্রাটের সম্রাট, তখন সদ্য স্বাধীন হইছি, কিন্তু স্বাধীনতার স্বাদ পাইতেছিলাম না, বা এমনভাবে পাচ্ছিলাম যে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিলাম, রগে রগে টান লাগতেছিলো, ছুঁইল্যা যাইতেছিলাম, তাঁরা স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন বলে মানতে বাধ্য করেছিলেন, আমরা মেনে নিয়েছিলাম (পরে অন্যরা মানতে বাধ্য করেছিলেন যে জনগণমনবংশ স্বাধীনতা আনে নি, তারা কলকাতা গিয়ে শুধু তিনতারা হোটেলে ঘুমিয়েছে, সোনাগাছিতে মজা করেছে, হিন্দুমাইয়াগো লইয়া ঢলাঢলি করেছে, মাঝেমইধ্যে রবীন্দ্রনাথের বই খুইল্যা গান গাইছে, আর একজন তো পাকিস্থানে গিয়া পায়ের ওপর পা রাইখ্যা খালি অ্যারিয়োর তামুক টানছে পাইপ ভইর্যা, আর চোখে কালা চশমা দিয়া দিনরাইত ইশঠাশ ঠুশঠাশ যুদ্ধ করছে খালি তাগো একনম্বর ফ্রিডম ফাইটার একনম্বর মেজর একটা ঘোষণা দিয়াই সে দ্যাশ স্বাধীন কইর্যা ফেলছে, আমরা তাও মেনে নিয়েছিলাম : মানা ছাড়া আমরা জনগণরা কী করতে পারি?), আমরা তাদের দেখলেই মাথা নিচু করে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করতাম, আমরা সবাই দল বেঁধে কইলকাতা যাইতে পারি নাই, তাদের আমরা সব ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছিলাম; কিন্তু ক্ষমতায় তাদের পেট ভরে নাই।

চমৎকার খুব ভাল লাগলো