নিম্নলিখিত জিনিশগুলিন তাগো দ্যাখতে হইবো, নাইলে চলবে না :
(১) ক্যাডারভাইরা ঠিক আছে কি না, তাগো যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কি না, তাগো আরো যন্ত্রপাতি লাগবে কি না, আরো নতুন ক্যাডারভাই লাগবে কি না; ক্যাডারভাইরা অন্য রাজবংশে চইল্যা যাইতে চাইছে কি না–এইটা খারাপ লক্ষণ, এমুন হইলে বোঝতে হইবো ওই রাজবংশই ক্ষ্যামতায় আসবো; খালি ঢাকা শহরের ক্যাডারভাইদের ঠিক রাখলে চলবো না, দ্যাশের প্রত্যেইক গ্রাম, প্রত্যেইক ইউনিয়ন, প্রত্যেইক থানার ক্যাডারভাইদের ঠিক রাকতে হইবো; ক্যাডারভাইরা হইল দলের মূলশক্তি;
(২) ইনভারসিটির হলগুলি দখলে আছে কি না; ইনভারসিটি দখলে থাকলে আল্লার রহমতে দ্যাশ দখল করনে অসুবিধা হইবো না; ইনভারসিটিই বাংলাদ্যাশ, এইটা দখলে রাখতে হইবো; এইজইেন্যে দুই চাইরটা লাশ পড়লেও ক্ষ্যাতি নাই;
(৩) নিজেগো রাজবংশ হইতে সুবিধাবাদী রাজপুরুষরা অন্য রাজবংশে চলে যাইতেছে কি না, চলে যাওনের পথ খোঁজতেছে কি না এইটা দাকতে হইবো;
(৪) অন্য রাজবংশ হইতে ভাল ক্যান্ডিডেট ভাগাইয়া আনন যায় কি না, কারে কারে ভাগাইয়া আনলে লাব হইবো; কয়টা জেনারেল ব্রিগেডিয়ার মেজর কর্নেল দলে যোগ দিতে চাইছে, কয়টা সেক্রেটারি দলে আসতে চাইছে, কয়টা ব্যাংক ডিফলটার যোগ দিতে চাইছে, অন্য দলের কয়টা প্রাক্তন মন্ত্রী এমপি মেয়র দলে যোগ দিতে চাইছে, কয়টা নামকরা রাজাকার দলে যোগ দিতে চাইছে, কয়টা রজাকার ভাগাইয়া আনন যাইবো, রাজাকারগো অবস্থা আইজকাইল ভাল;
(৫) কন্ট্রিবিউটাররা ঠিক মতো চান্দা দিতেছে কি না; কে কে চান্দা দেওন বন্ধ করছে, আর কে কে নতুন চান্দা দিতেছে; নতুন কন্ট্রিবিউটার আসলে বোঝতে হইবো দল এইবার জিতবো; চান্দা বেশি কইর্যা তোলতে হইবো, বেশি চান্দা পাইলে বোঝতে হইবো দল জিতবো;
(৬) দ্যাকতে হইবো ব্যাংক ডিফলটারগুলিন ঠিক আছে কি না; তারা মোটা টাকা দিতেছে কি না, আর কয় কোটি কইর্যা তাগো থিকা তোলন যাইব; তারা কোন বংশের দিকে ঝোঁকছে সেইটা দ্যাকতে হইবো, তারা যেই দিকে ঝোঁকবো সেই দিকই ক্ষ্যামতায় আসবো; দাকতে হইব তাগো কারখানায় ক্যাডারভাই পাঠাইতে হইব কি না;
(৭) ক্যান্ডিডেটরা কে কয় কোটি টাকা দিতে পারবো সেইটা দ্যাকতে হইবো, স্মাগলার পাইলে বোঝতে হইব ভাল মালপানি হাতে আছে, পাঁচদশ কোটি খসাইতে কষ্ট হইব না, তাগো ক্যান্ডিডেট করনই ভাল হইব; আর দাকতে হইব তারা নির্বাচনরে অবাধ নিরপেক্ষ রাইখ্যা ভোটার ভাগাইতে পারবো কি না;
(৮) ডিছি, ওছি, এছপি, টিএনওগুলিরে ঠিক রাকতে হইবে; অরা ঠিক থাকলে অবাধে ভোটের বাক্স বোঝাই হইবো, নিরপেক্ষতা রক্ষা পাইবো;
(৯) আরও বিবিধ রকম জিনিশ দ্যাকতে হইবো, সময় বুইঝ্যা কাম করতে হইবো।
আমরা জনগণরা যা শুনতে পাই, খবরের কাগজে মুখের যে-চেহারা দেখতে পাই–আগে তাদের চেহারা কী সুন্দর লাগতো, মনে হতো ফুলবনে রাজকুমাররা গান গাইতেছেন–তাতে বুঝতে পারি, আমাদের বোঝায় ভুলও হতে পারে, যে অধ্যক্ষ রুস্তম আলি পন্টু, জেনারেল কেরামতউদ্দিন, সোলায়মান হাওলাদার, মোহাম্মদ কুদ্দুস চৌধুরী, লিয়াকত আলি মিয়া, ব্যারিস্টার কুদরতে খুদা, ছয়ফুর চাকলাদার, ডঃ কদম রসুল এবং শক্তির উৎসবাদী রাজবংশের আর আর অনেক রাজপুরুষের মাংসে আর রক্তে একটু একটু জ্বালা ধরে আছে, ওই জ্বালাকে তারা পাত্তা দিচ্ছেন না, কিন্তু জ্বালায় একটু একটু মাথা ধরছে; জ্বালাটা হচ্ছে ওই জনগণমন রাজবংশের শয়তানগুলো, যেগুলো তিনশো বছরেও ক্ষমতায় যেতে পারবে না, তাদের বিচার চায়; তারা না কি কোটি কোটি টাকা চুরি করেছেন তার জন্যে জেলে পাঠাতে চায়। ওইগুলো বেশি বেড়ে গেছে, দেখে নিতে হবে ওইগুলোকে; ওরা শুধু রাজপুরুষদেরই বিচার চাচ্ছে না, এমনকি মহাদেশনেত্রীরও বিচার চাচ্ছে, কী বেয়াদবি, ওইগুলোকে দেখে নিতে হবে, বড়ো বেশি বেড়ে গেছে, মহাদেশনেত্রী সকল আইনের ওপরে, সকল বিধানের ওপরে, সকল সংবিধানের ওপরে, তার আবার বিচার কী। শুধু ওইগুলো নয়, জ্বালাটা আরো বেড়ে যায় যখন দেখেন খোজারাজবংশ আর রাজাকার রাজবংশও ওইগুলির সঙ্গে গলা মিলিয়েছে; সব শয়তান সুযোগ বুঝে ফেরেশতা হয়ে উঠেছে, এক রা ধরেছে। তবে এসব চুলরে পাত্তা দিলে রাজনীতিবিদদের চলে না, এই সব চুলে কবে পেটের পোলা আটকে রাখতে পেরেছে; এই সব পাত্তা না দেয়াও রাজনীতি, আবার দুর্নীতি নিয়ে দিনরাত গলাবাজি করাও রাজনীতি। রাজনীতি করতে গেলে একটা ইশু দরকার। জ্বলন্ত ইশু লইয়া হট্টগোল ভাঙ্গনচোরন জ্বালানপোড়ান করলে জনগণ পাগল হইয়া ভোট দেয়, মনে করে। ইশুআলারা দুই হাতে টাইন্যা দুনিয়াতে ভেস্ত নামাইতে যাইতেছে। তারাও কি কয়েক বছর আগে ই করেন নি খোজারাজবংশের দুর্নীতিকে, সম্রাট বাবরের লাম্পট্যকে গলা ফুলিয়ে দুর্নীতি, দুর্নীতি, লাম্পট্য, লাম্পট্য গর্জনে দেশরে তোলপাড় করেন নি, দ্যাশরে মাতাইয়া তোলেন নাই? খোজারাজবংশের বাবর মুঘলকে কি সাভারের কাদায় ডোবা মইষের মতো ধাক্কাইয়া ধাক্কাইয়া ঢোকান নাই খোয়াড়ে? দুর্নীতিবাজদের লম্বা লম্বা তালিকা কি তারা ছেপে দেন নি; খবরের কাগজে তারা বড়ো বড়ো করে কি ব্যাংক ডিফলটারদের নাম ঝুলাইয়া দ্যান নাই? কারো নামে ৫০০ কোটি, কারো নামে ৬৭৫ কোটি, কারো নামে ৯০০ কোটি, কারো নামে ২৫ কোটি? ঘোষণা কি দেন নি যে ওই ডিফলটারদের খোয়াড়ে পাঠানো হবে, টাকাগুলো উঠিয়ে দেশটিকে আমেরিকা করে তোলা হবে? তারপর তারা কয়টারে জ্যালে পাঠাইছেন? বরং ডিফলটাররা যাতে খোয়াড়ে না যায়, তাদের চর্বি যাতে আরো বাড়ে, চামড়া মসৃণ থাকে, ব্যাংকে ঢুইক্যা আরো ধান খাইতে পারে, ক্ষেতে ক্ষেতে গাভী পাইলেই পাল দিতে পারে, সেটা কি তাঁদের দেখতে হয় নি? এর জন্যে তারা বেশ পেয়েছেন কোটি কোটি টাকা ঢুকেছে তাগো স্ত্রীগো বিদেশি অ্যাকাউন্টে, আল্লা যখন চান তখন তাঁর বান্দাগো এভাবেই দেন এইজইন্যেই পরম করুণাময় আল্লাতালায় ইমান দরকার; আল্লা তাঁদের দিয়েছেন, না নিয়ে তারা কী করতে পারেন?

চমৎকার খুব ভাল লাগলো